Barta24

বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

চীনে চার হাজার বছরের পুরনো মমি

চীনে চার হাজার বছরের পুরনো মমি
শিংজিয়ান মিউজিয়ামে রাখা এক নারীর মমি, ছবি: বার্তা২৪.কম
খুররম জামান
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
শিংজিয়ান
চীন থেকে ফিরে


  • Font increase
  • Font Decrease

চীনের শিংজিয়ান মিউজিয়ামে রাখা হয়েছে এ এলাকার প্রাগৈতিহাসিক সময়ের বিভিন্ন নিদর্শন। এখানে সংরক্ষিত আছে চার হাজার বছর আগের পুরনো মমি।

সিল্ক রোডের পাশে অবস্থিত শিংজিয়ান প্রদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এসব মমি ও বিভিন্ন নিদর্শন পাওয়া যায়। একটা সময় এখানকার সিল্ক রোডই পূর্ব ও পশ্চিমের সংস্কৃতি, সভ্যতা ও ভাষা বিনিময়ের মাধ্যম হয়ে উঠেছিল যা অতিক্রম করেছে শিংজিয়ান প্রদেশের বুক চিরে।

শিংজিয়ান চীনের অন্যতম বড় একটি অঞ্চল। এর আয়তন ১৬ লাখ ৪৬ হাজার ৪০০ বর্গ কিলোমিটার (যা বাংলাদেশের আয়তনের ১২ গুণ)। দেশটির উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত এ এলাকা আয়তনে চীনের প্রায় এক-ষষ্ঠাংশ। এর পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে আছে মুসলিম দেশ তাজিকিস্তান, কিরগিজস্তান ও কাজাখস্তান; আর দক্ষিণ-পশ্চিমে আছে আফগানিস্তান ও জম্মু-কাশ্মীর।

বর্তমান চীন সরকার এ অঞ্চলে বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু করেছে। বিশেষ করে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ওয়ান বেল্ড ওয়ান রোড ঘোষণার পর থেকেই এ অঞ্চলের গুরুত্ব বেড়ে গেছে।

তবে হাজার বছর আগেই এ এলাকায় বিশাল সভ্যতা গড়ে উঠেছিল। উদ্ধার করা মমিগুলো যার প্রমাণ।

mommy
শিংজিয়ান মিউজিয়ামে রাখা একটি মমি, ছবি: বার্তা২৪.কম

 

১৯৭৮ সালের দিকে চীনের তারিম অববাহিকায় বেশ কিছু মমির সন্ধান পাওয়া যায়। এগুলো ‘তারিম মমি’ নামে পরিচিতি লাভ করে। এ তারিম মমিগুলো প্রায় চার হাজার বছরের পুরনো।

শিংজিয়ান মিউজিয়ামের বিভিন্ন তথ্য সূত্র থেকে জানা যায়, মাটিতে উল্টিয়ে রাখা একটি নৌকায় এসব মমি পাওয়া যায়। নৌকাটি মূলত একটি ‘সমাধিক্ষেত্র’ ছিল। লাশগুলো তখন ছিল প্রায় অক্ষত। এরপর আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ১০০টি লাশ উদ্ধার করা হয়। গবেষকদের মতে, লাশগুলো প্রায় চার হাজার বছরের পুরনো।

এতদিন ধরে লাশগুলো অক্ষত থাকল কীভাবে? যদিও এগুলো প্রাচীন মিশরের মমি বানিয়ে সংরক্ষণ করার মতো করে রাখা হয়নি। তারপরও মমির দেহ অক্ষত থাকল বছরের পর বছর। কিন্তু এদের দেহ মিশরীয় মমির মতো ব্যান্ডেজে মোড়ানো ছিল না। এ লাশগুলো ছিল প্রাকৃতিক মমি।

Mommy



পরে গবেষণার মাধ্যমে জানা যায়, শুষ্ক আবহাওয়ার কারণেই মমিগুলো হাজার বছর ধরে অক্ষত ছিল। বিশেষ করে তারিম অববাহিকায় অবস্থিত তাকলামাকান মরুভূমির আবহাওয়া অত্যন্ত শুষ্ক। আবহাওয়ার শুষ্কতার কারণে লাশগুলোর দেহ পচন থেকে রক্ষা পায়।

তবে গবেষকদের মতে, লাশগুলো দেখতে স্থানীয় চীনাদের মতো না। এমনকি শিংজিয়ান বা এ অঞ্চলের মানুষের মতোও না। এশিয়ার কোনো জাতির সঙ্গেও এদের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। অক্ষত লাশগুলোর অনেকেরই চুল ছিল পশ্চিমাদের মতো সোনালী। চোখের মণি ইউরোপীয়দের মতো নীল। পরনের পোশাকও পশ্চিমাদের মতো। তাই গবেষকরা ধারণা করছেন, লাশগুলো ইউরোপীয় পর্যটকদের। যারা সিল্ক রোড ধরে এ অঞ্চলে এসেছিলেন।

mommy

বেইজিং বিশ্ববিদ্যালয়ে মমিগুলোর কার্বন ডেটিং টেস্ট করে জানা যায়, সেগুলো প্রায় তিন হাজার ৯৮০ বছরের পুরনো।

বেশ কয়েকটি মমির মাথায় এক ধরনের টুপি ছিল। যেগুলো দেখতে অনেকটা প্রাচীন টাইরোলিয়ান টুপির মতো। লাশের কফিনের ভেতর বেশ কিছু গুল্ম পাওয়া যায়। গুল্মগুলো প্রাচীনকালে ইউরোপে শেষকৃত্যে মঙ্গলের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হতো। আর নৌকার মাধ্যমে সমাধিস্থ করার রীতি ভাইকিংদের মধ্যে প্রচলিত ছিল।

আপনার মতামত লিখুন :

বিজয়ের মাহেন্দ্রক্ষণ

বিজয়ের মাহেন্দ্রক্ষণ
পৃথিবীর সর্বোচ্চ শীর্ষে মানুষ ওড়ালো বিজয় পতাকা, ছবি: সংগৃহীত

এবার নতুন জুটি হিসেবে হিলারি-তেনজিংরা প্রস্তুত। পরিবেশ ও পরিস্থিতিও আজ অনেক অনুকূল। সুন্দর ঝকমকে সকাল। রোদের ঝিলিকে স্বর্ণ ও রৌপ্যের মতো চকচক করছে হিমালয় শীর্ষের বরফখণ্ড। দলনেতার ইঙ্গিত পেলেই শুরু হবে পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গের দিকে শতাব্দীর সেরা অভিযান। শুধু সঠিক ও যুৎসই সময়ের অপেক্ষা। তখনই আবার ঘটলো বিপত্তি।

প্রস্তুত হয়ে তাবুর বাইরে বেরিয়েই হিলারির মাথায় বাজ পড়ল। তিনি আবিষ্কার করলেন, তার চামড়ার বুটজোড়া বরফে জমে গিয়েছে। ভুলবশত আগের দিন বিকেলে বাইরে শুকাতে দিয়ে জুতাজোড়া ভিতরে আনতে ভুলে গিয়েছিলেন। সারা রাতের তুষার-বরফে লোহার মতো শক্ত হয়ে গেছে পর্বতারোহণের জুতা। চিন্তায় পড়লেন তিনি, ‘তা হলে কি আজ আর এগোনো হবে না?’

এবারও অদম্য রইলেই এই অভিযাত্রীদল। প্রায় দু’তিন ঘণ্টার চেষ্টায় অবশেষে ভিজা জুতায় পা গলানো গেল। এরপর বাকিটা ইতিহাস। সামনে এগিয়ে চলার ইতিবৃত্ত।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/26/1561489441312.jpg

ছবি ২: ১৯৫৩ সালের ২৯ মে। সকাল সাড়ে এগারোটা। এভারেস্ট চুড় স্পর্শ করলো মানুষ, ছবি: সংগৃহীত 

 

১৯৫৩ সালের ২৯ মে। সকাল সাড়ে এগারোটা। প্রমবারের মত এভারেস্ট চুড়ো স্পর্শ করলেন দুই অভিযাত্রী: স্যার এডমন্ড হিলারি আর তেনজিং নোরগে।

প্রথমে শীর্ষভূমিতে পা রাখলেন এডমন্ড হিলারি। ঠিক তার পেছনেই তেনজিং নোরগে। পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্টে এই প্রথম মানুষের পদচিহ্ন অঙ্কিত হলো। ২৯ মে, ১৯৫৩।

অর্ধ-শতাব্দীরও বেশি সময়ে পৃথিবী বদলেছে অনেক। বদলেছে পর্বতাভিযানের নিয়ম-কানুনও। সাজ-সরঞ্জামও অনেক আরামদায়ক ও সুলভ হয়েছে। অথচ প্রথম বিজয়ের দিনগুলো ছিল অনেক বিরূপ। আত্মজীবনীতে সেসব কথা বলে গেছেন তেনজিং।

শিখর জয়ের জন্য সেদিন ২৭,৯০০ ফুট উচ্চতায় ৯ নম্বর শিবির থেকে ভোর সাড়ে ছ’টায় রওনা হয়েছিলেন হিলারি-তেনজিং জুটি। এখন তিন-চারটে শিবির যথেষ্ট। দিনে নয়, অ্যাডভান্সড ক্যাম্প থেকে সন্ধ্যায় বের হয়ে পরদিন সকালে শিখর ছোঁয়াই নিয়ম।

তেনজিংদের জয়ের খবর দুনিয়াকে জানাতে নিকটবর্তী নামচে বাজারের পোস্ট অফিসে টেলিগ্রাম করতে ছুটেছিল রানার। দিনে দিনে এতো বড় বিজয়ের খবর পায়নি পৃথিবীর মানুষ।

আর এখন? স্যাটেলাইট ফোনে এভারেস্ট-শীর্ষ থেকেই কথা বলা যায়।

কিছু ইতিহাস কিন্তু অটুট। যেমন খুম্বু অঞ্চলের হতদরিদ্র শেরপা সম্প্রদায়, যেখান থেকে তেনজিং উঠে এসেছিলেন। তাদের ভাষায় লিখিত বর্ণমালা নেই, পাহাড়ে মালপত্র বয়ে আর ইয়াক চরিয়ে জীবন কাটাতে হয় তাদের। বিংশ শতাব্দীতে তেনজিং-ই প্রথম এশিয়া থেকে উঠে-আসা নিম্নবর্গের নায়ক। তাঁর আগে কোন এশীয় বীর এত নিচু স্তর থেকে উঠে আসেননি।

সেই তেনজিং আরেকটি কাজ করলেন। পৃথিবীর সর্বোচ্চ শীর্ষে পৃথিবীর মানুষের বিজয় পতাকা উত্তোলন করে দু’জনে শিখরে কাটালেন মিনিট পনেরো। আবেগপ্রবণ তেনজিং বহু ব্যর্থতার পর বিজয় পেয়ে নিজের জীবনের এক কঠিন সিদ্ধান্ত নিলেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/26/1561489484360.jpg

ছবি ৩: মাউন্ট এভারেস্ট, ছবি: সংগৃহীত

 

তেনজিং শৈশব থেকে নিজের জন্মের তারিখটা পর্যন্ত সঠিক জানতেন না। যে পশ্চাৎপদ সমাজে তিনি জন্ম নিয়েছিলেন, সেখানে লেখালেখি বা ইতিহাস রক্ষার কোনও রেওয়াজই ছিল না। এভারেস্ট জয়ের পর ২৯ মে তারিখটাকেই তিনি জন্মদিন হিসেবে গ্রহণ করতেন।

এই অভিযানের পর সত্যিই তো এক নতুন তেনজিংয়ের জন্ম হয়েছিল পৃথিবীর বুকে। তাকেই বোধহয় মনে মনে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন তেনজিং। এভারেস্ট বিজয়কে নিজের জীবনের অংশ করে রেখেছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন: ১৬ বার ব্যর্থ হয়েছিলেন তেনজিং!

আরও পড়ুন: ইভেন-বরিলিয়ান আউট, হিলারি-তেনজিং ইন

তিতাসের এমডিসহ ৩ জনকে হাইকোর্টে তলব

তিতাসের এমডিসহ ৩ জনকে হাইকোর্টে তলব
হাইকোর্ট

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), মহাব্যবস্থাপক (জিএম), উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) এই তিনজনকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ২ জলুাই তাদের শরীরে হাজির হতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) বিচারপতি এস আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তা নিয়োগে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাস্তবায়ন না করায় একটি সম্পূরক আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট এ তলবের আদেশ দিয়েছেন।

এর আগে হাইকোর্ট তিতাসের কর্মচারী নিয়োগে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাস্তায়নের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তা অনুসরণ না করায় আদালত সম্পূরক আবেদন করেন। আদালতের আবেদনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যার্টনি জেনারেল এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

২০১৭ সালের ১৮ ডিসেম্বর তিতাসে ৭৯ জন কর্মকর্তা নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করে কর্তৃপক্ষ। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটায় নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিলেও চূড়ান্ত ফলে তাদের বাদ দেওয়া হয়। কোটা অনুসরণ করে নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে মো. রেজাউল করিমসহ ৮ জন ২০১৮ সালের ২০ নভেম্বর রিট দায়ের করেন।

রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ৩০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এর মধ্যে ৬৩ জনকে নিয়োগ দেয় তিতাস। গত ২ এপ্রিল আরো ১৭ জনকে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলে ক্ষুব্ধ রিট আবেদকারীরা হাইকোর্টে একটি সম্পূরক আবেদন করেন।

এই আবেদনের শুনানি করে হাইকোর্ট তিতাসের এমডিসহ ৩ জনকে তলবের আদেশ দেন।

আদালতে তিতাসের আইনজীবী জানান, ৩০ শতাংশ  কোটা সংরক্ষণ করেছে কর্তৃপক্ষ। রিটের আইনজীবীরা তার এই বক্তব্যে আপত্তি জানান। 

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র