মমো‘র মায়া থেকে দূরে রাখতে তৎপর ডিএমপি!

মনি আচার্য্য, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা: গত এক বছর আগেও ব্লু হোয়েল গেইম নিয়ে আতংকে ভুগেছিল সারা বিশ্ব। বিশেষ করে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী তরুণ-তরুণীদের নিয়ে চিন্তায় ছিলেন তাদের অভিভাবকরা।

নানা সতর্কতা ও সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে ব্লু হোয়েলের আতংক থেকে বের হয়ে এসেছে জাতি। কিন্তু আবার নতুন করে ইন্টারনেট জগতে ঝড় তুলছে মোম বা মনো মায়া গেইম। এই অনলাইন গেইমটিও ব্লু হোয়েল মতো মরণঘাতী সাইকোলজিক্যাল গেইম বলে বলেছেন বিশ্লেষকরা।

জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে অনলাইন গেইম মমো ছড়িয়ে পড়ছে। দক্ষিণ আমেরিকা ও ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশে মমো গেইম খেলে কয়েকজন আত্মহত্যা করেছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মমো গেইমের বিষয়ে বিশ্লেষকরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলছেন, এই সাইকোলজিক্যাল ফেনোমেনা গেইম তরুণ প্রজন্মকে পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে। অনলাইন এই গেইমটিতে যে লোগো ব্যবহার করা হয়েছে তা দেখতেই ভয়ানক। কম্পিউটারের স্ক্রিনে ভেসে উঠতে পারে এবং গেমে অংশ নিতে প্রলুব্ধ করতে পারে।

তবে সাইকোলজিক্যাল ফেনোমেনা এই মমো গেইমের বাংলাদেশে প্রসার রোধে ইতি মধ্যেই নড়ে চরে বসেছে ডিএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিট।

এ বিষয়ে সাইবার ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, ডিএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিট এই মমো মায়াকে রুখতে প্রস্তুত রয়েছে। ডার্কওয়েবের মাধ্যমে ছড়াতে পারে কথিত এই গেইম। এসব ডার্কওয়েব লিংকগুলো বন্ধ করে দেওয়ার জন্য ব্যবস্থাগ্রহণ করা হচ্ছে।

এদিকে  ডিএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিটের পক্ষ হতে মমো মায়াকে রুখতে কিছু পরামর্শ দেওয়া হয় নেট ব্যবহারকারীদের জন্য। 

পরামর্শগুলো হল,


১.মমোর কথা বলে কিছু শৌখিন বা ভণ্ড প্রোগ্রামার রা গুজব ছড়িয়ে জাতিকে ব্যস্ত রাখতে ফেইক মমো বাজারজাত করে ভিন্ন স্বার্থ হাছিলে  তারা তৎপর থাকতে পারে সেটা মাথায় রাখতে হবে।

২. অনেক সময় মমো কে পুঁজি করে কেউ নাইজেরিয়ান স্ক্যাম এর মত অপরাধে জড়িয়ে পরতে পারে। সেটা পরখ করাটাও জরুরি।

৩. কোন ভাবেই মমো নামের কোন আসল বা ফেইক লিংক কে acknowledge করা যাবে না। নইলে সাইকোলজি প্রভাব কে এড়াতে পারবেন না।

৪. টিনেজারদের যতদূর সম্ভব নেট তথা ডার্ক ওয়েব থেকে দূরে রাখবেন। সে ক্ষেত্রে অভিভাবক এবং শিক্ষকগণের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

৫. কেউ কোনভাবে মমোর আসক্তি তে ডুবে গেলে হইচই না করে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এর পরামর্শ নিবেন, পাশাপাশি আমাদের কাছে আসবেন,আমরা মনো প্রাযুক্তিক বিষয়ে কাউসেলিং করে দিব।

৬. আতংকিত হবেন না এবং কোনভাবেই আতংক ছড়াবেন না, তাতে গণমানুষকে বিভ্রান্ত করে ফেলতে পারেন।

৭. মমো সংক্রান্ত যে কোন বিষয়ে তথ্য প্রদান ও সেবা গ্রহণে ডিএমপি এর সাইবার নিরাপত্তা ও অপরাধ দমন বিভাগের সাথে যোগাযোগ রাখুন।

 

আপনার মতামত লিখুন :