Barta24

শনিবার, ১৭ আগস্ট ২০১৯, ২ ভাদ্র ১৪২৬

English

বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞায় শ্রমিকদের জোর আপত্তি

বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞায় শ্রমিকদের জোর আপত্তি
নৌযান শ্রমিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখছেন মৎস প্রতিমন্ত্রী মো. আশরাফ আলী খাঁন খসরু/ ছবি: বার্তা২৪.কম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
চট্টগ্রাম


  • Font increase
  • Font Decrease

নৌযান শ্রমিক, ট্রলার মালিক ও ব্যবসায়ীদের জোর আপত্তি সত্ত্বেও বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা বন্ধের অটল সিদ্ধান্তের কথা ব্যক্ত করেছেন মৎস ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মো. আশরাফ আলী খাঁন খসরু।

তিনি শ্রমিকদের ‍উদ্দেশে বলেন, ‘উপকূলের নৌযান শ্রমিকদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে সরকার বৃহৎ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। শ্রমিকদের জীবিকা নির্বাহের লক্ষ্যে ছাগল, ভেড়াসহ বিভিন্ন উপকরণ প্রদানসহ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে প্যাকেট জাতীয় খাবার প্রদান করা হবে।’

বৃহস্পতিবার (১৬ মে) দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে নৌযান শ্রমিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আগামী ২০ মে হতে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন বঙ্গোপসাগরে সকল ধরণের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ও নৌযান শ্রমিকদের সহায়তা চেয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এ সভার আয়োজন করেন।

সভার শুরুতে নৌযান শ্রমিকরা জানান, বছরের বেশকিছু সময় প্রতিকূল আবহাওয়া ও জলদস্যুদের কারণে মাছ ধরা বন্ধ রাখতে হয়। নতুন করে ৬৫ দিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে তাদের অনেকে বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়বে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশ ভারত, মিয়ানমার, চীনসহ বিভিন্ন দেশে মৎস্য সম্পদ আহরণের লক্ষ্যে একটি সময় মাছ ধরা বন্ধ রাখা হয়। বাংলাদেশেও কাছাকাছি সময়ের সাথে মিল রেখে মাছ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে মাছের প্রজনন বৃদ্ধিসহ উৎপাদনে ভূমিকা রাখছে।’

তিনি বলেন, ‘মাছ ধরতে না পেরে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় থাকা জেলে রিবারগুলোর জন্য সরকার বেশকিছু প্রকল্প নিয়েছে। এর মধ্যে কৃষকদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সমুদ্রের এক প্রকার শ্যাওলা, যা সবজী হিসেবে প্রসিদ্ধ লাভ করেছে, এটিকে জনপ্রিয় ও রফতানির কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন প্রণোদনার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।’

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন নৌযান শ্রমিকদের স্বার্থে মাছ বন্ধের সিদ্ধান্তটি কোনোভাবে কমানোর যায় কিনা জানিয়ে মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আর্কষণ করেন।

এমনকি জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেনও বেঁধে দেওয়া সময়টি এগিয়ে আনা কিংবা পেছানোর বিষয়ে প্রতিমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রইছুল আলম মণ্ডল সভার সভাপতিত্ব করেন। সভায় বিভিন্ন নৌযান ও ট্রলার মালিক সংগঠনের প্রতিনিধি, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ডসহ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উচ্চপর্দস্থ কর্মকর্তারা অংশ নেন।

এদিকে মতবিনিময় সভার পূর্বে সার্কিট হাউসের মূল ফটকে প্রায় পাঁচ শতাধিক শ্রমিক অবস্থান নেন। তারা ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা মানেন না বলে স্লোগান দেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে বের হওয়ার পথে প্রতিমন্ত্রীর গাড়ি রোধ করার চেষ্টা করেন নৌযান শ্রমিকরা।

আপনার মতামত লিখুন :

পানি প্রবাহ কনভেনশনে অনুসমর্থনের পরামর্শ

পানি প্রবাহ কনভেনশনে অনুসমর্থনের পরামর্শ
বিশ্ব নদী অধিকার দিবস উপলক্ষে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠক

জাতিসংঘের পানি প্রবাহ কনভেনশনে বাংলাদেশকে অনুসমর্থন দিতে পরামর্শ দিয়েছেন গোলটেবিল বৈঠকের বক্তারা। পানি প্রবাহ কনভেনশনের ফলে আন্তঃসীমান্তীয় নদীগুলোর ক্ষেত্রে কোন দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে সে ক্ষেত্রে প্রতিকার চাইতে পারবে।

বিশ্ব নদী অধিকার দিবস (১৭ আগস্ট) উপলক্ষে রাজধানীর লালমাটিয়ায় এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এ পরামর্শ দেন।

বক্তারা বলেন, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশন গত ১ জুলাই দেশের সব নদীকে জীবন্ত সত্তা ঘোষণা করে একটি রায় দিয়েছেন। এর ফলে ভাটির দেশ হিসেবে একটি স্বীকৃতি পাওয়া গেছে। যদি জাতিসংঘের পানি প্রবাহ কনভেনশনে বাংলাদেশ অনুসমর্থন দেয় তাহলে অধিকার চাওয়া পূর্ণতা পাবে।

১৯৯৭ সালে আন্তর্জাতিক পানি প্রবাহ কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আয়োজক ছিল জাতিসংঘ। এই কনভেনশনে সিদ্ধান্ত হয়েছিল একটি আইন প্রণয়নের। কনভেনশনে সেই আইনটিও প্রস্তুত করা হয়। শর্ত থাকে, জাতিসংঘভুক্ত ৩৫টি দেশের অনুসমর্থন পাওয়া গেলে আইনটি চূড়ান্ত হবে। জাতিসংঘভুক্ত দেশের জন্য তা কার্যকর হবে।

১৯৯৭ সালের পর ৩৫টি দেশের অনুসমর্থন পাওয়ার জন্য প্রায় ১৭ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। ৩৪টি দেশ অনুসমর্থন দেওয়ার পর দীর্ঘদিন আইনটি অনুসমর্থন পাওয়ার অপেক্ষায় ঝুলে ছিল। ৩৫তম দেশ হিসেবে ভিয়েতনাম আইনটির জন্য অনুসমর্থন দেয়।

কনভেনশনে উল্লেখ করা হয়েছিল, ৩৫তম দেশ অনুসমর্থন করার অব্যবহিত ৯০ দিন পর তা আইনে পরিণত হবে। সেই বিধান অনুযায়ী ২০১৪ সালের ১৭ আগস্ট আন্তর্জাতিক পানি প্রবাহ কনভেনশনে গৃহীত আইন প্রয়োগ উপপযোগী হয়ে ওঠে।

তবে এখনও বাংলাদেশ, ভারত ও নেপাল আন্তর্জাতিক পানি প্রবাহ কনভেনশনে সমর্থন জানায়নি। এই সমর্থন দিলে বিশেষত আন্তঃসীমান্তীয় নদীগুলোর ক্ষেত্রে কোন দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তারা প্রতিকার চাইতে পারবে। তবে প্রতিকার চাওয়ার আগে তাদের অনুসমর্থন দেওয়ার প্রয়োজন হবে।

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশন গত ১ জুলাই দেশের সব নদীকে জীবন্ত সত্তা ঘোষণা করে একটি রায় দিয়েছেন। এ রায় অনুযায়ী জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে নদীর অভিভাবক ঘোষণা করা হয়েছে। আইনগতভাবেও নদী রক্ষায় জোর দেওয়া হয়েছে।

গোলটেবিল বৈঠকে বক্তরা বলেন, নদী বাঁচাতে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে আনতে হবে। এ জন্য পরিবেশবান্ধব প্লাস্টিক বাজারে আনতে হবে যাতে এটি মাটির সঙ্গে মিশে যায়। নদীর প্রবাহ চালু রাখতে শীতকালে উজানের দেশ পানি আটকে রাখতে পারে না।

গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, বিআইডব্লিউটিএ’র যুগ্ম পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন, জল ও পরিবেশ ইন্সটিটিউটের চেয়ারম্যান ম. ইনামুল হক, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের নির্বাহী সদস্য তোফায়েল আহমেদ, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ড. কামরুজ্জামান, রিভারাইন পিপল-এর পরিচালক মোহাম্মদ এজাজ, বাংলাদেশ নদী পরিব্রাজক দলের সভাপতি মো. মনির হোসেন, নোঙ্গরের চেয়ারম্যান শামস্ সুমন প্রমুখ।

আ'লীগের উপদেষ্টা পরিষদে আতাউর রহমান আতা

আ'লীগের উপদেষ্টা পরিষদে আতাউর রহমান আতা
আতাউর রহমান আতা, ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মনোনীত হয়েছেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আতাউর রহমান আতা। ২০০১ সালে নাট্যক্ষেত্রে অবদানের জন্য একুশে পদক পেয়েছিলেন তিনি।

শনিবার (১৭ আগস্ট) দলের দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের ২০তম জাতীয় কাউন্সিলের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আতাউর রহমানকে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দেন।

প্রসঙ্গত, ১৯৪১ সালের ১৮ জুন নোয়াখালীতে আতাউর রহমানের জন্ম। স্কুলজীবনেই সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পা রাখেন তিনি। ষাটের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালে ২১ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল থেকে আবদুল্লাহ আল মামুনসহ আতাউর রহমান প্রথম মঞ্চ নাটকে অভিনয় করেন। ১৯৭২ সালে ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’ এর মাধ্যমে তার নাট্য নির্দেশনা শুরু। পরে নিজের দল ও অন্য দলের হয়ে অসংখ্য নাটকে নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

মঞ্চ নাটকের নির্দেশনার পাশাপাশি আতাউর রহমান অভিনয়ও করছেন সমানতালে। এ ছাড়া নাট্য বিষয়ক বই, নাট্যসমালোচনা, উপস্থাপনা, শিক্ষকতা, টেলিভিশন নাট্যকার, প্রবন্ধকার, বক্তা সব ক্ষেত্রেই রয়েছে আতাউর রহমানের সরব পদচারণা।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র