Barta24

মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬

English

শালবন বিহারে বেহাল সড়ক, শিক্ষার্থী-পর্যটকদের ভোগান্তি

শালবন বিহারে বেহাল সড়ক, শিক্ষার্থী-পর্যটকদের ভোগান্তি
রাস্তার কাদা পানি সেচ দিচ্ছেন একজন, ছবি: বার্তা২৪.কম
জাহিদ পাটোয়ারী
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
কুমিল্লা


  • Font increase
  • Font Decrease

কুমিল্লা কোটবাড়ী শালবন বিহারের সড়কের বেহাল দশা। এতে এখানকার মানুষদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটির প্রায় আড়াই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বেহাল দশা দেখা গেছে। অনেক স্থানে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় বহু গর্ত। দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দ আর পানি জমে জলাবদ্ধতার কারণে কাদা-মাটিতে একাকার হয়ে গেছে সড়কটি।

এতে করে এ সড়কে যাতায়াতকারী কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজের হাজার হাজার শিক্ষার্থী, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটকসহ এ সড়কে নিয়মিত যাতায়াতকারী স্থানীয় বাসিন্দারাসহ হাজার হাজার মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বেহাল দশার সড়কটিতে কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট মোড় থেকে শালবন বিহার পর্যন্ত নিম্নমানের ইট এবং বালু দিয়ে সংস্কার করা হয়েছে। যার ফলে হালকা বৃষ্টি হলেই সড়কে পানি জমে কাদা-মাটি একাকার হয়ে যায়। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ, শালবন বিহার, ময়নামতি জাদুঘর, টিচার্স ট্রেনিং কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-শিক্ষক এবং পর্যটকের যাতায়াত।

খালেদ মোর্শেদ নামে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বার্তা২৪.কম-কে জানান, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বেহাল দশা চলছে। শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাসগুলো প্রায় মাঝপথে ছোট-বড় গর্তের কারণে আটকা পড়ে। এতে করে আমারে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়সহ স্থানীয় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা দীর্ঘদিন ধরে মানববন্ধন কর্মসূচিসহ বিভিন্নভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। কর্তৃপক্ষ সড়টি সংস্কারে কোনভাবেই নজর দিচ্ছে না।

এ সড়কে চলাচলকারী আবু মুছা নামে সিএনজি চালিত আটোরিকশা চালক বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'সড়কটিতে চলতে গেলে প্রতিনিয়তই গাড়ি জাম্পিং করে এবং সড়কের উপর উল্টিয়ে পড়ে। চাকা ভেঙে যায়। এতে করে যাত্রীরা দুর্ঘটনায় শিকার হয়।'

প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর, চট্টগ্রাম, সিলেট ও কুমিল্লা বিভাগের সহকারী পরিচালক ড. আহমেদ আবদুল্লাহ বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'এখানে শিক্ষার্থী, পর্যটক এবং দর্শনার্থীরা রীতিমত ভোগান্তির মধ্য দিয়ে চলতে হচ্ছে। আমরা এ বিষয়ে বারবার বিভিন্ন দফতরে তুলে ধরেছি। তবে এখনো সংস্কার করা হয়নি।'

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীরকে এই বিষয়ে জানানো হলে তিনি আমাদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, 'অচিরেই সড়কটি সংস্কার করা হবে।'

এ বিষয়ে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. মনিরুল হক সাক্কু বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে শালবন পর্যন্ত সড়টি টেন্ডার হয়ে গেছে।' জুন মাসের শেষের দিকে সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু করা হবে বলে তিনি জানান।

আপনার মতামত লিখুন :

রুয়েট শিক্ষককে লাঞ্ছিত ও স্ত্রীকে যৌন হয়রানি, গ্রেফতার ৩

রুয়েট শিক্ষককে লাঞ্ছিত ও স্ত্রীকে যৌন হয়রানি, গ্রেফতার ৩
গ্রেফতারকৃত তিন যুবক, ছবি: সংগৃহীত

স্ত্রী্কে যৌন হয়রানীর প্রতিবাদ করায় রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) সহকারী অধ্যাপক রাশিদুল ইসলামের উপর হামলা ও লাঞ্ছিতের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিন যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় নগরীর সোনাদিঘী মোড় থেকে তাদের আটক করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যরা।

পরে তাদের মহানগর পুলিশের পশ্চিম জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার আমির জাফরের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর সেখানেই দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় আটককৃতদের। পরে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় সোপর্দ করা হয়। তাদের মধ্যে একজন জাতীয় দৌঁড়বিদও রয়েছেন।

এদিকে রাত সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নিবারণ চন্দ্র বর্মন বলেন, ‘তিনজনকে আটক করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) আমাদের থানায় সোপর্দ করেছেন।’

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার মোল্লাপাড়া এলাকার মুসতাকের ছেলে বকুল আহমেদ (১৯), রাজপাড়া থানার আলিরমোড় এলাকার দুলালের ছেলে শাহানুর হোসেন খোকন (১৯) ও নগরীর বোয়ালিয়া থানার কাদিরগঞ্জ এলাকার শহিদুলের ছেলে রিপন মন্ডল (১৮)

জানা যায়, গত ১০ আগস্ট রুয়েটের ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষক রাশিদুল ইসলাম (প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক স্বর্ণপদক প্রাপ্ত) তার স্ত্রীকে যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় একদল বখাটের হামলার শিকার হন। ঘটনার পর ওই শিক্ষক ফেসবুকে নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে স্ট্যাটাস দেন। যা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ ভুক্তভোগী শিক্ষক ও তার স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পুলিশের আশ্বাসে গত ১৬ আগস্ট শিক্ষক রাশিদুলের স্ত্রী এ ঘটনায় থানায় মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাত ৮ থেকে ১০ জন যুবককে আসামি করা হয়। পুলিশ গুরুত্বসহকারে মামলাটি তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্তের কাজ শুরু করেন।

আরও পড়ুন, রুয়েট শিক্ষককে লাঞ্ছিতের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

অস্ত্রের মুখে বাড়ি থেকে কিশোরীকে অপহরণ

অস্ত্রের মুখে বাড়ি থেকে কিশোরীকে অপহরণ
রাজশাহীর দুর্গাপুরে কিশোরী অপহরণ, ছবি প্রতীকী

রাজশাহীর দুর্গাপুরে অস্ত্রের মুখে বাড়ি থেকে এক কিশোরীকে অপহরণ করেছে একদল বখাটে। মেয়েকে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় বখাটেদের বাধা দেওয়ায় কিশোরীর মাকেও মারধর করা হয়। ভয়-ভীতি দেখিয়ে বাড়ির স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থও লুট করে নিয়ে যায় বখাটে দল।

সোমবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার কয়ামাজমপুর গ্রামের মন্ডলপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। অপহৃত কিশোরী কয়ামাজমপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। কিশোরীর পরিবার হিন্দু সম্প্রদায়ের।

পরিবার সূত্র জানায়, গত এক বছর ধরে টুটুল নামে স্থানীয় এক যুবক উত্যক্ত করে আসছিল। বখাটেদের হাত থেকে রেহাই পেতে কিশোরীর বিয়ে ঠিক করে পরিবার। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর তার বিয়ের দিন ঠিক করা হয়।

অপহৃত কিশোরীর বাবা তার স্ত্রী ও বৃদ্ধা মায়ের বরাত দিয়ে বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে জানান, ঘটনার সময় বাড়িতে তার স্ত্রী ও বৃদ্ধা মা ছিলেন। সন্ধ্যার কিছুক্ষণ আগে দু'টি মোটরসাইকেলযোগে ৪/৫ জন যুবক তার বাড়িতে আসেন । প্রথমে তারা অস্ত্রের মুখে কিশোরীর মা ও দাদিকে জিম্মি করে। পরে তার ঘরে ঢুকে স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ লুট করে। পরে মেয়েকে নিয়ে যেতে উদ্যত হলে তার স্ত্রী চিৎকার দিয়ে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এসময় তার স্ত্রীকে মারপিট করে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়।

কিশোরীর বাবা বলেন, 'যারা বাড়িতে এসেছিল, তাদের একজনের হাতে পিস্তল ও একজনের হাতে ধারালো অস্ত্র (চাকু) ছিল। বাড়ির বাইরে পাহারায় ছিল আরও ২ থেকে ৩ জন।'

কিশোরীর বাবা জানান, প্রায় এক বছর ধরে কায়ামাজমপুর গ্রামের ফেরদৌস আলীর ছেলে টুটুল তার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। এ নিয়ে কয়েকবার তার বাবাকে অভিযোগও করা হয়। তাতে কোন কাজ হয়নি। টুটুলের বাবা ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। ফলে ভয়ে তিনি পুলিশকে অভিযোগও করতে যাননি। বাধ্য হয়ে মেয়ের বিয়ে ঠিক করেছিলেন। এক সপ্তাহ আগে হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তার আশীর্বাদ হয়েছে।

জানতে চাইলে দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খুরশিদা বানু কনা বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, 'খবর পাওয়া মাত্রই সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। মেয়েটিকে উদ্ধারে পুলিশের কয়েকটি টিম মাঠে নেমেছে।’

তিনি আরও বলেন, 'আমরা আশেপাশের সকল থানায়ও বার্তা পাঠিয়েছি। সবার আগে অপহৃত কিশোরীকে উদ্ধারে গুরুত্ব দিচ্ছি আমরা।' পরে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন, রাজশাহীতে দিনে নারী-শিশু নির্যাতনের ১২ মামলা

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র