Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সহায়তা করবে সিপিসি

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সহায়তা করবে সিপিসি
চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে বৈঠকে শেখ হাসিনা, ছবি: সংগৃহীত
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

সমঝোতার ভিত্তিতে দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সুচি ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ করবে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিসি)। দলের হয়ে সিপিসি'র প্রভাবশালী নেতা ও দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সং তাও এই আশ্বাস দেন।

তিনি বলেন, 'সমঝোতার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে আমরা অং সান সুচিসহ মিয়ানমারের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করব।'

শুক্রবার (৫ জুলাই) বিকেলে স্থানীয় দিয়াওউনতাই রাষ্ট্রীয় গেস্ট হাউসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতকালে সিপিসি নেতা এ আশ্বাস দেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে ব্যাপক উন্নয়নের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন সং তাও। বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় চীনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

তিনি বলেন, 'দু-দেশের মধ্যে বর্তমানে অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিরাজ করছে এবং বাংলাদেশে উন্নয়ন অভিযাত্রায় আমরা আমাদের সমর্থন অব্যাহত রাখব।'

এ সময় সিপিসি নেতা বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের বিষয়টি 'বিশ্বে দুর্লভ' বলেও উল্লেখ করেন।

এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বাংলাদেশ বিগত অর্থবছরে ৮ দশমিক ১ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। অপরদিকে চলতি অর্থবছরে ৮ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।'

চীনকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, 'বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও সিপিপির মধ্যে গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান।'

তিনি ১৯৯৩ সালে বিরোধী দলের নেতা হিসেবে চীনে তাঁর প্রথম সফরকে স্মরণ করে বলেন, 'সফরের পর থেকেই উভয় পক্ষের মধ্যে সম্পর্কের ভিত্তি মজবুত হয়। আমরা সব সময় চেষ্টা করব যাতে আমাদের মধ্যে ভাল সম্পর্ক বজায় থাকে। বাংলাদেশ ও চীন উভয়ের লক্ষ্য এক দারিদ্র্য বিমোচন এবং জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা। আমাদের সরকার লক্ষ্য অর্জনে অপ্রত্যাশিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।'

বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা, ১৯৫২ ও ১৯৫৭ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চীন সফরের কথা স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু তাঁর ভ্রমণের কথায় ভবিষ্যতে একটি 'নতুন চীন' তৈরি হচ্ছে বলে উল্লেখ করেছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, 'এখন আমি সেটাই দেখছি বঙ্গবন্ধু ভ্রমণের পর যে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। তিনি এখন বঙ্গবন্ধুর ডায়েরি থেকে নিউ চীন নামে একটি বই সম্পাদনা করছেন। চীন নিয়ে বঙ্গবন্ধুর ভবিষ্যদ্বাণী সম্বলিত বইটি শিগগিরই প্রকাশিত হবে।'

সিপিপি নেতা এই বইটি চীনা ভাষাতে অনুবাদ করার আগ্রহ প্রকাশ করে জানান, তারা প্রকাশ করার পর চীনা জনগণের মধ্যে বইটি বিতরণ করবেন।

প্রধানমন্ত্রী গণপ্রজাতন্ত্রী চীন এর ৭০ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে চীনা জনগণ ও চীনা কমিউনিস্ট পার্টিকে তাঁর আন্তরিক অভিনন্দন জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি বিনিয়োগ ও শিল্প বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ ফারুক খান, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল হক ও চীনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম ফজলুল করিম অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সভায় যোগদান এবং চীনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করার জন্য প্রধানমন্ত্রী পাঁচদিনের সরকারি সফরে এখন চীন রয়েছেন। সিপিসি নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য লেখক মো. নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন।

আপনার মতামত লিখুন :

বন্যার প্রভাবে নিত্যপণ্যের বাজার চড়া

বন্যার প্রভাবে নিত্যপণ্যের বাজার চড়া
নিত্যপণ্যের বাজার/ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ও টানা বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে রাজধানীর নিত্যপণ্যে বাজারে। সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচা বাজারে পণ্যের দাম বেড়েছে ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত। চড়া বাজারে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশে সবজির বড় মোকাম উত্তরাঞ্চল। আর উত্তরাঞ্চলের বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধার পাশাপাশি জামালপুরসহ দেশের অনেক জেলা এখন বন্যা কবলিত। এরমধ্যে কোন কোন এলাকার বন্যা পরিস্থিতি এতটাই মারাত্মক যে স্থানীয় প্রশাসক সেসব এলাকাকে দুর্গত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে। ফলে চাহিদামতো পণ্যে সরবরাহ নেই। এ জন্য বাজার চড়া।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) রাজধানীর কারওয়ান বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বললে এসব জানান তারা। চড়া বাজারেও ছুটির দিনে বাজারে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। সবার অভিযোগ, কাঁচা বাজারের সব পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563522560490.jpg

ক্রেতারা বলছেন, কারওয়ান বাজার পাইকারি হওয়াতে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর দাম বাড়লে কিছু কেনাকাটা করা যায়, তবে খুচরা বাজারের পণ্য সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে থাকে। 

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কাঁচা পেঁপে, বরবটি, পটল, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা, ঢেঁড়স, করলা, কচু ও করলা প্রতিকেজি ১০টা দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। শষার দাম বেড়ে প্রতিকেজি হয়েছে ৮০ টাকা, গাঁজর ৬০ টাকা আর পাকা টমেটো ১০০ টাকা। কাকরোল ৪০ টাকা, ঢেড়স ৫০ টাকা, বরবটি ৪০ টাকা। মাঝারি সাইজের মিষ্টি কুমড়ার প্রতিপিচ ৫০ টাকা আর লাউয়ের দাম ৬০ টাকা। তবে দাম সহনীয় রয়েছে আলুতে। এখনও প্রতিকেজি দাম রয়েছে ২০ টাকা।

থেমে নেই আদা, রসুন আর পেঁয়াজের দাম। প্রকার ভেদে প্রতিকেজি আদার দাম ১৬০ টাকা আর রসুনের দাম কেজিতে ১৫০ টাকা। তবে ইন্ডিয়ান পেঁয়াজের আমদানি ভালো থাকায় দাম ছিল কিছুটা স্থিতিশীল। প্রতিকেজি ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৩৫ টাকা দরে। দেশি পেঁয়াজ ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563522573699.jpg

পান্থপথ থেকে আসা জাহেদুল নামের এক ক্রেতা বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, প্রত্যেকটা সবজির দামই বেশি। তারপরও একটি কথা স্বীকার করতে হয়ে, কারওয়ান বাজারের তুলানায় অন্য এলাকার সবজির বাজার মারাত্মক রকমের বেশি। এখানে ১০ টাকা কেজিতে বেড়েছে তো খুচরা বাজার কিংবা আবাসিক এলাকার বাজারগুলোতে বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা। ৬০ টাকার কমে এক কেজি সবজি আশা করাই যায় না।

বন্যায় সবজির আমদানি কম থাকায় দাম বেড়েছে বলে জানিয়ে আল আমিন নামে এক সবজি বিক্রেতা বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, যে সব এলাকা থেকে সবজি আসে, মূলত এসব এলাকায় বন্যা। মানুষ নিজেই পানিতে ভেসে বেড়াচ্ছে। আর সবজি গেছে নষ্ট হয়ে। ফলে প্রয়োজনের তুলনায় সবজির আমদানি অনেক কম। আবার নতুন সবজি বাজারে আসলে তখন হয়তো দাম কিছুটা কমবে।

আরেক সবজি বিক্রেতা মজিবর রহমান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, গতকাল ম্যাজিস্ট্রেট এসে বাজারে সবজির দাম নির্ধারণ করে দিয়ে গেছেন। কিন্তু আজ প্রতি কেজিতে ১০/২০ টাকা করে বেড়েছে। এখন আমাদের কী করার আছে? আমরা কালকের রেটে বিক্রি করলে আজ লোকসানে বিক্রি করতে হবে।

এদিকে, বন্যার কারণ দেখিয়ে মাছের দামও বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ভারি বর্ষণে পুকুর নদ নদী প্লাবিত হওয়ায় মাছের আমদানিতে পড়েছে ভাটা। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি মাছে দাম বেড়েছে ৫০ থেকে ১০০ টাকা।

তবে স্থীতিশীল রয়েছে মাংসের বাজার। বরাবরের মতই প্রতিকেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকায়। আর লাল মুরগী বিক্রি হয়েছে ২২০টাকায়।

 

মাছ চাষিদের আধুনিক প্রযুক্তির ধারণা দিতে মৎস মেলা

মাছ চাষিদের আধুনিক প্রযুক্তির ধারণা দিতে মৎস মেলা
রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে চলছে জাতীয় মৎস মেলা/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

'মাছ চাষে গড়ব দেশ বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ' প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাজধানীতে চলছে জাতীয় মৎস্য মেলা। মাছ চাষিদের আধুনিক কলা-কৌশল প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা দিতেই এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়াও মেলায় প্রদর্শন করা হচ্ছে বিলুপ্ত হওয়া বিভিন্ন জাতের মাছ।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, এবারের মেলায় উন্নত জাতের বিভিন্ন ধরনের মাছের পোনা নিয়ে আসা হয়েছে। যা খুব কম সময়ে বড় হয়। তার মধ্যে আছে টেংরা, কৈ, মেনি, পাবদা, রুই, রাজপুটি, কুচিয়া, শোল, ভেটকি প্রভৃতি মাছ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563521064037.gif

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট মেরিন ফিশারিজ এন্ড টেকনোলজি কক্সবাজার স্টেশনের সায়েন্টিফিক অফিসার জাকিয়া হাসান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে জানান, ‘জাতীয় মৎস্য মেলায় ১১ থেকে ১২টি নতুন প্রজাতির মাছ নিয়ে আসা হয়েছে। এছাড়া বিলুপ্ত হওয়া দেশি তিন জাতের মাছ প্রদর্শন করা হচ্ছে। সেগুলো হলো- গুতুম, মহাশোল ও বৈরালি মাছ।

মেলা উপলক্ষে আফতাব বহুমুখী ফার্মস লিঃ মৎস মেলায় নিয়ে এসেছে শোল মাছের নতুন জাত, যা ১০০ ভাগ ফিডিং পদ্ধতিতে চাষ করা যাবে। যা সামনের বছর থেকে বাজারে পাওয়া যাবে। এছাড়া তেলাপিয়ার দুটি জাত এবারের মেলায় প্রদর্শন করা হচ্ছে, যা পাঁচ থেকে ছয় মাসের মধ্যে ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম হতে পারে।

সেফ একুয়া ফার্মিং ফর ইকোনমিক এন্ড ট্রেড ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্পের আওতায় মেলায় দেখানো হচ্ছে কিভাবে চাষিরা চিংড়ি চাষে ট্রেডিশনাল পদ্ধতি বাদ দিয়ে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে আধা নিবিড় পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ করলে হেক্টরপ্রতি গলদা ও বাগদা চিংড়ির অনেক বেশি উৎপাদন করতে পারবেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563521078736.gif

মেলায় ঘুরতে আসা দর্শনার্থী শাহারিয়ার আলম বার্তা টোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘এ ধরনের মেলা শহরের পাশাপাশি প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। গ্রাম পর্যায়ে এই মেলা আরও বেশি হলে মাঠ পর্যায়ের মৎস চাষিরা বেশি উপকৃত হবেন।’

মৎস্য অধিদফতরের উপ সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল খালেক বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করলে অনেক বেশি পরিমাণে মাছের উৎপাদন করতে পারবেন চাষিরা। এবারের মৎস্য মেলায় সরকারি-বেসরকারি ৩৬টি স্টল রয়েছে। আগামী ২৩ জুলাই পর্যন্ত মেলা চলবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে এই মেলা।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র