Barta24

বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

সাজেক যাচ্ছে ‘ঘোরাঘুরি আনলিমিটেড’

সাজেক যাচ্ছে ‘ঘোরাঘুরি আনলিমিটেড’
ছবি: সংগৃহীত
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ভ্রমণ বিষয়ক সংগঠন ঘোরাঘুরি আনলিমিটেডের এবারের ভ্রমণ মেঘেররাজ্য খ্যাত সাজেক ভ্যালিতে। দুই দিনের এই ভ্রমণে সাজেকের পাশাপাশি পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির বিভিন্ন স্পটও ঘুরে দেখানো হবে। পাহাড়ের চূড়ায় রাতভর আড্ডা, গান আর আনন্দে কাটানোর এই আয়োজনে সঙ্গী হতে পারেন যে কেউ।

আগামী ৭ মার্চ রাতে ঢাকা থেকে সাজেকের উদ্দেশে গাড়ি ছেড়ে যাবে ঘোরাঘুরি আনলিমিটেড। এ ভ্রমণে অংশ নেবেন ৩৬ জন ভ্রমণকারী।

জানা যায়, ৮ মার্চ সকালে খাগড়াছড়ি থেকে চান্দের গাড়ি করে স্বপ্নের সাজেক যাত্রা। বিকেলে সাজেকের আশে পাশে ঘুরে দিন কাটানো হবে। সন্ধ্যার পরে বারবিকিউ আর ফানুস উড়িয়ে সময় কাটাবে দলটি। স্থানীয়ভাবে বাঁশ আর কাঠ দিয়ে তৈরি কটেজে কাটানো হবে রাত।

৯ মার্চ ভোরে সূর্যোদয়ের সীমাহীন সুন্দর দৃশ্য উপভোগ করাই এই ভ্রমণের মূল আনন্দ। কংলাক পাহাড়ও দেখা হবে এদিন। খাগড়াছড়ির আলুটিলাসহ কয়েকটি দর্শনীয় স্থানে ঘোরা হবে এই ভ্রমণে।

ঘোরাঘুরি আনলিমিটেডের প্রধান নির্বাহী মুনিফ আম্মার বলেন, ‘জঞ্জাল সময় থেকে ছুটি নিয়ে প্রকৃতির কাছাকাছি যেতেই এ আয়োজন। পাহাড়ে প্রাণভরে শ্বাস নেওয়া আর দু’চোখ ভরে স্বদেশ দেখার আনন্দে মেতে উঠতেই এবারের ভ্রমণে আমরা সাজেক বেছে নিয়েছি।’

ঘোরাঘুরি আনলিমিটেডের পক্ষ থেকে জানা গেছে, এই ভ্রমণে জনপ্রতি ৪ হাজার ৯০০ টাকা দিয়ে ভ্রমণটি উপভোগ করার সুযোগ থাকছে। তবে কাপল হলে বাড়তি ১ হাজার টাকা গুণতে হবে। এছাড়া আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ভ্রমণ যাত্রী হিসেবে নাম নিবন্ধন করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

ঘুরে এলাম দার্জিলিং

ঘুরে এলাম দার্জিলিং
দার্জিলিংয়ের পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে বাড়িঘর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বন্ধুদের দার্জিলিং ঘুরে আসার অনেক ছবিই দেখেছি। ওইসব ছবিতে দার্জিলিংয়ের অপরূপ সৌন্দের্যে বারবার বিমোহিত হয়েছি। পরে একদিন পণ করেই বসলাম, জীবনে একবার হলেও সেখানে গিয়ে কাছ থেকে প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখব। সেই ইচ্ছা পূরণ করতে গত ১১ জুন চারদিনের সফরে ভারত ভ্রমণে গিয়েছিলাম। অত্যন্ত কাছ থেকে উপভোগ করেছি দার্জিলিং শহরের সৌন্দর্য।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/20/1561047344142.jpg
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তরভাগে দার্জিলিংয়ের একটি শহর ও পৌর করপোরেশনের অধীন এলাকা শিলিগুড়ি। শহরটি দক্ষিণ হিমালয়ের তরাই অঞ্চলে মহানন্দা নদীর পশ্চিমে অবস্থিত। মূলত অনাবিল সৌন্দর্য এবং মনোরম জলবায়ুর কারণে ভারতে ছুটি কাটানোর গন্তব্য হয়ে উঠেছে দার্জিলিং।

প্রথম রাতে গিয়ে উঠেছিলাম শিলিগুড়ির কলকাতা লর্ডেস হোটেলে। কোনোভাবে রাতটি কাটিয়ে সকালে একটি জিপ ধরে বেড়িয়ে পড়লাম ঘুরতে। আশপাশে আমার মতো হাজারও মানুষ এসেছেন এখানে। একের পর এক গাড়ি ছুটছে দার্জিলিংয়ের দিকে। পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত শহরটি।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/20/1561047282365.jpg
জানা গেছে, দার্জিলিং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬ হাজার ৭০০ ফুট (২০ হাজার ৪২২ মিটার) উচ্চতায় অবস্থিত। এখানে ছোটবড় মিলে প্রায় ১৭টি দর্শনীয় স্থান রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে- চা শিল্প, বিশ্বের তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা ইত্যাদি। এছাড়া রেললাইনের জন্যও বিখ্যাত দার্জিলিং। এর জনপ্রিয়তা ব্রিটিশ আমল থেকেই বেড়েছে।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/20/1561047389112.jpg
আরও জানা গেছে, স্থানীয়রা গরুর মাংস ও মসুর ডাল দিয়ে ভাত খেতে পচ্ছন্দ করেন। অন্যান্য জনপ্রিয় খাবারের মধ্যে আছে- মম (সবজি দিয়ে তৈরি এক ধরনের পিঠা), থুপকা (নুডলস দিয়ে তৈরি একটি সুপ), চ্যাং (বিয়ার) এবং ম্যাগিনুডলস।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/20/1561047307502.jpg
বাংলাদেশ থেকে দার্জিলিং ভ্রমণে আসা সৈয়দ সিহাব বলেন, ‘শুধু দার্জিলিং শহরটিই দেখতে ভারতে আসা। এখানকার আবহাওয়া অনেক ভালো। কোনো ধুলাবালি নেই। পরিবেশও অনেক সুন্দর।’

আরেক বাংলাদেশি দর্শনার্থী জয় মহন্ত বলেন, ‘এখানে এসে অনেক ভালো লাগছে। এখানকার পাহাড় দেখতে বেশি সুন্দর। বিশেষ করে এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা পাহাড়টি দেখতে অসাধারণ লাগে।’

সাজেকে মেঘ-পাহাড়ের মিতালিতে মেতেছেন পর্যটকরা

সাজেকে মেঘ-পাহাড়ের মিতালিতে মেতেছেন পর্যটকরা
কংলাক পাহাড় থেকে ক্যামেরাবন্দি করা সাজেকের মনোরম দৃশ্য

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক। আঁকাবাঁকা উঁচুনিচু পথ; যেখানে মেঘ-পাহাড়ের গভীর মিতালি। প্রথম দেখাতেই মন কেড়ে নেবে যেকোনো ভ্রমণপিয়াসী মানুষের। এখানে পর্যটকরা প্রতিনিয়ত ভিড় জমান মেঘ-পাহাড়ের রহস্যময় খেলায় মেতে উঠতে। আর ঈদের ছুটি হওয়ায় পর্যটকদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে আকর্ষণীয় এ পর্যটনকেন্দ্র।

স্থানীয় ও পর্যটকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদের পরদিন থেকে সাজেকে আসা শুরু করেছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। ঈদের চতুর্থ দিন শনিবারও (৮ জুন) সাজেকে ঢল নেমেছে পর্যটকদের।

সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চান্দের গাড়ি ও ব্যক্তিগত গাড়িতে সওয়ার হয়ে পর্যটকরা এসেছেন এখানে। বেড়াতে আসা পর্যকটরা সাজেকের অপরূপ প্রকৃতি দেখে নিজেদের মুগ্ধতার কথা জানান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের প্রফেসর মো. ইউসুফ সপরিবারে সাজেক এসেছেন। কংলাক পাড়ার পাহাড় থেকে সবাইকে নিয়ে প্রকৃতি উপভোগের সময় কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, আমি মনে করি বাংলাদেশে যেসব দর্শনীয় স্থান রয়েছে সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হলো সাজেক। এত আঁকাবাঁকা পথ আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যে কারোর মন কেড়ে নিতে বাধ্য।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/08/1560008140256.jpg
ঈদের ছুটিতে বন্ধুদের নিয়ে সাজেক এসেছেন ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী খালিদ হাসান মুন্না। তিনি বলেন, ১২ বন্ধু মিলে ছুটিটা উপভোগ করতে চলে এসেছি। অনেক দিন ধরেই আসবো আসবো করে আসা হচ্ছিলো না। সাজেকের সৌন্দর্য এতদিন শুধু ছবিতেই দেখেছি। এবার নিজের চোখে দেখতে চলে এলাম।

সাজেকের প্রেমে পড়ে এ নিয়ে সাতবার এখানে এসেছেন প্রকৃতিপ্রেমী মমিনুর রহমান প্লাবন। তিনি বলেন, সাজেকের অপরূপ সৌন্দর্যই আমাকে বারবার টেনে আনে এখানে। সাজেক ক্ষণে ক্ষণে তার রূপ বদলায়। সকালে একরকম, বিকেলে অন্যরকম আবার রাতের সৌন্দর্য আরেকরকম। সাজেকের ঈর্ষণীয় রূপ আমাকে মুগ্ধ করে। তাই সুযোগ পেলেই ছুটে আসি নয়নাভিরাম সাজেকে।

এক বছর আগে সাজেক ঘুরে গিয়েছিলেন ময়মনসিংহের সানোয়ার হোসেন। এবার সঙ্গে এনেছেন স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের। তিনি বলেন, সাজেক এতই সুন্দর যে, আমি একবার এসে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ফের মনোমুগ্ধকর সাজেকের সৌন্দর্য উপযোগ করবো।

এদিকে ঈদ উপলক্ষে অসংখ্য পর্যটক সাজেকে আসায় ঠাঁই মিলছে না স্থানীয় রুইলুই পাড়ায় গড়ে ওঠা বিভিন্ন অবকাশ কেন্দ্রে।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/08/1560008196482.jpg
সাজেকের হিলভিউ রিসোর্টের মালিক ইন্দ্রজিৎ চাকমা বার্তা২৪.কমকে বলেন, পুরো রিসোর্ট এক মাস আগ থেকেই বুকিং। নতুন করে যেসব পর্যটক আসছেন তাদের রুম দিতে পারছি না। যারা আসছেন তাদের ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে।

রুইলুই মৌজার হেডম্যান লাল থাংগা লুসাই জানান, সাজেকের প্রতিটি জায়গায় পর্যটকে ঠাসা। গত দুই দিনে কমপক্ষে সাত হাজার পর্যটক এসেছেন সাজেকে। রিসোর্টে জায়গা না পেয়ে অনেককে স্থান দিতে হয়েছে বিভিন্ন বাসায়। আমার বাসাতেও একটা দলকে জায়গা দিতে হয়েছে। ঈদের কারণেই এমন বিপুল লোকসমাগম।

জাহাঙ্গীর আলম নামে চান্দের গাড়ির চালক জানান, সাধারণত শুক্র ও শনিবার প্রচুর পর্যটক আসে এখানে। এসব দিনে ৪০-৫০টি গাড়ি ঢোকে সাজেকে। কিন্তু এখন ঈদের সময় হওয়ায় দুই দিনে কমপক্ষে ৫০০ গাড়ি প্রবেশ করেছে সাজেকে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র