ঢাকায় বসছে ‘টেক্সটেক’প্রদর্শনী



সাব্বিন হাসান, আইসিটি এডিটর, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
‘২০তম টেক্সটেক বাংলাদেশ’ প্রদর্শনী উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন

‘২০তম টেক্সটেক বাংলাদেশ’ প্রদর্শনী উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন

  • Font increase
  • Font Decrease

আগামী ৪ সেপ্টেম্বর থেকে রাজধানী ঢাকায় ‘২০তম টেক্সটেক বাংলাদেশ’ প্রদর্শনী শুরু হতে যাচ্ছে। আয়োজক সেমস গ্লোবাল। এটি দক্ষিণ এশিয়ার টেক্সটাইল এবং গার্মেন্টস শিল্পের অন্যতম আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী। 

ঢাকাস্থ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) চার দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী চলবে ৭ সেপ্টেম্বর অবধি। এ প্রদর্শনীর সাথেই সেমস গ্লোবাল আয়োজন করছে ‘১৬তম ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইয়ার্ন অ্যান্ড ফেব্রিক শো’ এবং ‘৩৮তম ডাই-ক্যাম বাংলাদেশ এক্সপো’। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা অবধি প্রদর্শনী চলবে।

এবারের প্রদর্শনীতে স্বাগতিক বাংলাদেশ ছাড়াও চীন, ভারত, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, তাইওয়ান, জাপান, তুরস্ক, ইতালি, শ্রীলঙ্কাসহ মোট ২৫টি দেশের ১২৫০টি প্রতিষ্ঠান ১৫০০টি স্টলের মাধ্যমে তাদের পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করবে। এ প্রদর্শনীতে আগত দর্শনার্থীরা টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস শিল্পের আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি, সুতা, কাপড়, কাপড় উৎপাদন যন্ত্রাদি, নিত্যনতুন প্রযুক্তি ও রাসায়নিক দ্রব্যের সবশেষ অগ্রগতি জানতে পারবে।

এ আয়োজন প্রসঙ্গে সেমস গ্লোবালের সভাপতি ও গ্রুপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেহেরুন এন. ইসলাম জানালেন, বিগত ২০ বছর ধরে সেমস গ্লোবাল ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশ, ব্রাজিল ও শ্রীলংকায় টেক্সটেক, ইয়ার্ন অ্যান্ড ফেব্রিক এবং ডাই-ক্যাম প্রদর্শনী করে আসছে। এ বছর থেকে এ ধারার প্রদর্শনী মরক্কোতে করা হবে।

বিশ্বের দ্বিতীয় তৈরি পোশাক রফতানিকারক দেশ বাংলাদেশ। গত অর্থ বছর বাংলাদেশ টেক্সটাইল ও পোশাক রফতানি শিল্পে ৩০ দশমিক ৬১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছে। যা বার্ষিক আয়ের ৮০ দশমিক ৭ শতাংশ। জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

বর্তমানে এ শিল্প থেকে বছরের ৩২ বিলিয়ন (প্রায়) মার্কিন ডলার আয় হচ্ছে। আগামী ২০২১ সালের মধ্যে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশের পোশাক শিল্প খাতে ৪৪ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। যার ৮০ শতাংশই নারী।

বিগত কয়েক দশক ধরে টেক্সটাইল শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি। দ্রুত অগ্রগতির ফলে এ শিল্প এখন রাসায়নিক ক্রমবর্ধমান চাহিদার মুখোমুখি। স্থানীয় টেক্সটাইল শিল্পগুলো প্রতি বছর প্রায় ১.৪৮ মিলিয়ন মেট্রিকটন রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করবে। চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ আমদানি দ্বারা পূরণ করা হবে। এ খাতে বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা আছে।

ইতিমধ্যে সরকার কৌশলগত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে। বিগত ১০ বছরে দেশের দারিদ্র্য ৪০ থেকে ২০ শতাংশে নেমে এসেছে। এ অর্জনে পোশাক খাতের অবদান সবচেয়ে বেশি। এছাড়া এ প্রদর্শনীর মাধ্যমে এ শিল্প আরও সুপ্রসারিত হবে। তৈরি হবে দেশি দক্ষ মানবশক্তি।

আগত দেশি-বিদেশি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান এবং দর্শক, ভোক্তা, উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য ওয়ান স্টপ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে এ আয়োজন। উদ্যোক্তারা ফলপ্রসু যোগাযোগের মাধ্যমে সবশেষ প্রযুক্তি ও সেবার সাথে সরাসরি পরিচিত হতে পারবেন। এ ছাড়া উদ্যোক্তা, ভোক্তা, আমদানিকারক ও সরবরাহকারীদের সরাসরি সাক্ষাতের মাধ্যমে বৈদেশিক বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তৈরি হবে।