১৬ বার ব্যর্থ হয়েছিলেন তেনজিং!

ড. মাহফুজ পারভেজ, কন্ট্রিবিউটিং এডিটর, বার্তা২৪.কম
১৬ বার ব্যর্থ হয়েছিলেন তেনজিং/ ছবি: সংগৃহীত

১৬ বার ব্যর্থ হয়েছিলেন তেনজিং/ ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

অসংখ্য অভিযান ব্যর্থ হওয়ার পর পৃথিবীর বিশালাকায় পর্বত হিমালয়ের শীর্ষ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট মানুষের পদানত হয় ১৯৫৩ সালের মে মাসে। পুরো মে মাস হিমালয়ে অভিযান চালিয়ে অবশেষে আসে চূড়ান্ত বিজয়। তারও এক বছর আগে অভিযাত্রী দলকে নিতে হয় প্রস্তুতি ও অন্যান্য কার্যক্রম। প্রথম এভারেস্ট বিজয়ের মাধ্যমে সফল হয় এক বছর মেয়াদী হিমালয় অভিযান। মানব ইতিহাসে লিপিবদ্ধ হয় সাফল্যের ইতিহাস।

স্বয়ং শেরপা তেনজিং নোরগে ১৬ বার ব্যর্থ হয়েছিলেন এভারেস্ট বিজয়ের অভিযানে। ব্যর্থ হয়েও অদম্য ছিলেন তিনি। ১৯৫২ সালে আরেকটি অভিযানের প্রস্তুতির কথা জেনে এগিয়ে আসেন তিনি। এ অভিযানকে তিনি গ্রহণ করলেন নিজের জীবনে এক চরম পরীক্ষা রূপে।

১৯৫২ সালে শুরু হওয়া যে অভিযানে ১৯৫৩ সালের মে মাসে হিলারি ও তেনজিং এভারেস্ট জয় করেন, সেই দলের নেতা ছিলেন ব্রিটিশ অভিযাত্রী কর্নেল এইচ সি জন হান্ট। তার নেতৃত্বে এভারেস্ট অভিযানের প্রস্তুতি চলছে জেনে তেনজিং ঘরে বসে থাকতে পারেন নি। কথাগুলো তিনি নিজেই জানিয়েছেন আত্মজীবনীতে।

তেনজিংয়ের জীবনে এটি ১৭তম এভারেস্ট অভিযান হলেও দলের অনেকেরই ছিল প্রথম অভিজ্ঞতা। চারশো সদস্যের এই অভিযানে ছিলেন ৩৮২ জন মালবাহক এবং ২০ জন শেরপা। এই দলের সদস্য ছিলেন এডমন্ড হিলারি, পরবর্তীতে এভারেস্টের অন্যতম বিজয়ী হিসাবে স্যার উপাধি প্রাপ্ত।

অভিযাত্রী দলে হিলারি ও তেনজিংয়ের জুটিটি তৈরি হয়েছিল চরম নাটকীয়ভাবে। বলা যায়, ভাগ্যের টানেই এই দুইজন কাছকাছি এসেছিলেন। হয়ত ভাগ্যের নির্দেশে চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের জন্যই অচেনা দুই জন নিবিড় সঙ্গী ও স্বজনে পরিণত হন অভিযাত্রার দিনগুলোতে।

১৯৫৩ সালের মে মাসে হিলারি ও তেনজিং এভারেস্ট জয় করেন/ ছবি: সংগৃহীত
১৯৫৩ সালের মে মাসে হিলারি ও তেনজিং এভারেস্ট জয় করেন/ ছবি: সংগৃহীত

 

ঘটনাটি ছিল এই যে, অভিযান চলাকালীন একটা দুর্ঘটনায় হিলারি হঠাৎ বরফখাদে পড়ে যান। কিন্তু উপস্থিত বুদ্ধি ও দ্রুত প্রচেষ্টায় মৃত্যুর গহ্বর থেকে হিলারিকে ফিরিয়ে আনেন পর্বতারোহণে অভিজ্ঞ তেনজিং।

তেনজিংয়ের তড়িৎ-সাহসী পদক্ষেপে প্রাণে বাঁচেন হিলারি। সেদিন থেকে তেনজিংয়ের প্রতি চির কৃতজ্ঞ ছিলেন হিলারি। এরপর থেকে হিলারি-তেনজিং একই দড়িতে ক্লাইম্বিং পার্টনার হিসেবে নতুন উদ্যমে অভিযান শুরু করলেন। ফল হলো অভিযান শেষে কাঙ্ক্ষিত বিজয়।

আশাবাদী অভিযাত্রী এগিয়ে চলেন দুর্গম হিমালয়শৃঙ্গ পানে/ ছবি: সংগৃহীত
আশাবাদী অভিযাত্রী এগিয়ে চলেন দুর্গম হিমালয়শৃঙ্গ পানে/ ছবি: সংগৃহীত

 

১৯৫৩ সালের শুরুর দিকে এভারেস্ট অভিযানের বেস ক্যাম্প তৈরি হয় বরফ খাদে ভরা খুম্বু হিমবাহের নিচে। শুরু হয় পরবর্তী অভিযানের ক্যাম্প তৈরির কাজ। প্রায় এক হাজার পাউন্ডের মালপত্র নিয়ে মালবাহকরা ধীরে ধীরে এভারেস্টের দিকে এগোতে থাকেন। অধরা এক শৃঙ্গকে মানুষের পদানত করার অনেক ব্যর্থ অভিযানের মতো না হয়ে এটি যে সফল হবেই, দলের কেউ তা ঘূর্ণাক্ষরেও ভাবতে পারেন নি।

বিশেষত হিমালয়ের বিরূপ আবহাওয়ার ভেতর শৃঙ্গ জয়ের আশাবাদী আলো খুবই কম দেখতে পেয়েছিলেন দলের সদস্যরা। এমনকি, তুষারঝড়ে পর্বত আর শৃঙ্গকেও দেখাচ্ছি ঝাপসা এবং অস্পষ্ট। তবুও একদল আশাবাদী অভিযাত্রী অতীতের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে পায়ে পায়ে এগিয়ে চলেন দুর্গম হিমালয়ের গিরি-কন্দর পেরিয়ে শীর্ষ শৃঙ্গের দিকে।

আপনার মতামত লিখুন :