ফোর্বসের এশীয় উদ্যোক্তার তালিকায় দুই বাংলাদেশি

সেন্ট্রাল ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
হোসেন ইলিয়াছ ও মোরশেদ মিশু, ছবি: সংগৃহীত

হোসেন ইলিয়াছ ও মোরশেদ মিশু, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রভাবশালী মার্কিন সাময়িকী 'ফোর্বস'-এর ২০১৯ সালের অনূর্ধ্ব-৩০ এশীয় উদ্যোক্তার তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন দুই বাংলাদেশি তরুণ উদ্যোক্তা।

তারা হচ্ছেন বাংলাদেশের অন্যতম রাইড শেয়ারিং সার্ভিস 'পাঠাও'র সহ-প্রতিষ্ঠাতা হোসেন ইলিয়াস ও 'মোরশেদ মিশু'জ ইলাস্ট্রেশনের প্রতিষ্ঠাতা কার্টুনিস্ট মোরশেদ মিশু।

টানা চতুর্থবারের মতো এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের ২৩টি দেশ এবং অঞ্চল থেকে দুই হাজার নামের মধ্য থেকে বাছাই করে ৩০০ জন সফল তরুণ উদ্যোক্তাদের নিয়ে ২০১৯ সালের 'থার্টি আন্ডার থার্টি' তালিকাটি প্রকাশ করেছে ফোর্বস এশিয়া।

ফোর্বস ম্যাগাজিন চলতি বছর এশিয়ার ২৩টি দেশ থেকে কয়েক হাজার তরুণের মধ্যে থেকে ৩০ বছরের নিচের ৩০ তরুণকে বেছে নিয়েছে। চতুর্থবারের মতো করা তালিকায় ১০ ক্যাটাগরিতে ৩০০ জনকে স্থান দেয়া হয়েছে।

মোট ১০টি শিল্পখাতে ভাগ করে এই তরুণ উদ্যোক্তা ও উঠতি তারকাদের বাছাই করা হয়েছে।

এবারের তালিকায় সবচেয়ে বেশি স্থান দখল করে আছে চীনের উদ্যোক্তারা (৬১ জন), এরপরেই রয়েছে ভারত (৫৯ জন)। প্রথমবারের মতো এবারের তালিকায় স্থান পেয়েছেন মঙ্গোলিয়া, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান এবং লাওসের প্রতিনিধিরাও।

ম্যাগাজিনটি বলছে, তারা এই সামাজিক উদ্যোক্তা খুঁজতে গিয়ে এতো এতো সব কাজ পেয়েছে যা বাস্তবায়ন করতে পারলে এই তরুণরা বিশ্বকে বদলে দিতে পারবে। তাদের ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও কিছু উদ্যোক্তা খোঁজার নীতিমালায় না পড়ায় তাদেরকে জায়গা করে দিতে পারেননি।

হোসেন ইলিয়াস

হোসেন ইলিয়াস এবং শিফাত আদনান মিলে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বাংলাদেশের প্রথম রাইড শেয়ারিং সার্ভিস পাঠাও। প্রথমে মোটরবাইক দিয়ে শুরু করে একে একে এটি পার্সেল সার্ভিস, কার রাইড, অন-ডিমান্ড লজিস্টিকস এবং ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নিজেকে ছড়িয়ে দিতে থাকে।

বর্তমানে পাঠাওয়ের শুধু মোটরবাইক আর কার রাইড শেয়ারিং সার্ভিস বাংলাদেশের ৫টি শহর ও নেপালের কাঠমান্ডুতে অর্ধ কোটি যাত্রীকে সেবা দিচ্ছে।

মোরশেদ মিশু

২০১৮ সালের শুরুর দিকে কার্টুনিস্ট মোরশেদ মিশু বিশ্বজুড়ে চলমান ভয়াবহ বিভিন্ন যুদ্ধের ওপর কার্টুন বা ব্যঙ্গচিত্র তৈরি করতে শুরু করেন। যুদ্ধের মর্মান্তিক ও যন্ত্রণাকর ছবিগুলো তার কলমের প্রতিভায় রূপ নিতে থাকে হাসি-আনন্দ ভরা শিল্পকর্মে। মিশুর আশা ছিল এসব কার্টুনের মধ্য দিয়ে ফুটিয়ে তোলা, যুদ্ধের নির্মমতা না থাকলে পৃথিবীটা কত সুন্দর হতো।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/02/1554198469049.jpg

মিশুর আঁকা এসব কার্টুন ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পর ‘গ্লোবাল হ্যাপিনেস চ্যালেঞ্জ’ নামক তার এমনই একটি প্রজেক্ট পুরস্কার পায় এবং তারপরই বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও সাময়িকীর জন্য কার্টুন আঁকতে শুরু করেন তিনি।

তারই ধারাবাহিকতায় মোরশেদ মিশু ফোর্বসের ‘থার্টি আন্ডার থার্টি’ তালিকায় ‘মিডিয়া, মার্কেটিং অ্যান্ড অ্যাডভার্টাইজিং’ শাখায় স্থান পেয়েছেন।

বর্তমানে নিজস্ব প্রতিষ্ঠান মোরশেদ মিশু ইলাস্ট্রেশন চালানোর পাশাপাশি দেশের জনপ্রিয় স্যাটায়ার ম্যাগাজিন উন্মাদের সহকারী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বরত আছেন মিশু।