Barta24

মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

রুটি বিক্রিই মতিয়ারের রুজি

রুটি বিক্রিই মতিয়ারের রুজি
মতিয়ারের রুটি বিক্রির দোকান, ছবি: বার্তা২৪
তোফায়েল হোসেন জাকির
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
গাইবান্ধা
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

মতিয়ার রহমান বয়স ৪০। তার একমাত্র আয় রুটি বিক্রি। ক্ষুদ্র এই ব্যবসা করেই সংসার চালান তিনি। মতিয়ার রহমান সদর উপজেলার দক্ষিণ ফলিয়া গ্রামের মৃত সফিয়ার রহমানের ছেলে।

মতিয়ার রহমানের পৈত্রিক সূত্রে বসতভিটা ছাড়া অন্য কোনো সম্পদ নেই। বিয়েও করেছেন বটে। দাম্পত্য জীবনে দুই সন্তানের জনক। স্ত্রীসহ চার সদস্যের পরিবার তার। এক সময়ে অন্যের বাড়িতে কাজ করে কোনো রকমে দিনযাপন করতেন। সারাদিন হাড়ভাঙা শ্রমের বিনিময়ে যা পেতেন তা দিয়ে সংসার চলতো না।

গ্রামের বাড়ি থেকে গাইবান্ধা শহর কাছাকাছি। এ সুবাদে প্রয়োজনীয় খরচাদি করতেন শহরের পুরাতন বাজারে। এ বাজারে শ্রমজীবী মানুষের সমাগম বেশি। শ্রমজীবী মানুষের আনাগোনা বেশি হওয়ায় ব্যাকারির তৈরি খাবার ছিল এখানে বেশ জনপ্রিয়।

শ্রমজীবী মানুষের কথা চিন্তা করে মতিয়ার রহমান সিদ্ধান্ত নেন রুটি বিক্রির। এনজিও থেকে ৫ হাজার টাকা লোণ নিয়ে শুরু করেন ব্যবসা। দৃঢ় মনোবল নিয়ে রুটি বিক্রির সরাঞ্জাম কেনেন। ওই পুরাতন বাজারের মসজিদের দক্ষিণ পাশে ছোট একটি ঘর ভাড়া নিয়ে শুরু করেন রুটির ব্যবসা। দীর্ঘদিনের এ ব্যবসায় সম্প্রতি মতিয়ার রহমানের ফিরে এসেছে সোনালি দিন। তার সংসারে এসেছে সচ্ছলতা।

মতিয়ার রহমান জানান, গমের আটা দিয়ে তাওয়াতে সেঁকে এ রুটি বানানো হয়। বাহারি ভর্তা, সবজিসহ গুড় দিয়ে রুটি বিক্রি করা হয়। এসব রুটি খেতে অনেকে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। দিন দিন সকল পেশা-শ্রেণির মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে গমের রুটি। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে রুটি বিক্রি। প্রতিদিন ২৫/৩০ কেজি আটার রুটি বিক্রি হয়। বিক্রিত অর্থ থেকে দুইজন কর্মচারীকে দৈনিক ৪০০ টাকা বেতন দিয়েও প্রায় ৫/৬শ টাকা আয় করেন।

সম্প্রতি মতিয়ার রহমানের রুটি বিক্রির ব্যবসা অনুকরণ করে গাইবান্ধার পুরাতন বাজারে আরও ৬/৭জন এ ব্যবসা শুরু করেছেন। বর্তমানে পুরাতন বাজারকে অনেকে রুটি পট্টি হিসেবে চেনেন ও জানেন।

রুটি ক্রেতা মাসুদ রহমান নিফা বলেন, ‘পুরাতন বাজারের রুটি এখন সবার কাছে জনপ্রিয় খাদ্য হিসেবে পরিচিত।'

 

আপনার মতামত লিখুন :

তিতাসের এমডিসহ ৩ জনকে হাইকোর্টে তলব

তিতাসের এমডিসহ ৩ জনকে হাইকোর্টে তলব
হাইকোর্ট

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), মহাব্যবস্থাপক (জিএম), উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) এই তিনজনকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ২ জলুাই তাদের শরীরে হাজির হতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) বিচারপতি এস আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তা নিয়োগে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাস্তবায়ন না করায় একটি সম্পূরক আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট এ তলবের আদেশ দিয়েছেন।

এর আগে হাইকোর্ট তিতাসের কর্মচারী নিয়োগে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাস্তায়নের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তা অনুসরণ না করায় আদালত সম্পূরক আবেদন করেন। আদালতের আবেদনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যার্টনি জেনারেল এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

২০১৭ সালের ১৮ ডিসেম্বর তিতাসে ৭৯ জন কর্মকর্তা নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করে কর্তৃপক্ষ। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটায় নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিলেও চূড়ান্ত ফলে তাদের বাদ দেওয়া হয়। কোটা অনুসরণ করে নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে মো. রেজাউল করিমসহ ৮ জন ২০১৮ সালের ২০ নভেম্বর রিট দায়ের করেন।

রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ৩০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এর মধ্যে ৬৩ জনকে নিয়োগ দেয় তিতাস। গত ২ এপ্রিল আরো ১৭ জনকে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলে ক্ষুব্ধ রিট আবেদকারীরা হাইকোর্টে একটি সম্পূরক আবেদন করেন।

এই আবেদনের শুনানি করে হাইকোর্ট তিতাসের এমডিসহ ৩ জনকে তলবের আদেশ দেন।

আদালতে তিতাসের আইনজীবী জানান, ৩০ শতাংশ  কোটা সংরক্ষণ করেছে কর্তৃপক্ষ। রিটের আইনজীবীরা তার এই বক্তব্যে আপত্তি জানান। 

নারীশ্রমে বাঁচলো মৃতপ্রায় নদী!

নারীশ্রমে বাঁচলো মৃতপ্রায় নদী!
নারীশ্রমে প্রাণ পেলো মৃত নদী, ছবি: সংগৃহীত

ভারতে সম্ভাব্য পানি সংকটের পদধ্বনিতে আশাবাদী দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন দেশটির নারীশক্তি। মৃতপ্রায় নদী বাঁচাতে ২০০০০ মহিলা নিরলস প্রচেষ্টা চালালেন দীর্ঘ চার বছর। নারীশ্রমে নবপ্রাণ পেয়ে বাঁচলো নদী।

চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবার জন্য  দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের যে ভেলোর পরিচিত, সেখানে নাগানধি নদী পেলে নতুন জীবন। বহু মানুষও বেঁচে গেলেন তীব্র পানিকষ্ট থেকে।

তামিলনাড়ুর যে ২৪টি জেলা খরাপ্রবণ, তার মধ্যে অন্যতম ভেলোর। এই ভেলোরের মানুষদের কাছে বেঁচে থাকার, জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় পানির উৎস ছিল একমাত্র এই নাগানধি।

কিন্তু ১৫ বছর আগে এই নদীটি শুকিয়ে মৃতপ্রায় হয়ে যায়। নারীশ্রম মৃত নদীকে নবজন্ম দিয়েছে। ফলে মানুষ, প্রকৃতি ও কৃষি সম্ভাব্য ক্ষয় থেকে রক্ষা পেয়েছে।

দক্ষিণ ভারত থেকে শত মাইল দূরে ভারতের উত্তর দিকেও একই ছবি দেখা গেছে। উত্তরাখণ্ডের পউরি গাড়ওয়ালের প্রায় ১০০ জন গ্রামবাসী ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের সঙ্গে নিয়ে নানা মাপের রিজ়ার্ভার তৈরি করছেন। পানির স্বল্পতার কবল থেকে বাঁচতে স্বেচ্ছা শ্রম ও স্বেচ্ছা প্রণোদনায় এগিয়ে এসেছেন মানুষ। যে মানুষের মধ্যে অগ্রণী ও সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেন গ্রামের নারীরা।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বৈজ্ঞানিক গবেষণালব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে বার বার জানাচ্ছে যে, ২০৩০ সাল নাগাদ ভারতের বড় বড় অনেক শহরই চরম পানি সংকটের মুখোমুখি হবে। এরই মাঝে চেন্নাই প্রভৃতি শহরে পানি স্বল্পতা ও সংকটের আঁচ পড়েছে।

আরও পড়ুন: চেন্নাইয়ে পানির তীব্র সংকট

ভারতের প্রত্যন্ত গ্রামেও যে পানির ভয়াবহ সংকট হাতছানি দিচ্ছে, তা সারা বিশ্বের সামনে স্পষ্টভাবে চিত্রিত হয় নদী উদ্ধারের এই ঘটনাগুলো থেকেই। ভেলোরের ক্ষেত্রে ২০ হাজার মহিলার ৪ বছরের প্রচেষ্টায় ১৫ বছর আগে শুকিয়ে যাওয়া নাগানধি নদীকে আবারও স্রোতস্বিনী করা প্রচেষ্টার পাশাপাশি বহু গ্রামে পানির জন্য রিজার্ভার, কুয়া, জলাধার তৈরি করছে মানুষ, যাতে প্রচুর নুড়ি পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে। 

‘নাগানধি বাঁচাও’ প্রকল্পের ডিরেক্টর চন্দ্রশেখরণ কুপ্পান বলছেন, 'কোনও নদীকে পুনরায় বাঁচিয়ে তোলার জন্য শুধু তার বহমানতার দিকে নজর দিতে হয়, তা নয়।  নদীর গভীরতাও যাতে ঠিক থাকে সেদিকেও নজর দিতে হয়।  এক্ষেত্রে বৃষ্টির পানিও যাতে মাটি শুষে নিয়ে জমিয়ে রাখে সেটাও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।  তাই বৃষ্টি হলে সেটা এজাতীয় নদীর ক্ষেত্রে খুব কাজে দেয়। '

উল্লেখ্য, নদীটি মৃতপ্রায় হলে ভেলোরের অর্ধেকের বেশি কৃষক পানির অভাবে গ্রাম ছেড়ে অন্য জায়গায় চলে যেতে থাকেন। কারণ তারা চাষের জন্য পানি পাননি দীর্ঘদিন। নদী নতুন জীবন পাওয়ায় বেঁচেছে জনপদ, কৃষি ও কৃষক।

ভেলোরের আগে দক্ষিণ ভারতের আরেক জায়গায় একই সংকট ঘণীভূত হয়েছিল। কর্ণাটকের বেদবতী এবং কুমুদবতী নামে দুটি নদীও সংস্কারের অভাবে মৃত্যু মুখে পতিত হয়। দুটি নদীকেই স্বেচ্ছাশ্রমে পুনরায় নাব্যতা দিয়েছিলেন স্থানীয় মানুষ, যাদের সিংহভাগ ছিলেন গ্রামীণ নারী।

পানি সংকটের সম্ভাব্য বিপদ থেকে বাঁচতে ভারতীয় গ্রামের নারীরা অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছেন। তারা গ্রামে গ্রামে রিজার্ভার বা কুয়া বানাচ্ছেন। দক্ষিণ ভারতের কান্যায়মবাদি ব্লকের সালামানাথাম গ্রামের একজন নারী একাই প্রায় ৩৬ টা কুয়া খুঁড়েছেন।   

উত্তর ভারতেও এমন ঘটনা ঘটছে। সেখানে পউরি গাড়ওয়ালের ১৩ বছরের ছাত্রী দীপা রাওয়াত এবং তার বন্ধু স্কুল শেষে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার জন্য রিজ়ার্ভার তৈরি করতে মাটি খুঁড়ে চলে আজকাল।  সেখানকার সরকারি স্কুলগুলো প্রতিটি ছাত্রছাত্রীকেই এই কাজে উৎসাহ দেয়।  বলা হয়েছে, এক একটি রিজ়ার্ভার যাতে অন্তত ২ ফুট গভীর হয় সেদিকে নজর দিতে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, 'শহরের পাশাপাশি গ্রামগুলোতে মানুষের সচেতন হওয়া খুব জরুরি এখনই। যাতে ভবিষ্যতের জন্য তারা পানি সঞ্চয় করে রাখতে পারেন। নইলে সমস্যা বাড়বে। কারণ গ্রামগুলো দিন দিন শুকিয়ে যাচ্ছে। জলের উৎসও কমছে। দিন দিন জল যত কমবে লোকজন চলে যাবেন এই এলাকা থেকে।  তাই গণ সচেতনতা ও অংশগ্রণ ছাড়া এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে মুক্তির কোনও আশা নেই।'

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র