loader
বিমানের বহরে যোগ হচ্ছে সর্বাধুনিক ড্রিমলাইনার প্লেন

আগামী আগষ্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে বহরে চতুর্থ প্রজন্মের সর্বাধুনিক উড়োজাহাজ বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার যুক্ত করার মধ্য দিয়ে নতুন এক যুগে পা দিচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্সটি আশা করছে, বিশ্বের সবচেয়ে জ্বালানি সাশ্রয়ী সর্বাধুনিক এই উড়োজাহাজের মাধ্যমে বৈশ্বিক এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে বিমানের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে, সেই সাথে যাত্রীদের দিতে পারবে আধুনিক প্রযুক্তির সব ধরনের সেবা।

বিমান সূত্রে জানা গেছে, ড্রিমলাইনারে বসেই যাত্রীরা পাবে ওয়াই-ফাই সুবিধা। এমনকি যাত্রীরা বিশেষ এক ধরনের ফোনসেটের মাধ্যমে আকাশে ভ্রমনকালীন সময়েই ফোনে প্রিয়জনদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন। ফোনে কথা বলা ছাড়াও রিয়াল টাইম লাইভ দেখা যাবে জনপ্রিয় নয়টি টেলিভিশন চ্যানেলের।

/uploads/files/osLGbF3s8lb3eH0ICZq55DzWQEQv62bmbUMkUDTm.jpeg

এতে রয়েছে বিশ্বের আধুনিক সব বিনোদনের ব্যবস্থা। ড্রিমলাইনারের ইন-ফ্লাইট এন্টারটেইনমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে দেখা যাবে ব্লকবাস্টার মুভি। শোনা যাবে গান, থাকছে ভিডিও গেমস। ড্রিমলাইনারের রাতের ফ্লাইটের পরিবেশ হবে নির্জন ও শান্ত। ফ্লাইটের ভেতরের পরিবেশ অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে জ্বলবে আলো।

সমূদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪৩ হাজার ফুট ওপর দিয়ে উড়তে সক্ষম দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট এই উড়োজাহাজ বিশ্বের যে প্রান্তে থাকুক না কেন ঢাকায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে সব সময় এর যোগাযোগ থাকবে। এটি বোয়িং ৭৬৭ উড়োজাহাজের চেয়ে ২০ শতাংশ কম জ্বালানি লাগে। উড়োজাহাজটিতে মোট আসন রয়েছে ২৭১টি। এর মধ্যে বিজনেস ক্লাসের আসন ২৪টি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই চারটি উড়োজাহাজের নাম দিয়েছেন। নামগুলো হচ্ছে; আকাশবীণা, হংসবলাকা, গাঙচিল ও রাজহংস। ২০০৭ সালের ৮ জুলাই প্রথম ড্রিমলাইনার সরবরাহ শুরু করে বোয়িং।

/uploads/files/YreEIddKURNK6tfoV48rJ1l5HXf0B02GfmwJw2C5.jpeg

ড্রিমলাইনার টানা ১৬ ঘন্টা উড়তে করতে পারে। ২০০৮ সালে দুরপাল্লার রুটসমূহ চালুর পরিকল্পনা নিয়েই বিমান বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে ড্রিমলাইনার কেনার চুক্তি করেছিল। বিশেষ করে ঢাকা-নিউইয়র্ক-ঢাকা ফ্লাইট পুনরায় চালু করার লক্ষ্য ছিল এয়ারলাইন্সটির।

কিন্তু বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ক্যাটাগরি-১ এ উন্নীত না হওয়ায় এই রুট চালু করা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েই গিয়েছে। তবে বিমানের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ড্রিমলাইনার দিয়ে নিউইয়র্কসহ বন্ধ হয়ে যাওয়া টোকিও, রোম, ম্যানচেস্টার রুটসমূহ পুনরায় চালুর ব্যাপারে খুবই আশাবাদী।

বিমানের জনসংযোগ বিভাগের জিএম (পিআর) শাকিল মেরাজ বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘ড্রিমলাইনার নিয়ে আমাদের অনেক স্বপ্ন ও পরিকল্পনা রয়েছে। রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্সের পৃথিবীটা আরো বড় হবে ড্রিমলাইনারের ওপর ভর করে। আগষ্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে আমাদের বহরে সর্বাধুনিক এই উড়োজাহাজ যুক্ত হলে ঢাকা-লন্ডন-ঢাকা রুটের সাপ্তাহিক ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানো হবে। ঢাকা-দোহা-ঢাকা, ঢাকা-কুয়েত-ঢাকা, ঢাকা-মদিনা-ঢাকা রুটসমূহ পরিচালনা করা হবে ড্রিমলাইনার দিয়ে। অচিরেই বিমান ঢাকা-গুয়াংজু-ঢাকা, ঢাকা-কলম্বো-ঢাকা ও ঢাকা-মালে-ঢাকা রুটে পাখা মেলবে। নতুন রুটসমূহ ড্রিমলাইনার দিয়ে পরিচালনা করা হবে।’

/uploads/files/CePLxcJUrDRvk2YDK55tyKDIeYzc1qKycynhwYa9.jpeg

‘তৃতীয় ও চতুর্থ ড্রিমলাইনার বহরে যোগ হওয়ার পর বন্ধ হয়ে যাওয়া দিল্লী, হংকং, রোম, ম্যানচেস্টার, টোকিং ফ্লাইট পুনরায় চালু করার পাশাপাশি মন্ট্রিয়ল, সিডনির মতো দূরপাল্লার নতুন রুটেও পাখা মেলবে বিমান,’ বলেন শাকিল মেরাজ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিমানের এক কর্মকর্তা বলেন, নিউইয়র্ক রুট চালুর ব্যাপারে বিমানের প্রস্তুতির কোনো ঘাটতি নেই। কিন্তু বেবিচক যদি বাংলাদেশকে ক্যাটাগরি-১ উন্নীত করতে না পারে সেক্ষেত্রে তাদের কিছুই করার নেই।

২০০৮ সালে বিমান চারটি ড্রিমলাইনারসহ মোট ১০টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক উড়োজাহাজ নির্মাতা কোম্পানি বোয়িং এর সঙ্গে। চুক্তি অনুযায়ী এরই মধ্যে তারা বোয়িং ৭৭৭ ৩০০ ইআর এর চারটি এবং বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এর দুটিসহ মোট ৬টি উড়োজাহাজ বিমানকে সরবরাহ করেছে। ড্রিমলাইনারের দ্বিতীয় উড়োজাহাজটি নভেম্বরে এবং বাকি দুটি আসবে আগামী বছরের (২০১৯) নভেম্বরে।

 

Author: ইশতিয়াক হুসাইন, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

জাতীয়

এ সম্পর্কিত আরও খবর

barta24.com is a digital news outlet

© 2018, Copyrights Barta24.com

Emails:

[email protected]

[email protected]

Editor in Chief: Alamgir Hossain

Email: [email protected]

+880 173 0717 025

+880 173 0717 026

8/1 New Eskaton Road, Gausnagar, Dhaka-1000, Bangladesh