সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে নিরীক্ষণে রাখার তাগিদ বিশেষজ্ঞের

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে প্রতিনিয়ত নিরীক্ষণে রাখার তাগিদ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একজন বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, 'সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম স্বাধীন চিন্তাশক্তিকে অকেজো করে দিয়েছে।'

এই বিশেষজ্ঞ স্পষ্ট ভাষায় আরো বলেছেন যে, 'সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর কিছু উপকারী দিক থাকা সত্ত্বেও মানসিক বৈকল্য, অপরাধের আধার ও মিথ্যার ছড়াছড়িতে সামাজিক মাধ্যমের যে অপব্যবহার, তা কোনও ভাবেই অস্বীকার করা যায় না।'

জ্যাকব আমেদি নামের একজন বিশেষজ্ঞ, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের সান্তা ক্লারা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে 'নেটওয়ার্ক ও সফটওয়্যার ডিজাইন' বিষয়ের সঙ্গে জড়িত, নিজের গবেষণা ফলাফলের ভিত্তিতে মত দিয়েছেন যে, 'সামাজিক যোগাযেগ মাধ্যমের উত্থান নতুন হলেও বেশির ভাগ সময়ই এর উপকারিতাগুলোকেই ফলাও করে প্রচার করা হয়, যত না তার খারাপ ও কালো দিকগুলোকে তুলে ধরা হয়।'

জ্যাকব আমেদি বলেন, 'খারাপ দিকগুলো অবহেলা করলে এর পরিণাম সুদূরপ্রসারী হবে। বিশেষত, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সেন্সরবিহীন ও যথাযথ মনিটরিং ছাড়া বেড়ে ওঠা আমাদের সামাজিক কাঠামোর শৃঙ্খলা ভেঙে দিতে পারে।'

সামাজিক যোগাযেগ মাধ্যমকে একটি নতুন গণমঞ্চ উল্লেখ করে জ্যাকব আমেদি বলেন, 'আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক ইন্টারনেট বিশ্ব ব্যবস্থায় সমাজ, অর্থনীতি, রাজনীতি, মূল্যবোধের ক্ষেত্রে এই মঞ্চের সুস্পষ্ট প্রভাব অনস্বীকার্য, যা সমাজ, দেশ, সংস্কৃতির দেয়াল ভেঙে সব মানুষকে কাছাকাছি নিয়ে এসেছে।'

গবেষক জ্যাকব আমেদি তার এক অনুসন্ধানী সমীক্ষায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ইতিবাচক দিকগুলোর আলোচনা করে আরও বলেন, 'সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কিছু খারাপ প্রভাবও আমাদের জীবনে দৃশ্যমান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আমাদের পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস হরণ করে মানবিক, শারীরিক ও অনুভূতির সাহচার্যকে ভার্চুয়াল যোগাযোগ দ্বারা প্রতিস্থাপিত করেছে। এই মাধ্যমগুলো আমাদের আত্মসংযম কেড়ে নিয়ে স্বাধীন চিন্তাশক্তিকে অকেজো করে দিয়েছে এবং সেইসব অবান্তর তথ্যের প্রতি আমাদের বিশ্বাসপ্রবণ করে তুলছে, যা আমরা কোনও বাছবিচার ছাড়াই প্রতিনিয়ত গলাধঃকরণ করে চলেছি।'

'সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে প্রতিনিয়ত নিরীক্ষণের ভেতর রাখলে সেটি আমাদের ভালো বৈ খারাপ হবে না', অভিমত বিশেষজ্ঞ জ্যাকব আমেদি'র।

টেক এর আরও খবর