Barta24

রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

English

চট্টগ্রামে বাজার মনিটরিং, শহরে আছে গ্রামে নেই

চট্টগ্রামে বাজার মনিটরিং, শহরে আছে গ্রামে নেই
ছবি: সংগৃহীত
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
চট্টগ্রাম


  • Font increase
  • Font Decrease

রাজধানী ঢাকার মতো চট্টগ্রামেও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ভেজাল প্রতিরোধে রমজান শুরুর পর থেকে প্রতিদিনই বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে জেলা প্রশাসনের দল প্রতিদিনই বের হচ্ছেন বাজার মনিটরিং করতে। তবে নগরীতে এ অভিযান পরিচালনা করা হলেও উপজেলা পর্যায়ে নেই কোনো অভিযান।

বাজার দর নিয়ন্ত্রণ ও ভেজালমুক্ত খাদ্যদ্রব্য বাজারজাতকরণ, বিপণনের ক্ষেত্রে শহরের মতো গ্রামেও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চান স্থানীয়রা।

জানা যায়, চট্টগ্রাম জেলায় ১৫টি উপজেলা। নগরীতে অভিযান চললেও উপজেলা পর্যায়ে কোনো অভিযান পরিচালিত হচ্ছে না। ব্যতিক্রম শুধু চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলা। এ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন বেশ কয়েকবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছেন। তিনি নকলপণ্য, ভেজাল ঘি, জিলাপি বানানোর রং, কলার মূল্য বৃদ্ধির জন্য জরিমানা আদায় ও সাজা দিয়েছেন।

এদিকে উত্তর চট্টগ্রামের চট্টগ্রামের মিরসরাই, ফটিকছড়ি, সন্দীপ, সীতাকুন্ড, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া এবং দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালি, পটিয়া, সাতকানিয়া, লোহাগড়া, আনোয়ারা, চন্দনাইশ উপজেলা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়নি।

এ উপজেলাগুলো সরকারি হিসেবে বাজারমূল্য নির্ধারণ করা হলেও বাড়তি দাম দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এছাড়া ভেজাল পণ্য বিক্রি হচ্ছে অহরহ।

রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান এহসানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল বার্তা২৪কে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নিদের্শনা হচ্ছে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা। সর্বসাধারণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখা। অন্য উপজেলার কথা আমি বলতে পারবো না। কিন্তু রাউজান উপজেলায় প্রত্যেক বাজারে মূল তালিকা  টাঙানো আছে। কেউ এদিক ওদিক করতে পারবে না। সব নিয়মের মধ্যে চলছে। তাই ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের প্রয়োজন হচ্ছে না।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুশফিকুর রহমান বার্তা২৪কে বলেন, আমি গিয়ে খোজঁখবর নিয়েছি। ফটিকছড়ি ছোলা, কলা এবং মাছ মাংসের দাম সরকার নির্ধারিত মূল্যেই  বিক্রি হচ্ছে।

তিনি বলেন, উপজেলা অনেক হাটবাজারে রমজান মাসের ১৫দিন আগে গিয়ে মনিটরিং করেছি। যাতে রমজানে বাজার দাম বৃদ্ধি করতে না পারে।

এ ব্যাপারে দক্ষিণ চট্টগ্রামের লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু আসলাম বার্তা২৪কে বলেন, আমরা প্রায় প্রতিদিন বাজার মনিটরিংয়ে বের হই।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ইলিয়াছ হোসেন বার্তা২৪কে বলেন, প্রত্যেকটি উপজেলায় প্রতিদিন বাজার মনিটরিং করার জন্য নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে বাজার দরের তালিকাও পাঠানো হয়। আমরা বাজার দরের ঊর্ধ্বগতি  ঠেকাতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তিনি বলেন, অনেক উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা হলেও হয়ত মিডিয়া কাভারেজ কম পায় তাই প্রচার তেমন হচ্ছে না।

ইলিয়াছ হোসেন বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ক্ষেত্রে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খুবই অ্যাকটিভ। তাঁর মতো আরও পাঁচজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পেলে আমি আরও বেশী কাজ করতে পারতাম।

আপনার মতামত লিখুন :

জমির তিন পাশে বেড়া দেওয়ায় অবরুদ্ধ একটি পরিবার

জমির তিন পাশে বেড়া দেওয়ায় অবরুদ্ধ একটি পরিবার
জমির তিন পাশে বেড়া দেওয়া অবরুদ্ধ পরিবার

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কুচিয়াবাড়ী গ্রামে জামির তিন পাশে বাঁশের বেড়া দিয়ে একটি পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি থানার ওসিকে জানানো হলেও কোনও ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। শনিবার (১৭ আগস্ট) এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী লোহাগড়া উপজেলার কুচিয়াবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা তরিকুল ইসলাম জানান, প্রায় ২৫ বছর ধরে নিজের বসতভিটায় বসবাস করছেন তিনি। তার বসতভিটায় প্রায় ৩০ শতক জমি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৫ শতক নিজের কেনা জমি এবং পাঁচ শতক মায়ের পাওয়া জমি। ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা থানার কামারগ্রামে পৈত্রিক ভিটায় বসবাস করার জন্য তিনি লোহাগড়ার জমি তিন ভাইয়ের কাছে বিক্রি করেছেন। ভূমি অফিসে জমির কাগজপত্র যাচাই-বাচাই শেষে গত ৩১ জুলাই ওই জমি লোহাগড়ায় রেজিস্ট্রি হয়। এছাড়া গত ৮ আগস্ট বিলের প্রায় ২১ শতক জমি তরিকুলের প্রতিবেশী শিমুল মোল্যার কাছে বিক্রি করেন। কিন্তু জমি বেচাকেনার বিষয়টি তরিকুলের মামা পাশের ঝিকড়া গ্রামের হাফিজার রহমান জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566090538315.jpg

এ ঘটনায় হাফিজার শনিবার (১৭ আগস্ট) সকালে হঠাৎ তরিকুলের ঘরের তিন পাশে বাঁশের বেড়া দিয়ে আটকে দেন। এতে জমির ক্রেতাদের জমিতে আসতে দিবেন না বলেও হুমকি দিয়েছেন তিনি।

তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘মায়ের সঙ্গে প্রায় ২৫ বছর ধরে কুচিয়াবাড়ির জমিতে বসবাস করছি। আর বাবা আছেন ফরিদপুরের বাড়িতে। তিনি মাঝে-মধ্যে আমাদের খোঁজখবর নেন। এখন নিজের বাড়ি ফরিদপুরের কামারগ্রামে বসবাস করার উদ্দেশ্যে এখানকার (কুচিয়াবাড়ী) জমি বিক্রি করেছি। অথচ আমার মামা ঝিকড়া গ্রামের হাফিজুর রহমান আমাদের পরিবারকে বাড়ি থেকে বের হতে দিচ্ছে না। ঘরের তিন পাশে বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে দিয়েছে। এ কারণে ঘরের মালামাল নিয়ে ফরিদপুরে যেতে পারছি না, যেন বন্দিশালার মধ্যে আছি।’

তরিকুলের মা স্বরুপজান বলেন, ‘আমি এবং আমার ছেলে, বেটার বউ ও দুই পুতনি (ছেলের মেয়ে) ঘর থেকে বের হতে পারছি না। বৈধ জমি বিক্রির পরও আমরা হুমকির মধ্যে আছি।’

অভিযুক্ত হাফিজুর রহমান বলেন, ‘পৈতৃকসূত্রে ওই জমিতে আমার অংশ রয়েছে। তাই আমি বেড়া দিয়েছি।’

এদিকে, বিষয়টি জানার পরও শনিবার বিকেল পর্যন্ত পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলে জানিয়েছেন ভূক্তভোগী তরিকুলের পরিবার।

লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোকাররম হোসেন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখা হচ্ছে।’

বরিশাল লঞ্চঘাটে ঢাকামুখী যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়

বরিশাল লঞ্চঘাটে ঢাকামুখী যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়
বরিশাল লঞ্চঘাটে ঢাকামুখী যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়, ছবি:; বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

পবিত্র ঈদুল আজহা পালন শেষে রাজধানী শহর ঢাকার উদ্দেশে বরিশাল ছাড়ছেন কয়েক লাখ মানুষ।

শনিবার (১৭ আগস্ট) বরিশাল নৌবন্দরে ঢাকামুখী যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দুপুর থেকেই বরিশালের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা লঞ্চ যাত্রীরা ভিড় করছে নোঙর করা লঞ্চগুলোতে।

বিকেল শেষ না হতেই লঞ্চের ডেক থেকে শুরু করে প্রথম শ্রেণীর কেবিনের বারান্দার কানায় কানায়ও পরিপূর্ণ হয়ে যায়। যার কারণে, বিআইডব্লিউটিএর নির্দেশে নৌ দুর্ঘটনা ও অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই অপরাধ এড়াতে অন্যান্য দিনের চাইতে ২/১ ঘণ্টা আগেই বরিশাল লঞ্চঘাট ছাড়ে কয়েকটি বিলাসবহুল লঞ্চ।

গত শুক্রবারও ছিল যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। ওই দিনেও নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা আগেই বরিশাল নদীবন্দর ছেড়েছিল ঢাকাগামী বিলাশ বহুল কয়েকটি লঞ্চ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566075739275.JPG

বিআইডব্লিউটিএ’র বরিশালের নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক আজমল হুদা মিঠু সরকার বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘কোরবানির ছুটি শেষে স্ব স্ব কর্মস্থলে যোগ দিতে বরিশাল ছাড়ছে কয়েক লাখ মানুষ। কোরবানির দ্বিতীয় দিন থেকে ঢাকার উদ্দেশে লঞ্চযোগে বরিশাল নৌ বন্দর থেকে যাচ্ছে লঞ্চযাত্রীরা। তবে কয়েকদিনের চেয়ে শুক্রবার ও শনিবার যাত্রী চাপ অনেকটা বেশি ছিল।

তিনি আরেও জানান, অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই নিয়ে বরিশাল লঞ্চঘাট থেকে কোনো লঞ্চই ছাড়তে দেওয়া হচ্ছে না। বিশেষ করে লোড লাইন দেখে নির্ধারিত সময়ের আগেই লঞ্চগুলোকে ঘাট ত্যাগ করতে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করতে নিষেধ করা হচ্ছে। একই সাথে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিদিনই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।

যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়ের একই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে সরকারি জাহাজগুলোতেও। লঞ্চযাত্রীদের নির্বিঘ্নে যাতায়াতের জন্য গত ৮ আগস্ট থেকে শুরু হয়েছে স্পেশাল লঞ্চ সার্ভিস। থাকছে ২০ আগস্ট পর্যন্ত। এর আওতায় পাঁচটি সরকারি জাহাজসহ ব্যক্তি মালিকানা ২০টি বিলাসবহুল লঞ্চ যাতায়াত করছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র