জীবন বাঁচাতে সেতুটি ধ্বংস করে দেয় পাকসেনারা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
জীবন বাঁচাতে সেতুটি ধ্বংস করে দেয় পাকসেনারা। ছবি: সংগৃহীত

জীবন বাঁচাতে সেতুটি ধ্বংস করে দেয় পাকসেনারা। ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

১১ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলা মুক্ত দিবস। একাত্তরের এইদিনে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী যৌথভাবে সশস্ত্র সম্মুখ যুদ্ধের মাধ্যমে পাক হানাদার বাহিনীকে বিতাড়িত করার মধ্য দিয়ে আশুগঞ্জকে শত্রুমুক্ত করে।

তৎকালীন লে. কর্নেল কে.এম. সফিউল্লাহ, লে. মো. হেলাল মোর্শেদ খান, মেজর আইন উদ্দিন ও মেজর নাসিরসহ আরও অনেক বীর সেনানীর সুসংগঠিত নেতৃত্ব সর্বস্তরের বীর জনতা পাক সামরিক জান্তার কবল থেকে আশুগঞ্জকে মুক্ত করেছিলেন। আশুগঞ্জকে মুক্ত করতে গিয়ে সেদিন পাক হানাদারদের সঙ্গে যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন সুবেদার মেজর সিরাজুল ইসলাম, ল্যান্স নায়েক আব্দুল হাই, সিপাহি কফিল উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহেরসহ আরও অনেকে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অধিকাংশ এলাকা মুক্ত হওয়ার পর একাত্তরের ৮ ডিসেম্বর ভারতীয় ট্যাঙ্ক বাহিনী বর্তমান আশুগঞ্জ উপজেলার তালশহর গ্রাম দিয়ে সদরে প্রবেশ করে। সর্বশেষ যুদ্ধ সংগঠিত হয় উপজেলার সোহাগপুরে। প্রায় তিনদিন তুমুল সম্মুখ যুদ্ধে অর্ধ সহস্রাধিক মিত্রবাহিনী ও পাক বাহিনীর সৈনিক নিহত হয়। সোহাগপুরের ভয়াবহ যুদ্ধে মিত্রবাহিনীর তিনটি ট্যাঙ্ক ধ্বংস হয়। শেষ পর্যন্ত মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর ভয়াবহ আক্রমণে টিকতে না পেরে ১০ ডিসেম্বর দুপুরের পর থেকে পাক সেনারা পালিয়ে যেতে শুরু করে। আত্মরক্ষার জন্য পাক বাহিনী আশুগঞ্জ থেকে পালিয়ে ভৈরব যাওয়ার সময় মেঘনা নদীর উপর রেল সেতুটির একাংশ ডিনামাইট দিয়ে ধ্বংস করে দেয়। এতে সেতুটির দুটি স্প্যান ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। ১১ ডিসেম্বর ভোর রাতে আশুগঞ্জ সম্পূর্ণ শত্রুমুক্ত হয়।

স্বাধীনতার পর থেকে ১১ ডিসেম্বর আশুগঞ্জ মুক্ত দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। প্রতিবারের মতো এবারো দিবসটি পালন উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ আশুগঞ্জ উপজেলা কমান্ড কাউন্সিল দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকালে মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখ সমর স্মৃতি স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, র‌্যালি ও আলোচনা সভা।

আপনার মতামত লিখুন :