এক মুজিব লোকান্তরে, লক্ষ মুজিব ঘরে ঘরে

ড. মাহফুজ পারভেজ, কন্ট্রিবিউটিং এডিটর, বার্তাটোয়েন্টিফোর. কম
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

  • Font increase
  • Font Decrease

পনের আগস্ট, ১৯৭৫ সাল। মানব ইতিহাসের নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডে সপরিবারে নিহত হন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাঙালি জাতি হারায় তার শ্রেষ্ঠতম সন্তান, স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের মহানায়ককে।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে রক্তাক্ত পনের আগস্টে জাতির অস্তিত্বে ঘাতক-ষড়যন্ত্রকারীরা হানে চরম আঘাত। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতার মর্মবাণী হয় ভূলুণ্ঠিত। নতুন, উদীয়মান, সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে করা হয় ব্যাহত। বাংলাদেশের অগ্রগতিকে পেছন দিকে চালিত করা হয়। গণতন্ত্র, সমানাধিকার, ধর্মনিরপেক্ষতা, মুক্তিযুদ্ধের শাশ্বত চৈতন্যকে চরমভাবে ক্ষত-বিক্ষত করা হয়।      

ঘৃণ্য ও কাপুরুষোচিত হত্যাকাণ্ডের পেছনে ছিল দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র। যারা ছিল বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম ও স্বাধীনতার শত্রু, তারাই সম্মিলিতভাবে আঘাত হানে বাঙালি জাতির সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ নেতা বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে। ঘাতকরা চেয়েছিল বাঙালির গৌরবময় সংস্কৃতি, উদার রাজনৈতিক মতাদর্শ ও স্বাধীন অস্তিত্বকে বিপন্ন করতে। তারা চেয়েছিল বাংলাদেশ থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে দিতে।

আরও পড়ুন: বঙ্গবন্ধু চিরকালের, সব মানুষের অনন্ত অনুপ্রেরণা

কিন্তু অস্ত্র ও ষড়যন্ত্রের বলে বাঙালি জাতিকে অবদমিত করে রাখতে পারেনি ঘাতকরা। সমগ্র জাতি কেঁদে একাকার হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর জন্য। মহান নেতার নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি গড়ে তুলেছিল প্রতিবাদ। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের জন্য জাতি বছরের পর বছর চালিয়ে যায় আন্দোলন ও সংগ্রাম। বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতীয় দাবির ভিত্তিতে অবশেষে সম্পন্ন হয় বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার। জাতি কলঙ্কমুক্ত হয় বহু বছর পর।  

পঁচাত্তরের পনের আগস্ট যে অশুভ শক্তির প্রতিনিধি নরপশুর দল কাপুরুষের মতো এসেছিল রাতের আঁধারে এবং সপরিবারে বাংলাদেশের স্থপতিকে হত্যা করে মুছে দিতে চেয়েছিল বঙ্গবন্ধুর নাম, সেই কুখ্যাত ঘাতক চক্র নিক্ষিপ্ত হয়েছে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে।জাতির ঐক্য ও প্রতীতিতে ঘাতক-ষড়যন্ত্রীদের অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। পনের আগস্টের শোকাবহ দিনে সমগ্র জাতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছে মহাকালের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।

এক মুজিব লোকান্তরে বাংলার ঘরে ঘরে জন্ম নিয়েছেন লক্ষ মুজিব। বাংলাদেশ ও বাঙালির কাছে বঙ্গবন্ধু হয়ে আছেন এক অনিঃশেষ প্রেরণার নাম। রাষ্ট্র নির্মাণ ও জাতি গঠনের প্রতিটি লগ্নে মিশে আছেন তিনি। শোষিত-বঞ্চিত বাঙালির মুক্তিদূত হয়ে তিনি আছেন জাতির ইতিহাসের প্রতিটি পর্যায়ে। সমগ্র জাতিকে নিয়ে তিনি এক জাতীয় প্রতীক রূপে রাজনৈতিক মহাপুরুষের অমোঘ অস্তিত্বে মুক্তির নৌকা বেয়ে চলেছেন বাংলাদেশের স্বনির্ভর-আলোকিত মহাযাত্রা পথে।

পাকিস্তানি দুঃশাসনের শৃঙ্খল তিনি ভেঙেছেন। বাঙালি জাতিকে পৌঁছে দিয়েছেন স্বাধীনতার স্বর্ণ শিখরে। আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশকে সোনার বাংলায় রূপান্তরে পথে সংগ্রাম শুরু করেছিলেন তিনি। কিন্তু দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারীরা বাঙালি জাতির মহানায়ককে হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করেছে। ঘাতকরা বাংলাদেশ থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম ও নিশানা মুছে দিতে চেয়েছে। জাতির পিতাকে নির্মমভাবে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে কাঁদিয়েছে পুরো জাতিকে। কৃতজ্ঞ বাঙালি জাতি শত ষড়যন্ত্রেও ভুলেনি মহানায়ক বঙ্গবন্ধুকে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শিক সৈনিক হয়ে প্রতিটি বাঙালি এগিয়ে চলেছে তার স্বপ্ন সফলের প্রত্যয়ে।

আরও পড়ুন: ‘রাত্রির চেয়েও অন্ধকার ছিল সেই অভিশপ্ত দিন’

জাতির অস্তিত্বের মর্মমূলে মিশে আছে যে নাম, যে নাম জাতির সকল গৌরব ও অর্জনের আলোকশিখা, তা কোনো দিন মুছে যাবে না। বাংলাদেশের সকল অর্জন ও বিজয়ে অনিবার্যভাবে উচ্চারিত হবে বঙ্গবন্ধুর অবদান। বাঙালি জাতিসত্তার চেতনাপ্রবাহে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন, আছেন, থাকবেন।

যত দিন বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতি পৃথিবীর বুকে থাকবে, ততদিনই জাতীয় ধ্বনি 'জয় বাংলা'র পাশাপাশি উচ্চারিত হবে 'জয় বঙ্গবন্ধু' স্লোগান। এক মুজিব লোকান্তরে লক্ষ মুজিব জন্ম নিয়েছেন শ্যামলা বাংলার ঘরে ঘরে। বাংলা মায়ের কোলে মুক্তিদূত হয়ে মুজিব ফিরে আসবেন বার বার। মুজিব বেয়ে যাবেন জনগণের প্রাণের নৌকা। নির্যাতিত, নিপীড়িতের মুক্তির সংগ্রামে মতাদর্শিক মহানেতা হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব জাতিকে শোনাবেন স্বাধীনতা ও সমৃদ্ধির মহামন্ত্র। বাংলাদেশ ও বাঙালির ইতিহাসে আলোকবর্তিকা রূপে অমর ও অক্ষয় হয়ে থাকবেন তিনি।

পনের আগস্টের শোকাবহ দিনে জাতির স্থপতি  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি বার্তাটোয়েন্টিফোরের অসীম শ্রদ্ধা। 

আপনার মতামত লিখুন :