জেলেদের জন্য মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়ার দা‌বি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
জেলেদের জন্য মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়ার দা‌বি মানববন্ধন / ছবি: বার্তা২৪

জেলেদের জন্য মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়ার দা‌বি মানববন্ধন / ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

দরিদ্র জেলেদের ৬৫ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে রাখার দা‌বি জানিয়েছে বাংলাদেশ মৎস্য শ্রমিক জাট এবং কোস্ট ট্রাস্ট। পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরের মৎস্য সম্পদ এবং প্রাণ বৈচিত্র ধ্বংসকারীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়।

বৃহস্প‌তিবার (৩০মে) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থে‌কে এ দা‌বি জানায় সংগঠ‌ন সং‌শ্লিষ্টরা।

মূল বক্তব্য উপস্থাপনকা‌লে বাংলাদেশ মৎস্য শ্রমিক জো‌টের সচিবালয় সমন্বয়কারী মজিবুল হক মনির ব‌লেন, ‘উপকূলীয় এলাকার ছোট ছোট নৌকায় মাছ ধরা দরিদ্র জে‌লেদের সাগর দূষণ এবং প্রাণ বৈচিত্র ক্ষতিতে অবদান খুবই নগণ্য, এর জন্য বড় বড় দূষণকারী জাহাজ দায়ী। সাগর দূষণকারী, ক্ষতিকর বিভিন্ন উপায়ে মাছ ধরা মৎস্য সম্পদ ও প্রাণ বৈচিত্র্যের জন্য দায়ী‌দের জবাবদিহিতার আওতায় আন‌তে হ‌বে। সেই সঙ্গে দরিদ্র জে‌লে‌দের‌কে ৬৫ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার বাই‌রে রাখ‌তে হ‌বে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/30/1559217618800.JPG

কোস্ট ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরী ব‌লেন, ‘সমু‌দ্রের প্রাণ বৈচিত্র ক্ষতির জন্য দরিদ্র জেলেরা মাত্র ৪ ভাগ দায়ী। অথচ মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার ফলে সবচে‌য়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন তারাই। প্লাস্টিক দূষণ, তেল পরিবহন, জাহাজ ভাঙা শিল্প ইত্যাদি সাগর দূষণের জন্য ৯৬ শতাংশ দায়ী। অথচ এদেরকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার কোনো উদ্যোগ নেই। ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞায় প্রকৃতপ‌ক্ষে প্রা‌ন্তিক জে‌লে‌দের কোনো উপকারেই আসবে না। এ ক্ষে‌ত্রে আমা‌দের দারিদ্র বান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। ৬৫ দিনের জন্য এক‌টি জে‌লে পরিবার‌কে মাত্র ৪০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া ভয়াবহ রক‌ম দু‌র্ভো‌গের।’

কোস্ট ট্রাস্টের কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল আকন্দের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বরকত উল্লাহ মারুফ, বাংলাদশ কৃষক ফেডারেশনের প‌ক্ষে বদরুল আলম এবং বাংলাদেশ কিষাণী সভার রে‌হেনা বেগম প্রমুখ।

   

ঠাকুরগাঁওয়ে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঠাকুরগাঁও
ঠাকুরগাঁওয়ে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩

ঠাকুরগাঁওয়ে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩

  • Font increase
  • Font Decrease

ঠাকুরগাঁওয়ে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরো তিনজন মোটরসাইকেল আরোহী। মুমূর্ষু অবস্থায় আহ‌ত‌দের রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শ‌নিবার (১৩ এপ্রিল) বিকালে সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের বড় খোঁচাবাড়ীর এলাকার দৌলতপুর নামক স্থানে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবিএম ফিরোজ ওয়াহিদ।

নিহতরা হলেন- জগন্নাথপুর ইউনিয়‌নের দৌলতপুর এলাকার নুর ইসলামের ছে‌লে নয়ন ইসলাম (১৪) ও বেগুনবাড়ী এলাকার রিয়াজুল ইসলা‌মের ছে‌লে মোস্তা‌ফিজুর রহমান(২৬)।

আহতরা হলেন, দৌলতপুর গ্রামের ফিরোজ ইসলামের ছেলে হৃদয় ইসলাম (১৯), হামিদুর রহমানের ছেলে শাহআলম (১৮) ও বেগুনবাড়ি গ্রামের কালিমুদ্দিনের ছেলে রুবেল ইসলাম।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য গণেশ চন্দ্র রায় বলেন, নিহত নয়ন বা‌ড়ি থে‌কে মোটরসাইকেলে করে খোঁচাবা‌ড়ি বাজা‌রে যা‌চ্ছি‌লেন। একই সময় বেগুনবা‌ড়ি এলাকার বাসিন্দা মোস্তা‌ফিজুর রহমান ও তার তিন বন্ধু বা‌ড়ির দি‌কে যা‌চ্ছি‌লেন। পথে খোঁচাবাড়ী-বেগুনবাড়ী সড়কের দৌলতপুর এলাকায় পৌঁছালে ওই দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই নয়ন মারা যায়। এ সময় স্থানীয় লোকজন মোস্তা‌ফিজুর ও তার সঙ্গী‌দের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর মোস্তা‌ফিজুর মারা যায়।

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা মোর্শেদ বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চারজন হাসপাতালে আসেন। তার মধ্যে একজন মারা গেছেন। বাকী তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে পাঠানো হয়েছে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবিএম ফিরোজ ওয়াহিদ বলেন, মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

;

নতুন বছর মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রেরণা জোগাবে: প্রধানমন্ত্রী

  ‘এসো হে বৈশাখ’



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশা প্রকাশ করে বলেছেন, বাংলা নতুন বছর ১৪৩১ আমাদেরকে জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ, উগ্রবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রেরণা জোগাবে।

শনিবার (১৩ এপ্রিল) বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘‘শুভ নববর্ষ’ ১৪৩১। উৎসবমুখর বাংলা নববর্ষের এই দিনে আমি দেশবাসীসহ সকল বাঙালিকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।’

তিনি বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ বাংলা সনের প্রথম দিন। এটি সর্বজনীন উৎসব। এদিন আনন্দঘন পরিবেশে বরণ করে নেয়া হয় নতুন বছরকে। আবহমান কাল ধরে নববর্ষের এই উৎসবে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমগ্র জাতি জেগে ওঠে নবপ্রাণ স্পন্দনে, নব-অঙ্গীকারে। সারা বছরের দুঃখ-জরা, মলিনতা ও ব্যর্থতাকে ভুলে বাঙালি রচনা করে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য, আনন্দ ও ভালোবাসার মেলবন্ধন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্যে ‘পহেলা বৈশাখ’ বিশেষ স্থান দখল করে আছে। বাংলা নববর্ষ পালনের সূচনা হয় মূলত মুগল স¤্রাট আকবরের সময় থেকে। কৃষিকাজের সুবিধার্থে স¤্রাট আকবর ‘ফসলি সন’ হিসেবে বাংলা সন গণনার যে সূচনা করেন, তা কালের পরিক্রমায় সমগ্র বাঙালির কাছে অসাম্প্রদায়িক চেতনার স্মারক উৎসবে পরিণত হয়েছে। পহেলা বৈশাখ বাঙালিয়ানার প্রতিচ্ছবি। এই উদ্যাপন আমাদের শেকড়ের সন্ধান দেয়, এর মধ্য দিয়ে খুঁজে পাওয়া যায় জাতিসত্তার পরিচয়।’

তিনি বলেন, ‘বাঙালির প্রতিটি ঘরে, জনজীবনে এবং আর্থসামাজিক সংস্কৃতিতে পহেলা বৈশাখ এক অনন্য উৎসব। পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে হালখাতার পাশাপাশি যাত্রাগান, পালাগান, পুতুলনাচ, অঞ্চলভিত্তিক লোকসংগীত, খেলাধুলাসহ বিভিন্ন পসরা নিয়ে মেলার বর্ণিল আয়োজনের মাধ্যমে যেমন লোকজ-সংস্কৃতি প্রাণ ফিরে পায় তেমনি দেশের অর্থনীতি তথা ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সমৃদ্ধ হয়, ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পহেলা বৈশাখ পূর্ণপ্রাণ নিয়ে অবারিতভাবে বেড়ে ওঠার বাতায়ন। এটি ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতিকে ধারণ ও লালন করতে শেখায়। অসাম্প্রদায়িকতার চর্চা ও অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পহেলা বৈশাখ আমাদের মনে আনে নতুন তেজ। একারণেই আমরা দুর্বার প্রতিরোধে রুখে দিতে পেরেছি পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক অপশক্তিকে, যারা বাঙালির ঐতিহ্য নস্যাৎ করতে চেয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘আত্মপরিচয় ও স্বীয় সংস্কৃতির শক্তিতে বলিয়ান হয়ে আমরা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম মুক্তির সংগ্রামে। সংস্কৃতি ও রাজনীতির মিলিত ¯্রােত পরিণত হয়েছিল স্বাধিকার ও স্বাধীনতার লড়াইয়ে। এভাবেই বিশ্বের বুকে অভ্যুদয় ঘটেছে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের।’

ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি লালনের মাধ্যমে বিশ্বসমাজে বাঙালি শ্রেষ্ঠ জাতি হয়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এরই ধারাবাহিকতায় ইউনেস্কো ২০১৬ সালে পহেলা বৈশাখের ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’কে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। নববর্ষের-এ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি সারাবিশ্বের বাঙালির জন্য নিঃসন্দেহে বিরাট অর্জন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অসাম্প্রদায়িক, উদারনৈতিক, জাতীয়তাবাদী ও গণতন্ত্রের ভাবাদর্শে আজীবন যে সংগ্রাম করে গেছেন তার মূলমন্ত্র জাতিগত ঐতিহ্য ও অহংকার। একারণেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন এবং দেশ পুনর্গঠনে কাজ করেছে তাঁর অভিন্ন চেতনা। আমরা বীরের জাতি, এ জাতিকে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না। কাল থেকে কালান্তরের পথ পরিক্রমায় বাঙালির অর্জন ও অগ্রগতি চির ভাস্বর হয়ে থাকবে, এ আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

তিনি বলেন, ‘সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ তথা উন্নত-সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে সক্ষম হব ইনশাআল্লাহ।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসুন আমরা বিগত বছরের গ্লানি, দুঃখ-বেদনা, অসুন্দর ও অশুভকে ভুলে গিয়ে নতুন প্রত্যয়ে, নতুন উদ্যমে সামনে এগিয়ে চলি। সুখী, শান্তিময়, আনন্দপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলি। বাংলা নববর্ষ ১৪৩১ এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

কবিগুরুর ভাষায়...
“মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা,
অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা।
রসের আবেশরাশি শুষ্ক করি দাও আসি,
আনো আনো আনো তব প্রলয়ের শাঁখ
মায়ার কুজ্ঝটিজাল যাক দূরে যাক।
এসো হে বৈশাখ এসো, এসো..

;

বাঙালি জাতির শাশ্বত ঐতিহ্যের প্রধান অঙ্গ পহেলা বৈশাখ: রাষ্ট্রপতি

  ‘এসো হে বৈশাখ’



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

  • Font increase
  • Font Decrease

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, বাঙালি জাতির শাশ্বত ঐতিহ্যের প্রধান অঙ্গ পহেলা বৈশাখ।

শনিবার (১৩ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “শুভ নববর্ষ-১৪৩১’ পহেলা বৈশাখ বাঙালি জাতির জীবনে একটি পরম আনন্দের দিন। আনন্দঘন এ দিনে আমি দেশে ও দেশের বাইরে বসবাসরত সকল বাংলাদেশিকে জানাই বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা।"

রাষ্ট্রপতি বলেন, বৈশাখের আগমনে বেজে উঠে নতুনের জয়গান। দুঃখ, জরা, ব্যর্থতা ও মলিনতাকে ভুলে সবাই জেগে ওঠে নব আনন্দে, নব উদ্যমে। ফসলি সন হিসেবে মোঘল আমলে যে বর্ষগণনার সূচনা হয়েছিল, সময়ের পরিক্রমায় তা আজ সমগ্র বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক স্মারক উৎসবে পরিণত হয়েছে। পহেলা বৈশাখের মাঝে বাঙালি খুঁজে পায় নিজস্ব ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও চেতনার স্বরূপ।

তিনি বলেন, বৈশাখ শুধু উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের আত্মবিকাশ ও বেড়ে ওঠার প্রেরণা। বাঙালি সংস্কৃতির বিকাশ, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মুক্তিসাধনায় পহেলা বৈশাখ এক অবিনাশী শক্তি। বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও গণতান্ত্রিক বিকাশে সংস্কৃতির এই শক্তি রাজনৈতিকতন্ত্রের চেতনাকে দৃঢ় ও বেগবান করে।

মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সকলে মিলে নাচ-গান, শোভাযাত্রা, আনন্দ-উৎসব, হরেক রকম খাবার ও বাহারি সাজে বৈশাখকে বরণ করে নেয় উৎসবপ্রেমী বাঙালি জাতি। নতুন বছরে যাত্রাপালা, পুতুলনাচ, লোকসংগীত, গ্রামীণ খেলাধুলা, মেলাসহ নানাবিধ বর্ণিল আয়োজন মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেয় আনন্দ ও সম্প্রীতির নতুন বার্তা।

তিনি বলেন, ২০১৬ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। জাতীয় সংস্কৃতির এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি জাতি হিসেবে বাঙালির জন্য পরম গৌরব ও মর্যাদার। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাষ্ট্রদর্শন ও আদর্শের অন্যতম ভিত্তি ছিল দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশ ও জাতীয় চেতনার উন্মেষ। সেই চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে বঙ্গবন্ধু কারারুদ্ধ জীবনে সহবন্দিদের নিয়ে নববর্ষ উদ্যাপন করেছিলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, "পহেলা বৈশাখ আমাদেরকে উদার হতে শিক্ষা দেয় এবং জাতীয়তাবাদে অনুপ্রাণিত হয়ে বিশ্বমানবের সঙ্গে মিশে যাওয়ার শক্তি জোগায়। এই উদারনৈতিক চেতনাকে ধারণ করে বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্রদর্শন, বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আদর্শ এবং রাষ্ট্রভাষা চেতনার বহ্নিশিখা অন্তরে ধারণ করে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত, সুখী-সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ হোক আজকের দিনে সকলের অঙ্গীকার।"

তিনি বলেন, "সকল অশুভ ও অসুন্দরের ওপর সত্য ও সুন্দরের জয় হোক। ফেলে আসা বছরের সব শোক-দুঃখ-জরা দূর হোক, নতুন বছর জাতীয় ও ব্যক্তিজীবনে নিয়ে আসুক অনাবিল সুখ ও সমৃদ্ধি – এ প্রত্যাশা করি।"

;

ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর রাঙামাটি



আলমগীর মানিক, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাঙামাটি
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি পাহাড়ি জেলা রাঙ্গামাটি। ঈদের ছুটিতে প্রকৃতির অপরূপ লীলাভূমি রাঙামাটিতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। রূপ বদলানো হ্রদ-পাহাড় আর মেঘ মিতালীর অপরূপ দৃশ্য-সমৃদ্ধ রাঙামাটির নান্দনিক দৃশ্য দেখার পর্যটকরা ছুটে এসেছেন। এতে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্য সামগ্রীর বেচা-বিক্রিও বেড়েছে।

হোটেল মোটেল ও সরকারি বিশ্রামাগারগুলোতে দেখা গেছে পর্যটকে ঠাসা। রাঙামাটির বিখ্যাত ঝুলন্ত সেতু, পলওয়েল পার্ক, ডিসি বাংলো এলাকায় পর্যটকদের উপস্থিতি অন্যান্য দিনের তুলনায় বহুগুণ বেড়ে গেছে। শহরের পর্যটন স্পটগুলো এখন পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে। পর্যটকের আগমনে প্রতিদিনই রাঙামাটির অর্থনীতিতে যোগ হচ্ছে কোটি টাকার রাজস্ব।


রাঙামাটির পর্যটন সংশ্লিষ্ট্যরা জানিয়েছেন, লম্বা ছুটি, হ্রদ-পাহাড় আর পাহাড় ছোঁয়া মেঘের টানে রাঙামাটিতে পর্যটকদের ভিড় বেড়ে গেছে। পার্ক, ঝুলন্ত ব্রিজসহ দর্শনীয় স্থানগুলো লোকে লোকারণ্য। কোথাও তিল ধারণের ঠাঁই নেই। পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসা-বাণিজ্য বেড়েছে। যানবাহন, ট্যুরিস্ট বোট, হাউজ বোটগুলোর ব্যবসাও ভালো হচ্ছে। সার্বিক বিবেচনায় পাহাড়ের পর্যটন ব্যবসা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। শহর জুড়ে পর্যটকদের আনাগোনা বহুগুণ বেড়ে গেছে। রেস্টুরেন্টগুলো পর্যটকদের মধ্যে খাবার বিক্রি করতে ব্যস্ত সময় পার করছে। শহরের বেশিরভাগ হোটেল-মোটেলগুলো বুকিং রয়েছে।

সুদূর রাজধানী, নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাঙামাটিতে বেড়াতে আসা পর্যটকরা জানিয়েছেন, প্রকৃতির রূপ কত সুন্দর হয় সেটি রাঙামাটিতে বেড়াতে না আসলে বুঝতে পারতাম না। দেশে এত সুন্দর জায়গা আছে এখানে না এলে জানতাম না। তাই মনকে সতেজ রাখতে পাহাড়ি জনপদে ছুটে এসেছি। খুব ভাল লাগছে রাঙামাটি। এদিকে রাঙামাটির পর্যটনের উন্নয়নে এ শহরকে আরও বেশি ঢেলে সাজানো উচিত। তাহলে মানুষ বিদেশে বেড়াতে না গিয়ে এ শহরে বেড়াতে আসবে বলেও জানিয়েছেন পর্যটকরা।

রাঙামাটি হোটেল মালিকরা জানিয়েছেন, টানা ছুটিতে রাঙামাটিতে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। ব্যবসা করতে পারায় ব্যবসায়ীরা খুব খুশি।


হোটেল পরিচালক সুমন জানিয়েছেন, আমাদের এখানে পর্যটকদের উপস্থিতি বেড়েছে এবং প্রায় সবগুলো রুম বুকিং হয়ে গেছে।

রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশনের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা জানিয়েছেন, টানা সরকারি ছুটি থাকায় রাঙামাটিতে পর্যটকদের সংখ্যা বেড়ে গেছে। কয়েকদিনে জেলায় কয়েক লাখ পর্যটকের সমাগম হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, পর্যটন মোটেলগুলো শতভাগ বুকিং রয়েছে। আগামীকালও বুকিং আছে। খুব ভাল লাগছে পর্যটকদের উপস্থিতিতি বেড়ে যাওয়ায়। তবে করোনার সংক্রমণ এড়াতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পর্যটকদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে যোগ করেন পর্যটন করপোরেশনের এ ম্যানেজার।

রাঙামাটির পুলিশ সুপার মীর আবু তৌহিদ-বিপিএম (বার) জানিয়েছেন, রাঙামাটিতে আগত ট্যুরিস্টদের জন্য জেলা পুলিশের পাশাপাশি ট্যুরিস্ট পুলিশের মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। স্পর্শকাতর পর্যটন কেন্দ্রগুলোতেও বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে পর্যটকরা নিরাপদে ছুটি উপভোগ করতে পারে।

;