চট্টগ্রাম বন্দরে জট বাঁধছে দৈনিক ১ হাজার কনটেইনার

আবদুস সাত্তার, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম বন্দর। ছবি: বার্তা২৪.কম

চট্টগ্রাম বন্দর। ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ থেকে কনটেইনার খালাস হলেও ডেলিভারি হচ্ছে না। এতে বন্দরে দৈনিক ১ হাজার অতিরিক্ত কনটেইনার জট সৃষ্টি হচ্ছে ।

ঘূর্ণিঝড় ফণীর পর পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের টানা ছুটিতে চট্টগ্রাম বন্দরে ভয়াবহ কনটেইনার ও জাহাজের জট হয়। আর এই জট মুক্ত করতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু জাহাজ থেকে (শিপ টু সোর) খালাস হলেও বন্দরে ডেলিভারির ধীর গতি হওয়ায় দৈনিক এক হাজার করে কনটেইনার জমা হচ্ছে। অতিরিক্ত কনটেইনার দ্রুত ডেলিভারির জন্য ব্যবসায়ীদের তাগাদা দিচ্ছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) চট্টগ্রাম বন্দরে ডেলিভারি না হওয়ায় কনটেইনার রয়েছে ৪৩১৮৭টি। জুনের ১ তারিখে বন্দরে ৩৬১৬টি কনটেইনার ডেলিভারি হয়ে অতিরিক্ত জমা ছিল ৩৩৮০১টি। ঈদের আগের দিন ৪ জুন বন্দরে মাত্র ১৬৩৯ কনটেইনার ডেলিভারি হয়ে আরও থেকে যায় ৩৭২০১টি। জুন মাসের শুরু থেকে দৈনিক এক হাজার করে কনটেইনার জমা হতে থাকে চট্টগ্রাম বন্দরে।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) সর্বোচ্চ ৪৮০২টি কনটেইনার ডেলিভারি হয়।

জানা গেছে, স্বাভাবিক সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ থেকে দৈনিক ৪ হাজার কনটেইনার খালাস করা হয়। ঠিক একই ভাবে বন্দর থেকে ৪ হাজার কনটেইনার ডেলিভারি করেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় ফণীর পর পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের টানা ছুটিতে চট্টগ্রাম বন্দরে ভয়াবহ কনটেইনার ও জাহাজ জটের সৃষ্টি হয়।

চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) এনামুল করিম বার্তা২৪.কমকে জানান, ঈদুল ফিতরের চাপ সামাল দেওয়ার জন্য দৈনিক অতিরিক্ত ডেলিভারি দেওয়া হচ্ছে। এতে বন্দর থেকে অতিরিক্ত কনটেইনার দ্রুত খালাস হয়ে যাবে।

বন্দর সূত্র জানায়, স্বাভাবিক সময়ে জেটিতে এবং বহির্নোঙরে ৫০ থেকে ৭০টি জাহাজের অবস্থান থাকলেও বর্তমানে রয়েছে ১২১টি। এরমধ্যে বন্দরের প্রধান জেটিতে ১৬টি এবং বাকি জাহাজগুলো বহির্নোঙরে অবস্থান করছে। মূলত ঈদের টানা ছুটিতে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাস কমে যাওয়ায় সৃষ্টি হয় কন্টেইনার জটের। তার প্রভাব পড়েছে জাহাজের গড় অবস্থানকালীন সময়েও। আগে প্রতিটি জাহাজ দু থেকে তিন দিনের মধ্যে পণ্য খালাস করে বন্দর ত্যাগ করলেও এখন বহির্নোঙরেই থাকতে হচ্ছে ৫ থেকে ৭ দিন।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত মে মাসের শুরুতে ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারণে কয়েক দিন জাহাজ চলাচল এবং ডেলিভারি বন্ধ ছিল। এ কারণে সে সময় বন্দরের জেটিতে প্রায় ৩৩ হাজার কনটেইনার আটকা পড়ে। এ অবস্থায় জাহাজের গড় অবস্থান সময় বাড়তে থাকায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা।

চট্টগ্রাম জুনিয়র চেম্বারের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও আমদানিকারক ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন বার্তা২৪.কমকে জানান, অতিরিক্ত কনটেইনার দ্রুত ডেলিভারি করা হলে ব্যবসায়ীদেরও ক্ষতিটা কমে আসবে।

আপনার মতামত লিখুন :