বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের ঋণের কিস্তি দিতে ব্যর্থ বিটিআরসি

ছবি: সংগৃহীত

 

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে নেওয়া ঋণের অক্টোবর মাসের কিস্তি দিতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। স্যাটেলাইট নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ফ্রান্সের থ্যালাস অ্যালেনিয়া স্পেস।

এদিকে, কিস্তি দিতে ব্যর্থ হওয়ায় বিটিআরসি’র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে অর্থ বিভাগ। অর্থমন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অর্থ বিভাগের নগদ ও প্রচ্ছন্ন দায় ব্যবস্থাপনা শাখা ইতোমধ্যে এক চিঠি দিয়ে বিটিআরসিকে বিষয়টি জানিয়েছে। চিঠিতে সরকারের আর্থিক ক্ষতি সাধনের জন্য দায়ী ব্যক্তিকে চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে জরিমানার সুদ বাবদ সমপরিমাণ অর্থ দোষী ব্যক্তির কাছ থেকে আদায় করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এমনকি পরবর্তীতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হলো সে বিষয়ে অর্থ বিভাগকে অবহিত করতে বলা হয়েছে।

চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ২২ অক্টোবর পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের গ্যারান্টির পরিমাণ ছিল মাত্র ৭৮ লাখ ২৬ হাজার ৪১৬ দশমিক ৩৮ ইউরো। গত ৫ নভেম্বর প্রকল্পের অর্থায়নের বিপরীতে প্রদত্ত রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টির হালনাগাদ অবস্থা পর্যালোচনা সভায় বিষয়টি অর্থ বিভাগের নজরে আসে।

সভার কার্যপত্রে বলা হয়, গত মার্চ থেকে বহুজাতিক ব্যাংক এইচএসবিসি’র মাধ্যমে ফ্রান্সের ওই স্যাটালাইট নির্মাণ কোম্পানির কাছে ঋণের গ্যারান্টি পাঠায় বিটিআরসি। গত ২ অক্টোবরও ১৪ লাখ ২৪ হাজার ১০৯ দশমিক ৪৯ ইউরোর কিস্তি পরিশোধ করা হয়। কিন্তু ২২ অক্টোবর পরবর্তী কিস্তি বাবদ ৭৮ লাখ ২৬ হাজার ৪১৬ দশমিক ৩৮ ইউরো দেওয়ার কথা থাকলেও ব্যর্থ হয় বিটিআরসি।

কার্যপত্রে আরো উল্লেখ করা হয়, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টির বিপরীতে গৃহীত ঋণের প্রতিটি কিস্তি বিটিআরসি’কে বিনা ব্যর্থতায় যথাসময়ে পরিশোধ করতে হবে। কিস্তি বাবদ পাওনা অর্থ বিটিআরসির তহবিলে জমা না থাকলে সে বিষয়ে কিস্তি পরিশোধের তারিখের আগেই অর্থ সরবরাহের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ বিষয়ে কার্যক্রম গ্রহণে যাতে কোনরূপ বিলম্ব না হয় সে বিষয়ে বিটিআরসি’কে তৎপর থাকতে হবে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে ১৫ বছরের জন্য রাশিয়ার কাছ থেকে অরবিটাল স্পট কিনেছে সরকার। তবে বিএস ওয়ানের স্থায়ীত্ব হতে পারে ১৮ বছর পর্যন্ত। ৩.৭ টন ওজনের বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটটির ডিজাইন এবং তৈরি করেছে ফ্রান্সের কোম্পানি থ্যালাস অ্যালেনিয়া স্পেস। আর এটাকে মহাকাশে নিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেসএক্স। প্রথম ৩ বছর থ্যালাস অ্যালেনিয়ার সহায়তায় এটির দেখভাল করছে বাংলাদেশ। পরে পুরোপুরি বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের হাতেই গাজীপুর ও রাঙামাটির বেতবুনিয়া আর্থ স্টেশন থেকে নিয়ন্ত্রিত হবে এটি।

টেক এর আরও খবর