Barta24

শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬

English

এরশাদের ‘আমার জীবনের অবশিষ্ট অধ্যায়’

এরশাদের ‘আমার জীবনের অবশিষ্ট অধ্যায়’
‘আমার কর্ম আমার জীবন’ বইয়ের প্রচ্ছদে এরশাদ/ছবি: সংগৃহীত
সেরাজুল ইসলাম সিরাজ
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

কারমাইকেল কলেজের আটশ’ মিটার দৌড় প্রতিযোগিতায় অন্যরা যখন সাতশ’ মিটার শেষ করেছিলেন। একই সময়ে তিনি শেষ করেছিলেন আটশ’ মিটার, দর্শকদের মধ্যে যারা অমনোযোগী ছিলেন, তারা কেউ কেউ আসলে কয়শ’ মিটার হলো তা নিয়ে দ্বিধায় পড়ে গিয়েছিলেন।

বলছিলাম সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কলেজ জীবনের কথা। কারমাইকেল কলেজের এক পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে খোদ এরশাদই তার বক্তৃতায় বিষয়টি সামনে এনেছিলেন।

অর্থাৎ তার গতির ধারের কাছেও কেউ থাকতে পারতেন না। শিক্ষা জীবন এমনকি পেশাগত জীবনেও তার সাফল্য আকাশ ছোঁয়া। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগদান করে ধাপে ধাপে শীর্ষপদে পৌঁছে যান। রাষ্ট্রের শীর্ষপদেও আসীন হন, ছিলেন টানা নয় বছর। এরপর ক্ষমতাচ্যূত হয়ে জেলে থেকে পাঁচটি আসনে বিজয়ী হয়ে রেকর্ড করেন। এখনও পর‌্যন্ত কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি তিনি। যা বাংলাদেশ তথা বিশ্বেও বিরল।

নব্বই পেরিয়ে বয়সের ভারে অনেকটাই ন্যুব্জ হয়ে পড়েছেন। গত ডিসেম্বর মাস থেকে হাসপাতাল-বাসার মধ্যে আবদ্ধ তার জীবন। কয়েক মাস হলো হাটাচলা করতে পারেন না। এখন নাকি ঠিক মতো হাতও চলে না। অনেক সময় অন্যের সহায়তায় খাবার খেতে হচ্ছে। ক্ষুধামন্দা নাকি বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি নিজেও এখন পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছেন।

জীবনের সায়াহ্নে এসে শেষ করে যেতে চান তার জীবন আলেখ্য। অবশ্য প্রথম খণ্ড ২০১৬ সালে প্রকাশিত হয়েছে। ‘আমার কর্ম আমার জীবন’ গ্রন্থে স্থান পেয়েছে তার বেড়ে ওঠা, স্কুল জীবন, সেনাবাহিনীতে প্রবেশ, রাষ্ট্রপতি হওয়া, ক্ষমতা হস্তান্তরের পর জেলে যাওয়া এবং জেল থেকে মুক্তি পর‌্যন্ত। ৮৬৪ পৃষ্ঠার বইটিতে অনেক অজানা তথ্য তুলে ধরেছেন।

প্রথম বইয়ে প্রেয়সীর নাম প্রকাশ না করলেও অকপটে স্বীকার করেছেন তার প্রথম প্রেম পত্রের অনুভূতি। সেই চিঠির ভেতরে থাকা গোলাপের পাপড়ির ঘ্রাণ। চিঠির সেই প্রেয়সীর প্রতি আকর্ষণের কারণে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু সাড়া না মেলায় বেশিদূর এগুতে পারেননি। অকপটে তুলে ধরেছেন তার সেসব অনুভূতির কথা।

আবার জীবনে প্রথম অন্যের টাই পরে চাকরির ইন্টারভিউ দেওয়া, চাকরিতে যোগদান, রওশনের বাবার সঙ্গে টেনিস খেলা থেকে কীভাবে পরিণয়, সবই তুলে এনেছেন তার প্রথম বইয়ে।

এবার হাত দিয়েছেন জীবনের অবশিষ্ট দিনগুলোর কাহিনী বই আকারে তুলে আনতে। বইয়ের নাম দেওয়া হয়েছে, ‘আমার জীবনের অবশিষ্ট অধ্যায়’। এতে স্থান পেয়েছে জেল থেকে বের হওয়ার পর তার রাজনীতি, বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রেক্ষাপট। থাকছে নানা রকম ঘটনা প্রবাহ ও জাতীয় পার্টির ভাঙা-গড়ার আখ্যান।

হুসেইন মহুম্মদ এরশাদের প্রেস ও পলিটিক্যাল সেক্রেটারি সুনীল শুভরায় বইটির অনুলিখন করেছেন। এরশাদের দীর্ঘ সময়ের এ সহযোগী বার্তা২৪.কমকে বলেন, বইটির কম্পোজ শেষ, এখন শেষ পর্যায়ের কাজ দেখা হচ্ছে। ঈদের আগেই প্রকাশ করার চেষ্টা চলছে। আগের বইটিও আকাশ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়। এবারও কাজটি করছে আকাশ প্রকাশনী।

কি কি স্থান পাচ্ছে বইটিতে, এমন প্রশ্নের জবাবে সুনীল শুভরায় বলেন, জেল থেকে মুক্তির পর ২০১৮ সালের নির্বাচন পর‌্যন্ত। অনেক অজানা সত্য জানতে পারবে পাঠক। তবে এরপরও কিছু সেন্সর থেকেই যায়। কারণ সব কথা বলা সম্ভব হয় না।

পৃষ্ঠা সংখ্যা আগের বইটির মতোই হতে পারে। আগের বইটিতে অনেক ছবি ব্যবহৃত হলেও এবার ছবি থাকছে না বলে জানান সুনীল শুভরায়।

অপর একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। কীভাবে জাতীয় পার্টিকে ভাঙা হয়েছে। তার দলের সদস্যের মন্ত্রিসভায় থাকা না থাকার বিষয়। এরশাদ কি চেয়েছিলেন আর কি হয়েছে। অনেকখানি খোলাসা করার চেষ্টা হয়েছে।

বইটির প্রচ্ছদে এরশাদের কোট টাই পরা পোর্টেট ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। আর পেছনের প্রচ্ছদে থাকছে গোধুলীলগ্নে চিন্তামগ্ন এরশাদের সাদাকালো ছবি।

আপনার মতামত লিখুন :

নারী ও শিশু অধিকার রক্ষায় বিএনপির নতুন সংগঠন

নারী ও শিশু অধিকার রক্ষায় বিএনপির নতুন সংগঠন
বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন

নারী ও শিশু অধিকার রক্ষায় নতুন একটি সংগঠন গঠন করেছে বিএনপি। ‘নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম’ নামে নবগঠিত এ সংগঠনের আহ্বায়ক করা হয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমানকে।

শুক্রবার (২৩ আগস্ট) সকালে রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সেলিমা রহমান বলেন, এটা একটি সামাজিক সংগঠন। বিএনপি গণতান্ত্রিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ রাজনৈতিক দল, সামাজিক অধঃপতনের অরাজক পরিস্থিতির সময় নির্বিকার বসে থাকতে পারে না। খুন-ধর্ষণের পৈশাচিক বিকৃতি আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজকে গ্রাস করে ফেলেছে। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে রাষ্ট্র ও সমাজের সর্বত্র ঘৃণা ছড়ানোর ফলে ক্ষমতাঘনিষ্ঠ সমাজবিরোধীরা আশকারা পাচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশব্যাপী ধর্ষণ ও শিশু নির্যাতনের পরিস্থিতি জনমনে গভীর উৎকণ্ঠার জন্ম দিয়েছে। ধর্ষণ ও ধর্ষণ প্রচেষ্টার কারণে শিশু হত্যার ঘটনা এখন সংবাদপত্রের উল্লেখযোগ্য সংবাদ। অভিভাবকরা মেয়ে ও শিশু সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে রীতিমতো আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। আইনের প্রয়োগ নেই বলেই সমাজবিরোধীরা ধর্ষণ-নিপীড়নে উৎসাহিত হচ্ছে। আইনের শাসনের অভাবে মাদকের বিস্তার এবং মূল্যবোধের অবক্ষয়সহ বিভিন্ন কারণে নারী ও শিশু নির্যাতন বাড়ছে। আমরা মনে করি, এই কারণগুলো সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে মোকাবিলা করতে হবে।

নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য জানাতে সেলিমা রহমান বলেন, নারী ও শিশু অধিকার রক্ষার যাবতীয় কার্যক্রমকে শক্তিশালী এবং বেগবান করা; নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা; এই জনগোষ্ঠীর জীবন সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রতিবন্ধকতাপূর্ণ, এদের মধ্যে যারা ভিক্টিম হচ্ছে তাদের আইনগত ও চিকিৎসাগত সহায়তা দেয়ার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করা; বিশেষভাবে দুস্থ ভিক্টিমদের শারীরিক ও মানসিক চিকিৎসাসহ সম্ভাব্য আইনগত সহায়তা দেওয়া; ভিক্টিম নারী ও শিশুদের মানবাধিকার সমুন্নত রাখা; ‘নারীকে নির্যাতন করা অন্যায়’ এটি পরিবার থেকে শিশুকে শেখানো। এ সংগঠনের লক্ষ্য নারীর বর্তমান অবস্থা থেকে আরও বেশি ক্ষমতায়নে জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দান; নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সচেতন যুব সমাজকে সম্পৃক্ত করা; যেকোন গণমাধ্যমে আলাপচারিতা ও পারস্পরিক কথাবার্তায় যাতে নারীবিদ্বেষী বক্তব্য প্রচার না পায়, সেক্ষেত্রে কার্যকর উদ্যোগ গড়ে তোলা।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, সব পেশার মানুষ এ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন। পরে তিনি সংগঠনের সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন।

সংগঠনের উল্লেখযোগ্যরা হলেন—প্রধান উপদেষ্টা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, উপদেষ্টা: খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, জয়নুল আবেদীন, রুহুল কবির রিজভী। সদস্য সচিব: নিপুন রায়।

সদস্য: আজিজুল বারী হেলাল, আমিনুল হক, রাশেদা বেগম হিরা, মীর সরাফত আলী সপু, অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, আফরোজা আব্বাস, বেবী নাজনীন।

শুভ শক্তির উত্থান ঘটাতে হবে: ফখরুল

শুভ শক্তির উত্থান ঘটাতে হবে: ফখরুল
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, পুরনো ছবি

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে হিন্দু ধর্মের সকল মানুষকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন, ‘ভগবান শ্রীকৃষ্ণ পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়ে জনসমাজে বিরাজমান অন্যায়কে পরাস্ত করে শান্তি ও কল্যাণ স্থাপন করেন। বাংলাদেশেও অশুভ শক্তিকে পরাভূত করে গণতন্ত্রের শুভ শক্তির উত্থান ঘটাতে হবে।’

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের আরাধ্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিন, শুভ জন্মাষ্টমী অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। সকল ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসবের মূলবাণী, মানুষে-মানুষে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও শুভেচ্ছাবোধ। সকল কালে, যুগে বিভিন্ন ধর্মের প্রবক্তাগণ মানুষকে সত্য, ন্যায় ও কল্যানের পথে চালিত হওয়ার উপদেশ দিয়েছেন। ভগবান শ্রীকৃষ্ণও একই উদ্দেশ্যে পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়ে জনসমাজে বিরাজমান অন্যায়কে পরাস্ত করে শান্তি ও কল্যাণ স্থাপন করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ ঐতিহ্যগতভাবে ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ হিসেবে সকল ধর্মের মানুষের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনে বিশ্বাসী।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র