Barta24

সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

'ফরিদপুর অঞ্চলের সমকালীন প্রামাণ্য ইতিহাস লেখার সুযোগ রয়েছে'

'ফরিদপুর অঞ্চলের সমকালীন প্রামাণ্য ইতিহাস লেখার সুযোগ রয়েছে'
ফরিদপুর জেলা জজ আদালত/ ছবি: সংগৃহীত
ড. মাহফুজ পারভেজ
কন্ট্রিবিউটিং এডিটর
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. গোলাম কিবরিয়া ভূঁইয়া মনে করেন, ‘ফরিদপুর জেলার জনজীবন নদী, কৃষি ও কৃষিপণ্য দ্বারা প্রভাবিত। জনসংখ্যার অধিকাংশই কৃষির প্রতি নির্ভরশীল হওয়ায় জেলায় নগরায়ণের হার শ্লথ। শিল্পায়নও তেমনভাবে হয়নি।’

বৃহত্তর ফরিদপুর জেলা: প্রসঙ্গ স্থানীয় ইতিহাস চর্চা’ শীর্ষক এক গবেষণায় ড. কিবরিয়া আরও মন্তব্য করেন যে ‘স্থানীয় ইতিহাস চর্চায় সাধারণ জনজীবনের যে প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন, তা অদ্যাবধি দেখা যায় নি। বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চল নিয়ে সমকালীন প্রামাণ্য ইতিহাস লেখার সুযোগ রয়েছে, যাতে অতীতের পাশাপাশি বর্তমানের সমস্যা ও সম্ভাবনা তুলে ধরা সম্ভব হবে।’

গবেষণা থেকে জানা যায়, প্রাচীণ বঙ্গের অংশ ফরিদপুর অঞ্চল বলতে ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্বের গতিপথ এবং ভাগীরথী নদীর মধ্যবর্তী পদ্মা নদীর দক্ষিণাংশে অবস্থিত বিশাল এলাকাকে বোঝায়। দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের (৩৮০-৪১২ খ্রিস্টাব্দ) আমলে মহাকবি কালিদাস রচিত ‘রঘুবংশ’ কাব্যে ফরিদপুর অঞ্চল সম্পর্কে বর্ণনা রয়েছে যে ‘অধিবাসীরা নৌকা ও নদী বিষয়ক জ্ঞানে অভিজ্ঞ’।

পরবর্তী গুপ্ত যুগেও ফরিদপুর অঞ্চলের কথা ইতিহাসে উজ্জ্বলভাবে পাওয়া যায়। সে সময় গঙ্গা ও অন্যান্য নদী প্রবাহের গতিধারার কারণে ফরিদপুর অঞ্চলটি আরও দক্ষিণে বিস্তৃত হয়। এখানে মুদ্রা ও তাম্রশাসন পাওয়া যায়।

বখতিয়ার খলজির বঙ্গ বিজয়ের পর সমগ্র বাংলাদেশের মতো ফরিদপুর অঞ্চলও তুর্কি-মুসলিম শাসনের অধীনে আসে। মুসলিম শাসনের অন্যতম পুরোধা হোসেন শাহ ফরিদপুরে (তখন নাম ছিল ফতাপুর) সর্বপ্রথম তার মুদ্রা প্রচলন করেন। সে সময় বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের বেশ কিছু পরগনার নাম হোসেন শাহের ভাই ও পুত্রদের নামে রাখা হয়।

অম্বিকা মেমোরিয়াল হল
অম্বিকা মেমোরিয়াল হল/ ছবি: সংগৃহীত

 

প্রাচীন ফতাবাদ ও বর্তমান ফরিদপুরকে অনেক ঐতিহাসিক অভিন্ন বলে মনে করেছেন। ফতাবাদ নামটি বাংলার শাসক জালালউদ্দিন ফতেহ শাহের নাম থেকে উৎসারিত বলে ধারণা করা হয়। তবে সরকারি কাগজপত্রে ফরিদপুর নামটি নবীন, তা ব্রিটিশ আমল থেকে পাওয়া যায়। ১৮৫০ সালে ফরিদপুর জেলার নামকরণ করা হয়। বিখ্যাত কামেল দরবেশ শেখ ফরিদউদ্দিনের নামানুসারে জেলার নামকরণ করা হয়। তিনি একজন বিখ্যাত সুফি ও পরিব্রাজক ছিলেন। বাবা ফরিদ শকরগঞ্জ শেখ ফরিদের অন্য নাম ছিল। ফরিদপুর শহরে যে সমাধি রয়েছে, সেটি তার নয় বলে অনেকের অভিমত। কারণ হযরত শেখ ফরিদের মাজার রয়েছে পাকিস্তানের পাঞ্জাবের পাকপত্তন এলাকায়। যিনি দাতা গঞ্জেশকর নামে সমধিক পরিচিত এবং ১২৬৫ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

ফরিদপুরের ভৌগোলিক ইতিহাস খুবই সমৃদ্ধ এবং পার্শ্ববর্তী বৃহত্তর ঢাকা-বিক্রমপুর, বরিশাল-খুলনা-যশোর এবং পাবনা-রাজশাহীর সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। অনেক সময় পাশের এলাকার অংশ বিশেষ ফরিদপুরের অন্তর্গত হয়েছে। আবার কখনও ফরিদপুরের কিছু কিছু এলাকা পাশের জেলার সঙ্গে একীভূত হয়েছে। মূলত নদীর বাঁক বদল ও যাতায়াতের দিক বিবেচনা করে প্রশাসনিকভাবে এমন পরিবর্তন হয়েছে।

শ্রীধাম শ্রীঅঙ্গন/ছবি: বার্তা২৪
শ্রীধাম শ্রীঅঙ্গন/ছবি: বার্তা২৪

 

ইতিহাস ও ভূগোলের পাশাপাশি সমাজতত্ত্বের বর্ণিলতায় ফরিদপুর বহুমাত্রিক মানব সমাজের প্রাচীন বসতি রূপে পরিগণিত। আর্য ও মুসলিম যুগের জাতিগত বৈচিত্র্যের ঐতিহ্য ফরিদপুরের ক্ষেত্রে ব্রিটিশ আমলেও পরিলক্ষিত হয়। ১৯১৬ সালে জরিপে দেখা যায়, জেলার ৬৩ ভাগ মানুষ মুসলিম ও কৃষিজীবী আর বাকীরা হিন্দু ও মৎস্যজীবী। তবে, উল্লেখ করার মতো বিষয় হলো- এশিয়ার বাইরে থেকে আগত বেশ কিছু জাতি স্থায়ীভাবে ফরিদপুর অঞ্চলে বসবাস করতেন।

‘অ্যা স্ট্যাটিস্টিক্যাল একাউন্ট অব বেঙ্গল’-এ উইলিয়াম হান্টার জানাচ্ছেন যে ফরিদপুরে ৪২ জন ইংরেজ, একজন ফরাসি, একজন জার্মান, ১২ জন আইরিশ, দুইজন পার্শি, দুইজন স্কটিশ, তিনজন ওয়েলশবাসী এবং দুইজন আমেরিকান বসবাস করেন। তারা ব্যবসা ও বিভিন্ন পেশায় জড়িত হলেও সামাজিকভাবে স্থিত ও স্থায়ী বসতি গড়েছেন।

পল্লী কবি জসীম উদ্দীন সংগ্রহশালা
পল্লী কবি জসীম উদ্দীন সংগ্রহশালা/ ছবি: সংগৃহীত

 

ফরিদপুরের দক্ষিণে ‘চণ্ডাল’ -এর সংখ্যা বেশি ছিল, ‘রামায়ণ’ ও ‘মহাভারত’ -এ যাদেরকে কৈবর্ত্য শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে। ফরিদপুরে খ্রিস্টান ও ব্রাহ্ম সম্প্রদায়ের লোকদের একটি বড় অংশ বসবাস করতেন বলেও ইতিহাসে উল্লেখিত হয়েছে।

উপমহাদেশের বেশ কিছু সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের জন্য ফরিদপুর বিখ্যাত। উপনিবেশ বিরোধী স্বাধীনতার আন্দোলন এবং কৃষক-প্রজার অধিকার আদায়ের সংগ্রামী ঐতিহ্য মিশে আছে বৃহত্তর ফরিদপুরের নদী সিকস্তি বিস্তৃর্ণ জনপথে। জনজীবনে মিশে আছে চিরায়ত নদীমাতৃক বাঙালি সংস্কৃতির পরম্পরা।

আপনার মতামত লিখুন :

কেন এগিয়ে যাচ্ছে বাঁহাতি ব্যাটসম্যানরা

কেন এগিয়ে যাচ্ছে বাঁহাতি ব্যাটসম্যানরা
ক্যারিবিয়ান মাস্টার-ব্লাস্টার ব্রায়ান লারা

নান্দনিকতার বিচারে ক্রিকেট ইতিহাসে বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের কদর সবসময়ই যেন একটু বেশি। তবে পরিসংখ্যান বলে, দৃষ্টিনন্দন এই ব্যাটিং স্টাইল বড় স্কোর গড়তে এবং ম্যাচ জয়ের ক্ষেত্রে কার্যকরীও বটে।

বিগত কয়েক দশকে ব্যাট হাতে পাদপ্রদীপের আলো নিজেদের করে নিয়েছেন অসংখ্য কিংবদন্তি। ব্রায়ান লারা, কুমার সাঙ্গাকারারা দেখিয়েছেন স্টাইলিশ ও মার্জিত ব্যাটিং; পরিস্থিতি অনুযায়ী কার্যকরী স্ট্রোক খেলার পারদর্শিতার প্রমাণ রেখেছেন ম্যাথু হেইডেন, গ্রায়েম স্মিথরা। আগ্রাসী মনোভাবে যে ব্যাটকে তরবারীর মতো ছুটিয়েছেন ক্রিস গেইল, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, সনাথ জয়সুরিয়া—সেই একই ব্যাটকে ধৈর্যের সাথে মহাপ্রাচীর বানিয়ে দারুণ সব ইনিংস উপহার দিয়েছেন শিবনারায়ণ চন্দরপল, অ্যালান বোর্ডাররা। কৌশলের এমন ভিন্নতা তাদেরকে দিয়েছে আলাদা পরিচিতি, তবে বর্তমানে বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের দাপুটে রাজত্বের ভিতটা যে তাঁরাই গড়ে দিয়েছেন, তা বলাই বাহুল্য।

ইতিহাস বলছে, বাঁহাতিদের ব্যাটিং তুলনামূলক কার্যকরী এবং রানস্কোরিং—এই দাবিটা মিথ্যে নয়। ১৯৭০ সাল থেকে পরবর্তী প্রায় প্রতিটি দশকে ধারাবাহিকভাবে সফল বাঁহাতিরা গড় হিসাবে এগিয়ে রয়েছেন প্রায় দুই রানের ব্যবধানে, যা ২০০০ সালের পর হয়েছে দ্বিগুণ। চলতি দশকের শুরুতে অবশ্য সব হিসাব পাল্টে এই গড়ের খেলায় শচীন টেন্ডুলকার, বীরেন্দর শেবাগ, কেভিন পিটারসেন, তিলকরত্নে দিলশানদের সৌজন্যে এগিয়ে যাচ্ছিলেন ডানহাতিরা, যাতে ছেদ টানেন হালের ডেভিড ওয়ার্নার, তামিম ইকবাল, শিখর ধাওয়ানদের মতন পাওয়ার হিটাররা।

এখানে যে মজার ব্যাপারটি লক্ষণীয়, তা হলো বিগত দশকগুলোতে ডানহাতি ও বাঁহাতিদের খেলা মোট ইনিংসের অনুপাত। ৭০-এর দশকে বাঁহাতিদের প্রতি ইনিংসের বিপরীতে ডানহাতিদের ইনিংস ছিল প্রায় চারটি, যেটি গত ত্রিশ বছরে হয়ে গেছে প্রায় সমান-সমান। তবে কি বাঁ-হাতের সাফল্যের ভারী পাল্লাই অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে নতুন দিনের ব্যাটসম্যানদেরকে?

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563712391653.jpg
ক্রিস গেইলের ধ্বংসলীলা ◢

 

২০০০ পরবর্তী দলগত পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাঁহাতিদের ভাণ্ডার অন্যান্যদের চেয়ে স্পষ্টতই সমৃদ্ধ করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই সময়ের মধ্যে ক্যারিবিয়ান দলের বাঁহাতিদের গড় প্রায় ৪০, যেখানে ত্রিশেরও নিচের গড় নিয়ে দৈন্যদশা তাদের ডানহাতিদের। প্রায় একই ব্যবধান বিরাজমান বাংলাদেশের বাঁহাতি ও ডানহাতি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে। তামিম, ইমরুল, সৌম্য সরকারদের মতো পরীক্ষিতদের স্কোরগুলোর পাশে যোগ করুন বর্তমান বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের চোখধাঁধানো ইনিংসগুলো—হিসাবটা দিনের আলোর মতোই পরিষ্কার!

স্টিফেন ফ্লেমিং, মার্ক রিচার্ডসন, টম ল্যাথাম, জেসি রাইডারদের সৌজন্যে প্রায় একই চিত্র ব্ল্যাকক্যাপস নিউজিল্যান্ড দলের পরিসংখ্যানেও। ব্যতিক্রম শুধু রস টেলর—চল্লিশোর্ধ্ব গড় নিয়ে পনেরোশোর বেশি রান পাওয়া একমাত্র ডানহাতি কিউই।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563712458522.jpg
বাঁ-হাতের জাদুকর সাকিব আল হাসানের আইডল বাঁ-পায়ে সেরাদের সেরা লিওনেল মেসি ◢

 

ঠিক উল্টো চিত্র এশিয়ার দুই পরাশক্তি ভারত ও পাকিস্তান দলে, যেখানে আধিপত্য রয়েছে ডানহাতিদেরই। পাকিস্তান লাইনআপের ত্রিরত্ন—ইনজামাম-উল-হক, ইউনিস খান এবং মোহাম্মদ ইউসুফ সবসময়ই এগিয়ে ছিলেন বাকিদের থেকে। পরবর্তী সময় শহীদ আফ্রিদি, মোহাম্মাদ হাফিজ, আহমেদ শেহজাদদের মতো অভিজ্ঞরা ডানহাতিদের রানের পাল্লা করেছেন আরো ভারী। সাম্প্রতিক সময়ের তারকা ব্যাটসম্যান ফখর জামান, ইমাম-উল-হকদের বাঁ-হাতের জাদু যেন দিনবদলের বিজ্ঞাপন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563712529262.jpg
পাকিস্তানের একমাত্র ওয়ানডে ডবল সেঞ্চুরিয়ান ফখর জামান ◢

 

আর ভারতের ‘ব্যাটিং ঈশ্বর’ টেন্ডুলকার থেকে শুরু করে রাহুল দ্রাবিড়, বীরেন্দর শেবাগ, ভিভিএস লক্ষ্মণ কিংবা বর্তমানের সেরাদের সেরা বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা—সব ডানহাতি জায়ান্টরা বছরের পর বছর গড়েছেন রানের পাহাড়। ৫০+ গড়ের সামনে বাঁহাতিরা বেশ ব্যাকফুটেই রয়েছেন। তবে সৌরভ গাঙ্গুলি, গৌতম গম্ভীর, যুবরাজ সিংদের মতো দুর্ধর্ষ বাঁহাতিদের গৌরবের ঝাণ্ডা উঁচিয়ে ধরে এগিয়ে চলেছেন হালের শিখর ধাওয়ান।

যুক্তরাজ্য এবং নেদারল্যান্ডভিত্তিক সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব ক্রিকেটার ব্যাটিং করেন ‘ভুল’ পদ্ধতিতে—অর্থাৎ যাদের মূলশক্তির হাতটি থাকে হ্যান্ডেলের উপরিভাগে—তাদের সফলতার হার অন্যদের থেকে বহুগুণে বেশি। এ তালিকায় রয়েছে ব্রায়ান লারা, মাইক হাসি, অ্যালিস্টার কুক, ডেভিড ওয়ার্নার, ক্রিস গেইলের মতো তারকাদের নাম, যাদের ডান বাহুটিই মূল শক্তির উৎস হলেও ব্যাটিং স্টাইলে বাঁহাতি। উল্টোটা ঘটেছে বামের শক্তিতে বলিয়ান মাইকেল ক্লার্ক, অ্যারন ফিঞ্চদের ক্ষেত্রে।

প্রশ্ন হচ্ছে, বাঁহাতিদের এই স্বাচ্ছন্দ্য বিচরণের রহস্য কী? অন্তর্নিহিত কোনো বৈশিষ্ট্যের জন্যই কি সফলতা লুটাচ্ছে তাদের ব্যাটে? ক্রিকেটের বেশিরভাগ নিয়মকানুন কি তাদের অনুকূলেই যাচ্ছে? নাকি ডানহাতিদের বিপক্ষে বোলিংয়ে অভ্যস্ততাই সৃষ্টি করেছে আজকের এই অবস্থা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563712581984.jpg
মারকুটে বাঁহাতি অ্যাডাম গিলক্রিস্ট ◢

 

রহস্যের উত্তর হতে পারে এই তিন কারণের সংমিশ্রণও। ক্রীড়াবিজ্ঞানীদের ভাষায়, ব্যাটিংয়ের সময় বাঁহাতিদের মস্তিষ্কের বামপাশের প্রবাহে ডান অংশের দখল তাদের স্থানিক সচেতনতা এবং প্রতিক্রিয়া ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এছাড়াও বাঁহাতিদের ক্ষেত্রে লেগ স্ট্যাম্পের বাইরে পিচ হওয়া বলগুলো এলবিডব্লু উইকেটের বিপরীতে অসামঞ্জস্যতার বেনিফিট প্রদান করে। পাশাপাশি বাঁহাতিদের ব্যাটিং স্ট্যান্স ব্যাহত করে ফাস্ট বোলারদের স্বাভাবিক স্বাচ্ছন্দ্য।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563712641218.jpg
রিভার্স সুইপ খেলছেন অস্ট্রেলিয়ার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ◢

 

তবে দলীয় সাফল্য অর্জনে ডান-বাম কম্বিনেশনের ব্যাটিং লাইনআপ কিন্তু দারুণ কার্যকরী। এতে বিপক্ষ দলের অধিনায়ক বল বাই বল ফিল্ড সেটিং পরিবর্তনে পড়েন বিপাকে, যার সবটুকু সুবিধা যায় ব্যাটসম্যানদের ঝুলিতে।

পরিশেষে বলা যায় অনুকুল পরিস্থিতির সর্বোচ্চ সুবিধা নিয়ে নান্দনিক ও উদ্ভাবনী শট খেলতে পারার দুর্দান্ত সব সুযোগই বাড়াচ্ছে বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের সংখ্যা এবং সফলতার হার।

৫০ বছর আগের এই দিনে চাঁদে পা রেখেছিল মানুষ

৫০ বছর আগের এই দিনে চাঁদে পা রেখেছিল মানুষ
ছবি: সংগৃহীত

আজ থেকে পঞ্চাশ বছর আগে চাঁদে পা রেখেছিল মানুষ। আমেরিকার মহাকাশচারী নিল আর্মস্ট্রং ও বুজ অ্যালড্রিন প্রথম মানুষ, যারা এই ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন।

চাঁদের পৃষ্ঠে প্রথম অবতরণ করেন নিল আর্মস্ট্রং। এরপর বুজ অ্যালড্রিল। তাদের সঙ্গী ছিলেন মাইকেল কলিন্স। তবে তিনি চাঁদের পৃষ্ঠে না নেমে নভোযানে অবস্থান করেন।

১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই ‘ঈগল’ নামক এক চন্দ্রতরীতে করে তারা প্রথম চাঁদে অবতরণ করেন। নিল আর্মস্ট্রং চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণ করে বলেছিলেন, "That's one small step for man, one giant leap for mankind." (মানুষের ক্ষুদ্র এই পদক্ষেপটি মানব সভ্যতাকে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে গেল।)

Moon

চাঁদে মানুষ পাঠানো নিয়ে আমেরিকা ও তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে ছিল মর্যাদার লড়াই। ১৯৫৭ সালে স্পুটনিক নামক কৃত্রিম উপগ্রহ প্রথম মহাকাশে পাঠায় রাশিয়া। এতে চন্দ্র জয়ের দৌড়ে এগিয়ে যায় দেশটি।

এরপর ১৯৬৬ সালে রাশিয়ার লুনা-৯ নামক উপগ্রহ চাঁদে সফট ল্যান্ডিং করে। এর দুইমাস পর লুনা-১০ নামক আরেকটি উপগ্রহ চাঁদের কক্ষপথে সফলভাবে স্থাপন করে রাশিয়া। তারা চন্দ্রজয়ের কাছাকাছি পৌঁছে গেলেও মানুষ পাঠানোর মতো প্রযুক্তি তখনও তারা অর্জন করতে পারেনি। এছাড়া অর্থনৈতিক দুরাবস্থার কারণে তাদের মহাকাশ অভিযান বাধাপ্রাপ্ত হয়।

Moon

এরমধ্যে ১৯৬৮ সালে মহাকাশ গবেষণায় বড় সাফল্য অর্জন করে যুক্তরাষ্ট্র। তারা মহাকাশে অ্যাপোলো-৮ নামে মানুষ বহানকারী একটি যান মহাকাশে পাঠায়। সেটি চাঁদের কক্ষপথে সফলভাবে প্রদক্ষিণ করে নিরাপদে ফিরে আসে।

তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই মহাকাশযান অ্যাপোলো-১১ তে চড়ে চাঁদে প্রথম অবতরণ করেন নিল আর্মস্ট্রংরা।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র