১৫ টি খাতে ভ্যাট পুনর্বিবেচনা অনুরোধ।

তাসকিন আল আনাস, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবিঃ বার্তা২৪.কম

ছবিঃ বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

২০১৯-২০ অর্থবছরে আইসিটির বিভিন্ন খাতে ভ্যাট পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা । ডিজিটাল খাতকে বিকাশমান খাত বিবেচনা করে আইটিইএস, ফাইবার অপটিকস ক্যাবল, তথ্য প্রযুক্তি পণ্যের উপর থেকে আগাম কর প্রত্যাহার সহ মোট ১৫ টি খাত থেকে ভ্যাট প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান তারা। এছাড়াও সারপ্রাইজ যেকোন ব্যবসার জন্য ক্ষতির কারণ দেখিয়ে আইসিটিখাতে দীর্ঘমেয়াদী কর নীতি প্রণয়নেরও দাবি জানান ব্যবসায়ী নেতারা।

রোববার (১৬ জুন ) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত জাতীয় বাজেট ২০১৯-২০ এর উপর বেসিস এবং আইটি অ্যাসোসিয়েশন সমূহের মতামত শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এ অনুরোধ জানান খাত সংশ্লিষ্টরা  ।

সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য তুলে ধরে বেসিস সভাপতি আলমাস কবির বলেন,  সামগ্রিকভাবে বাজেট নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট। আইসিটিখাতে আগের থেকে বরাদ্দ বেড়েছে, প্রথমবারের মতো স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের জন্য ১শ কোটি টাকার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এগুলো প্রশংসার দাবিদার। আমরা কৃতজ্ঞ এবং সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। তবে আইসিটিখাতের কিছু বিষয় নিয়ে আমাদের আপত্তি আছে। কিছু জায়গায় নতুন করে ভ্যাট ও অন্যান্য ট্যাক্স আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে। আবার কিছু জায়গায় আগের থেকে করের হার বাড়ানো হয়েছে। সেগুলোর পরিবর্তন চাই আমরা।

টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রজেক্টের প্রসঙ্গে বেসিস সভাপতি বলেন, আমাদের ছেলেমেয়েরা এখন অনেক বড় বড় প্রজেক্টে কাজ করেছে। এগুলোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অনুন্নত দেশগুলোকে আইটি সাহায্য দিতে পারে বাংলাদেশ। যেখানে আমাদের লোকেরাই কাজ করবে। এটা করতে পারলে বিশ্ব দরবারে আমাদের আইটি আইসিটি খাতের বড় একটা এক্সপোজার হবে। এজন্য ৫শ কোটি টাকার অর্থ বরাদ্দ চেয়ছিলাম আমরা সরকারের কাছে। বাজেটে সে ধরনের কিছু পায়নি। আমরা চাই সরকার এইখাতে বরাদ্দ দিক।

অন্যদিকে ২২ ইঞ্চি পর্যন্ত কম্পিউটার মনিটর মূসক মুক্ত রাখার ক্ষেত্রে মনিটরের আকার বাড়ানোর দাবি জানান বিসিএস’র সভাপতি শাহীদ উল মুনির। তিনি বলেন, বিশ্বে এখন আর কোনো কোম্পানি ২২ ইঞ্চি মনিটর উৎপাদন করছে না। ন্যূনতম আকারের মনিটর হবে ২৪ ইঞ্চি। তাই মূসক মুক্ত আওতায় ২৪ ইঞ্চি মনিটর সংযুক্ত করার দাবি জানাচ্ছি আমরা।

ফাইবার অপটিক এবং এনটিটিএন’র মাধ্যমে ডাটা ট্রান্সমিশন খরচের কারণে ঢাকার থেকে বাইরের অঞ্চলগুলোতে ইন্টারনেটের দাম বেশি উল্লেখ করে ফাইবার অপটিক ক্যাবল’র ওপর ৫ শতাংশ রেগুলেটরি ডিউটি এবং এনটিটিএন সংযোগের উপর থেকে ৫ শতাংশ মূসক প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি এম এ হাকিম বলেন।

তিনি বলেন  ব্রডব্যান্ড ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০ শতাংশ বাড়ালে জিডিপিতে তা ১ শতাংশের বেশি অবদান রাখে। তাই সরকারের এই বিষয়টি পুনঃবিবেচনা করা উচিত।

আর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছ থেকে হয়রানি ছাড়াই কর মওকুফ’র সনদ ও আইসিটিখাতে দীর্ঘমেয়াদী কর নীতি প্রণয়নেরও দাবি জানান খাত সংশ্লিষ্টরা। 

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্য) এর সভাপতি ওয়াহিদুর রহমান শরীফ বলেন, বাংলাদেশের ডিজিটাল উন্নয়নে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার বিকল্প নেই। কিন্তু এর উপর আরোপিত কর সেই কার্যক্রমে বাধা দেবে।উপযুক্ত সময় অতিবাহিত হবার পর এই খাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মত কর কাঠামো প্রণয়নের অনুরোধ জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্য), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস), বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস) এবং ইন্টারনেট সার্ভিসেস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপি এবি) শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।

আপনার মতামত লিখুন :