Barta24

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

‘দিবস লইয়া থাকলে চুলায় আগুন জ্বলত না’

‘দিবস লইয়া থাকলে চুলায় আগুন জ্বলত না’
গ্রীষ্মের তাপদাহ উপেক্ষা করে যাত্রীর অপেক্ষায় আছেন বৃদ্ধ রিকশাচালক চাঁন মিয়া/ ছবি: বার্তা২৪.কম
উবায়দুল হক
 স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
ময়মনসিংহ
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

তীব্র গরমের মধ্যে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে যাত্রীর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন রিকশাচালক চাঁন মিয়া (৬০)। প্রতিদিনকার মতো উপার্জনের জন্য সকাল থেকে শহরের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত ছুটে চলছেন তিনি। কপালের বলিরেখাই বলে দিচ্ছে এই বয়সেও কেমন হাড়-খাটুনি পরিশ্রম করেন তিনি। রোদ-বৃষ্টি যেন তার গা সওয়া। চাঁন মিয়ার জানা নেই মে দিবসের প্রতিপাদ্য কিংবা শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের ইতিহাস।

ফুলপুর থেকে আসা এ রিকশাচালক বলেন, ‘কাম কইরাই আমার অধিকার আদায় কইতে অইবো। কাম না করলে দিবস দিয়া আহারের ব্যবস্থা অইতো না। দিবস লইয়া থাকলে ঘরের চুলায় আগুন জ্বলত না। সকাল থেইক্কা সন্ধ্যা পর্যন্ত রিকশা চালাইয়া যা টেহা অইবো, ওইটা দিয়া বাজার-সদাই কইরা বাড়িত যামু।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/01/1556705658996.gif
প্রখর রোদে শরবত বিক্রিতে ব্যস্ত শাহজাহান সাজু/ ছবি: বার্তা২৪.কম

 

প্রখর রোদে রাস্তায় দাঁড়িয়ে নগরীর চরপাড়া মোড়ে আখের শরবত বিক্রি করছেন শাহজাহান সাজু (৪৫)। তাকে মে দিবসের কথা জিজ্ঞেস করতেই তিনি বলেন, ‘এসব দিবস টিবস পালন কইরা আমগর তো কোনো লাভ নাই। মে দিবসে নাকি নিজেগো অধিকার আদায়ের লেইজ্ঞা শ্রমিকরা প্রাণ দিছিলো। কিন্তু তাতে কি শ্রমিকগর ভাগ্য বদলাইছে? আমগর দু:খ-কষ্টে কেউ তো কখনো আহে না।’

বাসা-বাড়িতে কাজ করেন জামেলা খাতুন (৫০)। অন্য দিনের মতো আজও বাসায় সকালের কাজ সেরে ফিরছিলেন জামেলা। তিনি বলেন, ‘মাইনষের বাড়িত কাম করি। একদিন না গেলে তো গালাগালি শুরু অইয়া যাইব। আমরা বাঁচলেও কেউ দেহে না, মরলেও না। আমগর আবার দিবস!’ এটুকু বলেই হাঁটা শুরু করেন বস্তির দিকে।

বুধবার (১ মে) সকাল থেকে ময়মনসিংহ নগরীর চরপাড়া, সানকিপাড়া, গাঙ্গিনারপাড় এলাকা ঘুরে কথা হচ্ছিল বিভিন্ন শ্রেণীর শ্রমিকদের সঙ্গে। এ সময় তাদের সামনে দিয়েই মে দিবসের শোভাযাত্রায় অংশ নিতে অনেক শ্রমিক মাথায়-হাতে লাল ফিতা বেঁধে ট্রাক-অটোরিকশায় চেপে ছুটছিলেন। এ দৃশ্য মোটেও নাড়া দেয়নি রিকশাচালক চাঁন মিয়া, শরবত বিক্রেতা শাহজাহান সাজু কিংবা অন্যের বাসায় কাজ করা জামেলা খাতুনকে।

তাপদাহ মাথায় নিয়ে সদর উপজেলার বাদেকল্পা গ্রামে বোরো ধান কাটার কাজে ব্যস্ত সুমন মিয়া, ফয়জুল, জবান আলীসহ আরও কয়েকজন। বিরতিহীনভাবে নিবিষ্ট মনে কাজ করে চলছেন তারা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/01/1556705585192.gif
শ্রমিক দিবসে বোরো ধান কাটার কাজ করছেন শ্রমিকরা/ ছবি: বার্তা২৪.কম

 

বোরো ধান ঘরে তোলার সময় এখন, তাই পার্শ্ববর্তী নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ এলাকা থেকে চুক্তির ভিত্তিতে কাজ করতে এখানেই আছেন কদিন যাবত। শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের দিনটি নিয়ে মোটেও অবগত নন তারা।

সুমন মিয়া বলছিলেন, ‘আমরা অইলাম চুক্তি কামলা। কামই আমরার ধর্ম, কামই আমরার জ্ঞান। কাম কইরা খাইতে অইবো, বউ-পোলাপানরে খাওয়াইতে অইব। হে লেইজ্ঞাই তো এত দূরাত আইয়া ধান কাটতাছি। কাম শেষ করলেই টেহা পামু, তাড়াতাড়ি বাড়িত যামু। দিবস লইয়া বইয়া থাকলেই হইব মিয়া?’ কথাগুলো বলেই হি হি করে হেসে উঠেন সুমন।

হাসির রোলের মধ্যে তার সঙ্গে কণ্ঠ মেলাচ্ছিলেন জবান। বলেন, ‘ভাই, দিবস বুইজ্জা কাম নাই। আমরা বুঝি পেট চলব কিনা বা কি করলে পেট চলব। গরীবের কোনো দিবস নাই। সব দিনই সমান।’ কথা শেষ করেই ফের মন দিলেন কাজে।

আপনার মতামত লিখুন :

বৃষ্টি কমেছে, বেড়েছে তাপমাত্রা

বৃষ্টি কমেছে, বেড়েছে তাপমাত্রা
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বাংলাদেশের উপর মৌসুমী বায়ুর প্রভাব অনেকটাই কমেছে। এটি এখন উত্তর বঙ্গোপসাগরে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। ফলে সারাদেশে আবহাওয়ার পরিস্থিতিতে উন্নতি ঘটছে।

মাঝে মাঝে অবশ্য আকাশ মেঘলা থাকতে পারে। তবে দেশের দু-এক জায়গা ছাড়া তেমন কোথাও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। ফলে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে।

গরমে জনজীবন কিছুটা অতিষ্ঠ হলেও বন্যায় কবলিত পানিবন্দীদের মাঝে স্বস্তি ফিরবে। তারা নিজ ভিটায় ফিরে যেতে পারবেন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তরা নিজেকে আবারও গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবেন। তবে নদী ভাঙ্গনে ভিটেমাটি হারানো মানুষদের আর্তনাদ থেকেই যাবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563389450967.jpg

আবহাওয়া অফিস বলছে, 'মৌসুমী বায়ু অনেকটাই দুর্বল হয়ে গেছে। এতে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের আশঙ্কা কমে গেছে। ক্রমান্বয়ে বাড়বে তাপমাত্রা। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৩২ থেকে ৩৩ ডিগ্রি ছিল তবে এখন তা ৩৫ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বিরাজ করতে পারে।'

বুধবার ১৭ জুলাই সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় মংলায় ৩৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় কুমারখালীতে ২২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫.৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবার সকালে রাজধানীতে আকাশ মেঘলা থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোদের প্রখরতাও বাড়তে থাকে। এতে গরমের তীব্রতাও বাড়ে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563389436185.jpg

রোদ থেকে বাঁচতে অনেকেই ছাতা ব্যবহার করেছেন। আবহাওয়াবিদ আরিফ হোসেন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, 'গতকাল থেকেই বৃষ্টির প্রভাব কমেছে। তাপমাত্রা বেড়েছে তিন থেকে চার ডিগ্রি সেলসিয়াস। এখন বর্ষা মৌসুম হওয়ায় তিন থেকে চারদিন পর আবারও বৃষ্টির প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে। আরও এক থেকে দেড় মাস এভাবেই চলবে।'

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাজশাহী চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া বাকি বিভাগগুলোতে দু-এক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

অন্যদিকে, রাজশাহী সাতক্ষীরা চুয়াডাঙ্গা ও যশোরের উপর দিয়ে বেড়ে যাওয়া মৃদু তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।

জালিয়াতি চক্রকে নিয়ে সতর্ক করলেন বিপ্লব বড়ুয়া

জালিয়াতি চক্রকে নিয়ে সতর্ক করলেন বিপ্লব বড়ুয়া
ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া ও তার নামে ভুয়া চিঠিপত্র।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার ভুয়া সিল-প্যাড ব্যবহার করে জা‌লিয়া‌তি কর‌েছে এক‌টি প্রতারক চক্র।

এ ভুয়া চক্র থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বুধবার (১৭ জুলাই) রাজধানীর শের-ই-বাংলা নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তিনি। জিডি নং: ৯৮১।

জিডিতে তিনি জানান, আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত আমার সিল-প্যাড ব্যবহার করে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বরাবর কোন ধরনের পত্র, সুপারিশ বা নির্দেশনা প্রদান করি নাই। অথচ একটি জালিয়াতচক্র আমার নামে ভুয়া চিঠিপত্র বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানে প্রেরণ করেছে মর্মে অভিযোগ পেয়েছি। রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক কার্যক্রমে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং আমার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য  জালিয়াতচক্র কর্তৃক এ ধরনের মারাত্মক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563387562162.jpg

আওয়ামী লীগ উপ-দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, ‘ইতোমধ্যে বিষয়টি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে। এই জালিয়াতচক্র সম্পর্কে সকলকে সতর্ক থাকতে অনুরোধ জানাচ্ছি।’

উল্লেখ্য, গত ১০ জুলাই প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের প্যাডে ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার স্বাক্ষর নকল করে গফরগাঁও পৌরসভার মেয়র বরাবর একটি পত্র প্রেরণ করা হয়। যেটি একটি জাল চিঠি ছিল।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র