Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

English

রংপুরেই জিএম কাদেরের অগ্নিপরীক্ষা

রংপুরেই জিএম কাদেরের অগ্নিপরীক্ষা
জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের/ছবি: সংগৃহীত
সেরাজুল ইসলাম সিরাজ
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

পার্টির দুর্গই প্রথম সংকটে ফেলতে পারে প্রয়াত এরশাদের জাতীয় পার্টিকে। বর্তমান কর্ণধার জিএম কাদেরের জন্য অগ্নিপরীক্ষা মনে করছেন কেউ কেউ।

আর সেই অগ্নিপরীক্ষা হচ্ছে এরশাদের মৃত্যূতে শূন্য হয়ে যাওয়া রংপুর-৩ (সদর) আসনের উপনির্বাচন। এখানে সিদ্ধান্তে কোনো ভুল কিংবা গড়মিল হলে মাশুল দিতে হবে সারাজীবন ধরে। এমনকি দল ভেঙে খণ্ডও হয়ে গেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

জাতীয় পার্টি তথা লাঙ্গলের দুর্গখ্যাত এই আসনটি স্বাভাবিক ভাবেই শূন্য ঘোষণা করা হবে অল্পদিনের মধ্যেই। অনুষ্ঠিত হবে উপনির্বাচন। সেই উপনির্বাচনে জাতীয় পার্টি মনোনয়ন নিয়ে প্রথম সংকটের মুখে পড়তে পারে বলে নেতাকর্মীরা মনে করছেন। একে জিএম কাদেরের প্রথম পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন নেতাকর্মীরা।

জাতীয় পার্টির এ দুর্গে রওশন তার পুত্র রাহগীর আল মাহি সা’দ এরশাদকে মনোনয়ন দেওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করতে পারে। অনেকদিন ধরেই ছেলে সা’দকে রাজনীতি আনার চেষ্টা করে যাচ্ছেন রওশন। বিগত সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম সদর আসন থেকে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে দাবী তুলেছিলেন। কিন্তু রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তা আর হয়ে ওঠেনি। রওশন এরশাদ চান সা’দই হোক জাতীয় পার্টির উত্তরসূরি।

মালয়েশিয়া প্রবাসী সা’দ বিগত নির্বাচনে আগে থেকেই হঠাৎ করে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। আগে দেশে এলে মায়ের বাসায় উঠতেন। হয়তো এক আধবার বাবা এরশাদের সঙ্গে দেখা করার জন্য প্রেসিডেন্ট পার্কে যেতেন। কিন্তু গত নির্বাচনের পর এরশাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে, সক্রিয় হয়ে ওঠেন সা’দ। দিনে-রাতে একাধিকবার তাকে দেখতে (এরশাদের বাসভবন প্রেসিডেন্ট পার্ক) যেতেন। একবার এলে লম্বা সময় ধরে অবস্থান করতেন বাবার পাশে।

এরশাদ যখন সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে অন্তিম শয্যায় তখনও বেশ সরব দেখা গেছে সা’দকে। মা রওশন এরশাদের সঙ্গে প্রায় হাসপাতালে যেতেন। ছবি তুলে তা মিডিয়ায় পাঠানো হতো। বাবা এরশাদের মরদেহের সঙ্গে রংপুর চলে যান। পরদিন সেখানে কবর জিয়ারত করেন।

রওশন এরশাদের ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানিয়েছে, রওশন এরশাদ চাচ্ছেন তার ছেলেকে উপনির্বাচনে প্রার্থী করতে। সা’দকে এমপি করার বিষয়ে নাকি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও কিছুটা আলোচনা এগিয়ে রেখেছেন রওশন।

কিন্তু রওশন এরশাদের এই অভিপ্রায়ে ছাড় দেবেন না কাদের পন্থীরা। রংপুর জাতীয় পার্টির নেতারাও বেকে বসতে পারেন। বিশেষ করে কাদের পন্থী বলে পরিচিত মহানগর জাতীয় পার্টির সেক্রেটারি এসএম ইয়াসির নিজেও প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে নামতে পারেন।

অসুস্থ এরশাদ যখন কাদেরকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পদ ও বিরোধীদলীয় উপনেতার পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন তখন প্রকাশ্য আন্দোলনে নেমেছিলেন ইয়াসির। আগে যে গ্রুপিং কিছুটা গোপন ছিলো ওই আন্দোলনে তা প্রকাশ্য হয়ে পড়ে। রংপুরের নেতাদের কাঁধে সওয়ার হয়ে জাতীয় পার্টির মসনদে ফেরেন জিএম কাদের।

সেই কাদের কি সবাইকে ফেলে রওশন এরশাদের অভিপ্রায়কে মূল্যায়ন করবেন! আবার রওশনকে পুরোপুরি বাদ দিয়ে একলা চলো নীতি গ্রহণ করলেও মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে তার জন্য। কারণ অনেক সিনিয়র নেতার রয়েছে রওশনের সঙ্গে সখ্যতা। বিশেষ করে পার্লামেন্টারি পার্টি বিভক্ত হয়ে পড়তে পারেন। এখানে কাদের গ্রুপকে অনেকেই সংখ্যালঘু মনে করেন।

২০১৪ সালের নির্বাচনে যারা রওশনের নেতৃত্বে নির্বাচনে অংশ নিয়ে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। বর্তমান সংসদেও তাদের সংখ্যাই বেশি। তারা অনেকে মনে করেন রওশন তাদের ত্রাতা। তার কারণেই আজকে সংসদ সদস্যের সিল পড়েছে গায়ে। আর কাদের ছিলেন ওই নির্বাচন বয়কটের গ্রুপে। পার্লামেন্টারি পার্টিতে চিড় ধরলে  জিএম কাদের বেশ বেকায়দায় পড়তে পারেন।

এই সংকটের বাইরে আরেকটি সংকট রয়েছে। তা হচ্ছে সাবেক এমপি আসিফ শাহরিয়ারকে নিয়ে। আসিফ শাহরিয়ার রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া) আসন থেকে একবার এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর আর তাকে এমপি মনোনয়ন দেওয়া হয় নি। বিগত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এরশাদকে চ্যালেঞ্জ করে বসেছিলেন। পরে অনেক বুঝিয়ে থাকে ঠান্ডা করা হয়। কিন্তু এবার সেও বেকে বসতে পারেন।

একদিকে যেমন দলের কোন্দল অন্যদিকে রয়েছে আসন হারানোর ঝুঁকি। দলীয় কোন্দল যদি নিরসন করা না যায়, তাহলে নির্বাচনে জয়ী হয়ে আসা কঠিন হতে পারে। তেমন পরিস্থিতি হলে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে ধরাশায়ী হতে পারে জাতীয় পার্টির প্রার্থী। সব মিলিয়ে জিএম কাদেরের সামনে চরম সংকট। বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সামাল দিতে ব্যর্থ হলে কঠিন পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে তার জন্য।

আপনার মতামত লিখুন :

জাতীয় পার্টি কার্যকর বিরোধী দল হিসেবে রাজনীতির মাঠে আছে

জাতীয় পার্টি কার্যকর বিরোধী দল হিসেবে রাজনীতির মাঠে আছে
জিএম কাদের

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেছেন, 'বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিশাল শূন্যতা বিরাজ করছে। জনসাধারণের দাবি ও ভাষা বোঝে এমন একটি রাজনৈতিক শক্তি খুঁজছে সাধারণ মানুষ। ঐক্যবদ্ধ জাতীয় পার্টি আরো শক্তিশালী হয়ে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণের রাজনীতি করবে।

সোমবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানী অফিসে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবদুস সাত্তার পোদ্দার এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের-এর হাতে ফুল দিয়ে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। এসময় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানিয়ে এসব কথা বলেন।

গোলাম মোহাম্মদ কাদের আরো বলেন, 'জাতীয় পার্টি কার্যকর বিরোধী দল হিসেবে রাজনীতির মাঠে আছে। আমরা সরকারের চোখে আঙ্গুল দিয়ে তাদের ভুল ক্রুটি ধরিয়ে দেবো। আমরা দেশ ও জনগণের পক্ষে ইতিবাচক রাজনীতি করব'।

জাতীয় পার্টির এই নেতা বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে সরকারকে বাধ্য করা যায়না। বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিলো তখন আওয়ামী লীগ তাদের দাবি আদায়ে সরকারকে বাধ্য করতে পারেনি। আবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বিএনপিও সরকারকে বাধ্য করতে পারেনি। যারা কথায় কথায় সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করতে চায়, সেটা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একেবারেই অসম্ভব। তাই প্রতিটি দলেরই উচিত নির্বাচিত প্রতিটি সরকারকেই রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য ৫ বছর সময় দেয়া এবং পরবর্তী নির্বাচনের জন্য নিজ দলকে সংগঠিত করা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায়, এ্যাড. রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, নাজমা আখতার এমপি, ভাইস চেয়ারম্যান জহিরুল আলম রুবেল, আহসান আদেলুর রহমান এমপি, যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু প্রমুখ।

বিএনপি'র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

বিএনপি'র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা
বক্তব্য রাখছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

পহেলা সেপ্টেম্বর দলের ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। কর্মসূচিগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, র‍্যালি, আলোচনা সভা ও দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও ফাতিহা পাঠ।

সোমবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে বিএনপির এক যৌথসভা শেষে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

১ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। এরপর সকাল ১০টায় বিএনপি’র কেন্দ্রীয় ও সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের নিয়ে শেরেবাংলা নগরস্থ সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করা হবে। দোয়া ও মোনাজাত শেষে র‌্যালির আয়োজন করা হবে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ২ সেপ্টেম্বর আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পোস্টার ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে

রাজধানী ঢাকা ছাড়াও সারাদেশে বিএনপি তাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। পহেলা সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী বিএনপি’র সকল ইউনিট সকাল ৬টায় দলীয় কার্যালয়গুলোতে দলীয় পতাকা উত্তোলন করবে। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের সুবিধানুযায়ী দলের জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের ইউনিটগুলো দিবসটি উপলক্ষে কর্মসূচি গ্রহণ করবে। ঢাকার মতো সারাদেশেও র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করতে বলা হয়েছে।

দুপুরে আয়োজিত যৌথ সভায় উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন-নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, মাহবুবের রহমান শামিম, বিলকিস জাহান শিরিন, সৈয়দ ইমরান সালেহ প্রিন্স, ডা. সাখওয়াত হাসান জীবন. প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী. সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. আব্দুস সালাম প্রমুখ।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র