Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

English

হাওরের হাতছানি-১

হাওর ও গ্রামপর্যটন বিস্তারে জালালপুর ইকো রিসোর্ট

হাওর ও গ্রামপর্যটন বিস্তারে জালালপুর ইকো রিসোর্ট
রিসোর্টের মূল ভবন
মাহমুদ হাফিজ
কন্ট্রিবিউটিং এডিটর


  • Font increase
  • Font Decrease

‘তুমি যাবে ভাই যাবে মোর সাথে আমাদের ছোট গাঁয়
গাছের ছায়ায় লতায় পাতায় উদাসী বনের বায়’

পল্লীকবি জসীমউদ্দীন ‘নিমন্ত্রণ’ কবিতার মাধ্যমে শহুরে বন্ধুকে গ্রামে আসার আহবান জানিয়েছিলেন। যন্ত্রনির্ভর এযুগে গ্রামজীবনের অভিজ্ঞতা নেওয়ার হাতছানি দিচ্ছেন কিশোরগঞ্জনিবাসী এক ভ্রমণপ্রিয় উদ্যোক্তা, নাম তার কিমওয়া সাদ্দাত। নিজে ব্যাংকিং পেশাদার এবং শহুরে হলেও পৈত্রিকবাস ও গ্রামজীবনকে ভোলেননি। শহরের পর্যটনপ্রিয় মানুষকে গ্রাম দেখাতে পিতৃভিটায় গড়ে তুলেছেন জালালপুর ইকো রিসোর্ট। রিসোর্টকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জ জেলার হাওর ও গ্রামপর্যটন বিকশিত হচ্ছে। সম্প্রতি এ প্রতিবেদক কিশোরগঞ্জের নিকলি হাওর, বাংলার মসনদে আলা ঈসা খাঁর দুর্গ জঙ্গলবাড়িসহ জেলাশহরের পর্যটন স্পটগুলো সরজমিন ঘুরতে গিয়ে চমৎকার এই রিসোর্টের সন্ধান পান। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঢাকাসহ নানা জেলার ভ্রামণিকরা গ্রাম পর্যটনে উৎসাহিত হয়ে এখানে যেমন আসছেন, স্থানীয়রাও তেমনি দিন দিন ভ্রমণের গুরুত্ব বুঝতে পারছেন।

ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী একশো কিলোমটার। খিলক্ষেত থেকে তিন থেকে সাড়ে তিনঘণ্টায় কটিয়াদী পৌঁছানো যায়। উপজেলা থেকে জালালপুর ইউনিয়ন সদর সাড়ে তিন কিলোমিটার। ইউনিয়ন পরিষদ ও হাইস্কুলের পাশেই ইকো রিসোর্ট। বিস্তীর্ণ মাঠ, প্রবহমান নদী আর সবুজসুন্দর গ্রামের মধ্যে শহুরে আধুনিক স্থাপত্য আর সুবিধাদিতে নির্মিত রিসোর্ট যেন দৃষ্টিনন্দন গ্রামের মুকুটে একখণ্ড খচিত মুক্তা। গ্রাম্য রাস্তাটি খুব ভালো না হলেও ইজিবাইক কিংবা গাড়িতে পৌঁছানো যায়। জালালপুর সড়কটিতে মেরামতের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/08/1562590942711.jpg
সবুজঘেরা সুইমিং পুল

 

রিসোর্টের মূল ভবন, কটেজ, মাড হাউজ বা তাবুতে থাকা, তিনবেলা খাওয়াসহ ইজিবাইকে গ্রামপর্যটনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। শহুরে মানুষকে শহুরে আয়েশের সঙ্গে গ্রামীণজীবনের মিশেলে এক ফিউশান ট্যুরিজমের উদ্যোগ অনুভব করা যায় এখানে এলে। গ্রাম্য পুকুরে মাছ ধরা, লাঙল চালানো, গ্রামে হাঁটাহাঁটির গাইডেড ট্যুরসহ গ্রামীণ সমাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার নানা রকম ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

শনিবার দুপুরে রিসোর্টটির কাছে পৌঁছতেই গেটমুখে নজর কাড়ে কাঠের ওপর খোদাই করে বানানো রিসোর্টের সাইনবোর্ড। তখনও এর আসল রূপটি ধরতে পারিনি। গ্রামে বেড়াতে এলে যেরকম গ্রাম্য জীবনের হাতছানি থাকে, প্রথমে সেটাই মনে করেছিলাম। ভেতরে গাড়ি ঢোকার পর সবুজ চত্বর পেরিয়ে মূল ভবনে ঢুকতেই কর্মীরা নিয়ে আসে ওয়েলকাম ড্রিংকস। গ্রামের নারকেল গাছের কচিডাবের রস লোগোওলা গ্লাসে পরিবেশন করা হয়েছে। কৃত্রিম পানীয়ের বদলে প্রাকৃতিক গ্লাসভর্তি ডাবের রসে তৃপ্ত হয়ে ক্রমশ বুঝতে শুরু করি রিসোর্টের নামে ‘ইকো’ শব্দ যোগ করার মাহাত্ম্য। আসল চমক অপেক্ষা করছিল মধ্যাহ্ন আহারে। গ্রুপ ট্রিপটির আয়োজন করেছিলেন ট্যুর কোম্পানি হলিডেয়ার-এর স্বত্বাধিকারী ডালিয়া হোসেন। আগে থেকেই রিসোর্ট সম্পর্কে তিনি সম্যক জানেন। বললেন, ‘পিকচার আভি ভি বাকি হ্যায়’।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/08/1562590994641.jpg
ভর্তা পঞ্চদশ

 

ইকো রিসোর্টের আসল রূপটি ধরা পড়তে থাকে মধ্যাহ্ন আহারের সময়। গ্রামীণ সবুজ আর বিস্তীর্ণ মাঠের কোলঘেঁষে নির্মিত সুইমিং পুলে গোসল শেষ করলেই ডাক পড়ে মধ্যাহ্ন আহারের। মূল ভবনের নিচতলায় ‘জালালপুর কিচেনে’ ঢুকে চোখ ছানাবড়া হয়ে যায় পর্যটকদলের। গোলাকৃতি তিনটি পাত্রের পনেরটি খোপে পনের রকমের ভর্তা। কয়েক রকমের আঁচার, ফ্রুট সালাদ আলাদা আলাদা পাত্রে। ভর্তা তালিকায় লইট্টা, তেলাপিয়া, ঢেড়শ, ঝিঙা, ডাল, ধনেপাতা, ডিম, পেঁপে, কাঁচকলা, বেগুন, আলু, টেপা শুটকি, টমেটো ইত্যাদি। চিনিগুঁড়া চালের ভাতের সঙ্গে আরো রয়েছে রুইমাছের ভুনা, দেশি মুরগির ঝোল আর পাতলা ডাল। প্লেটে সাদাভাতের চারপাশে চা চামচের এক চামচ করে ভর্তা নিয়ে যে দৃশ্য তৈরি হলো, তা খাওয়ার আগে দেখাও একটা কাজ হয়ে দাঁড়াল। মুখে দেওয়ার পর বোঝা গেল অমৃতের স্বাদ। যারা পাতে একবার ভাত নিয়ে কিছুটা রেখে দেয়, তারাও আজ দু তিনবার করে ভাত তরকারি নিয়ে উদরপূর্তি করল। রিসোর্টকর্মীরা জানাল, গ্রামীণ মাটির চুলায়, গ্রাম্য লাকড়িতে এই রান্না হয় বলে এর স্বাদ শহুরে খাবারের চেয়ে আলাদা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/08/1562591034253.jpg
ভাত খাব না ভর্তা?

 

উদরপূর্তি করে বিশ্রাম নিতে কক্ষ খুলতে গিয়ে দেখি, যে চাবি দিয়ে রুমের তালা খুলছি, তার সঙ্গে লাগানো কাঠের টুকরোয় খোদাই করে রিসোর্টের লোগো বসানো। ইতোমধ্যে আমাদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল টুথব্রাশ, পেস্ট, শ্যাম্পু, মিনিসোপ দিয়ে সাজানো বাঁশের তৈরি গোলাকার ডালা। সবকিছুতে জালালপুর ইকো রিসোর্ট লেখা লোগো। যে লোগোতে, গ্রামীণ ঘরকে ঘিরে আছে এক নারেকলবীথি আর লতাগুল্মের সবুজ দুটি পাতা, যার ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে উদীয়মান সূর্য-আবহমান গ্রামবাংলার এক চিরচেনা রূপ।

আপনার মতামত লিখুন :

শালবনের সৌন্দর্যে মেতেছেন দর্শনার্থীরা

শালবনের সৌন্দর্যে মেতেছেন দর্শনার্থীরা
হাতীবান্ধার নওদাবাস এলাকায় শালবনের অপরূপ সৌন্দর্যে মেতেছেন দর্শনার্থীরা

লালমনিরহাট শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে হাতীবান্ধা উপজেলার নওদাবাস এলাকায় শালবনের অপরূপ সৌন্দর্যে মেতেছেন দর্শনার্থীরা। ঈদ উপলক্ষে আশপাশের জেলা-উপজেলা থেকে প্রতিদিন হাজারেরও বেশি দর্শনার্থীর ভিড় জমছে সেখানে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা বিশাল আয়তনের শালবনের নিরিবিলি পরিবেশ মনোমুগ্ধ করছে পর্যটকদের।

ঈদের ছুটিতে প্রকৃতিপ্রেমী ও বিনোদনপ্রেমীদের মিলনমেলায় পরিণত হয় এ শালবন। নানা প্রজাতির পাখির কলকাকলিতে মুখরিত থাকে শালবনটি। বনের বড় বড় গাছের নিচে আলাদা করে লাগানো বেতগাছ সৌন্দর্যে যুক্ত করেছে ভিন্নমাত্রা। বেতগাছে অনেক কাঁটা থাকায় দর্শনার্থীদের চলতে হবে দেখে-শুনে। শালবনে ঘুরতে বা প্রবেশ করতে কোন টিকিটের প্রয়োজন হয় না।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/16/1565958178016.jpg
শালবনে আগতরা বলছেন, নানারকম সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো গেলে এখানে দর্শনার্থীর সংখ্যা যেমন বৃদ্ধি পাবে সেই সাথে কর্মসংস্থান হবে স্থানীয়দের। বিশাল এই শালবনে নিরপত্তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয় কলেজছাত্র কাহার বকুল বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ঈদকে ঘিরে বিভিন্ন বয়সী মানুষের সমাগমে ভরে ওঠে শালবন। বন্যপ্রাণীর অভয়াশ্রম ঘোষণা করে এ শালবনকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলে বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার জোর দাবি জানাই।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/16/1565958202314.jpg
নওদাবাস ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান অশ্বিনী কুমার বসুনিয়া বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান, পর্যাপ্ত বনরক্ষী না থাকায় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। প্রায় একর আয়তনের এ শালবন রক্ষায় বনবিভাগের এই বিটে জনবল সংকট রয়েছে। সরকার ইচ্ছে করলে অনেক বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে। সেই সাথে পর্যটনসেবা বঞ্চিত বিনোদনপ্রিয় জেলাবাসীর চিত্তবিনোদনের স্পট হতে পারে এই শালবন।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/16/1565958245666.jpg
যেভাবে যাবেন:
লালমনিরহাট শহর থেকে সড়ক ও রেলপথে হাতীবান্ধায় নেমে রিকশা ও ভ্যানযোগে মাত্র ৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিলেই শালবনে। বনে ঘুরে ক্লান্ত হলে বিশ্রামের জন্য বসার ব্যবস্থা রয়েছে। খাবারের জন্য রয়েছে ছোট ছোট কয়েকটি দোকান।

‘আইকন’ বিড়ম্বনায় বাংলাদেশের ট্যুরিজম

‘আইকন’ বিড়ম্বনায় বাংলাদেশের ট্যুরিজম
বাংলাদেশের পর্যটনের আইকন হতে পারে যেসব দর্শনীয় স্থান ও স্থাপনা | ছবি: সংগৃহীত

পেট্রোনাস টুইন টাওয়ারের সামনে দাঁড়িয়ে সেল্ফি তুলে ক্যাপশন দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। তেমনি আইফেল টাওয়ার, দিল্লি গেট, তাজমহল কিংবা স্ট্যাচু অব লিবার্টির সঙ্গে তোলা ছবি পোস্ট করার সময় ক্যাপশন দেওয়া লোকের সংখ্যা যৎসামান্যই।

এসব স্থাপনা দেশগুলোর প্রতীকে পরিণত হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এসব স্থাপত্য নিয়ে পোস্ট দেওয়া কিংবা এসব স্থাপনা দর্শনের স্মৃতি সংরক্ষণ করে রাখতে দেশের নাম লেখার প্রয়োজন পড়ে না। কুয়ালালামপুর গেছেন টুইন টাওয়ার দেখতে যাননি, প্যারিস গিয়ে আইফেল টাওয়ার পরিদর্শন করেননি—এমন লোকের সংখ্যা খুঁজে পাওয়া কঠিন। আর যদি পাওয়াও যায় তবে নিশ্চিতভাবে তিনি অভাগা!

‘আইকন’ স্থাপনা একটি দেশকে তার পর্যটন খাতে বাড়তি সুবিধা দেয়। দেখা যাবে এক শ্রেণির পর্যটক আছেন যারা কাড়ি কাড়ি অর্থ খরচ করে আইকন স্থাপনা দেখতে ছুটে যান। শুধু গিয়েই ক্ষ্যান্ত হন তা নয়। সেখানে গিয়ে সেল্ফি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে জানাচ্ছেন। সেই সব পোস্টে হামলে পড়ছেন তাদের বন্ধুবান্ধব ও ফলোয়াররা। এভাবেই দিনে দিনে বিশ্বজুড়ে একেকটি দেশকে ব্র্যান্ডিং করছে তাদের আইকন স্থাপনা।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/06/1565077889992.jpg
সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে চীনের প্রাচীরে গেছেন কিন্তু ছবি পোস্ট করেননি এমন পর্যটক খুঁজে মেলা ভার। কিন্তু অপার সম্ভাবনার বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে যোজন যোজন দূরত্বে অবস্থান করছে।

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের মালিক বাংলাদেশ। যেখানে রয়েছে পাহাড় ও জলরাশির মেলবন্ধন, প্রশস্ত সৈকতের সাদা বালুতে আছড়ে পড়ে উত্তাল জলরাশি। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ ফরেস্টও বাংলাদেশে। তার অপার সৌন্দর্যের কথাও বলে শেষ করা যাবে না—রয়েল বেঙ্গল টাইগারের চারণভূমি, বিপুল জীববৈচিত্র্যের আধার অপরূপ সুন্দরবন।

আবার সারা বিশ্বকে যে মানুষটি তাক লাগিয়ে দিয়েছেন নিজের নেতৃত্ব গুণে, ভালোবেসে যাকে বাংলার রাখাল রাজাসহ নানান নামে অভিহিত করা হয়। যিনি তাবত বিশ্বের রাজনীতিবিদের কাছে ছিলেন বিস্ময়, সেই বাঙালি জাতির জনক শায়িত আছেন টুঙ্গিপাড়ায়। রাশিয়া লেনিনের সমাধি, চীন মাও সেতুং-এর সমাধিকে তুলে ধরেছে বিশ্বের কাছে। বাংলাদেশও পারে বঙ্গবন্ধুর সমাধিকে সামনে তুলে আনতে। কারণ, বঙ্গবন্ধুর প্রতি রয়েছে গোটা বিশ্ববাসীর আগ্রহ।

যদি স্থাপত্যকলার প্রসঙ্গে আসা যায় তবে সেখানেও ঐতিহ্যের অভাব কী? স্থাপত্যবিদদের কাছে গবেষণার বিষয় বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ। সাভারে অবস্থিত জাতীয় স্মৃতিসৌধ, মোঘল আমলের স্থাপনা লালবাগ কেল্লা, পঞ্চদশ শতাব্দীতে স্থাপিত ষাট গম্বুজ মসজিদ স্বমহিমায় ভাস্মর। এমন আরও শত শত স্থাপনা ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সারাদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/06/1565077908103.jpg
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—আমরা কি কোনটাকেই বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে পেরেছি? উত্তর আসবে নাবোধক। ফ্রান্স শুধু আইফেল টাওয়ারকেই ব্র্যাডিং করছে। কিংবা আমেরিকা স্ট্যাচু অব লিবার্টিকেই তুলে ধরছে তাদের আইকন স্থাপনা হিসেবে। কিন্তু বাংলাদেশ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনের দ্বারপ্রান্তে এসেও তার আইকন চিহ্নিত করতে পারেনি। কেউ সুন্দরবন, কেউ রয়েল বেঙ্গল টাইগার, কেউ সংসদ ভবন, কেউ লালবাগ কেল্লা, কেউ জাতীয় স্মৃতিসৌধ আবার কেউ কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে ব্র্যান্ডিং করতে চাচ্ছেন।

মিশ্র প্রচারণার ফলও হচ্ছে মিশ্র। এককভাবে কোনটাই দেশের আইকন হিসেবে খ্যাতি পাচ্ছে না। বিদেশিরা বাংলাদেশ ভ্রমণের সময় প্রায়শই এমন আইকনের বিষয়ে জানতে চান। তখন গাইডরাও পড়েন বিপাকে। একেক গাইড তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থেকে একেকটি নাম বলছেন। এতে বিভ্রান্ত হচ্ছেন পর্যটকরা।

এটাকে পর্যটনের জন্য অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করছেন ট্যুর অপরেটররা। ট্যুর অপরেটরদের সংগঠন টোয়াব’র ডিরেক্টর ও পাটা (প্যাসিফিক এশিয়া ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশন) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সেক্রেটারি জেনারেল তৌফিক রহমান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, বাংলাদেশের একটি আইকন থাকা উচিত। আমরা বহুদিন ধরে এটা বলে আসছি।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/06/1565077930428.jpg
তিনি বলেন, আইকন থাকলে বিদেশে গিয়ে কিংবা বিদেশিরা বাংলাদেশ এলে দেশকে প্রমোট করতে সুবিধা হয়। যেমন ধরেন যদি সংসদকে আইকন হিসেবে ধরে নেই তখন সংসদের রেপ্লিকা থাকবে, চাবির রিং, স্যুভেনির নিয়ে যাব ট্যুরিজম মার্কেটিং করতে।

অনেকের অনেক রকম নেশা থাকে। অনেকে পর্যটন আইকন দেখার জন্য সারা দুনিয়া ছুটে বেড়ান। আইকন থাকলে দেশকে পরিচিত করার ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা হয়, যোগ করেন তৌফিক রহমান।

ভারতের আইকন তাজমহলে প্রতি বছরে প্রায় ১০ লাখের মতো বিদেশি পর্যটক ভ্রমণ করেন। আর স্বাভাবিকভাবে তাজমহল ঘুরতে এসে অন্যান্য দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখছেন তারা। একইসঙ্গে টুকিটাকি মার্কেটিং করে ডলার রেখে যাচ্ছেন ভারতে।

ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিদিন প্রায় ৪০ হাজার পর্যটক তাজমহল দেখতে আসেন। ছুটির দিনগুলোয় এই সংখ্যা দাঁড়ায় ৭০ হাজার পর্যন্ত। এরমধ্যে ১০ শতাংশই বিদেশি পর্যটক। ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর মাসের মধ্যে ৯৩ লাখ ৪২৪ জন বিদেশি পর্যটক ভারত ভ্রমণ করেছেন। যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ তাজমহল ভ্রমণ করেছেন।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/06/1565077975284.jpg
ভুটান ‘হ্যাপিনেস ইজ এ প্লেস’, মালয়েশিয়া ‘ট্রুলি এশিয়া’, ভারত ‘ইনক্রিডেবল ইন্ডিয়া’, থাইল্যান্ড ‘অ্যামেজিং থাইল্যান্ড’, নেপাল ‘ভিজিট নেপাল লাইফটাইম এক্সপেরিয়েন্স’, ইন্দোনেশিয়া ‘ওয়ান্ডার ফুল ইন্দোনেশিয়া’, ফিলিপাইন ‘ইটস মোর ফান ইন ফিলিপাইন’, অস্ট্রেলিয়া ‘দেয়ার নাথিং লাইক অস্ট্রেলিয়া’, নিউজিল্যান্ড ‘হান্ড্রেড পার্সেন্ট পিওর নিউজিল্যান্ড’, তুরস্ক ‘বি আওয়ার গেস্ট তুরস্ক’, শ্রীলংকা ‘ওয়ান্ডার অব এশিয়া’, সুইজারল্যান্ড ‘গেট ন্যাচারাল’ স্লোগানে নিজ দেশকে ব্র্যান্ডিং করছে।

রাষ্ট্রীয়ভাবেই তারা স্লোগানগুলোকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টায় লিপ্ত। এখানেও ধরাশায়ী ‘বিউটিফুল বাংলাদেশ’। এক পর্যটন মন্ত্রণালয় মিন মিন করে আওয়াজ দিয়ে যাচ্ছে, যে আওয়াজ দেশের ভেতরেই বাতাসে মিলিয়ে যাচ্ছে। সীমান্তের ওপারে ধ্বনিত হতে পারছে না। ‘বিউটিফুল বাংলাদেশ’ রাষ্ট্রীয়ভাবে তুলে ধরতে অনেকাংশেই ব্যর্থ বাংলাদেশের পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।

এখানে সমন্বিত স্লোগান নেই, একেক মন্ত্রণালয় একেক স্লোগান নিয়ে বিশ্ব দরবারে পরিচিত করতে চাইছে। পর্যটন মন্ত্রণালয় যখন বিউটিফুল বাংলাদেশ স্লোগান দিচ্ছে তখন হয়তো বিদ্যুৎ বিভাগ আলোকিত বাংলাদেশ স্লোগান তুলে ধরছে পোস্টার, লিফলেট ও হ্যান্ডবিলে।

অনেকে মনে করেন পর্যেটন ইকোনমি এখন জ্যামিতিক হারে প্রসারিত হচ্ছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ট্যুরিস্ট বেড়েছে ধারণাতীতভাবে। তবে সেই তুলনায় বিদেশি ট্যুরিস্ট টানতে ব্যর্থ হচ্ছে বারবার। ইউরোপের অনেক ট্যুরিস্ট বাংলাদেশের ওপর দিয়ে থাইল্যান্ড-নেপাল ঘোরাঘুরি করছেন কিন্তু বাংলাদেশে পা ফেলছেন না।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/06/1565078008165.jpg
এক এভারেস্টকে কেন্দ্র করে নেপাল জিডিপির ৪০ শতাংশ আয় করছে পর্যটন খাত থেকে। কয়েকটি ছোটো ছোটো সমুদ্র সৈকত দিয়ে তাবত দুনিয়ার পর্টযককে টেনে নিচ্ছে থাইল্যান্ড। সেখানে বিশাল সম্ভাবনার বাংলাদেশ মেঘ-পাহাড়ে মিতালি, পাহাড়-সমুদ্রের মেলবন্ধন, বিস্তৃর্ণ এলাকাজুড়ে সবুজ সমারোহ, সেন্টমার্টিন-সন্দ্বীপের মতো বিস্ময়কর দ্বীপ, বিশ্বখ্যাত ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন নিয়েও পর্যটন খাতে সাড়া জাগাতে পারছে না।

বাংলাদেশে কতজন বিদেশি পর্যটক আসছেন তার হিসেবে নেই কারও কাছে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, এমনকি ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেও কোনো সঠিক উত্তর মেলেনি। ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে তারা ইমিগ্রেশনে অনুরোধ করেছিলেন, এমনকি বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় তোলা হয়েছিল। মন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিলেও আটকে গেছে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায়। ইমিগ্রেশন সিক্রেসির ছুতো দিয়ে পর্যটকদের তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে।

আইকন প্রশ্নে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের (বিটিবি) সিইও ড. ভুবন চন্দ্র বিশ্বাস বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, আমরাও মনে করি আইকন থাকা উচিত। আমরা এটা নিয়ে কাজ শুরু করেছি। আমরা একটি মাস্টারপ্ল্যান করছি সেখানে বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধকে আইকন করার বিষয় বিবেচনায় রয়েছে। যেভাবে দিল্লি গেটে শিখা অনির্বাণ রয়েছে তেমনি এখানেও থাকবে।

বাণিজ্যিকভাবে নয়, মর্যাদার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই বলে মন্তব্য করেন বিটিবি’র সিইও।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র