রোহিঙ্গাদের সার্ভার ইসির কাছে, ভোটার হওয়ার সুযোগ নেই

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
নির্বাচন ভবনে সংবাদ সম্মেলনে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

নির্বাচন ভবনে সংবাদ সম্মেলনে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জাতীয় পরিচয় পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেছেন, 'মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা ১১ লাখ ২০ হাজারের মতো রোহিঙ্গার আঙ্গুলের ও পরিচিতি সম্বলিত সার্ভার নির্বাচন কমিশনের কাছে রয়েছে। ফলে রোহিঙ্গাদের কেউ চাইলেই ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন না।

সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকালে নির্বাচন ভবনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান।

তিনি বলেন, 'রোহিঙ্গা নাগরিকদের ভোটার হওয়ার যে তথ্য এসেছে, সেটি মূলত তারা চেষ্টা করেছে। কিন্তু কেউই ভোটার হতে পারেনি। কারণ ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় বিশেষ কার্যক্রম শেষ করে সার্ভারে তথ্য আপলোড করা হয়। এরপর ফিঙ্গার প্রিন্ট ম্যাচিং করে যারা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যোগ্য, কেবল তাদেরই অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ ক্ষেত্রে কারও তথ্য অসম্পূর্ণ থাকলে সেটি লক করে দেওয়া হয়।'

এনআইডি ডিজি বলেন, 'লাকী বেগম নামের একজন স্মার্টকার্ড আনতে গেলে, মূল সার্ভার থেকে ধরা পড়ে। জিজ্ঞাসাবাদে চিহ্নিত হয়েছে- তাকে বৈধ এনআইডি দেওয়া হয়নি। তাই তাকে পুলিশে দেওয়া হয়েছে। তারপর আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করি। তাদের মাধ্যমে সঠিকভাবে প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন হয়েছে কিনা এসব দেখি। এতে ৪৬ জন ব্যক্তির ডাটা অসম্পূর্ণ পাওয়া যায়। কারও ফিঙ্গারপ্রিন্ট ঠিক নেই, কারও ফরম সঠিকভাবে আপলোড করা হয়নি। এটা আমরাই চিহ্নিত করেছি।'

রোহিঙ্গাদের বায়োামেট্রিক হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, 'কোনো তথ্য আপলোড হলে আমরা চেক করি। সে সিস্টেমের মাধ্যমে কোনো তথ্য রোহিঙ্গা সার্ভারের সঙ্গে মিলে গেলে সার্ভারে আর এন্ট্রি করতে পারবে না।'

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমান বলেন, 'কক্সবাজারের আশপাশের ৩২টি উপজেলাকে বিশেষ এলাকা ঘোষণা করেছি। সেখানে গঠিত বিশেষ কমিটির সঙ্গে বৈঠক করে বারবার সতর্ক করেছি, যাতে বিদেশি বা রোহিঙ্গারা ভোটার তালিকায় আসতে না পারে। আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তদন্তে চট্টগ্রামের ডবলমুরিং উপজেলা নির্বাচন অফিসের একজন পিয়ন, জয়নাল আবেদিন; রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে তার সম্পৃক্ততা কমিশন পেয়েছে। তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হবে ও চাকরির বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার সঙ্গে আরও কেউ সম্পৃক্ত কিনা সেটিও দেখা হবে। সে রোহিঙ্গাদের ভোটার করার চেষ্টা করেছে কাউকে ভোটার করতে পারেনি এবং আইডি দিতে পারেনি। শুধু এটেম্পট (উদ্যোগ) নিয়েছে, সেজন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনোমতে যাতে আইডি কার্ড না পায়, সেজন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছি। তারা ভোটার হতে পারবে না।'

আপনার মতামত লিখুন :