Barta24

শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬

English

সাজেক যাচ্ছে ‘ঘোরাঘুরি আনলিমিটেড’

সাজেক যাচ্ছে ‘ঘোরাঘুরি আনলিমিটেড’
ছবি: সংগৃহীত
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ভ্রমণ বিষয়ক সংগঠন ঘোরাঘুরি আনলিমিটেডের এবারের ভ্রমণ মেঘেররাজ্য খ্যাত সাজেক ভ্যালিতে। দুই দিনের এই ভ্রমণে সাজেকের পাশাপাশি পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির বিভিন্ন স্পটও ঘুরে দেখানো হবে। পাহাড়ের চূড়ায় রাতভর আড্ডা, গান আর আনন্দে কাটানোর এই আয়োজনে সঙ্গী হতে পারেন যে কেউ।

আগামী ৭ মার্চ রাতে ঢাকা থেকে সাজেকের উদ্দেশে গাড়ি ছেড়ে যাবে ঘোরাঘুরি আনলিমিটেড। এ ভ্রমণে অংশ নেবেন ৩৬ জন ভ্রমণকারী।

জানা যায়, ৮ মার্চ সকালে খাগড়াছড়ি থেকে চান্দের গাড়ি করে স্বপ্নের সাজেক যাত্রা। বিকেলে সাজেকের আশে পাশে ঘুরে দিন কাটানো হবে। সন্ধ্যার পরে বারবিকিউ আর ফানুস উড়িয়ে সময় কাটাবে দলটি। স্থানীয়ভাবে বাঁশ আর কাঠ দিয়ে তৈরি কটেজে কাটানো হবে রাত।

৯ মার্চ ভোরে সূর্যোদয়ের সীমাহীন সুন্দর দৃশ্য উপভোগ করাই এই ভ্রমণের মূল আনন্দ। কংলাক পাহাড়ও দেখা হবে এদিন। খাগড়াছড়ির আলুটিলাসহ কয়েকটি দর্শনীয় স্থানে ঘোরা হবে এই ভ্রমণে।

ঘোরাঘুরি আনলিমিটেডের প্রধান নির্বাহী মুনিফ আম্মার বলেন, ‘জঞ্জাল সময় থেকে ছুটি নিয়ে প্রকৃতির কাছাকাছি যেতেই এ আয়োজন। পাহাড়ে প্রাণভরে শ্বাস নেওয়া আর দু’চোখ ভরে স্বদেশ দেখার আনন্দে মেতে উঠতেই এবারের ভ্রমণে আমরা সাজেক বেছে নিয়েছি।’

ঘোরাঘুরি আনলিমিটেডের পক্ষ থেকে জানা গেছে, এই ভ্রমণে জনপ্রতি ৪ হাজার ৯০০ টাকা দিয়ে ভ্রমণটি উপভোগ করার সুযোগ থাকছে। তবে কাপল হলে বাড়তি ১ হাজার টাকা গুণতে হবে। এছাড়া আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ভ্রমণ যাত্রী হিসেবে নাম নিবন্ধন করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

ফেনীর প্রাচীন ঐতিহ্য বিজয়সিংহ দীঘি

ফেনীর প্রাচীন ঐতিহ্য বিজয়সিংহ দীঘি
ফেনীর বিজয়সিংহ দীঘি

ফেনী থেকে ফিরে: হাজার বছরের পুরনো ঐতিহাসিক জনপদগুলোর মধ্যে অন্যতম ফেনী। ঐতিহ্যের অজস্র নিদর্শন ছড়িয়ে আছে ফেনীর গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। তেমনি এক ঐতিহ্য ফেনীর বিজয়সিংহ দীঘি। শত বছরের প্রাচীন রূপকথার ইতিহাস ও ঐতিহ্য বহন করে দীঘিটি। তবে এর ইতিহাস নিয়ে রয়েছে মতপার্থক্য।

অনেকে দীঘিটিকে প্রাচীন বাংলার বিখ্যাত সেন বংশের অমরকীর্তি হিসেবে দেখেন। তাদের মতে ৫-৭ শত বছর আগে সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা বিজয় সেন দীঘিটি খনন করেন। আবার অনেকে মনে করেন, দীঘিটি খনন করেন স্থানীয় রাজা বিজয় সেন। পরে রাজার নামানুসারে দীঘিটির নামকরণ করা হয় ‘বিজয়সিংহ দীঘি’।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566217003950.jpg

বর্তমানে ফেনী জেলা প্রশাসনের মালিকানাধীন দীঘিটির আয়তন ৩৭.৫৭ একর। ফেনী শহরের ২ কিলোমিটার পশ্চিমে সার্কিট হাউজের পাশে বিজয় সিংহ গ্রামে অবস্থিত নয়নাভিরাম দীঘিটি। এর তিন দিকে উঁচু টিলা, যা সবুজ বৃক্ষ ও লতাপাতায় ঘেরা। একপাশে সমতল, যেখানে রয়েছে গোসল ও ওজু করার ঘাট, মানুষের বসার জায়গা ও সরকারি সার্কিট হাউজ।

কথিত আছে, প্রায় ৬-৭ শত বছর আগে ত্রিপুরা রাজ্যের প্রভাবশালী একজন রাজা তার কন্যার অন্ধত্ব দূর করার বাসনা থেকে এ দীঘি খনন করেন। আবার কেউ মনে করেন, রাজা বিজয় সিংহ তার মাকে খুশি করতে এ দীঘি খনন করেন। দীঘিটিতে একসময় সোনা ও রুপার থালা ভেসে উঠত। একদিন এক ভিখারিনী একটা থালা চুরি করে। এরপর থেকে আর থালা ভেসে ওঠে না!
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566217023979.jpg

আরও কথিত আছে, এ দীঘিতে ৮০-১০০ কেজি ওজনের মাছ পাওয়া যেত। ফেনীর কৃতি সন্তান প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক জহির রায়হান তার ‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাসে কমলা সুন্দরীকে জ্বিন দীঘিতে নামিয়ে ফেলার কথা উল্লেখ করেন। অনেকে মনে করেন জহির রায়হান এই দীঘির কথাই উল্লেখ করেছেন।

তবে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এ পর্যন্ত কেউ দিঘিটি পুরোপুরিভাবে সেচ দিতে পারেননি। ফলে এখনও মানুষ দূর দূরান্ত থেকে এ দীঘিতে গোসল ও পানি নিতে আসেন।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566217044009.jpg

জানা গেছে, ১৯৯৫ সালে দীঘিটির চারপাশে বৃক্ষরোপণ করা হয়। এরপর ২০১৮ সালে দীঘিটির পাড়ে ওয়াকওয়ে, আরসিসি গ্যালারি, লাইটিং, সীমানা প্রাচীর ও শৌচাগার নির্মাণ করা হয়; যা দীঘিটির সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দেয়। রাতে দীঘির পাড়ে লাইটের আলোতে এক নৈসর্গিক দৃশ্য ফুটে ওঠে। দীঘিটির পাড়ে বিভিন্ন দিবসে জনতার ঢল নামে। জমে ওঠে মেলা। কেউ পরিবার-পরিজন আবার কেউ বন্ধু-বান্ধব নিয়ে সময় কাটাতে যান দীঘির পাড়ে।

যেভাবে যাবেন:
ঢাকার সায়েদাবাদ বা টিটিপাড়া থেকে বাসে করে ফেনীর মহিপাল নামতে হবে। গাড়ি ভাড়া ২৫০-৩০০ টাকা। পরে মহিপাল থেকে রিকশা অথবা পায়ে হেঁটে সার্কিট হাউজ রোড দিয়ে সোজা বিজয়সিংহ দীঘি যাওয়া যায়। রিকশায় গেলে ১০-১৫ টাকা ভাড়া এবং হেঁটে গেলে ১০ মিনিট সময় লাগবে।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566217071459.jpg

যেখানে খাবেন:

ফেনীর মহিপালে অনেক ভালো মানের খাবার হোটেল রয়েছে, যেখানে স্বল্পমূল্যে খাবার পাওয়া যায়। হোটেলগুলোর মধ্যে খ্যাতি আছে—শাহিন হোটেল, ফুড পার্ক রেস্তোরাঁ, ইত্যাদি হোটেল ও আলমাস হোটেলের।

যেখানে থাকবেন:
বিজয়সিংহ দীঘির অত্যন্ত কাছে ফেনী সার্কিট হাউস গড়ে তোলা হয়েছে। আর দীঘি থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে মিজান রোডে ফেনী জেলা পরিষদ ডাক বাংলোর অবস্থান। এছাড়া চাইলে এলজিইডি রেস্ট হাউজ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের রেস্ট হাউস এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির রেস্ট হাউজে আছে থাকার ব্যবস্থা।

ফেনী শহরে রাত্রিযাপনের জন্য আবাসিক হোটেলের মধ্যে আছে—হোটেল মিড নাইট বা হোটেল গাজী ইন্টরন্যাশনাল।

শালবনের সৌন্দর্যে মেতেছেন দর্শনার্থীরা

শালবনের সৌন্দর্যে মেতেছেন দর্শনার্থীরা
হাতীবান্ধার নওদাবাস এলাকায় শালবনের অপরূপ সৌন্দর্যে মেতেছেন দর্শনার্থীরা

লালমনিরহাট শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে হাতীবান্ধা উপজেলার নওদাবাস এলাকায় শালবনের অপরূপ সৌন্দর্যে মেতেছেন দর্শনার্থীরা। ঈদ উপলক্ষে আশপাশের জেলা-উপজেলা থেকে প্রতিদিন হাজারেরও বেশি দর্শনার্থীর ভিড় জমছে সেখানে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা বিশাল আয়তনের শালবনের নিরিবিলি পরিবেশ মনোমুগ্ধ করছে পর্যটকদের।

ঈদের ছুটিতে প্রকৃতিপ্রেমী ও বিনোদনপ্রেমীদের মিলনমেলায় পরিণত হয় এ শালবন। নানা প্রজাতির পাখির কলকাকলিতে মুখরিত থাকে শালবনটি। বনের বড় বড় গাছের নিচে আলাদা করে লাগানো বেতগাছ সৌন্দর্যে যুক্ত করেছে ভিন্নমাত্রা। বেতগাছে অনেক কাঁটা থাকায় দর্শনার্থীদের চলতে হবে দেখে-শুনে। শালবনে ঘুরতে বা প্রবেশ করতে কোন টিকিটের প্রয়োজন হয় না।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/16/1565958178016.jpg
শালবনে আগতরা বলছেন, নানারকম সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো গেলে এখানে দর্শনার্থীর সংখ্যা যেমন বৃদ্ধি পাবে সেই সাথে কর্মসংস্থান হবে স্থানীয়দের। বিশাল এই শালবনে নিরপত্তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয় কলেজছাত্র কাহার বকুল বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ঈদকে ঘিরে বিভিন্ন বয়সী মানুষের সমাগমে ভরে ওঠে শালবন। বন্যপ্রাণীর অভয়াশ্রম ঘোষণা করে এ শালবনকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলে বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার জোর দাবি জানাই।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/16/1565958202314.jpg
নওদাবাস ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান অশ্বিনী কুমার বসুনিয়া বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান, পর্যাপ্ত বনরক্ষী না থাকায় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। প্রায় একর আয়তনের এ শালবন রক্ষায় বনবিভাগের এই বিটে জনবল সংকট রয়েছে। সরকার ইচ্ছে করলে অনেক বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে। সেই সাথে পর্যটনসেবা বঞ্চিত বিনোদনপ্রিয় জেলাবাসীর চিত্তবিনোদনের স্পট হতে পারে এই শালবন।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/16/1565958245666.jpg
যেভাবে যাবেন:
লালমনিরহাট শহর থেকে সড়ক ও রেলপথে হাতীবান্ধায় নেমে রিকশা ও ভ্যানযোগে মাত্র ৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিলেই শালবনে। বনে ঘুরে ক্লান্ত হলে বিশ্রামের জন্য বসার ব্যবস্থা রয়েছে। খাবারের জন্য রয়েছে ছোট ছোট কয়েকটি দোকান।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র