বিরল উদ্ভিদ ‘টক পেয়ারা’

মবিনুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
টক পেয়ারা/ ছবি: অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন

টক পেয়ারা/ ছবি: অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন

  • Font increase
  • Font Decrease

এটির স্বাদ টক বলে সাধারণত একে ‘টক পেয়ারা’ বলা হয়। স্থানীয়ভাবে এটিকে ডাকা হয় বিলাতি পেয়ারা। বিলেতের সাহেবরা শতবর্ষ পূর্বে এটি লাগিয়েছিলেন বলেই হয়ত এমন নামকরণ। বাংলাদেশে এটি বিপন্ন না হলেও ‘বিরল উদ্ভিদ’ হিসেবে চিহ্নিত। বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলার একমাত্র লালমাই পাহাড়েই সাধারণত এদের দেখতে পাওয়া যায়।

টক পেয়ারা গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ। মিরটাসি (Myrtaceae) গোত্রের সপুষ্পক উদ্ভিদটির বৈজ্ঞানিক নাম সিডিয়াম গুইনেনসি (Psidium guineense)। কাণ্ড তামাটে বাকলবিশিষ্ট, যা পাতলা ও ছোট টুকরা হয়ে উঠে যায়। পাতা সবুজ। পাতার উপরের তল মসৃণ হলেও নিম্নতল অমসৃণ, খাঁজযুক্ত ও রোমশ। পাতার শিরাগুলি সুস্পষ্ট।

উদ্ভিদটি তিন মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। ফুল সাদা, একক বা গুচ্ছাকারে জন্মে। পাপড়ি পাঁচটি, ফুল ‍সুগন্ধযুক্ত। এটির ফল ছোট আকৃতির। সাধারণত ৪০ থেকে ৫০ গ্রাম হয়ে থাকে। সাধারণত এপ্রিল-মে মাসে গাছে ফুল আসে। বর্ষাকালে ফল পাকতে দেখা যায়। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা থেকে মেক্সিকো ও আমেরিকা পর্যন্ত এটির বিস্তৃতি দেখা যায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘বর্তমান সময়ে এটি বিপন্ন না হলেও বিরল উদ্ভিদ হিসেবে প্রতীয়মান। এটি একসময় শুধু কুমিল্লার লালমাই পাহাড়েই দেখা যেত। কিন্তু ৩০ থেকে ৪০ বছর আগে সেখান থেকে চারা এনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেনে সংরক্ষণ করা হয়। এছাড়া সম্প্রতি কুমিল্লা বোটানিক্যাল গার্ডেনের চারপাশে বেড়া দেওয়ায় ‍উদ্ভিদটি পুনরুজ্জীবিত হয়েছে। গাছে ব্যাপক ফুল ও ফল এসেছে। তাই বলা যায় উদ্ভিদটি হয়তো বিলুপ্ত হবে না।’

ড. জসীম বলেন, ‘উদ্ভিদটি ১৫০ থেকে ২০০ বছর আগে বাংলাদেশে প্রাকৃতিককৃত হয়। সেই সময় ব্রিটিশরা হয়েতো বিদেশ থেকে উদ্ভিদটি এনে এখানে লাগিয়েছিলেন। ফলে তাকে স্থানীয়ভাবে বিলাতি পেয়ারা নামেও ডাকা হয়। ফলটির বাণিজ্যিক মূল্য না থাকায় এর বিস্তার ঘটেনি। তবে এর কিছু ঔষধি গুণ আছে। এছাড়া উদ্ভিদটির ফুল গুচ্ছাকারে ধরে বিধায় এ বৈশিষ্টটি অন্য জাতের পেয়ারায় ক্রস করে অধিক উৎপাদনশীল পেয়ারা উদ্ভাবন করা যায়।’

তিনি বলেন, ‘ব্রাজিলে উদ্ভিদটির বাকল ও শেকড়ের রস ডায়রিয়া নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া কোস্টারিকায় এর পাতার রসকে ঠাণ্ডা লাগা রোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

ড. জসীম আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে এর ঔষধি গুণাগুণ পরীক্ষা করে উদ্ভিদটির চাষ বৃদ্ধি করা যেতে পারে। দিন দিন যেভাবে বন-জঙ্গল উজাড় হয়ে যাচ্ছে এখনই সংরক্ষণের উদ্যোগ না নিলে হয়তো একসময় উদ্ভিদটি বিলুপ্ত হয়ে যাবে।’

পেয়ারার এ বিরল প্রজাতিটি রক্ষায় দেশের বিভিন্ন জেলার হর্টিকালচার সেন্টার ও লাইভ জিন ব্যাংকে উদ্ভিদটি সংরক্ষণের পরামর্শ দেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :