Barta24

মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

English

কুতুব মিনার, আটশ’ বছর দাঁড়িয়ে থাকাটাই বিস্ময়

কুতুব মিনার, আটশ’ বছর দাঁড়িয়ে থাকাটাই বিস্ময়
কুতুব মিনার/ছবি: বার্তা২৪.কম
খুররম জামান
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

কুতুব মিনারের পাশ থেকে: কুতুব মিনারের সামনে ডাব বিক্রেতা বলে উঠলেন, এ কুতুব মিনারে কী আছে যে সারা বছর এতো মানুষ আসে দেখতে?

পাশেই দাঁড়ানো রমেশ পাওয়াল। ভারতের হরিয়ানা রাজ্য থেকে এসেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। বললেন, আটশ’ বছরেরও বেশি সময় ধরে এটি যে দাঁড়িয়ে আছে; সেটাই বিস্ময়। কুতুব মিনার তো কারুকার্যময় একটি স্তম্ভ। তাজমহলের চেয়েও বেশি দর্শক আসেন এটি দেখতে। সাধারণ পাথরে মানুষের বানানো একটি স্থাপনা এতো বছর ধরে দাঁড়িয়ে থাকলে তা বিস্ময়ই বটে, মন্তব্য রমেশের।

বদলে গেছে ভারতের রাজনীতি। এক পায়ে দাঁড়িয়ে কত রাজনীতি দেখেছে এই কুতুব মিনার! মানুষ বদল না হলেও কর্তৃপক্ষ বদল হয়েছে। তাইতো অনেক কিছুতেই দিল্লির প্রতীক হিসেব এখন কুতুব মিনারের ছবি ব্যবহার কমে গেছে।

দিল্লি মেট্রোরেল বেশ প্রসারিত। কয়েক বছর আগেও এই মেট্রোর টিকিট বা টোকেনে কুতুব মিনারের ছবি থাকতো। এখন তা নেই।

কুতুব মিনার নামের এই বিজয়স্তম্ভ দিল্লি শহর থেকে ১৪ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত।

Kutub Minar
কুতুব মিনার/ছবি: বার্তা২৪.কম

 

ইতিহাস থেকে জানা যায়, সুলতান মুহাম্মদ ঘুরির সেনাপতি ও প্রতিনিধি কুতুব-উদ্দিন আইবেক ১১৯২ খ্রিস্টাব্দে চৌহান রাজা পৃথ্বিরাজকে তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে পরাজিত করেন। এ বিজয়ের পরে তিনি দিল্লি অধিকার করে কুওয়াতুল ইসলাম নামে একটি মসজিদ এবং এর সংলগ্ন একটি মিনার নির্মাণ করেন। এই মিনারটি ভারতবর্ষের মুসলিম ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন।

ভারতের প্রথম মুসলমান শাসক কুতুবুদ্দিন আইবেকের আদেশে এর নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১১৯৩ খ্রিস্টাব্দে।

তার তত্ত্বাবধানে প্রথম ও দ্বিতীয় তলা নির্মিত হয়। পরবর্তী সময়ে (১২১১-৩৬) সুলতান শামসুদ্দিন ইলতুৎমিশের তত্ত্বাবধানে মিনারের তৃতীয় ও চতুর্থ তলা এবং শেষে সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলকের হাতে পঞ্চম তলা নির্মাণ শেষ হয় ১৩৮৬ খ্রিস্টাব্দে। ভারতীয়-মুসলিম স্থাপত্যশৈলীর গুরুত্বপূর্ণ এবং অন্যতম প্রাচীন নিদর্শন কুতুব মিনার।

কুতুব মিনার বিশ্বের সর্বোচ্চ ইট আর লাল বেলে পাথরে নির্মিত মিনার। এটি কুতুব কমপ্লেক্সের মধ্যে অবস্থিত। মিনারটির উচ্চতা ৭২.৫ মিটার (২৩৮ ফুট)। মিনারটির পাদদেশের ব্যাস ১৪.৩২ মিটার (৪৭ ফুট) এবং শীৰ্ষ অংশের ব্যাস ২.৭৫ মিটার (৯ ফুট)। ত্ৰয়োদশ শতাব্দীর প্ৰথম দিকে এই মিনারের নিৰ্মাণ কাজ শেষ হয়। মিনার প্ৰাঙ্গণে আলাই দরজা (১৩১১), আলাই মিনার (এটি অসমাপ্ত মিনারের স্তূপ, এটি নিৰ্মাণের কথা থাকলেও, নিৰ্মাণ কাজ শেষ হয়নি)।

কুতুব মিনার কামরাঙ্গার ভাজের মত গঠন নিয়ে নিপূণভাবে নির্মিত, যার মাঝে মাঝে বারান্দা রয়েছে। আচ্ছাদন এর উপরে পবিত্র কোরআনের আয়াত খোদাই করা। ভূমিকম্প এবং বজ্রপাতে মিনারের কোনো ক্ষতি হলে সেটি আবার শাসকদের দ্বারা ঠিক করা হয়। ফিরোজ শাহ এর শাসনকালে, মিনার এর দুই শীর্ষ তলা বজ্রপাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফিরোজ সেটা সংস্কার করেন। ১৫০৫ সালে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হলে সিকান্দার লোদীও এটি সংস্কার করেন।

Minar
মিনারের গায়ে আরবি লেখা ও সুন্দর কারুকাজ/ছবি: বার্তা২৪.কম

এরপর বিভিন্ন সময়ে ভারত সরকার এটির সংস্কার কাজ চালিয়ে আসছে।
ভারত সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কুতুব মিনার এবং এর কমপ্লেক্সে অবস্থিত ঐতিহাসিক ভবন ও সৌধগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করে। ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় রয়েছে কুতুব মিনার কমপ্লেক্স। কুতুব মিনার দিল্লির পর্যটকদের অন্যতম দর্শনীয় ও আকর্ষণীয় স্থান।

আফগানিস্তানের জাম মিনারের অনুকরণে এটি বানানো হয়। পাঁচতলা বিশিষ্ট মিনারের প্রতিটি তলায় রয়েছে ঝুলন্ত বারান্দা। কুতুব মিনার নামকরণের পেছনে দু’টি অভিমত রয়েছে, প্রথমত, এর নির্মাতা কুতুব উদ্দিন আইবেকের নামানুসারে এর নামকরণ হয়েছে। দ্বিতীয়ত, ট্রান্সঅক্সিয়ানা থেকে আসা বিখ্যাত সুফি সাধক হজরত কুতুব উদ্দিন বখতিয়ার কাকীর সম্মানার এটি নির্মিত হয়।

কুতুব মিনারকে ঘিরে গড়ে উঠেছে মনোরম একটি কমপ্লেক্স। ১০০ একর জমির ওপর নির্মিত এ কমপ্লেক্সে রয়েছে কুওয়াতুল ইসলাম মসজিদ, আলাই মিনার, আলাই গেট, সুলতান ইলতুৎমিশ, সুলতান গিয়াস উদ্দীন বলবন, সুলতান আলাউদ্দিন খলজী ও ইমাম জামিনের সমাধি ও লৌহ পিলার।

আপনার মতামত লিখুন :

ব্যর্থতা এড়িয়ে চলার কৌশল

ব্যর্থতা এড়িয়ে চলার কৌশল
ছবি : সংগৃহীত

পৃথিবী চষে এমন একজন মানুষও পাওয়া যাবে না যে জীবনে সফল হতে চায় না। মানুষ আমৃত্যু ছুটতে থাকে সফলতার পেছনে। অধরা সফলতা ধরা দেয় না। দিনের শেষে পেছনে ফিরে তাকালে সবটা জুড়েই শুভঙ্করের ফাঁকি ছাড়া কিচ্ছুটি দেখা যায় না। মনে পড়ে একটা নির্দিষ্ট সময়ে করা একটা ভুল কাজের কথা, একটা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নেওয়া ভুল সিদ্ধান্তের কথা। কিন্তু পেরিয়ে আসা সেইসময় আর নিজের জীবনে ফিরিয়ে আনা যায় না। ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় কিংবা আবেগের বশে করা ভুলগুলো শোধরানোর তেমন কোনো উপায় থাকে না তখন।

তাই সচেতন হতে হয় সময় থাকতে। অল্প কিছু বিষয় খেয়াল করে চলতে পারলে হতাশা কাটিয়ে অর্জন করা যায় সফলতা, অন্তত এড়ানো যায় বড় ধরনের ব্যর্থতা—

সিদ্ধান্ত গ্রহণে হোন সতর্ক নিন বিশেষজ্ঞ-পরামর্শ

মানুষের জীবনের যে কোনো একটি সিদ্ধান্ত তার জীবন বদলে দিতে পারে। তাই সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে হতে হবে সতর্ক। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নির্দিষ্ট বিষয়ে জানাশোনা আছে এমন কারো সাথে করতে হবে পরামর্শ। ভরসা করা যায় এমন মানুষদের কাছ থেকে নিতে হবে দিকনির্দেশনা। তারপর বিকল্পগুলো থেকে সম্ভাব্য উত্তম বিকল্পকে গ্রহণ করা। এতে করে ভুল সিদ্ধান্তের কবল থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। তবে যাদের থেকে পরামর্শ নেওয়া হবে তাদের ব্যাপারেও সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে।

ইতিবাচক মানুষদের সাথে মিশুন

চারপাশ যদি নেতিবাচক মানুষদের দ্বারা পরিপূর্ণ থাকে তাহলে আপনার মধ্যেও সেই প্রভাব সংক্রমিত হবে। একসময় নিজেও আপনি হতাশায় নিমজ্জিত হবেন। তাই নিজেকে চাঙ্গা রাখতে সবসময় ইতিবাচক মানসিকতা সম্পন্ন মানুষদের সাথে চলাফেরা করুন।

আজকের কাজ আজকেই করাকে নিয়ম মানুন

মানুষ স্বভাবতই কাজ করতে চায় কম, পেতে চায় বেশি ফল। আর এটাই ডেকে আনে সমস্যা। কাজকে ফেলে রাখে কাল করব পরশু করব ভেবে। কিন্তু সেই কাল-পরশু আর আসে না। তাই এই ক্ষেত্রে নিয়ে আসা উচিত বড় একটা পরিবর্তন। আর এই পরিবর্তনের শুরু হওয়া উচিত নিজের ঘর থেকে। প্রতিদিন সকালে ঘুম ভেঙে নিজের এলোমেলো বিছানা ঠিক করুন সবার আগে। একটু পরে করবেন মনে করে ফেলে রাখবেন না। নিজের জীবন গোছানোর কাজ শুরু করুন নিজের বিছানা থেকে। চাকরির জন্য সিভিটা আপডেট করা দরকার? এখনই করুন। কাল কাল করে করে ডেট চলে গেলে আর আপডেট করেইবা কী করবেন?

নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হোন

যে যত বেশি দায়িত্ববান, সে তত বেশি সফল। নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। মনে রাখবেন, আপনার কাজ আপনাকেই করতে হবে। আপনার কাজ আপনার জন্য অন্য কেউ এসে করে দিয়ে যাবে না। হতে হবে সময়সচেতন। ব্যক্তিচরিত্র থেকে খামখেয়ালি কমিয়ে আনতে হবে। নিজের জীবন সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। তবেই ধরা দেবে অধরা সফলতা।

দুশ্চিন্তার কারণগুলো এড়িয়ে চলুন

মানুষ যখন হতাশায় থাকে, চোখের সামনে কোনো পথ খোলা নেই, তখন ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় অশুভ আশঙ্কার ছায়া দেখতে পায়। মূলত নিরুপায়বোধ ও অসহায়ত্ব থেকেই শুরু হয় দুশ্চিন্তা আর ছাড়িয়ে যায় মাত্রা। দুশ্চিন্তা বেশি হলে অনেকে ভালোমন্দের জ্ঞান হারান। কী করবেন, কী করবনে না বুঝে উঠতে পারেন না। অনেকে নিজেকে তিলে তিলে অসুস্থ করে তোলেন এই দুশ্চিন্তার মাধ্যমে। এরফলে সমাধানের বদলে জড়িয়ে পড়েন আরো বড় সমস্যায়। তাই কোনো কাজে ব্যর্থ হলেও সেই ব্যর্থতা পুরোপুরি গ্রাস করার আগেই নিজেকে আবার কাজে লাগিয়ে নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, ব্যর্থতা মানুষের জীবনে থাকেই। পৃথিবীতে যত সফল মানুষ দেখা যায় প্রত্যেকেই নিজেদের সফল করেছেন ব্যর্থতা থেকে টেনে তুলে। নিজেকে শান্ত রেখে সমস্যা না বাড়িয়ে উপায় বের করার কাজে লেগে যেতে হবে। তবেই দুশ্চিন্তা পালাবে জাদুঘরে।

অবান্তর কল্পনা থেকে বের হয়ে আসুন

আমার এক বন্ধু আছে। যে সবসময় এটা ভাবত—এই যে বিল গেটস কিংবা জাকারবার্গ, এরা এত টাকার মালিক, কেউ যদি তাকে দুই তিন কোটি টাকা দিয়ে দেয় তবে তো তাদের কোনো সমস্যা হবার কথা না। এই কল্পিত ধারণা তাকে কোনো কাজেই মনোনিবেশ করতে দিত না। সাবধান থাকবেন, কল্পনার এমন জগত আপনার জন্য কোনোদিনই কোনো কল্যাণ বয়ে আনবে না। রূপকথার কোনো আলাদীন এসে আপনার ইচ্ছা পূরণ করে দেবে না। তাই ক্ষতিকর কল্পনার জগত থেকে বের হয়ে নিজের কল্পনাশক্তিকে কাজে লাগাতে হবে নিজেরই বাস্তবতায়।

রাগা বারণ

কারো কারো ক্ষেত্রে এমন হয় যে, পান থেকে চুন খসলেই রাগ উঠে যায়। হয়তো বন্ধুবান্ধবরা মিলে কোথাও ট্যুর প্ল্যান করছেন, হুট করে সামান্য বিষয়ে রাগ করে নিজেকে ট্যুর থেকে প্রত্যাহার করে নিল। আবার কেউ আছে যাদের কোনো কিছুই পছন্দ হয় না। কক্সবাজার যেতে চায় না যেহেতু সেখানে তো শুধু পানি, পানি দেখার কী আছে। বান্দরবান যেতে যেতে চায় না কারণ সেখানেও তো শুধু পাহাড়। উঠতে বসতে এমন রেগে যাওয়ার প্রবণতা কমাতে হবে। কারণ রাগত আপনি অন্যকে যে কথাগুলো বলেন তার ওপর আপনার নিয়ন্ত্রণ থাকে না। একে তো নিয়ন্ত্রণশূন্য এক নিজেকে প্রদর্শন করা হয় এতে, তার-ওপর হয়তো আপনার জীবনে সেই ব্যক্তির প্রয়োজন দেখা দেবে একদিন। কিন্তু সেদিন তো তারই মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার সময়। রাগের ব্যাপারে সচেতন না হলে ধরে নিন আপনি ব্যর্থ হতে যাচ্ছেন।

রোমান পোলান্‌স্কি : সেলিব্রেটি স্ক্যান্ডালের মোক্ষম উদাহরণ

রোমান পোলান্‌স্কি : সেলিব্রেটি স্ক্যান্ডালের মোক্ষম উদাহরণ
রোমান পোলান্‌স্কি

মার্কিন চলচ্চিত্র শিল্পের প্রাণভোমরা হলিউডের জন্য হলেও বিশ্বের অন্যতম রোমাঞ্চকর গল্পের নগরী হিসেবে লস এঞ্জেলসকে চিহ্নিত করা যায়। কিন্তু ’৭০-এর দশকের এই শহর ছিল সেলিব্রেটি স্ক্যান্ডাল দ্বারা অন্ধকারাচ্ছন্ন। যৌন বিকারগ্রস্ততা, মাদকাসক্তি প্রভৃতি ছিল হলিউড পাড়ার পরতে পরতে।

রোমান পোলান্‌স্কি তেমনই একজন সেলিব্রেটি যার ঝুলি নানাবিধ স্ক্যান্ডালে পরিপূর্ণ। তিনি একাধারে সফল একজন চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, অভিনেতা, এমনকি লেখক। তবে আজ তিনি পৃথিবীবাসির কাছে একজন চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবেই সমধিক পরিচিত এবং প্রতিষ্ঠিত। বহুমুখী প্রতিভাধর এই প্রথিতযশা চলচ্চিত্র পরিচালক তার এই এক জীবনে কুড়িয়েছেন অসংখ্য সুখ্যাতি, জীবন তাকে দু হাত ভরে দিয়েছে এবং তিনিও দু হাত পেতে সেসব গ্রহণ করেছেন। কিন্তু তার জীবনের এই আলোয় ঝলমলে অধ্যায়ের ঠিক বিপরীতেই রয়েছে এক ভয়ংকর কালো অধ্যায়। আর সেই কালো অধ্যায়ের সূত্র ধরেই বলায় যায়, রোমান পোলান্‌স্কির জীবনই হলো ‘সেলিব্রেটি স্ক্যান্ডাল’-এর মোক্ষম উদাহরণ।

এই বিশ্ববিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক ১৯৩৩ সালের ১৮ আগস্ট ফ্রান্সের প্যারিস শহরে জন্মগ্রহণ করেন কিন্তু তার বেড়ে ওঠা পোল্যান্ডে। মা বুলা (জন্মনাম কাৎজ-প্রৎজেবর্স্কা) এবং বাবা রিসজার্ড পোলান্‌স্কি ছিলেন যথাক্রমে চিত্রশিল্পী ও ভাস্কর্য নির্মাতা। পোলান্‌স্কির বাবা ইহুদি এবং পোল্যান্ডের অধিবাসী ছিলেন। পোলান্‌স্কির মা রাশিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন এবং রোমান ক্যাথলিক হিসেবে বেড়ে ওঠেন, তিনি মূলত অর্ধ-ইহুদি বংশধর ছিলেন। 

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566144369603.jpg
◤ পোলান্‌স্কির বিখ্যাত চলচ্চিত্র দ্য পিয়ানিস্ট ◢


পোলান্‌স্কি পোল্যান্ডের তৃতীয় বৃহত্তম শহর উচের ন্যাশনাল ফিল্ম স্কুলে পড়াশোনা করেন। তাঁর চলচ্চিত্রে পদার্পণ একজন অভিনেতা হিসেবে। ১৯৫০-এর দশকে আন্দ্রজেয় ভায়দার ‘পোকোলনি’ (প্রজন্ম, ১৯৫৪) এবং একই বছর সিলিক স্টার্নফেল্ডের ‘জাকজারোয়ানি রোভার’ (জাদুকরী বাইসাইকেল) চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্যদিয়ে অভিনেতা পোলান্‌স্কির অভিষেক ঘটে।

চলচ্চিত্র পরিচালনায় পোলান্‌স্কির অভিষেক হয় ১৯৫৫ সালে, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘রোভার’ (সাইকেল) নির্মাণের মধ্যদিয়ে। রোভার একটি আধা-আত্মজীবনীমূলক চলচ্চিত্র এবং এখানেও পোলান্‌স্কি অভিনয় করেন।

রোভারে তিনি তার বাস্তব জীবনের একটি সহিংস চক্রের কথা উল্লেখ করেছেন। যেখানে দেখানো হয়েছে এক কুখ্যাত ক্রাকো ফেলোন ইয়ানুশ ডিজুবা, পোলান্‌স্কির সাইকেল বিক্রি করে দিতে চেয়েছিল; কিন্তু পরিবর্তে ডিজুবা তাকে মারধর করে এবং তার টাকা চুরি করে পালিয়ে যায়। বাস্তব জীবনে পোলান্স্কির মাথার খুলি ফাটিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় সে গ্রেফতার হয় এবং আরো আটটি অপরাধের মধ্যে তিনটি হত্যার জন্য তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। উচে পড়াশোনার সময় আরো বেশ কয়েকটি স্বল্পদৈর্ঘ্য ছায়াছবি তাকে স্বীকৃতি এনে দেয়, বিশেষ করে ‘ডভায় লুডজি জ শাফাঁ’ (১৯৫৮) এবং ‘গডাই স্পাডায়া আনিওউ’ (১৯৫৯)। তিনি ১৯৫৯ সালে স্নাতক সম্পন্ন করেন।

ক্যারিয়ারের সোপানগুলি অবলীলায়, অত্যন্ত সফলতার সাথে ছুঁতে পারলেও তার দাম্পত্য জীবনের যাত্রাটা খুব একটা মসৃণ ছিল না। অভিনেত্রী বারবারা ল্যাস ছিলেন এই পোলিশ চলচ্চিত্র পরিচালকের প্রথম স্ত্রী। যিনি পোলান্‌স্কির ‘হোয়েন অ্যাঞ্জেলস ফল’ (১৯৫৯) চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন। তারপর এই জুটি ১৯৫৯ সালেই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন কিন্তু ১৯৬১ সালে মাত্র দু বছরের ব্যবধানে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। তারপর তিনি আবারও ১৯৬৮ সালের ২০ জানুয়ারি অভিনেত্রী শ্যারন টেইটকে (২৪ জানুয়ারি ১৯৪৩-৯ আগস্ট ১৯৬৯) বিবাহ করেন। শ্যারন টেইটও ছিলেন একজন সুঅভিনেত্রী।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566144309583.jpg
◤ অভিনেত্রী ও প্রথম স্ত্রী বারবারা ল্যাসের সঙ্গে পোলান্‌স্কি ◢


কিন্তু ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস! রোমান পোলান্‌স্কির ক্যারিয়ার যখন খ্যাতির তুঙ্গে, ১৯৬৯ সালে সাড়ে ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী অভিনেত্রী শ্যারন টেইটকে মাত্র ২৬ বছর বয়সে চার্লস ম্যানসনের অনুসারীরা হত্যা করে। স্ত্রীকে হারিয়ে হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে পড়েন এই উঠতি চলচ্চিত্র পরিচালক। পরবর্তীকালে দীর্ঘ এক বিরতির পর ১৯৮৯ সালে ইম্যানুয়েল সিনার সাথে তৃতীয়বারের মতো বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন, যিনি একজন ফরাসি অভিনেত্রী।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566144429916.jpg
◤ অভিনেত্রী ও দ্বিতীয় স্ত্রী শ্যারন টেইটের সাথে পোলান্‌স্কি ◢


১৯৭৭ সালে রোমান পোলান্স্কি মাত্র ১৩ বছর বয়সী কিশোরী সামান্থা গেইমে’র সাথে যৌন সংসর্গে জড়িয়ে পড়েন, যখন তার বয়স ৪৩ বছর। ১০ মার্চ সামান্থার মা সুসানের তৎপরতায় পোলান্স্কিকে পুলিশ গ্রেফতার করে। পোলান্স্কি জনসম্মুখে অপরাধ স্বীকার করেন এবং ইউরোপে পালিয়ে যান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরলে বিচারের সম্মুখীন হতে হবে, এজন্য তিনি আর ফেরত আসেননি এবং ইউরোপ থেকেই চলচ্চিত্র পরিচালনা অব্যাহত রাখেন।

তবে শুনতে অদ্ভুত লাগলেও সত্য যে, সামান্থার সাথে আজও রোমান পোলান্‌স্কির যোগাযোগ অক্ষুণ্ণ আছে। জানা যায়, পোলান্‌স্কি ইউরোপে পালিয়ে যাওয়ায় সামান্থা খুশিই হয়েছেন এবং তিনি তাকে ক্ষমাও করে দিয়েছেন। কারণ তিনি চান না পোলান্‌স্কির বাকি জীবন জেলে কাটুক। এদিকে রহস্যজনকভাবে সামান্থা পোলান্‌স্কিকে ধর্ষক কিংবা যৌননিপীড়ক কিংবা শিশুকামী হিসেবে চিহ্নিত করতে নারাজ। সামান্থার ভাষ্যমতে, “আমি কখনোই তাকে পেডোফাইল বলব না। আমি যেটা বলতে পারি তা হলো, তিনি নিতান্তই ভুলবশত চরমতম খারাপ একটা কাজ করে ফেলেছেন। এবং, আমি তাকে তখনই পেডোফাইল হিসেবে চিহ্নিত করতে পারতাম, যদি তিনি তার পরবর্তী জীবনেও এই একই ধরনের কাজ অব্যাহত রাখতেন।”

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566144560460.jpg
◤ সামান্থা গেইম ◢


তবে শেষ রক্ষা হয়নি। ২০০৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধেই সুইজারল্যান্ডে থাকাকালীন রোমান পোলান্‌স্কিকে গ্রেফতার করা হয় এবং এই গ্রেফতার নিয়ে তুমুল বিতর্কের জন্ম হয়। রোমান পোলান্‌স্কির পক্ষে হলিউডের অসংখ্য নামজাদা সেলিব্রেটি, ইউরোপের শিল্পীগোষ্ঠী, এমনকি রাজনীতিকরা সমবেত হয়। তারা এই গ্রেফতারি পরোয়ানার বিরুদ্ধে কথা বলে। এদিকে তার গ্রেফতারের ঘটনার পর আমেরিকার জনমত পোলান্‌স্কির বিপক্ষে গেলেও ইউরোপ এবং পোল্যান্ডের অগনিত মানুষ ছিল তার পক্ষে। আর এভাবেই এ-যাত্রায়ও আইনের বেড়াজাল থেকে পার পেয়ে যান রোমান পোলান্‌স্কি।

রোমান পোলানস্কি পরিচালিত চলচ্চিত্রসমূহ
• জ উ ভজি (১৯৬২)
• রিপালসন (১৯৬৫)
• কুল-দে-সাক (১৯৬৬)
• দ্য ফিয়ারলেস ভ্যাম্পায়ার কিলার্স (১৯৬৭)
• রোজামারিস বেবি (১৯৬৮)
• ম্যাকবেথ (১৯৭১)
• হোয়াট? (১৯৭২)
• চায়নাটাউন (১৯৭৪)
• লা লোকাতায়ার (১৯৭৬)
• তেস (১৯৭৬)
• পাইরেটস (১৯৮৬)
• ফ্র্যান্টিক (১৯৮৬)
• বিটার মুন (১৯৯২)
• ডেথ অ্যান্ড দ্য মেইডেন (১৯৯৪)
• দ্য নাইন্থ গেট (১৯৯২)
• দ্য পিয়ানিস্ট (২০০২)
• অলিভার টুইস্ট (২০০৫)
• দ্য ঘোস্ট রাইটার (২০১০)
• কার্নেজ (২০১১)
• লা ভেনাস অ লা ফরুর (২০১৩)
• দাপ্রেস উন হিস্তোয়ার ভ্রাই (২০১৭)

পোলান্‌স্কি পরিচালিত ‘দ্য পিয়ানিস্ট’ চলচ্চিত্রটিই সবচেয়ে বেশি আলোচিত এবং এটিই কেবল একাডেমি পুরস্কার অর্জন করে। পোল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি ও ব্রিটেনের যৌথ প্রযোজনায় নির্মীত এই দ্য পিয়ানিস্ট ২০০২ সালে মুক্তি পেয়েছিল।

পোল্যান্ডের এক ইহুদি পিয়ানো বাদকের ‘দ্য পিয়ানিস্ট’ নামের আত্মজীবনী গ্রন্থ থেকে চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করা হয়েছে। দ্য পিয়ানিস্ট কান চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা ছবির পুরস্কার অর্জন করে। এছাড়া তিনটি ক্ষেত্রে একাডেমি পুরস্কার অর্জন করে : সেরা অভিনেতা, সেরা পরিচালক এবং সেরা অভিযোজিত চিত্রনাট্য। এছাড়া ফ্রান্সের সেজার পুরস্কার লাভ করে তিনটি ক্ষেত্রে : সেরা পরিচালক, সেরা অভিনেতা ও সেরা চলচ্চিত্র। এই ছবির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন অ্যাড্রিয়েন ব্রডি। অ্যাড্রিয়েন ব্রডিই একমাত্র মার্কিন চলচ্চিত্র অভিনেতা যিনি ফ্রান্সের সেজার পুরস্কার জিতেছেন।

রোমান পোলান্‌স্কি শৈশবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিজ চোখে অবলোকন করেছিলেন, হয়তো সেজন্যই তার দ্য পিয়ানিস্টের নির্মাণশৈলি ছিল এত বেশি জীবন্ত। কাল পরিক্রমায় বিশ্ব রোমান পোলান্‌স্কিকে ভুলে যেতে পারে, কিন্তু দ্য পিয়ানিস্টকে কখনো ভুলতে পারবে না।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র