Barta24

শনিবার, ১৭ আগস্ট ২০১৯, ২ ভাদ্র ১৪২৬

English

ঈদ বাজারে জনসমুদ্র নিউমার্কেট

ঈদ বাজারে জনসমুদ্র নিউমার্কেট
নিউমার্কেটে জনসমুদ্র, ছবি: বার্তা২৪
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

শনিবার, দুপুর ২টা। নিউমার্কেট মোড়ের জ্যাম নীলক্ষেত দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বর এসে পৌঁছেছে। জ্যাম ঠেলে ফুটপাথ দিয়ে এগোতে থাকি নিউমার্কেটের দিকে। নীলক্ষেত মোড় পার হতেই ফুটপাত দিয়ে হাঁটাও যেন দায়। মানুষের ভিড়ে তিল ধারণের জায়গা নেই, রাস্তা কিংবা ফুটপাতে। আরও রয়েছে রাস্তায় যানবাহনের এলোমেলো পার্কিং, ভ্রাম্যমাণ দোকান ও ফুটপাতে লাগোয়া দোকানগুলোর বর্ধিতাংশের বিড়ম্বনা।

নীলক্ষেতের বিউটি হোটেলের মোড় ঘুরতেই আর সামনে যাওয়া যায় না। যতদূর চোখ যায়, শুধু মানুষের মাথা আর মাথা। মনে হয় ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকা ‘হিউম্যান জ্যাম’। জ্যামের ভেতরেই হকারদের হাঁকডাক, ক্রেতাদের দামাদামির চিত্র চারিদিকে। মেঘলা দিনে, হিমেল বাতাসেও সেই ‘হিউম্যান জ্যাম’ আর ‘ট্র্যাফিক জ্যাম’ চরম অস্বস্তিকর এক অবস্থা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/25/1558794664858.jpg
জুতার দোকানে নারী ক্রেতাদের ভিড়, ছবি: বার্তা২৪

এভাবেই ধীরে ধীরে চলতে চলতে একপর্যায়ে গাউছিয়া মার্কেটে পৌঁছে যাই। সেখান থেকে ওভারব্রিজে করে নিউ মার্কেটে যেতে হবে। ওভারব্রিজের নিচেই হকাররা তাদের জিনিসপত্রের পসরা নিয়ে বসেছে। ক্রেতাদের আকর্ষণে ডাক দিচ্ছে, ‘খালি ষাট/খালি ষাট।’ কেউ কেউ দাঁড়িয়ে কিনছে সেখান থেকে, যাদের ওপারে যাওয়ার তাড়া বেশি তারা সেইসব ক্রেতা-বিক্রেতাদের ডিঙ্গিয়েই ওভারব্রিজের সিঁড়িতে উঠে যাচ্ছেন।

একমাত্র ওভারব্রিজও ছিল লোকে লোকারণ্য। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর-যুবক যে যেমনে পারছে ধাক্কায়, ঠেলে সামনের দিকে যাচ্ছে। বিপরীত দিক থেকেও একই জনস্রোত। পঙ্গু ভিখারি, হকারদের কারণে ওভারব্রিজের প্রশস্ততা অর্ধেক নেই। এমনও অবস্থায় কিছু যুবক ওভারব্রিজের রেলিংয়ে বসে গায়ে বাতাস লাগাচ্ছে, তাদের কারো কারো নজর ছিল ভিড় দিকে, মুখে একধরনের মৃদু হাসি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/25/1558794712421.jpg
নিউমার্কেটের একাংশ ক্রেতাদের ভিড়, ছবি: বার্তা২৪

১০ মিনিট ধরে ওভারব্রিজ পেরিয়ে পৌঁছে গেলাম নিউ মার্কেট। সেখান থেকে সামনে তাকাতেই দেখা যায়, এদিকে ঢাকা কলেজ অন্য পাশে বলাকা সিনেমা হল পর্যন্ত গোটা এলাকায় শুধু মানুষ আর মানুষ। জনসমুদ্রের ভেতর দুয়েকটা বাসকে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

ঈদের এখনো ১০ দিন বাকি থাকতেই ক্রেতাদের এই বিপুল উপস্থিতিতে খুশি মার্কেটের ব্যবসায়ী, বিক্রেতারা। বেচাকেনা জমে উঠায় বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। ঈদকে সামনে রেখে কেনাকাটা করতে গিয়ে নিউমার্কেট গাউছিয়া, চাঁদনি চক এলাকার বিভিন্ন দোকান ঘুরে এই চিত্র দেখা যায়। বিক্রেতাদের প্রত্যাশা সামনের দিনগুলোতে বেচাকেনা আরও বাড়তেই থাকবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/25/1558794751682.jpg
জনসমুদ্র, ছবি: বার্তা২৪

নিউমার্কেটের তিনতলায় প্যান্টের দোকানের বিক্রয়কর্মী রাতুল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘এবারের ঈদের বেচাকেনা আগের চেয়ে ভালো। বিশেষ করে কাল শুক্রবারের চেয়েও আজকে লোকসমাগম বেশি।’

একই কথা জানালেন হাটবাজার শোরুমের মালিক মাহবুবুর রহমান। তিনি বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘নিউমার্কেট এলাকার বেশিরভাগ ক্রেতাই মধ্যবিত্ত। তাদের কথা চিন্তা করে এখানকার কাপড়ের দামটা থাকে সাধ্যের মধ্যেই। এবার ঈদ উপলক্ষে ৭০০ থেকে শুরু করে ৩০০০ টাকা দামের উন্নতমানের ও আধুনিক রুচির শার্ট পাওয়া যাচ্ছে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/25/1558794845022.jpg
দোকানের সামনে ক্রেতাদের ভিড়, ছবি: বার্তা২৪

মার্কেটের আর কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, তারা বেশ সন্তুষ্ট। এবারের বেচাকেনায়। শার্ট, প্যান্ট, পাঞ্জাবি সবই কিনতে দারুণ আগ্রহ ক্রেতাদের।

আরেকটি শোরুমের এনামুল নামের একজন প্যান্ট বিক্রেতা বলেন, ‘ঈদে পাঞ্জাবি ও শার্টের ব্যাপক চাহিদা বাড়লেও জিন্স প্যান্টের দিকে ক্রেতারা বাড়তি ঝোঁক দেখাচ্ছেন না। অন্য সময়ের মতোই চলছে তাদের বেচাকেনা।’

নিউ মার্কেটে শপিং করতে আসা হাফেজ আকরাম হোসেনের কাছে বাজার সম্পর্কে জানতে চাইলাম। তিনি বললেন, ‘ঈদ উপলক্ষে দাম একটু বেশি হলেও সেটা সাধ্যের মধ্যে আছে। পণ্যের মান ভালো।’

নিউমার্কেটের বিপরীত পাশেই গাউছিয়া ও চাঁদনি চক শপিং কমপ্লেক্স। সেখানে পাঞ্জাবির পাশাপাশি রয়েছে ওড়না, হিজাব, থ্রি পিস, থান কাপড়সহ হরেক রকম পোশাক বিক্রি হচ্ছে।

সেখানে জরি ঘরের সামনে ক্রেতাদের প্রচুর ভিড়। আমিও ভেতরে ঢুকলাম। শোরুমের বিক্রেতা মোহাম্মদ আলী হোসেন জানালেন, তাদের এখানে মেয়েদের ঘাগরার বেশ চাহিদা, এগুলো মূলত ভারতীয় পণ্য। আজকে বেচাকেনা বেশ ভালো যাচ্ছে তাদের।

এই মার্কেটের নিচে দেখা হলো তরুণ আইনজীবী নাসিম উল্লাহর সঙ্গে। তিনি স্ত্রীকে নিয়েই কেনাকাটা করছেন। তিনি বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘এবারের কেনাকাটা করার পরিবেশটা বেশ ভালো। তবে তার দৃষ্টিতে ছেলেদের পোশাকে বৈচিত্র্য কম।

এদিকে নিউমার্কেট এলাকায় নিরাপত্তা বজায় রাখতে অস্থায়ী ক্যাম্প করেছে নিউমার্কেট থানা পুলিশ। র‌্যাব থেকেও একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :

বাংলা ব্যান্ড ও রক সংগীতের প্রাণপুরুষ আইয়ুব বাচ্চু

বাংলা ব্যান্ড ও রক সংগীতের প্রাণপুরুষ আইয়ুব বাচ্চু
শুভ জন্মদিন আইয়ুব বাচ্চু!

‘চলো বদলে যাই বলে’ ডাক দিয়ে সংগীতপ্রেমী মানুষের হৃদয়ে ঝড় তুলেছেন তিনি। ‘হাসতে দেখো, গাইতে দেখো’ বলে গান গেয়ে মিশে গিয়েছেন শ্রোতাদের নিত্য-আবেগের সাথে। ‘রুপালি গিটার’-এর জাদুকর তিনি। বাংলাদেশের ব্যান্ড ও রক সংগীতাঙ্গনের অন্যতম প্রবাদপুরুষ। তিনি আইয়ুব বাচ্চু। গত বছরের ১৮ অক্টোবর ‘ঘুমভাঙা শহর’ ছেড়ে অন্যভুবনে পাড়ি জমানো এই কিংবদন্তির ৫৭তম জন্মদিন আজ।

আইয়ুব বাচ্চুর বেড়ে ওঠা ও সংগীতের হাতেখড়ি চট্টগ্রামে। ১৯৭৬ সালে কলেজ জীবনে ‘আগলি বয়েজ’ নামে ব্যান্ড গঠনের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল তাঁর সংগীত-জীবন। ১৯৭৭ সালে যোগদান করেন ফিলিংস (বর্তমানে ‘নগর বাউল’) ব্যান্ডে। ব্যান্ডটির সাথে কাজ করেছিলেন ১৯৮০ সাল পর্যন্ত। একই বছরে জনপ্রিয় রক ব্যান্ড সোলসে প্রধান গিটারবাদক হিসেবে যোগদান করেন তিনি। সোলসের সাথে থাকার সময় ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সুপার সোলস (১৯৮২), কলেজের করিডোরে (১৯৮৫), মানুষ মাটির কাছাকাছি (১৯৮৭) এবং ইস্ট অ্যান্ড ওয়েস্ট (১৯৮৮) এই চারটি অ্যালবামে কাজ করেছিলেন। 

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/16/1565950779278.jpg
◤ বাচ্চু যখন ছিলেন আরেক কিংবদন্তি ব্যান্ড ‘সোলস’-এর সাথে (দ্বিতীয় সারিতে, ডান থেকে দ্বিতীয়) ◢


তবে, আইয়ুব বাচ্চুর লক্ষ্য ছিল নিজে উদ্যোগী হয়ে বড় কিছু করা। সে কারণে ১৯৯১ সালে আরো তিনজন ব্যান্ড মেম্বার নিয়ে গঠন করেন নিজের ব্যান্ড এলআরবি (লিটল রিভার ব্যান্ড)। পরে অবশ্য সংক্ষিপ্ত রূপ ঠিক রেখে বদলে ফেলা হয় নামের পূর্ণাঙ্গ অর্থ। হয়ে যায় ‘লাভ রানস ব্লাইন্ড’ (এলআরবি)। এই ব্যান্ড থেকে জন্ম হয়েছে অসংখ্য শ্রোতাপ্রিয় গানের। ১৯৯২-তে ‘এলআরবি-১’ ও এলআরবি-২’ নাম দিয়েই তারা বের করে সেলফড টাইটেল অ্যালবাম। বাংলাদেশে প্রথম সেলফ টাইটেটেলড অ্যালবাম বের করে এলআরবিই। আরো উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হলো বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একসাথে ডাবল অ্যালবাম রিলিজ দেওয়ার প্রথম উদাহরণও এটি। এরপরে, সেই বছরই ব্যান্ডের তৃতীয় অ্যালবাম ‘সুখ’ মুক্তি পায়। এই অ্যালবামের ‘চলো বদলে যাই’ গানটি পরিণত হয়েছিল বাংলা ব্যান্ড সংগীতের অন্যতম জনপ্রিয় গানগুলোর একটিতে, যা আজও ঘুরেফেরে সংগীতপ্রেমীদের মুখে মুখে।

এছাড়াও, ব্যান্ডটি উপহার দিয়েছে ‘ঘুম ভাঙা শহরে’, ‘রুপালি গিটার’, ‘গতকাল রাতে’, ‘পেনশন’, ‘হকার,’ ‘বাংলাদেশ’-এর মতো অসংখ্য শ্রোতানন্দিত গান। এরপরে আইয়ুব বাচ্চুর নেতৃত্বে ব্যান্ড থেকে বের হয় ‘স্বপ্ন’, ‘মন চাইলে মন পাবে’সহ আরো বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় অ্যালবাম। ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবরে পরলোকে চলে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি জড়িত ছিলেন তাঁর এই প্রাণপ্রিয় ব্যান্ডটির সাথেই। বাংলা হার্ড রক ঘরানার গান তরুণ প্রজন্মের মাঝে জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে আইয়ুব বাচ্চুর এলআরবির এই অ্যালবামগুলোর ভূমিকা অনস্বীকার্য।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/16/1565950935258.jpg
◤ বাংলা হার্ড রক সংগীতে প্রাণসঞ্চার করেছিল আইয়ব বাচ্চুর নিজ হাতে গড়া ব্যান্ড এলআরবি ◢


ব্যান্ডদল সফলভাবে পরিচালনা ও এক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করা ছাড়াও একক ক্যারিয়ারেও তিনি ছিলেন দারুণ সফল। তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘রক্ত গোলাপ’ বের হয়েছিল ১৯৮৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘ময়না’ বের হয়েছিল ১৯৮৮-তে। মোটামুটি জনপ্রিয়তা প্রায় অ্যালবামগুলো। এরপর, তাঁর তৃতীয় একক অ্যালবাম ‘কষ্ট’ বের হয় ১৯৯৫-তে। রীতিমতো বাজার মাত করে দেয় অ্যালবামটি! শিরোনাম গান ‘আমি কষ্ট পেতে ভালোবাসি’ ছড়িয়ে পড়ে সবার মুখে মুখে। জনপ্রিয়তা পায় এই অ্যালবামের ‘অবাক হৃদয়’, ‘বহুদূর যেতে হবে’, ‘আমার একটা নির্ঘুম রাত’সহ অন্যান্য গানও। বিভিন্ন মিক্সড অ্যালবামেও তিনি উপহার দিয়েছেন ‘হাসতে দেখো গাইতে দেখো,’ ‘তারা ভরা রাতে,’ ‘কেউ সুখী নয়’-এর মতো অসম্ভব জনপ্রিয় গান। ২০০৭ সালে দেশের প্রথম বাদ্যযন্ত্রগত অ্যালবাম ‘সাউন্ড অফ সাইলেন্স’ প্রকাশ করেন তিনি।

শুধু যে একজন ভোকাল বা কণ্ঠশিল্প হিসেবেই তাঁর জনপ্রিয়তা ও ভূমিকা উল্লেখযোগ্য, এমনটি নয়। গিটার হাতেও তিনি ছিলেন সত্যিকার এক জাদুকর। হার্ডরক সংগীতের তালে তালে তাঁর দ্রুতলয়ের গিটার বাদনের স্টাইল অনুপ্রাণিত করেছে পুরো একটি প্রজন্মের প্রতিশ্রুতিশীল গিটারিস্টদের। ‘দ্য টপ টেনস’ তাকে বাংলাদেশের ‘শ্রেষ্ঠ ১০ জন গিটারবাদক’-এর তালিকায় রেখেছিল ২য় স্থানে (১ম স্থানটি ‘ওয়ারফেজ’-এর ইব্রাহীম আহমেদ কমলের)।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/16/1565951023494.jpg
◤ বাচ্চুর তুমুল জনপ্রিয় ‘কষ্ট’ অ্যালবামের ফ্ল্যাপ 


রক ও ব্যান্ড সংগীতের কিংবদন্তি হলেও, তিনি আসলে ছিলেন বহুমাত্রিক একজন শিল্পী। গান গেয়েছেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনের জন্যও। আম্মাজান ছবিতে তাঁর গাওয়া ‘আম্মাজান, আম্মজান’, লুটতরাজ ছবিতে ‘অনন্ত প্রেম তুমি দাও আমাকে’, সাগরিকা ছবিতে ‘সাগরিকা’সহ অসংখ্য শ্রোতাপ্রিয় গান তিনি উপহার দিয়েছেন চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্যেও।

এলআরবির সাথে মিলে তিনি জিতেছেন ছয়টি মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার এবং একটি সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস। ২০০৪ সালে বাচসাস পুরস্কার জিতেছিলেন সেরা পুরুষ ভোকাল বিভাগে। ২০১৭ সালে জিতেছেন টেলে সিনে আজীবন সম্মাননা পুরস্কার।

ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে আইয়ব বাচ্চু ছিলেন সুখী একজন মানুষ। বাচ্চু তার বান্ধবী ফেরদৌস চন্দনাকে বিয়ে করেছিলেন ১৯৯১ সালের ৩১ জানুয়ারিতে। এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে দুই সন্তান তাঁদের ঘরে। ছয় বছর ধরে ফুসফুসে পানি জমার অসুস্থতায় ভোগার পর ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে নিজ বাসায় মারা যান আইয়ুব বাচ্চু।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/16/1565951073794.jpg
◤ ব্যান্ড সংগীতের অন্য দুই কিংবদন্তী জেমস ও হাসানের সাথে আইয়ুব বাচ্চু ◢


মাত্র ৫৬ বছয় বয়সে তিনি মারা যান, যেটাকে অনেকেই বলতে পারেন আকাল মৃত্যু। তবে, বাংলা ব্যান্ড ও রক সংগীতে তাঁর মতো বিশাল অবদান রেখেছেন, এমন মানুষ আরেকটাও খুঁজে পাওয়া কঠিন। তাই নিজের কাজের মাধ্যমেই আইয়ুব বাচ্চু ভক্ত, শ্রোতা ও সঙ্গীতপ্রেমীদের হৃদয়ে টিকে থাকবেন চিরকাল। কোনো এক ‘মায়াবী সন্ধ্যায়’ বা ‘তারা ভরা রাতে’ অনুরণিত হতে থাকবে ‘এবি-দ্য বস’-এর গান বা গিটারের সুর রকগানপ্রেমী ও ভবিষ্যত প্রজন্মের সংগীতকারদের মনে।

এসেছে ঋতুর রানি শরৎ

এসেছে ঋতুর রানি শরৎ
শরৎ ঋতুতে কাশ বাগানে কিশোর-কিশোরীদের দুরন্তপন

কাশফুল, নীলাকাশ, সবুজ মাঠের চিরায়ত বাংলায় এসেছে ঋতুর রানি শরৎ। বাংলার প্রকৃতিতে আলোকিত মুগ্ধতা ছড়িয়ে আজ শুক্রবার (১৬ আগস্ট) শুরু হলো শরৎকালের।

বাঙালির সামনে শরতের অপার সৌন্দর্য উপস্থাপন করেছেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। বলেছেন, ‘শরৎ তোমার অরুণ আলোর অঞ্জলি, ছড়িয়ে গেল ছাপিয়ে মোহন অঙ্গুলি৷'। শরৎ যে এত অনিন্দ্য-সুন্দর, প্রতিটি বাঙালি তা অনুভব করে মর্মে মর্মে।

শরৎ হলো চমৎকার মেঘের ঋতু, স্পষ্টতার ঋতু, আলো ও উজ্জ্বলতার রূপসী ঋতু। শরতের আকাশ থাকে ঝকঝকে ও পরিষ্কার।

আরও পড়ুন: 'শরৎ, তোমার অরুণ আলোর অঞ্জলি'

বর্ষা শেষে শরতের নীল আকাশের মাঝে টুকরো টুকরো সাদা মেঘ যেন ভেসে বেড়ায় মনের আনন্দে। মাঠে মাঠে কাশফুলের দোলা আর সবুজের সমারোহে শরৎকাল প্রকৃতিকে সুন্দর করে সাজিয়ে দেয়৷

উৎসবমুখর বাঙালি শরতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের হাত ধরে মিলিত হয় গানে, ছন্দে, রঙে ও আনন্দে। শরতের এক পর্যায়ে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান দুর্গোৎসবের আয়োজন হবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/16/1565937325096.jpg

শরতের চিরকালীন রূপ ও বৈচিত্র্য পরিবর্তমান আবহাওয়ার তোড়ে খানিকটা বদলে যাচ্ছে। বাংলাদেশের বিখ্যাত ষড়ঋতু এখন ক্রমেই অস্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। শরতের দিনগুলোর ভেতর চলে আসছে বর্ষার ছোয়া। সুস্পষ্ট শরতের আবির্ভাবের জন্য অপেক্ষা করতে হয়ে কিছুদিন।

একই ভাবে না-শীত, না-গরমের মখমল কোমল ঋতু হেমন্তও বিলীয়মান। স্পষ্ট অবয়বে হেমন্তকে পাওয়া যায় খুবই কম দিন।

শাশ্বত বাংলায় শত বছরে যে আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক পরিমণ্ডল গড়ে উঠেছে, তাপ বিকিরণ, জ্বালানি ক্ষয়, পরিবেশ হানির কারণে তা বদলে যাচ্ছে। সারা দুনিয়াই এখন আবহাওয়া বিপর্যয়ের মুখোমুখি। শীতের দেশে গরম পড়ছে। গরমের দেশে বাড়ছে উষ্ণতা। চরম ভাবাপন্নতা আচ্ছন্ন করছে তাবৎ পৃথিবী ও পৃথিবীর মানবমণ্ডলীকে।

সন্দেহ নেই, মানুষের অবিমৃশ্যতায় আবহাওয়া হচ্ছে বিরূপ। প্রকৃতি হয়ে যাচ্ছে বৈরী। বসবাসের পরিবেশ ও পরিস্থিতি হচ্ছে বিক্ষুব্ধ।

বৃক্ষ ও বনাঞ্চল নিধন, জীববৈচিত্র্য হনন ও প্রকৃতিকে নানাভাবে আঘাত করে মানুষই বিপন্ন করছে পরিবেশ, যার কুফল ঝড়, ঝঞ্ঝা, দুর্যোগের মাধ্যমে আঘাত হানছে পৃথিবীতে। আমরা হারাচ্ছি নিরাপত্তা। হারাচ্ছি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশের বর্ণবহুল আবহ।

কে জানে, ক্রমে ক্রমে কখন হারিয়ে যাবে ঋতুর বহুমাত্রিক  বিভা ও অপার সুষমা। আমরা যদি আমাদের প্রকৃতি ও পরিবেশকে সুন্দর ও নিরাপদ না রাখি, তবে প্রকৃতি ও পরিবেশ আমাদেরকে নিরাপদ রাখবে কেন? এই বোধ ও বিবেচনা প্রতিটি ঋতুতে ও প্রকৃতির পালাবদলের সময় আমাদেরকে অনুভব করতে হবে। আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ ও সৌন্দর্যকে সংরক্ষণ করতে হবে। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষ ও সমাজের সম্পর্ককে ভারসাম্যপূর্ণ ও সুসমন্বিত করতে হবে। তাহলেই আমরা নিরাপদ থাকবো প্রকৃতির সুন্দরতম ছায়াতলে।

এই যে ঋতুর রানি শরৎ এলো, যা থাকবে ভাদ্র ও আশ্বিন মাসব্যাপী, তাকে উপভোগ ও অনুভবের মাধ্যমে আমাদের প্রকৃতিপ্রেম ও পরিবেশচেতনাকে ঋদ্ধ করতে হবে। আমাদের নিরাপত্তা ও আনন্দকে নিশ্চিত করতে পরিবেশ ও প্রকৃতিকে নিরাপদ ও নিষ্কলুষ রাখার শপথ নিতে হবে। চিরায়ত বাংলাকে বর্ণ, গন্ধ, রূপে, রসে সুন্দর ও আলোকিত রাখতে হবে আমাদেরকেই।                     

বাংলার, বাঙালির সংবাদ সারথি বার্তাটোয়েন্টিফোরের পক্ষ থেকে সবাইকে শারদ শুভেচ্ছা।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র