Barta24

মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ছাত্রলীগের নতুন কমিটি

কমিটি বাতিল করতে পদবঞ্চিতদের ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

কমিটি বাতিল করতে পদবঞ্চিতদের ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
ছাত্রলীগের সদ্য ঘোষিত কমিটি বাতিলের দাবিতে পদবঞ্চিতদের বিক্ষোভ, ছবি: বার্তা২৪
ঢাবি করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ছাত্রলীগের সদ্য ঘোষিত কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন পদবঞ্চিতরা। পুনরায় কমিটি ঘোষণা করতে এই আল্টিমেটাম দিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার (১৪ মে) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) মধুর ক্যানটিনে সংবাদ সম্মেলন করে এই দাবি জানান পদবঞ্চিতরা। তাদের পক্ষে দাবিগুলো তুলে ধরেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদস্য ও শামসুন্নাহার হল ছাত্রলীগের সভাপতি নিপু ইসলাম তন্বী।

সোমবার (১৩ মে) বিকালে ঘোষিত কমিটির উপ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদ পেলেও তা প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। বলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই কমিটি বাতিল না করলে আমরা অনশনে যাব। পদত্যাগ করব।

তাদের অভিযোগ, এ কমিটিতে অযোগ্য, বিবাহিত, মাদকের সাথে জড়িতদের ভালো পদ দেওয়া হয়েছে। অথচ ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হয়নি। কমিটিতে ছাত্রদল, অছাত্র, ব্যবসায়ী, বয়স্ক ও বিতর্কিতদের স্থান দেওয়া হয়েছে। রাজপথের সক্রিয় কর্মীদের বঞ্চিত করা হয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যায় মধুর ক্যানটিনে পদপ্রাপ্তদের হামলার তীব্র সমালোচনা করেন তারা। ওই হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ছাত্রলীগের সাবেক কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সাইফুদ্দিন বাবু।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/14/1557825286012.jpg

তিনি বলেন, ছাত্রলীগ মানেই এক হাতে কবিতার খাতা, অন্যহাতে প্রতিবাদের স্ট্যানগান; শোষণ নিপীড়ন প্রতিরোধের অনন্য হাতিয়ার। কিন্তু ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়েছে, যাতে পদ দেওয়া হয়েছে ৩০১ জনকে। নিবেদিত প্রত্যেকটি ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর আজ আনন্দিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা না করে উল্টো ভারাক্রান্ত মন নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে হচ্ছে।

পদবঞ্চিতদের বিক্ষোভ মিছিল ও সংবাদ সম্মেলনে যারা হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত করেছে, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান তিনি। 

ডাকসুর কমন রুম ও ক্যাফেটেরিয়া বিষয়ক সম্পাদক বিএম লিপি বলেন, শোভন-রাব্বানীর বাসায় সবসময় যারা থেকেছে, সময় দিয়েছে, তাদেরকেই নেতা বানানো হয়েছে। যারা ছাত্রলীগের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছে, তাদের মূল্যায়ন করা হয়নি। আমাদের উপর ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের প্রত্যক্ষ নির্দেশে হামলা করা হয়েছে।

কমিটি বাতিল করতে পদবঞ্চিতদের ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন ডাকসুর সদস্য পদবঞ্চিত তানভীর হাসান সৈকত, ফরিদা পারভীন, কবি জসিম উদ্দিন হলের ছাত্রলীগ সভাপতি সাহেদ খান প্রমুখ।

এর আগে ঢাবির হাকিম চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন পদবঞ্চিতরা। মিছিলটি কলা ভবন প্রদক্ষিণ করে মধুর ক্যানটিনে গিয়ে শেষ হয়। এ সময়, ‘বিতর্কিত কমিটি, মানি না, মানব না’, ‘বিবাহিতদের কমিটি, মানি না মানব না’ বলে স্লোগান দেন তারা।

আরও পড়ুন: ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি

আরও পড়ুন: একদিকে শুভেচ্ছা, অন্যদিকে ক্ষোভ

আরও পড়ুন: ছাত্রলীগের কমিটিতে আলোচিত লাবণী

আপনার মতামত লিখুন :

রংপুরে এরশাদের দাফনের সম্মতি দিয়ে যা বললেন রওশন

রংপুরে এরশাদের দাফনের সম্মতি দিয়ে যা বললেন রওশন
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও রওশন এরশাদ

রংপুরে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দাফনের সম্মতি জানিয়ে রওশন এরশাদ বলেছেন, ‘বৃহত্তর রংপুরবাসীর অভূতপুর্ব আবেগে আমি আজীবন কৃতজ্ঞ ও চিরঋণী হয়ে রইলাম।’

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) দুপুরে এক বিবৃতিতে এমন মন্তব্য করেছেন এরশাদের সহধর্মিনী জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা রওশন এরশাদ।

এরশাদের দাফন প্রশ্নে রংপুরবাসীর আবেগকে সম্মান জানিয়ে তিনি রংপুরে দাফনের অনুমতি দেন। তিনি পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গার সঙ্গে ফোনে কথা বলে তার সম্মতির কথা জানান।

বিবৃতিতে রওশন বলেছেন, ‘তাঁর (এরশাদ) মৃত্যুতে আপনারা যে অভাবনীয় শ্রদ্ধা, সম্মান ও সহানুভুতি প্রকাশ করেছেন। তার জন্য আমি জানাচ্ছি  আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।’

‘প্রিয় দেশবাসী, বিশেষত তাঁর প্রাণপ্রিয় রংপুবাসীর আবেগ ও ভালোবাসায় সম্মানার্থে তাকে রংপুরের মাটিতে সমাধিস্থ করার বিষয়ে আমি ও আমার পরিবার সম্মতি প্রদান করছি।’

মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রওশন এরশাদ।

সেই সঙ্গে পল্লী নিবাসে এরশাদের কবরের পাশে নিজের জন্য জায়গা রাখারও আবেদন জানিয়েছেন রওশন এরশাদ।

আরও পড়ুন: রংপুরেই এরশাদের দাফন, সম্মত রওশন

 

রংপুরেই এরশাদের দাফন, সম্মত রওশন

রংপুরেই এরশাদের দাফন, সম্মত রওশন
এরশাদের মরদেহে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা

 

রংপুরের মানুষের ভালোবাসায় শ্রদ্ধা রেখে রংপুরেই হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে দাফন করার অনুমতি দিয়েছেন তার স্ত্রী রওশন এরশাদ। শুধু তাই নয়, পাশে নিজের জন্যও কবরের জায়গা রাখার অনুরোধ করেছেন তিনি।

রংপুরে এরশাদের দাফনের সম্মতি জানিয়ে রওশন এরশাদ বলেছেন, বৃহত্তর রংপুরবাসীর অভূতপূর্ব আবেগে আমি আজীবন কৃতজ্ঞ ও চিরঋণী হয়ে রইলাম।

এ সংক্রান্ত এক বিবৃতিতে রওশন বলেন, “তার মৃত্যুতে আপনারা যে অভাবনীয় শ্রদ্ধা, সম্মান ও সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন তার জন্য আমি জানাচ্ছি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।

প্রিয় দেশবাসী, বিশেষত তার প্রাণপ্রিয় রংপুবাসীর আবেগ ও ভালোবাসায় সম্মানার্থে তাকে রংপুরের মাটিতে সমাধিস্থ করার বিষয়ে আমি ও আমার পরিবার সম্মতি প্রদান করছি।”

রওশন এরশাদের সম্মতির ফলে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দাফন নিয়ে যে বিভ্রান্তির সৃষ্টির হয়েছিল তার অবসান হলো।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563270977625.jpg
জাতীয় পার্টির সারাদেশের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের প্রথম চাওয়া ছিল এরশাদের মরদেহ ঢাকায় দাফন করার। তবে সেটা হতে হবে উন্মুক্ত স্থানে। যেখানে মসজিদ-মাদ্রাসা নিয়ে কমপ্লেক্স থাকবে। কিন্তু এরশাদের মৃত্যূর পর যখন সামরিক কবরস্থানে দাফনের ঘোষণা দেওয়া হয় তখন অনেকেই বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

অন্যদিকে রংপুরে দাফনের বিষয়ে সারা দেশের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মৌন সমর্থন দেন। বিশেষত রংপুর, রাজশাহীসহ উত্তরের নেতাকর্মীরা যেকোন মূল্যে প্রিয় নেতাকে রংপুরে চিরশায়িত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন।

জাতীয় পার্টি তৃণমূল নেতাকর্মীদের যুক্তি ছিল— সামরিক কবরস্থানে দাফন করলে সেখানে যখন তখন যেতে পারবেন না নেতাকর্মীরা। তার চেয়ে রংপুর দাফন করলে নেতার সমাধিতে সহজেই যেতে পারবেন।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) দুপুরে রংপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের চতুর্থ জানাজা সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে সম্পন্ন হয়। জানাজা পড়ান রংপুর জামে মসজিদের খতিব মাওলানা হাফেজ ইদ্রিস আলী।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563268819443.jpg
জানাজায় অংশ নেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের, এরশাদ পুত্র রাহগির আল মাহি সাদ এরশাদ, জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা, সাবেক মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য আবু হোসেন বাবলা, মেজর (অব.) খালেদ আখতার, আজম খান, তাজ রহমান ও শফিকুল ইসলাম সেন্টু।

এছাড়াও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য, রংপুর মহানগরের সভাপতি ও রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা সরকারসহ রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী জানাজায় অংশ নেন।

জানাজার আগে দলের মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা এরশাদের জীবনী তুলে ধরেন। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, বাংলাদেশের মানুষের জন্য তার বিপুল অবদান। ইসলামের জন্য তিনি অনেক কাজ করেছেন। মানুষ হিসেবে কথা ও কাজে ভুলত্রুটি থাকতে পারে। আমি এরশাদের ভাই হিসেবে ক্ষমা চাই। দোয়া চাই। তাকে সবাই ক্ষমা করে দেবেন। তাকে যেন আল্লাহ জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন।

জানাজা শেষে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মরদেহ তার রংপুরের বাসভবন পল্লী নিবাসে নেওয়া হয়।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র