ডেভেলপার ও ইউজারদের জন্য হারমনি ওএস-এর সুখবার্তা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
বক্তব্য রাখছেন হুয়াওয়ের সিনিয়র প্রোডাক্ট মার্কেটিং এক্সপার্ট রেমন্ড ঝোঁ, ছবি: সংগৃহীত

বক্তব্য রাখছেন হুয়াওয়ের সিনিয়র প্রোডাক্ট মার্কেটিং এক্সপার্ট রেমন্ড ঝোঁ, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

এখন চলছে নানা ধরনের ডিভাইসের যুগ। আছে ওয়্যারেবল ডিভাইস, চলমান ডিভাইস, হোম অ্যাপ্লায়েন্স। বর্তমানে সব ডিভাইসের জন্য আলাদা করে অ্যাপ ডেভেলপ করতে হয়। কিন্তু হুয়াওয়ে উদ্ভাবিত হারমনি ওএস এ থাকবেনা এসব সমস্যা। তাই একজন ডেভেলপারকে তৈরি করতে হবে একটি মাত্র অ্যাপ। আর মাইক্রো কার্নেল (micro karnel)  প্রোগামিং থাকার কারণে ইউজার ইন্টারফেজ যাই হোক না কেন সব ডিভাইসের জন্য লাগবে একটি মাত্র অ্যাপ।

বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) হুয়াওয়ের সিনিয়র প্রোডাক্ট মার্কেটিং এক্সপার্ট রেমন্ড ঝোঁ তুলে ধরেন সম্ভাবনাময় হারমনি ওএস এর নানা দিক।

রাজধানীর গুলশানে হুয়াওয়ে প্রধান কার্যালয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে নলেজ শেয়ারিং অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, হুয়াওয়ে কনজ্যুমার বিজনেস গ্রুপের (বাংলাদেশ) কান্ট্রি ডিরেক্টর কেলভিন ইয়াং, মার্কেটিং ডিরেক্টর ঈগল সং, সিনিয়র পি আর ম্যানেজার (ডিভাইস) সুমন সাহাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

হারমনি ওএস এর বিভিন্ন দিক তুলে ধরে এসময় জানানো হয়, এই অপারেটিং সিস্টেমটি মাইক্রো কার্নেল বেজ, যা ব্যবহার করা যাবে বড় পরিসরে। স্মার্ট স্পিকার, স্মার্ট স্ক্রিন, গাড়ি, কম্পিউটার, স্মার্ট ওয়াচ, ট্যাবলেট এবং স্মার্টফোনে ব্যবহার করা যাবে হারমনি।

এসময় রেমন্ড ঝোঁ বলেন, 'বিভিন্ন ধরনের স্মার্ট ডিভাইসে বিভিন্ন ধরনের অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার হয়ে আসছে। যে কারণে একেক ধরনের ডিভাইসে আলাদা আলাদা প্রোগ্রামিংয়ে অ্যাপস তৈরি করতে হয়। আমরা এই জায়গাটিতেই বিপ্লব আনতে যাচ্ছি।'

যেমন এখন স্মার্টফোনের জন্য প্রায় ৩.৯ মিলিয়ন অ্যাপস আছে। স্মার্ট ওয়াচের জন্য আছে ২০ হাজারের বেশি, টেলিভিশনের জন্য ১০ হাজার এবং গাড়ির জন্য ১০০ এর বেশি অ্যাপস আছে। হারমনি এমন একটি ওএস হবে, যেখানে এমন সবধরনের ডিভাইসই ব্যবহার করা যাবে একটি মাত্র অ্যাপসে।

রেমন্ড বলেন, 'এখন হারমনি ওএস এর নিরাপত্তা এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে যা এমনকি ব্যবহার করা যাবে অ্যারোস্পেস ডিভাইসেও। নিজের মোবাইল ডিভাইস থেকেই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে অ্যারোস্পেস সম্পর্কিত সকল ডিভাইস।'

সাধারণ অ্যান্ড্রয়েড ফোনে অপারেটিং সিস্টেম কর্তৃক সিপিউ ইউসেজ সম্পর্কে বলতে গিয়ে রেমন্ড বলেন, আমরা যদি অপারেটিং সিস্টেমকে হাইওয়ে হিসেবে ধরি আর গাড়িগুলোকে অ্যাপস হিসেবে ধরি তাহলে বর্তমান বাজারে থাকা ফোনগুলোর ব্যাপারে বলা যায় প্রত্যেকটি অ্যাপস একটি মাত্র হাইওয়ে দিয়ে চলছে। যেখানে একটি গুরুত্বপুর্ণ অ্যাপস তার চাহিদা অনুযায়ী চলতে পারে না। কিন্ত হারমনি ওএস এ ডিটার্মিনিস্টিক ল্যাটেন্সি ইঞ্জিন (deterministic latency engine)  এর মাধ্যমে প্রত্যেকটি অ্যাপের চাহিদা অনুযায়ী স্পিড বরাদ্দ করা হবে। তার মানে একেকটি অ্যাপ চলবে একেকটি হাইওয়ে দিয়ে।ফলে সিপিইউ যদি মনে করে একটি গুরুত্বপুর্ণ অ্যাপস চলতে অতিরিক্ত স্পিড দরকার তবে সে অনুযায়ী স্পিড দেবে সিপিইউ এমন করেই ডিজাইন করা হারমনি ওএস।

হুয়াওয়ে জানায়, হারমনি ওএস ডেভেলপ করার সময় আমাদের ৩ টি চ্যালেঞ্জ মাথায় রাখতে হয়েছিলো যা হচ্ছে সিকিউরিটি, অন্যান্য ওএস এর তুলনায় কম কোডিং ল্যাংগুয়েজ ব্যবহার করা, এবং সকল ডিভাইসের জন্য একটি মাত্র ওএস যার সবগুলোই সলভ করা হয়েছে এই অপারেটিং সিস্টেম।

তবে দেখা যাক, বর্তমানে গুগল পুরো ইকোসিস্টেম তৈরি মাধ্যমে যে একক রাজত্ব ধরে রেখছিলো ওএস জগতে সেটি কতটা টলাতে পারে হারমনি ওএস।

আপনার মতামত লিখুন :