Barta24

রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

English

চট্টগ্রামে ৯০ ভাগ স্কুলের আশপাশে তামাক বিক্রি

চট্টগ্রামে ৯০ ভাগ স্কুলের আশপাশে তামাক বিক্রি
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের এস রহমান হলে ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশনের সংবাদ সম্মেলন, ছবি: বার্তা২৪
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
চট্টগ্রাম


  • Font increase
  • Font Decrease

ক্রস সেকশনাল পর্যবেক্ষণ নামে একটি গবেষণায় উঠে এসেছে ৯০ শতাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খেলার মাঠের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত পণ্য বিক্রয় ও প্রদর্শন হয়।

এক্ষেত্রে, প্রতিটি স্কুল প্রতিষ্ঠান ও খেলার মাঠের ১০০ মিটারের মধ্যে গড়ে ছয়টি তামাক পণ্যের বিক্রয় কেন্দ্র পাওয়া গেছে। যার মধ্যে ৭৭ শতাংশ তামাক বিক্রয় কেন্দ্র শিশুদের চক্ষু সমান্তরালে (আনুমানিক ১ মিটার) ও ৩৩ শতাংশ চকলেট, মিষ্টি বা খেলনার পাশে প্রদর্শন করা হচ্ছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

এর কারণে শিশুরা তামাকজাত পণ্যের প্রতি আগ্রহী ও ধূমপায়ী হয়ে উঠছে বলেও আশঙ্কা করেন গবেষকরা।

রোববার (২৬ মে) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের এস রহমান হলে ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা) উদ্যোগে ‘বিগ টোব্যাকো টার্গেট’ শীর্ষক গবেষণায় এমন তথ্যে উঠে আসে। ক্যাম্পেইন ফর ফ্রি কিডস (সিটিএফকে) সংবাদ সম্মেলনে সহযোগিতা করেন।

২০১৭ সালের ৩ থেকে ৩০ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও রাঙামাটি জেলার ৪০টি নির্বাচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খেলার মাঠের ওপর পর্যবেক্ষণ করা হয়। এর মাঝে চট্টগ্রাম ২০, কক্সবাজার ১৯ ও রাঙামাটির ১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেছে নেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ইপসার উপপরিচালক নাছিম বানু ক্রস সেকশনাল পর্যবেক্ষণের সামগ্রিক এই চিত্র তুলে ধরেন।

তিনি জানান, স্কুল, কলেজ ও খেলার মাঠের ১০০ মিটারের মধ্যে ৯৬ শতাংশ তামাক পণ্য বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হচ্ছে। ৮৪ শতাংশ বিক্রয় কেন্দ্রে তামাক পণ্যের স্টিকার, ডেমোপ্যাকেট, ফেস্টুন, ফ্লায়ার প্রদর্শন করা হচ্ছে। এর মধ্যে ১৪ শতাংশ বিজ্ঞাপন পোস্টার, ১ শতাংশ ছাতায় ও বিলবোর্ডের মাধ্যমে অপর এক শতাংশের বিজ্ঞাপন করা হয়েছে।

বিক্রির ক্ষেত্রে কিছু কৌশলের কথা তুলে ধরেন নাছিম বানু। তিনি জানান, ৯৮ শতাংশ তামাক বিক্রয় কেন্দ্রে একক শলাকা সিগারেট বিক্রি হয়। এর পাশাপাশি বিক্রি বৃদ্ধিতে ৫ শতাংশ প্রণোদনামূলক কার্যক্রম, ৩৮ শতাংশ বিক্রয় কেন্দ্রে বিভিন্ন উপহার ও ৬৩ শতাংশ বিক্রয়কেন্দ্রে তামাক পণ্যের ক্রয়ের ক্ষেত্রে মূল্যছাড় দেওয়া হয়। চট্টগ্রামে তামাকজাত পণ্যের বিজ্ঞাপনের মাত্রা বেশি বলেও জানান তিনি।

এক্ষেত্রে গবেষক দল স্কুল ও খেলার মাঠের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক পণ্য বিক্রি নিষিদ্ধ, প্রয়োজনে বিদ্যমান আইনের সংশোধন দাবি তোলেন। এছাড়া শিশুদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু একক শলাকা সিগারেট নিষিদ্ধ, তামাক বিক্রেতাদের লাইসেন্সের আওতায় আনা, তামাক নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর পদক্ষেপের সুপারিশ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে সিটিএফের গ্র্যান্টস ম্যানেজার আবদুস সালাম মিয়া, ইফসার চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রকল্প পরিচালক ওমর শাহেদ হিরু, প্রথম আলোর বার্তা সম্পাদক ওমর কায়সার, সাংবাদিক আলমগীর সবুজ উপস্থিত ছিলেন।

 

আপনার মতামত লিখুন :

‘ছেলেধরা’ সন্দেহে বৃদ্ধকে থানায় এনে বিপাকে পুলিশ!

‘ছেলেধরা’ সন্দেহে বৃদ্ধকে থানায় এনে বিপাকে পুলিশ!
২৩ দিন ধরে রাজশাহীর বাগমারা থানায় পুলিশ হেফাজতে আছেন বৃদ্ধ, ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীর বাগমারা থানার বারান্দায় তিন-চার টুকরো কাগজ হাতে নিয়ে জোড়া লাগনোর চেষ্টায় ব্যস্ত ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধ। পরনে নোংরা পোশাক থাকলেও মুখে ক্লিন সেভ। মাথার চুলগুলোও তেল দিয়ে আঁচড়ে পরিপাটি করা। হঠাৎ চিৎকার দিয়ে বলে ওঠেন ‘অই... এ্যানতা আয়! আড্ডাটাড্ডা দ্যাই!’

বৃদ্ধের এমন বাচনভঙ্গিতে তাকে কুমিল্লার বাসিন্দা বললেন থানার এক বয়স্ক কনস্টেবল। তবে নাম-পরিচয় কিছুই জানাতে পারছেন না তিনি। ফলে গত ২৩ দিন থানার বারান্দায় পড়ে আছেন তিনি।

থানার কর্মকর্তারা জানালেন- রাত বাড়লেই হাঁকডাক ছেড়ে মাথায় যন্ত্রণা ধরিয়ে দেন তিনি। অশ্লীল-অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজও করেন। তবে পুলিশ কর্মকর্তারা তাকে ভালো খাবার খাওয়াচ্ছেন। চিকিৎসাও করাচ্ছেন। মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় সেফ হোমেও পাঠানো যাচ্ছে না। পরিচয় না পাওয়ায় তাকে ছাড়াও যাচ্ছে না। বড্ড বিপাকে পড়েছে পুলিশ!

থানা সূত্র জানায়, গত ২৪ জুলাই বাগমারা উপজেলার দ্বীপনগর এলাকায় রাতে ঘোরাঘুরির সময় স্থানীয়রা তাকে ছেলেধরা সন্দেহে মারপিট শুরু করেন। পরে পুলিশ খবর পেয়ে তাকে থানায় নিয়ে আসে। পরে জানা যায় তিনি আসলে মানসিক প্রতিবন্ধী। নিজের নাম-পরিচয়ও বলতে পারছেন না। আদালতের নির্দেশে তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে পাঠানো হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পর দিনই তাকে আবার বাগমারা থানায় পাঠানো হয়।

ফলে থানায় রেখে তাকে দেখভাল করতে হচ্ছে পুলিশকে। অসুস্থ হলে পুলিশের গাড়িতে গার্ডসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসা শেষে আবার থানায় আনা হচ্ছে। পুলিশ কর্মকর্তা ও কনস্টেবলরা ভাগাভাগি করে খাবার কিনে খাওয়াচ্ছেন। সেলুনে নিয়ে চুল-দাড়ি কাটিয়ে দিয়েছেন পুলিশ সদস্যরা। কিছু পুরোনো কাপড়ও দেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান বলেন, ‘প্রতিবন্ধী বৃদ্ধকে নিয়ে বিপাকে আছি ভাই। মানসিক সমস্যা থাকায় তিনি মাঝে-মধ্যেই চিৎকার শুরু করেন। অশ্লীল-অশ্রাব্য ভাষায় গালি দেন। কিন্তু কিছু করার তো নেই। আদালতের নির্দেশে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় তাকে সেফহোমে নিচ্ছে না। আবার সুস্থ না হওয়া এবং পরিচয় না পাওয়া পর্যন্ত থানা হেফাজতে রাখার জন্য আদালতের নির্দেশনা রয়েছে। অজ্ঞাত ওই বৃদ্ধকে নিয়ে চরম বিপদে আছে থানা পুলিশ। রীতিমতো পুলিশের ওপর জুলুম করছেন ওই বৃদ্ধ।’

চামড়া নষ্ট হয়েছে ১০ হাজার পিস: শিল্পমন্ত্রী

চামড়া নষ্ট হয়েছে ১০ হাজার পিস: শিল্পমন্ত্রী
গরমের কারণে কিছু চামড়া নষ্ট হয়েছে বলে দাবি করছেন শিল্পমন্ত্রী, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

এক কোটি চামড়ার মধ্যে এ বছর ১০ হাজার পিস চামড়া নষ্ট হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন।

রোববার (১৮ আগস্ট) বিকালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সরকার, ট্যানারি মালিক, আড়তদার ও কাঁচা চামড়া সংশ্লিষ্টদের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘একটি দেশ যখন সম্ভাবনার দিকে আগায়, তা ব্যাহত করতে একটা চক্র কাজ করছে। বিভিন্ন জেলা থেকে আগত প্রতিনিধিরা জানিয়েছে এক কোটি চামড়ার মধ্যে এবার দশমিক ৫ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়েছে। এবার যেহেতু গরম পড়েছে সেজন্যই ১০ হাজার চামড়া নষ্ট হতে পারে।'

বৈঠকে দেনা পাওনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগে কিন্তু তারা পাওনার জন্য কখনো অভিযোগ করেনি। সেখানে যে আস্থার বিষয় সেটি কাজ করেছে। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা এ ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত না, তখন তারা না বুঝে পুঁজি হারালে তাদের মাথা নষ্ট হয়। এ ধরনের ব্যবসায়ীরাই মিডিয়াকে মিসগাইড করেছে।’

চামড়া শিল্পে কোনো সমস্যা নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘চামড়ার বিষয়ে নীতিমালা হচ্ছে, আর আজকের বৈঠকে বিষয়টি সমাধান হয়েছে। আগামী ২২ তারিখ তারা বসে সিদ্ধান্ত নেবে। এটা গতানুগতিক, এখানে তেমন কোনো সমস্যা নেই। আজকেই সব সমাধান হয়েছে। চামড়ায় তেমন ওয়েস্টেজ নেই। চামড়া কেনা ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘কিছুকিছু রাজনৈতিক উদ্দেশ্য এখানে কাজ করেছে বলে জেলা থেকে যারা এসেছেন তারা জানিয়েছে। এগুলো আমরা গুরুত্ব দেই না। আমরা এ বিষয়ে সচেতন। এখন চামড়া পুড়িয়ে ছবি দিলে আমাদের কিছু করার নেই।’

চামড়া রফতানির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অবস্থা বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কাঁচামাল রফতানি করা একটা প্রক্রিয়ার ব্যাপার। আমরা প্রয়োজন মনে করলে রফতানি করব। অবস্থা বুঝে রফতানি করব নাকি করব না সেই সিদ্ধান্ত নেব।’

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, ‘কোরবানিতে এক কোটি চামড়া হয়। এবার তার মধ্যে ১০ হাজার চামড়া নষ্ট হয়েছে, মাটিতে যে চামড়া গেছে সেটাসহ। প্রতিবছর কিন্তু ৫ হাজার চামড়া এমনি নষ্ট হয়। এবার মূলত বেশি গরমের জন্যই চামড়া বেশি নষ্ট হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘জেলা থেকে আগত প্রতিনিধিরা জানিয়েছে চিটাগাং ও সিলেটে বেশি চামড়া নষ্ট হয়েছে। নাটোরে নষ্টই হয়নি। আর কুষ্টিয়ায় কিছু নষ্ট হয়েছে।’

বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আগামী ২২ আগস্ট আমরা বসব। এফবিসিসিআইকে সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা দু'পক্ষের সঙ্গে বসে সমাধান করে দেবে। যে সমস্যা ট্যানারির মধ্যে রয়ে গেছে, তা সমাধানে মন্ত্রী ও উপদেষ্টা কাজ করবে বলে জানিয়েছেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র