Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

English

উদ্বোধনের আগেই তিস্তা সেতুর সংযোগ সড়কে ধস

উদ্বোধনের আগেই তিস্তা সেতুর সংযোগ সড়কে ধস
শেখ হাসিনা তিস্তা সড়ক সেতু, ছবি: বার্তা২৪
ডিস্ট্রিক করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

লালমনিরহাট ও রংপুরবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নের সেতু ‘শেখ হাসিনা তিস্তা সড়ক সেতু’। গঙ্গাচড়ার মহিপুর ও কালিগঞ্জের কাকিনা প্রান্তে নির্মিত এই সেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের বাকি মাত্র দুইদিন। এরই মধ্যে আবারো ধসে গেছে উত্তরপ্রান্তের কাকিনা রুদ্রেশ্বর সীমান্তের সংযোগ সড়কের সেতু ও কালভার্টের ব্লক পিচিং। এতে বহুল প্রত্যাশিত শেখ হাসিনা তিস্তা সড়ক সেতুটি এখন লালমনিরহাটের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

এদিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই সড়কে স্বাভাবিক যোগাযোগ নিশ্চিত করার জন্য এলজিইডি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঁঙ্গা এমপি।

স্থানীয়রা বলছেন, স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের নজিরবিহীন গাফিলতির কারণেই এঘটনা ঘটেছে। মূল সেতুর সাথে ৫ কিলোমিটার সংযোগ সড়কের ভয়াবহ নড়েবড়ে অবস্থা দেখে আগে থেকেই সতর্ক করা হয়েছিলো সংশ্লিষ্টদের। কিন্তু বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি তারা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Sep/14/1536924210116.jpg

অন্যদিকে কালিগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের দাবি, উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে শেখ হাসিনা সেতুর সংযোগস্থলে তীব্র বেগে আঘাত হানায় সংযোগ সেতু ও নতুন ব্লক পিচিং ধসে পড়েছে। সংযোগ সড়কের ভাঙন ঠেকাতে সেতুর সামনে জরুরি ভিত্তিতে বালির বস্তা ফেলে ডাম্পিং করা হচ্ছে।

নদীতে আকস্মিক বৃদ্ধি পাওয়া পানি মূল তিস্তায় না গিয়ে কোলকোন্দ ইউনিয়নের বিনবিনা নামক স্থান দিয়ে গতিপথ পরিবর্তন করে আর একটি চ্যানেল তৈরি করেছে। এই চ্যানেলের পানির স্রোত ও তীব্রতা মূল তিস্তার চেয়ে অনেক বেশি। গত বছরও পানির আঘাতে সংযোগ সেতুর এই অংশে ভাঙন ধরেছিলো।

স্থানীয়রা জানান, সেরাজুল মার্কেট এলাকায় নির্মিত ব্রিজের দুই কোনায় পানি তীব্র বেগে এসে আঘাত করছে। ব্রিজের দক্ষিণ পাশের সংযোগস্থলে সাম্প্রতিককালের ব্লক-পিচিং ধসে গেছে। তাছাড়া ইচলি এলাকায় একটি কালভার্টের দুই পাশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। লোকজন ভাঙন ঠেকাতে বালির বস্তা দিচ্ছে। উজানে বাঁধ না দিলে এই ব্রিজ ও কালভার্ট রক্ষা করা যাবে না। সেই সাথে রাস্তাঘাট-ঘরবাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সবই ভেঙে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। এদিকে ধসে যাওয়ার এই ঘটনায় ওই এলাকার মানুষের মধ্যে প্রচন্ড ক্ষোভ বিরাজ করছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Sep/14/1536924228482.jpg

স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঁঙ্গা এমপি বার্তা২৪.কমকে জানান, আগামী রোববার আমাদের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নের এই শেখ হাসিনা তিস্তা সড়ক সেতুটির উদ্বোধন করবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। এরআগে সংযোগ সড়কের ব্রীজের মোকা ধসে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ঘটনা খুবই দু:খজনক। আমি এলজিইডি এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশ দিয়েছি শনিবার বিকেল ৫ টার মধ্যেই ধসে যাওয়া অংশ সংস্কার করে পুরোপুরি যোগাযোগ উপযোগি করতে হবে।

এসময় তিনি বলেন, এই সংযোগ সড়ক নির্মানে অনিয়মের সাথে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর রোববার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গঙ্গাচড়ার মহিপুর-কাকিনা ঘাটে নির্মিত শেখ হাসিনা তিস্তা সড়ক সেতু এবং রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরপিএমপি) এর অনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।

 

আপনার মতামত লিখুন :

খুলনার সাথে সারা দেশের রেলযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

খুলনার সাথে সারা দেশের রেলযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর রেল স্টেশনে কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ায় খুলনার সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর রেল স্টেশনে খুলনাগামী কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ায় খুলনার সঙ্গে ঢাকা, রাজশাহীসহ সকল রুটের ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার কারণে খুলনা থেকে বিভিন্ন রুটের শত শত যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

রোববার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে ট্রেন লাইনচ্যুত হবার ৩ ঘণ্টা পরেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। এদিকে লাইনচ্যুত হওয়া কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনের পেছনে আটকা পরেছে উত্তরাঞ্চল থেকে খুলনাগামী রূপসা এক্সপ্রেস ও ঢাকা থেকে খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস। এ দুটি ট্রেনের যাত্রীরা খুলনা রেলওয়ে স্টেশনে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

সরেজমিনে রাত সাড়ে ১০টায় খুলনা রেলওয়ে স্টেশনে দেখা যায়, স্টেশনে ছোট-বড় ব্যাগ-বস্তাভর্তি মালামাল নিয়ে বসে আছেন যাত্রীরা। বাচ্চারা কান্নাকাটি করছে, কেউ কেউ স্টেশনে ব্যাগের উপরে ঘুমিয়ে পড়েছেন। যাত্রীরা ট্রেনে খুলনা থেকে ঢাকা বা সৈয়দপুরে যাবার বিকল্প উপায় খুঁজছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566154647440.jpg

ঢাকাগামী যাত্রী বেসরকারি চাকরিজীবী লোকমান হোসেন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, মাওয়া আর আরিচা ঘাটে গাড়িতে অনেক যানজট হয়, তাই ট্রেনে যাবার জন্য টিকিট কেটেছিলাম। সোমবার ঢাকায় আমার কাজে যোগ দেবার দিন। এখন তো মহাবিপদে পড়েছি।

সৈয়দপুরের চিলাহাটি সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী রাসেল ইসলাম বলেন, ট্রেনে যাবো বলে সেই সন্ধ্যা থেকে বসে আছি। বাচ্চারা ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। ট্রেন ছাড়া সৈয়দপুরে যাওয়া বেশ কষ্টসাধ্য। কখন ট্রেন আসবে স্টেশনের কেউই বলতে পারছেনা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566154680725.jpg

খুলনা রেলওয়ে স্টেশনের টিটি মোহাম্মদ ইলিয়াস বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, সন্ধ্যায় রাজশাহী থেকে কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেন খুলনার দিকে আসছিলো। পথিমধ্যে ট্রেনটি কোটচাঁদপুর স্টেশনের ইউপি গেটে পৌঁছালে দুটি বগি ও আটটি চাকা লাইনচ্যুত হয়। রাত সাড়ে ১০ টা পর্যন্তও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। এছাড়া কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনের পেছনে সৈয়দপুরের চিলাহাটি থেকে আসা রূপসা ও ঢাকা থেকে আসা সুন্দরবন এক্সপ্রেস পরবর্তী স্টেশনে অপেক্ষা করছে।  সৈয়দপুর ও ঢাকাগামী দু’টি ট্রেনই খুলনা স্টেশন থেকে ছেড়ে যাবার কথা থাকলেও যেতে পারেনি। খুলনা রেলওয়ে স্টেশন থেকে যাত্রীদের টিকিট ফেরত দেয়া হচ্ছে। যাত্রীরা চাইলেই তাদের টিকিট ফেরত দিয়ে টাকা নিতে পারছেন।

কোটচাঁদপুর রেল স্টেশনের স্টেশন মাস্টার কাওসার জানান, ঘটনার পর থেকে খুলনার সঙ্গে রাজশাহী, ঢাকাসহ সকল রুটের ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে এখনও উদ্ধার কাজ শুরু হয়নি। কখন সময় উদ্ধার কাজ শুরু হবে তা তিনি জানাতে পারেননি।

এএসপির বাড়িতে পুলিশের লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলি!

এএসপির বাড়িতে পুলিশের লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলি!
খুলনা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার, ছবি: সংগৃহীত

খুলনায় পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের ফায়ারিংয়ের লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলি পার্শ্ববর্তী এক এএসপির বাসার সিলিং ফ্যানে আঘাত করেছে।

রোববার (১৮ আগস্ট) দুপুরে খুলনার ফুলবাড়িগেট কেডিএ আবাসিকের ৬৫ নম্বর বাড়ির দ্বিতীয় তলায় এএসপি’র বাসাতে এ ঘটনা ঘটে। খুলনার পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার (পিটিসি) থেকে গুলিটি আসে। লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিটি এএসপির বাসার রান্না ঘরের জানালায় ওপর দিয়ে গ্লাস ভেঙে ডাইনিং রুমের সিলিং ফ্যানে লাগে।

খুলনা জেলা পুলিশের এএসপি আনিসুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে বার্তাটোয়েন্টিফোর. কম কে বলেন বলেন, 'খুলনা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার থেকে আমার বাসার দূরত্ব এক কিলোমিটার। দুপুরের দিকে বিকট শব্দে একটি গুলি আমার বাসার রান্না ঘরের জানালায় মাথার ঠিক ওপর দিয়ে গ্লাস ভেঙে ডাইনিং রুমের সিলিং ফ্যানে লাগে। তখন ডাইনিংয়ে আমার দুই সন্তান ছিল। গুলির শব্দে বাসার সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে আমি বাসায় ছুটে যাই। এরপর খানজাহান আলী থানা পুলিশ বাসায় এসে গুলিটি জব্দ করে নিয়ে যায়।'

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মহানগরীর খানজাহান আলী থানা সংলগ্ন পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে ফায়ারিং রেঞ্জে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) ফায়ারিং ট্রেনিং ছিল। ওই ট্রেনিং থেকেই রাইফেলের গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে ফুলবাড়িগেট কেডিএ আবাসিকের ৬৫ নম্বর বাড়ির দ্বিতীয় তলায় এএসপি’র বাসাতে আঘাত হানে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র