কালো প্রাডোতে তুলে নিয়ে যায় সোহেল তাজের ভাগ্নেকে

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
সোহেল তাজের ভাগ্নে সৈয়দ ইফতেখার আলম প্রকাশ ওরফে সৌরভ। ছবি: সংগৃহীত

সোহেল তাজের ভাগ্নে সৈয়দ ইফতেখার আলম প্রকাশ ওরফে সৌরভ। ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ থানা এলাকার এফমি প্লাজার সামনে থেকে কালো রঙয়ের প্রাডো গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজের ভাগ্নে সৈয়দ ইফতেখার আলম প্রকাশ ওরফে সৌরভকে। ওইদিন (৯ জুন) বিকেলে চাচাতো ভাইয়ের মোটরসাইকেলে এফমি প্লাজার সামনে আসেন সৌরভ।

পাঁচ মিনিট পর একটি কল রিসিভ করে এফমি প্লাজার পেছনে যান সৌরভ। এখান থেকেই ৫ ব্যক্তি কালো প্রাডোতে তাকে তুলে নিয়ে অন্যত্র চলে যায়। এ সময় সৌরভের হাতে একটি সাদা খাম ছিল।

এফমি প্লাজার নিচতলায় অবস্থিত আগোরা সুপার সপের সিসি ক্যামেরায় এসব চিত্র ধরা পড়ে।

সৌরভের চাচাতো ভাই সাহেদুর রহমান বার্তা২৪.কমকে জানান, হাতে থাকা খামে সৌরভের সিভি ছিল। চাকরি দেওয়ার কথা বলে সৌরভকে ডাকা হয়েছিল। চাচাতো ভাই সাহেদুর সৌরভকে মোটরসাইকেলে এনে এফমি প্লাজার সামনে নামিয়ে দেন। ১০-১৫ মিনিট বাদে ফোন পাওয়ার পর সৌরভকে এসে নিয়ে যাবেন বলে চলে আসেন সাহেদুর। কিন্তু ১৫ মিনিট পরে আর ফোন আসেনি। পরে সৌরভের মোবাইলে কল দিলে তা বন্ধ পান সাহেদুর।

সোহেল তাজের অপর ভাগ্নে সৌরভের বড় ভাই তানভীর শাহরিয়ার সম্রাট বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘সিসি ক্যামেরায় সৌরভকে নিয়ে যাওয়ার ফুটেজ আছে। কালো প্রাডো গাড়িটি কার সেটি বের করলেই সৌরভের অবস্থান জানা যাবে। কিন্তু ৬ দিন যাবৎ পুলিশ কিছুই করতে পারেনি। যত দিন যাচ্ছে তত আমাদের ভয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।’

জানা গেছে, সৈয়দ ইফতেখার আলম প্রকাশ (সৌরভ) ৯ জুন চট্টগ্রাম প্রবর্তক মোড়স্থ এফমি প্লাজার সামনে থেকে নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় সৌরভের বাবা ইদ্রিস আলম বাদী হয়ে ১০ জুন পাঁচলাইশ থানায় একটি জিডি (৫২০) করেন। জিডিতে তিনি সৌরভকে অপহরণ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার বিজয় বসাক বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘অপহরণ বা নিখোঁজ হোক, দুইটি বিষয়ই মাথায় রেখে আমরা কাজ করছি।’

পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কাসেম ভূঁইয়া বার্তা২৪.কমকে জানান, একটি আইটি কোম্পানিতে নিয়োগ হয়েছে এমন ফোন পেয়ে সেখানে যোগদানের জন্য চট্টগ্রামে এসেছিলেন সৌরভ। তিনি চট্টগ্রামের এফমি প্লাজার সামনে এসেই নিখোঁজ হন। তাকে ফোন করে এখানে ডেকে আনা হয়েছিল। ওই ফোন নম্বর নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। সম্ভাব্য বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে শুক্রবার (১৪ জুন) রাত ১টার দিকে সোহেল তাজ নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে অভিযোগ করেন তার ভাগ্নেকে অপহরণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: সোহেল তাজের ভাগ্নে নিখোঁজ না অপহৃত?

আপনার মতামত লিখুন :