Barta24

রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

বর্ষা শুরু হলেও রাজধানীতে ফোটেনি কদম ফুল!

বর্ষা শুরু হলেও রাজধানীতে ফোটেনি কদম ফুল!
গাছে নেই কদম ফুল, ছবি: বার্তা২৪
মবিনুল ইসলাম
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

বর্ষাকাল শুরু হলেও এবার ফোটেনি কদম ফুল। বিশেষ করে ঢাকার কোনো গাছে কদম ফুল ফুটতে দেখা যায়নি। এজন্য জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কদম, কদম্ব নামে গাছটি অধিক পরিচিত। এর বৈজ্ঞানিক নাম নিওলামারকিয়া কাদাম্বা (Neolamarckia cadamba)। এটি রুবিয়েসি (Rubiaceae) গোত্রের একটি উদ্ভিদ। এর অন্যান্য নাম বৃত্তপুষ্প, মেঘাগমপ্রিয়, কর্ণপূরক, ভৃঙ্গবল্লভ, মঞ্জুকেশিনী, পুলকি, সর্ষপ, ললনাপ্রিয়, সুরভি, সিন্ধুপুষ্প প্রভৃতি।

কদম বহু শাখা বিশিষ্ট বৃক্ষ জাতীয় উদ্ভিদ। বাংলাদেশ, ভারত, চীন ও মালয় এর আদি নিবাস।

কদম ফুল দেখতে বলের মতো গোলাকার। কদমের একটি পূর্ণ মঞ্জরীকে সাধারণত একটি ফুল মনে করা হলেও এটি অজস্র ফুলের সমাহার। এর একটি মঞ্জরীতে প্রায় আট হাজার ফুল বিন্যস্ত থাকে। কদম ফল মাংসল ও টক। এটি কাঠবিড়ালি ও বাদুড়ের প্রিয় খাদ্য। এর ঔষধি গুণও আছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/15/1560591223882.jpg
ফাইল ফটো

 

কদমকে বর্ষাকালের ফুল ধরা হয়। প্রতিবছর আষাঢ় মাসের পূর্বেই কদম ফুল ফুটতে দেখা যায়। কিন্তু এবার ব্যতিক্রম, ঢাকার কোনো কদম গাছে ফুল ফোটেনি বলে দাবি বিশেষজ্ঞদের।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘কদম ফুলকে বর্ষার ফুল হিসাবে ধরা হয়। আষাঢ় মাসের শুরুতেই গাছে গাছে কদম ফুলের সৌন্দর্য দেখতে পাওয়া যায়। কিন্তু এবার ঢাকায় তন্নতন্ন করে খুঁজেও কোনো কদম গাছে ফুল দেখা যায়নি।

কদম ফুল না ধরার কারণ হিসাবে জলবায়ু পরিবর্তনকে তিনি দায়ী করেন।

তিনি বলেন, ‘চৈত্র-বৈশাখে একবার স্বল্পমাত্রায় কদম ফুল ফুটে থাকে। তবে বর্ষার কদম ফুল ধরার জন্য আষাঢ়ের আগে যে পরিমাণ বৃষ্টিপাতের দরকার ছিল এবার তা হয়নি। তাছাড়া কদম ফুল ফোটার জন্য যে ধরনের আদ্রতা, তাপমাত্রা ও পরিবেশের দরকার ছিল, এবার তা অনুপস্থিত ছিল। ফলে এবার নির্ধারিত সময়ে কদম ফুল ফোটেনি।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/15/1560591262781.jpg
ফাইল ফটো

 

শনিবার (১৫ জুন) দুপুরে বার্তা২৪.কমের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় তিনি কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ে অবস্থান করছিলেন। তিনি দাবি করেন, এখানেও কোনো কদম ফুল তার চোখে পড়েনি।

ড. জসীম দাবি করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অন্যান্য ফুলের সিজনও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। শিমুল ও পলাশ বসন্তকালের ফুল হলেও এবার শীতকালেই শিমুল পলাশ দেখতে পাওয়া গেছে।

এছাড়া জারুল ও গামারী ফুলকে শীতকালে দেখা গেছে বলে তিনি দাবি করেন। এটিকে একটি দুঃসংবাদ বলে আখ্যায়িত করেন তিনি।

তবে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, আগামী ১০/১২ দিনের মধ্যেই ঢাকার কদম গাছগুলো ফুলে ফুলে ভরে উঠবে।

আপনার মতামত লিখুন :

৫০ বছর আগের এই দিনে চাঁদে পা রেখেছিল মানুষ

৫০ বছর আগের এই দিনে চাঁদে পা রেখেছিল মানুষ
ছবি: সংগৃহীত

আজ থেকে পঞ্চাশ বছর আগে চাঁদে পা রেখেছিল মানুষ। আমেরিকার মহাকাশচারী নিল আর্মস্ট্রং ও বুজ অ্যালড্রিন প্রথম মানুষ, যারা এই ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন।

চাঁদের পৃষ্ঠে প্রথম অবতরণ করেন নিল আর্মস্ট্রং। এরপর বুজ অ্যালড্রিল। তাদের সঙ্গী ছিলেন মাইকেল কলিন্স। তবে তিনি চাঁদের পৃষ্ঠে না নেমে নভোযানে অবস্থান করেন।

১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই ‘ঈগল’ নামক এক চন্দ্রতরীতে করে তারা প্রথম চাঁদে অবতরণ করেন। নিল আর্মস্ট্রং চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণ করে বলেছিলেন, "That's one small step for man, one giant leap for mankind." (মানুষের ক্ষুদ্র এই পদক্ষেপটি মানব সভ্যতাকে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে গেল।)

Moon

চাঁদে মানুষ পাঠানো নিয়ে আমেরিকা ও তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে ছিল মর্যাদার লড়াই। ১৯৫৭ সালে স্পুটনিক নামক কৃত্রিম উপগ্রহ প্রথম মহাকাশে পাঠায় রাশিয়া। এতে চন্দ্র জয়ের দৌড়ে এগিয়ে যায় দেশটি।

এরপর ১৯৬৬ সালে রাশিয়ার লুনা-৯ নামক উপগ্রহ চাঁদে সফট ল্যান্ডিং করে। এর দুইমাস পর লুনা-১০ নামক আরেকটি উপগ্রহ চাঁদের কক্ষপথে সফলভাবে স্থাপন করে রাশিয়া। তারা চন্দ্রজয়ের কাছাকাছি পৌঁছে গেলেও মানুষ পাঠানোর মতো প্রযুক্তি তখনও তারা অর্জন করতে পারেনি। এছাড়া অর্থনৈতিক দুরাবস্থার কারণে তাদের মহাকাশ অভিযান বাধাপ্রাপ্ত হয়।

Moon

এরমধ্যে ১৯৬৮ সালে মহাকাশ গবেষণায় বড় সাফল্য অর্জন করে যুক্তরাষ্ট্র। তারা মহাকাশে অ্যাপোলো-৮ নামে মানুষ বহানকারী একটি যান মহাকাশে পাঠায়। সেটি চাঁদের কক্ষপথে সফলভাবে প্রদক্ষিণ করে নিরাপদে ফিরে আসে।

তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই মহাকাশযান অ্যাপোলো-১১ তে চড়ে চাঁদে প্রথম অবতরণ করেন নিল আর্মস্ট্রংরা।

পাখি ও আলোর জীবনী : প্রাচ্যচিন্তার দুই চিন্তক

পাখি ও আলোর জীবনী : প্রাচ্যচিন্তার দুই চিন্তক
আব্বাস ইবনে ফিরনাস : যিনি প্রথম পাখি হয়েছিলেন

জ্ঞানচর্চার জাত-ধর্ম হয়না।
‘Mankind: The Story Of All Of Us’—বেশ পরিচিত। মানুষের ইতিহাস নিয়ে আমেরিকান সিরিজ। মজার ব্যাপার হলো, স্পেনের এক ভদ্রলোককে নিয়ে আছে লম্বা বয়ান। যেখানে ইসলামের নবী মুহম্মদকে নিয়ে বলা হয়েছে খুবই অল্প। ভদ্রলোকের নামে কর্ডোবাতে ব্রিজেরও নামকরণ করা হয়েছে। আরো বড় কথা, চাঁদে একটা ক্রেটারের নাম তাঁর নামে। বলা বাহুল্য, ক্রেটার হলো গ্রহের পৃষ্ঠতলে বিস্ফোরণ, উল্কাপতন কিংবা মহাকাশীয় বস্তুর আঘাতে সৃষ্ট গহ্বর। ভদ্রলোকের নাম আব্বাস ইবনে ফিরনাস।

নবম শতক। স্পেনে মুসলিম সভ্যতার স্বর্ণযুগ। কর্ডোবার এক জ্ঞানী ব্যক্তিকে দেখা গেল পাখা বানাতে। পাখির ওড়ার কৌশল তাঁকে প্রভাবিত করেছিল। প্রস্তুতি শেষ হলো। মানুষকে অবাক করে উঠলেন উঁচু টাওয়ারে। তারপর দিলেন লাফ। মৃত্যু হতে পারত কিন্তু হলো না। বরং সফলভাবেই উড়লেন একরকম। শুধু ল্যান্ড করার সময় পড়ে গিয়ে আহত হলেন। কারণ লেজের ধারণায় ত্রুটি ছিল। বেশকিছু হাড় ভাঙল। ততক্ষণে রচিত হয়েছে প্রথম মানব হিসেবে উড্ডয়নের ইতিহাস। সেই আব্বাস ইবনে ফিরনাস। বুঝলেন, পাখির মতো একটা লেজ না হলে ল্যান্ডিং সমস্যা ঘুচবে না। যতদিন বেঁচে ছিলেন, কাজ করেছেন এ নিয়ে।

ওড়ার জন্য পাখা তৈরিতে ফাঁপা কাঠ ব্যবহার করেছিলেন বলে জানা যায়। ইবনে ফিরনাস সম্পর্কে লিখেছেন ঐতিহাসিক মুহম্মদ আল মাক্কারি। তৎকালীন কর্ডোবার শাসক প্রথম মুহম্মদের (মৃ.-৮৮৬) দরবারি কবি মুমিন ইবনে সাইদ লিখেছিলেন, “ফিরনাস যখন শকুনির পালক পরে, তখন ফিনিক্সের চেয়েও দ্রুতবেগে উড়তে পারে।” আরমেন ফিরম্যান বলে ল্যাটিন যে নামটা মধ্যযুগের ইউরোপেও ছিল, তা ইবনে ফিরনাসেরই বলে ধরা হয়।

তবুও তাঁর কাজ শুধুমাত্র এটাই ছিল না। একটা চেইন রিংয়ের ডিজাইন করেছিলেন, যার দ্বারা গ্রহ-নক্ষত্রের গতি অবিকৃতভাবে উপস্থাপিত হতো। মাকাতা নামে জলঘড়ির আবিষ্কার করেন। ম্যাগনিফাইং গ্লাস বলে যা আজ পরিচিত, তা অনেকটা তাঁর হাত ধরেই আসে। আগে মিশর থেকে কোয়ার্টজ আমদানি করা হতো স্পেনে। ইবনে ফিরনাস ‘রক ক্রিস্টাল’ কাটার পদ্ধতির অগ্রগতি ঘটিয়ে এ থেকে মুক্তি দেন। তাঁর পরিচয়ে বলা হয়—প্রকৌশলী, রসায়নবিদ, চিকিৎসাবিজ্ঞানী, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, দার্শনিক, কবি এবং সংগীতজ্ঞ।

‘Cosmos: A spacetime Odyssey’—পণ্ডিতি ধাঁচের আরেক পশ্চিমা ডকুমেন্টারি সিরিজ। প্রভাবশালী এস্ট্রোফিজিসিস্ট কার্ল সেগানের Cosmos থেকে উদ্ভূত। অনুরূপ জ্যাকব ব্রনস্কির The ascent of man। সেকুলার বয়ান। তবু উভয়ক্ষেত্রেই এসেছে প্রাচ্যের এক আলোকবিজ্ঞানীর নাম। নিউটন, আইনস্টাইন, কোপার্নিকাস কিংবা হাবলের আলোচনা করার সাথে। চাঁদের একটা ক্রেটারের নাম দেওয়া হয়েছে তাঁর নামেও। ভদ্রলোকের নাম ইবনে আল হাইথাম বা আলহাজেন। জন্ম ৯৬৫ আর মৃত্যু ১০৪০ খ্রিস্টাব্দে। বসরায় জন্ম নেওয়া কায়রোয় বসবাসকারী এই পণ্ডিতের সম্পর্কে প্রাচ্যবাসী প্রায় অনেক কিছু জানে না।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563620749290.jpg

ইবনে আল হাইথাম: আলোকবিজ্ঞানের ইতিহাসে এক চিন্তক ◢

 

মরুভূমিতে একবার তাবু তৈরি করলেন তিঁনি। এমন আবদ্ধ যে ভেতরটাতে কোনো আলো আসতে না পারে এবং বাতি বন্ধ করলে যেন ঘুটঘুটে অন্ধকার তৈরি হয়। তাবুর দেয়ালের একপাশে রাখা হলো সূক্ষ্ম একটা ফুটো। বাতি বন্ধ করে দিলে দেখা হলো অদ্ভুত কাণ্ড। ফুটো দিয়ে আলো প্রবেশ করছে। প্রবেশ করা আলোর গতিপথ সরল। এবং আলো আপতিত হয়ে উল্টো বিম্ব তৈরি করে। এই একটা পরীক্ষা দিয়ে আল হাইথাম ভুল প্রমাণ করে দিলেন তার পূর্ববর্তী ধারণাকে। প্রতিষ্ঠিত করলেন আলোর গতি, ধর্ম ও ক্যামেরার ধারণা। এইখানেই শেষ না। নিউটনের কয়েকশো বছর আগে হাইথামের লেন্স নিয়ে কাজের পাণ্ডুলিপি আজও ইস্তাম্বুলে বিদ্যমান।

আলো এবং জ্যোতির্বিজ্ঞান খুব সম্ভবত তার প্রিয় বিষয় ছিল। অধিকন্তু ক্যালকুলাস, সংখ্যাতত্ত্ব, জ্যামিতি ও জ্ঞানের অন্যান্য শাখায় তার অবদান ব্যাপক। বায়হাকি তাকে দ্বিতীয় টলেমি বলে স্বীকৃতি দেন। তার কিতাবুল মানাজির ল্যাটিনে অনুদিত হয়েছে ত্রয়োদশ শতকেই। বইটি সম্পর্কে ভালো ধারণা ছিলো বেকন, গ্যালিলিও, কেপলার, দেকার্তে, লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি এবং রেনেসাঁসের অন্যান্য পণ্ডিতের।

মানুষের চোখের গঠন সংক্রান্ত তার তত্ত্ব ছিল রীতিমতো বৈপ্লবিক। ইস্তাম্বুলে রক্ষিত কিতাবুল মানাজিরের প্রথম খণ্ডে বিধৃত। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিঁনি বলেন—The duty of the man who investigates the writings of scientists, if learning the truth is his goal, is to make himself an enemy of all that he reads, and ... attack it from every side. He should also suspect himself as he performs his critical examination of it, so that he may avoid falling into either prejudice or leniency.৷ — আল হাইথাম।

খুব সম্ভবত একারণেই Matthias Schramm আল হাইথামকে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সত্যিকার স্থপতি বলতে চান।

জ্ঞানচর্চায় প্রাচ্যের পতন ঘটেছে অনেক আগে। ধ্বংসস্তূপ থেকে বের হয়ে এসে ইবনে হাইথাম কিংবা আব্বাস ইবনে ফিরনাসেরা ঠিকই পাশ্চাত্য জ্ঞানচর্চায় আলোচিত হয়। জ্ঞানের কোনো জাত-কাল-ধর্ম নেই। কেবল হয় না প্রাচ্য সমাজে। একসময় যেখানে বায়তুল হিকমা ছিল, আজ সেখানে গৃহযুদ্ধের গন্ধ। একসময় যারা গ্রহ নক্ষত্রের গতিপথ নিয়ে তত্ত্ব কপচিয়েছে। আজ তাদের বংশধর ঘর হারিয়ে ঘুরছে পথে। ইতিহাস খুবই নির্মম। বিশেষ করে তাদের প্রতি, যারা তাদের শিকড় ভুলে যায়।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র