Barta24

সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

উত্তরবঙ্গে জঙ্গিদের অপতৎপরতা বেড়েছে

উত্তরবঙ্গে জঙ্গিদের অপতৎপরতা বেড়েছে
ছবি: বার্তা২৪
শাহরিয়ার হাসান
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
ঢাকা
বার্তা ২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় নির্বাচনের আগে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চেয়ে ব্যর্থ হয়েছে জঙ্গিগোষ্ঠী। তাই নির্বাচন পরবর্তীতে আবারও সংগঠিত হতে চেষ্টা করছেন তারা।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, তাদের এই অপতৎপরতা উত্তরবঙ্গ কেন্দ্রিক আর তারা অবস্থান করছেন দুর্গম জনশূন্য এলাকায়। হঠাৎ নির্দিষ্ট এলাকা কেন্দ্রিক জঙ্গিদের অপতৎপরতার বিষয়টি ভাবিয়ে তুলছে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের।

তবে র‍্যাব- পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, জঙ্গিদের ওপরে কড়া নজরদারি আছে সকল আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর।

র‍্যাব সদরদফতরের তথ্য বলছে, হলি আর্টিজেনের ঘটনার পর থেকে শুধু র‍্যাব বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের প্রায় ৫৫০ জন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। বিভিন্ন অভিযানে নিহত হয়েছেন ২৫ জনের বেশি। আত্মসমর্পণ করেছেন ১০ জন।

তাছাড়া গত ছয় মাসে ১৩০ জন জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো। যেখানে শুধু জেএমবি সদস্যই রয়েছে ৯৯ জন।

তবে সম্প্রতি উত্তরবঙ্গে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে গঠিত র‍্যাব ও পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট গুলো অন্তত ১০টি আস্তানায় হানা দিয়ে বিভিন্ন স্তরের ২২ জন জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে।

সর্বশেষ রোববার (৭ জানুয়ারি) রংপুরের তারাগঞ্জ থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির উত্তরবঙ্গের প্রধান সমন্বয়ক মোহাম্মদ আবদুর রহমান বিশ্বাসসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করে র‍্যাব ১৩।

র‍্যাব সদরদফতর সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত প্রধান সমন্বয়ক আব্দুর রহমান বিশ্বাস, জেএমবির আধ্যাত্মিক নেতা আবুল কাশেমের ছেলে। আবুল কাশেম কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট কর্তৃক ২০১৭ সালের মার্চে মিরপুর থেকে গ্রেফতার হলে উত্তরবঙ্গের জঙ্গি সংগঠনের হাল ধরেন তার ছেলে।

জানা যায়, তিনি মূলত উত্তরবঙ্গে জেএমবি কার্যক্রম পরিচালনা, নাশকতা পরিকল্পনায় মূল ব্যক্তি হিসেবে সহায়তা করে থাকেন।

জঙ্গিদের উত্তরবঙ্গের সাংগঠনিক কার্যক্রম চাঙ্গা রাখতে, বিভিন্ন লোকজনদেরকে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে অর্থ সাহায্য নিতেন তারা। যা দিয়ে তারা সংগঠন পরিচালনা করাসহ অস্ত্রশস্ত্র কিনতেন।

পাশাপাশি উত্তরবঙ্গ জঙ্গি সংগঠনের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করতে, নতুন সদস্য সংগ্রহ, প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য পরিকল্পনা কাজে টাকা ব্যায় করতেন।

উত্তরবঙ্গ ভিত্তিক এই জঙ্গি সংগঠনের পরিকল্পনা, শুধু উত্তরবঙ্গ কেন্দ্রিক নয়। দেশজুড়ে নানা ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করতেন তারা। বিশেষ করে বিভিন্ন এনজিও থেকে অর্থ ছিনতাই,  ইসলাম বিরোধী কথা বার্তা প্রচার করা ব্যক্তিদের হত্যা করা ছিল তাদের মূল পরিকল্পনার অংশ।

নির্বাচন পরবর্তীতে জঙ্গিদের এই অপতৎপরতাকে কিভাবে দেখছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা, জানতে চাইলে নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত আব্দুর রশিদ বার্তা২৪কে বলেন, শুধু জঙ্গি সংগঠন না। নির্বাচনের আগে ও পরে যে কোনো অপশক্তি তৎপর হয়ে ওঠে। যখন কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জঙ্গিদের মতাদর্শ মিলে যায়। তখন নির্বাচনের সময় বা নির্বাচন পরবর্তীতে জঙ্গিদের ওই দলটির উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে কার্যক্রম চালায়। ফলে তাদের অপতৎপরতা বৃদ্ধি পায়।

উত্তরবঙ্গ কেন্দ্রিক জঙ্গিদের অপতৎপরতার ও তাদের সক্ষমতার বিষয়ে জানতে চাইলে, র‍্যাব ১৩'র প্রধান মোজাম্মেল হক বার্তা২৪কে বলেন, দুইদিন আগে আটক হওয়া জঙ্গিদের কাছ থেকে তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও অন্য সহযোগীদের নাম জানতে পেরেছি।

নাশকতার পরিকল্পনা, সরকার ও রাষ্ট্র বিরোধী পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তারা। এই ধরনের পরিকল্পনা সঙ্গে আর যারা যারা জড়িত আছে অতি দ্রুত তাদেরকে আমরা গ্রেফতার করব।

মোজাম্মেল হক বলেন, উত্তরবঙ্গের জঙ্গিদের বর্তমান প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে ছিলেন আব্দুর রহমান বিশ্বাস। তাকে আটক করা সম্ভব হয়েছে, সেক্ষেত্রে অন্যদের কেউ আটক করে যাবে।

আপনার মতামত লিখুন :

রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে ন্যামের কাছে আহ্বান

রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে ন্যামের কাছে আহ্বান
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

মিয়ানমার যেন রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয় এবং রোহিঙ্গা সঙ্কটের স্থায়ী সমাধান করে সে বিষয়ে জোট নিরপেক্ষ দেশসমূহের (ন্যাম) সদস্যসহ মিয়ানমারের প্রতিবেশী দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় এসোসিয়েশন (আসিয়ান) ভুক্ত দেশসমূহ তথা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও অধিক এবং অব্যাহতভাবে প্রচেষ্টা গ্রহণ করার আহ্বান জানালেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন।

রোববার (২১ জুলাই) ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে ন্যাম কোর্ডিনেটিং ব্যুরো এর মন্ত্রী পর্যায়ের সভায় বক্তব্য প্রদানকালে এ আহ্বান জানান তিনি।

উল্লেখ্য ন্যাম মিনিস্ট্রিয়ালের এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের মাধ্যমে শান্তি এগিয়ে নেওয়া ও সুসংহত করা’।

অধিকৃত ফিলিস্তিনী ভূখণ্ডে আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন এবং ফিলিস্তিনী জনগণের প্রতি দীর্ঘ নিপীড়নের কথা উল্লেখ করে স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, শুধু উদ্বেগ প্রকাশ করে ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের অন্যান্য স্থানে সংঘটিত এ জাতীয় অমানবিক ও বর্বর কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব নয়। দেশগুলো যাতে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয় আমাদেরকে অবশ্যই তা নিশ্চিত করতে হবে; আর মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংগঠনকারীদের দায়-দায়িত্ব নিরূপণের মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে যেমনটি প্রযোজ্য মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের উপর সংঘটিত মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের ক্ষেত্রে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে জোট নিরপেক্ষ সম্মেলনে যোগদানের যে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তা স্মরণ করে মোমেন বলেন, 'বাংলাদেশ এখনও জাতির পিতার সেই নীতি-আদর্শ ও জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের কর্মকাণ্ড থেকে অনুপ্রাণিত হয় যা আজকের বিশ্বে চলমান অস্ত্রের বিস্তার, শুধু নিরাপত্তার ক্ষেত্রে

সর্বশেষ প্রযুক্তিসমূহের ব্যবহারের আধিক্য, জলবায়ু পরিবর্তন, আন্ত:সাংস্কৃতিক সংঘাত ইত্যাদি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযোজ্য হতে পারে।

আফ্রিকা, এশিয়া, ওশেনিয়া, ল্যাটিন আমেরিকা, ইউরোপ ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের ৮৫টি দেশের ১৬ জন মন্ত্রীসহ উচ্চ-পর্যায়ের প্রতিনিধিগণ এই মিনিস্ট্রেরিয়াল সভায় যোগ দেন।

ভেনিজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জর্জ অ্যার্রিয়াজা মন্টসের্রাট এ সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভাটিতে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো বক্তব্য প্রদান করেন।

কোথায় হারাল ট্যাক্সি ক্যাবটি!

কোথায় হারাল ট্যাক্সি ক্যাবটি!
সাভার আমিনবাজারের সালেহপুর ব্রিজ থেকে তুরাগ নদে পড়ে যায় ট্যাক্সি ক্যাবটি

রোববার রাত সোয়া ৮টার দিকে সাভারের আমিনবাজারের সালেহপুর এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ট্যাক্সি ক্যাব তুরাগ নদে পড়ে যায়। গাড়িটিকে উদ্ধারে রাতভর অভিযান চালিয়ে এখনও সন্ধান পাননি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরিরা।

ট্যাক্সি চালক ও এর যাত্রীদের ভাগ্যে কী ঘটেছে—তাও নিশ্চিত করে জানাতে পারেননি উদ্ধারকারীরা।

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে আমিনবাজারের সালেহপুর সেতু থেকে রোববার (২১ জুলাই) রাতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তুরাগ নদে পড়ে নিঁখোজ হয় চলন্ত ট্যাক্সি ক্যাবটি।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/22/1563759394746.jpg
খবর পেয়ে পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে।

সাভার জোনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রাফিক পরিদর্শক আবুল হোসেন বলেন, সেতুর আগে নিরাপত্তামূলক ছোট খুঁটি বেঁকে গেছে। এতে ট্যাক্সি ক্যাবটি নদীতে পড়ে ডুবে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এতে কতজন যাত্রী ছিলেন, তা জানা যায়নি।

আমিনবাজার পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং উপ-পরিদর্শক (এসআই) জামাল হোসেন বলেন, এ ঘটনার পর খবর পেয়ে থানা-পুলিশ, নৌপুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

ফায়ার সার্ভিসের কমান্ডার আনোয়ারুল হক বলেন, ঘটনাস্থলে ডুবুরি দল উপস্থিত হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত ট্যাক্সি ক্যাবের সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় কাউকে উদ্ধারও করা যায়নি।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/22/1563759426063.jpg
ট্রাফিক পুলিশের আমিনবাজার বক্সের ইনচার্জ কামরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে সড়কে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে, একটি ট্যাক্সি ক্যাব নদে পড়ে নিমজ্জিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ১১ অক্টোবর ওই সেতু থেকে তুরাগ নদে বৈশাখী পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস পড়ে গিয়েছিল। ওই ঘটনায় ১৫ যাত্রী নিহত হন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র