আজ বিশ্ব জলাভূমি দিবস, শীঘ্রই অভুক্ত মাছরাঙাটি এ শহর ছাড়বে!

আব্দুস সালাম আরিফ, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, পটুয়াখালী, বার্তা২৪
পরিত্যক্ত পুকুরে মাছের অপেক্ষায় মাছরাঙা, ছবি: বার্তা২৪

পরিত্যক্ত পুকুরে মাছের অপেক্ষায় মাছরাঙা, ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

পটুয়াখালী শহরের মদিনা মসজিদ সংলগ্ন কালি বাড়ি পুকুরে অভুক্ত এক মাছরাঙা অপেক্ষা করছে একটি মাছের জন্য। মরা গাছের ডালের উপর লম্বা ঠোট, বুকে সাদা রং এর পাশে গাড় হলুদ রং এর এই পাখিটির দীর্ঘ অপেক্ষার পরও কোন মাছের দেখা মেলেনি।

ময়লা আবর্জনার কারণে অনেক আগেই পুকুরের পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পরেছে। ফলে মাছ এবং অন্যসব জলজ প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে এটি এখন ব্যবহৃত হচ্ছে ময়লা আবর্জনার ভাগার হিসেবে। এ কারণে এই জলাশয় নির্ভর পাখিটি দিন গুনছে কবে সে নিজেও এই শহর ত্যাগ করবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/02/1549073963181.jpg

অপরিকল্পিত নগরায়ন, দখল ও দূষণের কারণে এখন অস্তিত্ব সংকটে পটুয়াখালী শহরের অধিকাংশ খাল ও জলাধারগুলো। বর্তমানে শহরের অধিকাংশই খাল দুই থেকে ছয় ফিট ড্রেনে পরিণত হয়েছে। আর যেসব খাল,পুকুর,দিঘি কিংবা জলাশয় টিকে আছে তা এখন দখলদারদের থাবায় নিঃস্ব হওয়ার পথে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শহরের জলাধার রক্ষায় ব্যর্থ হলে এর বিরূপ প্রভাব আগামী প্রজন্মকেই ভোগ করতে হবে। পটুয়াখালী শহরে বিভিন্নস্থানে শতাধিক পুকুর এবং দিঘি থাকলেও তার অধিকাংশরই এখন আর অস্তিত্ব নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাল কিংবা জলাধার একটি শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে যেমন ভূমিকা রাখে তেমনি শহরের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে খাল ও জলাধার রক্ষায় আরও আন্তরিক হওয়া প্রয়োজন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/02/1549073976693.jpg

একটা সময় ছিলো যখন ছোট বড় খালের উপর পুরো শহরের পরিবহন ও ব্যবসা বাণিজ্য নির্ভর করতো। শহরের লোহালিয়া ও লাউকাঠী নদীর থেকে শহরে প্রবেশ করেছিলো ২১ টি খাল। এর মধ্যে খন্দকার বাড়ীর খাল, সুতারখালী খাল, থানাপাড়া খাল, ফৌজদারি পুল খাল, চরপাড়া খাল, শিশুপার্ক সংলগ্ন খাল, কিসমত বডিং সংলগ্ন খাল, মনসা বাড়ি খাল, মৃধা বাড়ি খাল, পুরান বাজার খাল, গফ্ফার মৃধা বাড়ির খাল, কাঠপট্টি খাল, তালতলা খাল, বিএনডিসি খাল এখন পরিণত হয়েছে দুই থেকে ছয় ফিটের কংক্রিটের ড্রেনে।

কিন্তু একসময়ে এসব খালেই চলতো বড় বড় নৌকা ও গয়না। এদিকে কাটাখালী খাল, কেওয়াবুনিয়া খাল, ডিবুয়াপুর খাল, বহাল গাছিয়া ও জিলবুনিয়া খাল থাকলেও তা দখলদারদের কবলে এখন হুমকির মুখে।

পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান বলেন, ‘শহরে এখনও যে কয়েকটি খাল টিকে আছে তা একটির সাথে অপরটির কিংবা ড্রেনগুলো একটির সাথে অপরটির যদি সংযোগ করে দেয়া যায় এবং নিয়মিত এসব খাল ও ড্রেন পরিষ্কার রাখা যায়। তবে শহরে পানি প্রবাহ ঠিক থাকবে। এতে করে বর্ষা মৌসুমে যেমন পানি নিষ্কাশন হবে তেমনি শুষ্ক মৌসুমেও পর্যাপ্ত পানি চলাচল করবে। অপরদিকে খাল ও ড্রেনে ময়লা ফেলার মন মানুসিকতা পরিবর্তন করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন :