এলপিজির দাম কমাতে হবে: নসরুল হামিদ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
সাউথ এশিয়ান এলপিজি সামিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ

সাউথ এশিয়ান এলপিজি সামিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ

  • Font increase
  • Font Decrease

এলপি গ্যাসের দাম কমাতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তিনি বলেন, ফ্রি হ্যান্ড ছেড়ে দিয়েছি তার মানে এই নয় ইচ্ছামতো দাম বাড়াবেন।

রোববার (৩ মার্চ) আইসিসিবিতে সাউথ এশিয়ান এলপিজি সামিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নসরুল হামিদ এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব বাজারে এলপিজির দাম কমে গেছে। দাম আরও কমানোর সময় এসে গেছে, দাম কমাতে হবে। গ্রামের মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত ফ্যামিলি এলপিজি ব্যবহার করে। চার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা খরচ পড়ে যায়। এটা অনেক বেশি। ডিলার থেকে সাব ডিলার এজেন্ট এভাবে ৩ হাত ঘুরে গ্রাহকের কাছে যেতে ৫০০ টাকা বেড়ে যায়। এটা আপনাদের মেটাতে হবে।

মঞ্চে উপস্থিত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বিপিসির অবস্থা খুবই খারাপ। বিপিসির কারণে ম্যানুপুলেট করার সুযোগ পাচ্ছে। যাচ্ছে তাই দাম বাড়াচ্ছে। এটা হতে পারে না। সংসদে বলেছিলাম ৩ বছরের মধ্যে সাশ্রয়ী দামে এলপিজি দিতে চাই। এটা কিন্তু এখনও নিশ্চিত হয় নি। মন্ত্রণালয় পলিসি করবে কিভাবে সাশ্রয়ী দাম নিশ্চিত করা যায়। রেগুলেট করার দরকার, কিন্তু কে রেগুলেট করবে।

নসরুল হামিদ বলেন, আমরা এলপিজির জন্য গভীর সমুদ্রবন্দর করতে যাচ্ছি। এতে আরও খরচ কমে আসবে। আপনারা শুধু বোটলিংয়ে বসে থাকবেন কেনো, শিল্পে বড় আবাসিকে বড় প্লানে পাইপ লাইনে এলপিজি দেন আমরা সহায়তা করবো।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা পাইপ লাইনে গ্যাস শুধু শিল্পে এবং বিদ্যুতে দিতে চাই। শিল্পজোনে গেলে নিশ্চয়তা দেওয়া হবে। অন্য কোথাও হলে গ্যারান্টি দিতে পারবো না।

ইস্টকোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী বলেন, এলপি গ্যাসের বিষয়ে মানুষের আগ্রহ অনেক বেড়েছে। গত চার বছরে ৮০ হাজার টন থেকে বেড়ে ১০ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে। দেশে বর্তমানে ১৮টি কোম্পানি কাজ করছে। আরও ১০ টি কোম্পানি শিগগিরই কাজ শুরু করবে।

চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এর নিরাপত্তা ইস্যু। এর প্রধান কারণ হচ্ছে ক্রস ফিলিং। এই ক্রস ফিলিং ঠেকাতে জনসচেতনতা বাড়ানো দরকার। এর জন্য সরকার ও এলপিজি অপরেটররা যৌথভাবে কাজ করা উচিত বলে মন্তব্য করেন আজম জে চৌধুরী।

তিনি বলেন,  পাইপ লাইনের তুলনায় অনেক বেশি দাম এলপিজির। এলএনজি এনে রিগ্যাসিফিকেশন করতে হলে ১০ গুণ দাম বেড়ে যাবে। সরকার পাইপ লাইনে গ্যাস দিবে নাকি এলপিজি দেবে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের চেয়ারম্যান সামছুর রহমান, এফবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক আলী আহমেদ খান, এফবিসিসিআই সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখ ফজলে ফাহিম বক্তব্য রাখেন।

দুই দিনব্যাপী এই সামিটে এলপিজি খাতের দেশী বিদেশি বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। সাউথ এশিয়ান এলপিজি সামিট একই বছরে একাধিক দেশে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশে ২০১৭ সাল থেকে প্রতি বছর হয়ে আসছে। এর লক্ষ্য হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের একছাদের নিচে এনে সেতুবন্ধন তৈরি করা।

আপনার মতামত লিখুন :