Barta24

সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

রুশেমার মৃত্যুতে স্মৃতিকাতর প্রধানমন্ত্রী

রুশেমার মৃত্যুতে স্মৃতিকাতর প্রধানমন্ত্রী
সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ঢাকা
জাতীয় সংসদ ভবন থেকে


  • Font increase
  • Font Decrease

আওয়ামী লীগ দলীয় সংরক্ষিত সংসদ সদস্য রুশেমা বেগমের মৃত্যুতে শোকার্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার (রুশেমার) স্নেহমাখা কথাগুলো আমি ভুলতে পারি না। সংসদে তিনি যে বক্তৃতা করেছেন সেটা আমাদের স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে যারা মিথ্যাচার করছেন তাদের একটা উপযুক্ত জবাব, বেঈমান-মোনাফেকদের উপযুক্ত জবাব। তাই সংসদ সদস্যদের বলব তার বক্তৃতাটা সংগ্রহ করে পড়তে, শুনতে।

বুধবার (৯ জুলাই) বিকেলে একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে সংসদ সদস্য রুশেমা বেগমের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়। তার আগে সংসদ নেতাসহ আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা আলোচনা করেন।

আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মোহাম্মদ নাসিম, প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী, বিরোধী দলীয় উপনেতা রওশন এরশাদ, বিরোধী দলীয় প্রধান হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গা প্রমুখ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি (রুশেমা) অত্যন্ত নিবেদিত প্রাণ ছিলেন। একটা যুগে মেয়েদের শিক্ষা অত্যন্ত কঠিন ছিল। সেই যুগে তিনি লেখাপড়া করেন, প্রথমে মাদরাসায় শিক্ষাকতা করেন, এরপর তিনি ইশান মেমোরিয়াল স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তার স্বামী ওই স্কুলেই শিক্ষকতা করতেন। আমরা যখন যেতাম তার স্বামী পরিচয় করিয়ে দিতেন আমাদের প্রধান শিক্ষিকা এসে গেছে। আমি তার অধীনে চাকরি করি। স্বামী-স্ত্রীর মাঝে একটা সমঝোতা চমৎকার পরিবেশ। তিনি অত্যন্ত বিনয়ী ছিলেন। খুব ধীরস্থির ভালো মনের মানুষ ছিলেন।

শেখ হাসিনা আরো বলেন, ১৯৮১ সালে আমি যখন দেশে ফিরে আসি। পরিবারের সকল সদস্যকে হারিয়ে সেই স্বজন হারানো বেদনা নিয়েই ফিরে এসেছিলাম। কিন্তু ‍আমি ভালোবাসা পেয়েছিলাম, স্নেহ পেয়েছিলাম তাদের কাছ থেকে যারা জাতির পিতার সাথে এক সাথে কাজ করেছেন।

তিনি বলেন, সারাদেশে যখন সফর করেছি আমরা সবসময় থাকতাম আওয়ামী লীগের নেতাদের বাড়িতে। আমাদের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে একটা পারিবারিক চমৎকার সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সবসময় নির্যাতিত ছিল।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ভাষা আন্দোলনের সময় তিনি (রুশেমা) ও তার স্বামী সক্রিয় ছিলেন। সেখানে তাদের অবদান রয়েছে। কারো সংসারে যদি একজন জেলে যায় তখন তার সংসার চালানো এবং তার ছেলে-মেয়ে মানুষ করা সেটা যে কত দুরুহ একটা কাজ ছিল। সেটা তিনি করেছেন। ৬ দফা দেবার পর অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন তারা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন,তার স্বামী ইমাম উদ্দিন সাহেবকে খুব সক্রিয় পেয়েছিলাম। আসলে প্রকৃতপক্ষে তিনি (রুশেমা) কখনো কিছু চাননি, তিনি কোনদিন আমাকে বলেন নাই আমাকে এমপি করো বা কিছু করো, বরং নির্বাচন চলাকালীন সময়ে আমি আর রেহেনা ৫ নম্বরে গিয়েছিলাম, তিনি তখন আসেন। ফরিদপুরের নির্বাচন সম্পর্কে কিছু কথা আলোচনা করার জন্য। যেহেতু তিনি প্রধান শিক্ষিকা ছিলেন, অনেক ছাত্রী ছিল, তিনি সব ছাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, আমাদের পক্ষে যাতে ভোট আসে সেই ভোটের জন্য তিনি কাম্পেইন করতেন।

রুশেমা বেগম ৯ জুলাই ফরিদপুর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া…রাজিউন)। তিনি ২০১৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি একাদশ জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগ হতে সংরক্ষিত সদস্য নির্বাচিত হন।

আপনার মতামত লিখুন :

বন্যা প্রলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা, অভাব নেই ত্রাণের

বন্যা প্রলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা, অভাব নেই ত্রাণের
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

দেশের বন্যা পরিস্থিতি প্রলম্বিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছে এ সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটি। তবে বন্যা প্রলম্বিত হলেও সরকারের ভাণ্ডারে পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী রয়েছে বলে কমিটিকে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

রোববার (২১ জুলাই) দুপুরে সংসদ ভবনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব কথা বলা হয়।

বৈঠক শেষে কমিটি সভাপতি এ বি তাজুল ইসলাম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, 'দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এবার বন্যা প্রলম্বিত হতে পারে এমন একটি আশঙ্কা আমাদের রয়েছে। তবে বন্যা প্রলম্বিত হলেও ত্রাণ সামগ্রীর কোনো অভাব হবে না। আমাদের পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী রয়েছে। আমরা কমিটির পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়কে বলেছি বন্যার কারণে একজন মানুষও যেন কষ্টে না থাকে না খেয়ে কেউ কষ্ট না করে সেই জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।'

বৈঠকে আরও আলোচনা হয় কমিটির যে সকল সদস্য ফ্রি আছেন তারা যেন মন্ত্রণালয়ের কাজে সহযোগিতা করতে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বন্যাকবলিত এলাকায় যান এবং বন্যার্তদের সহযোগিতা করেন।

এছাড়া দেশের অধিকাংশ কালভার্টের অবস্থা অত্যন্ত করুন। বেশিরভাগই ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে বলে কমিটিকে জানানো হয়। এসব কালভার্ট মেরামত করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।

কমিটির সভাপতি এ বি তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান, সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার (ছেলুন), মো. আফতাব উদ্দিন সরকার, মীর মোস্তাক আহমেদ রবি, জুয়েল আরেং, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এবং কাজী কানিজ সুলতানা অংশগ্রহণ করেন।

এছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবসহ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এসডিজি অর্জনে বাংলাদেশের অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক

এসডিজি অর্জনে বাংলাদেশের অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন, ছবি: সংগৃহীত

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, 'টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে বাংলাদেশের অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সকল উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান আজ বেশ সুদৃঢ়।'

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন আয়োজিত এসডিজি’র লক্ষ্য পূরণে বাংলাদেশের বর্তমান অর্জন ও ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কিত অবহিতকরণ আলোচনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

বুধবার (১৭ জুলাই) সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় এসডিজি বাংলাদেশের অর্জন বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এবং পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

স্পিকার বলেন, 'এসডিজি অর্জনে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ কার্যকর ভূমিকা রাখছে। এসডিজির সঙ্গে সংসদ সদস্যগণকে অধিক সম্পৃক্ত করতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন কর্মশালা আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ, যা ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে।'

এসডিজি অর্জনে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি স্থায়ী মিশন গৃহীত পদক্ষেপসমূহে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

'২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস' সম্পর্কিত অপর এক আলোচনায় স্পিকার বলেন, 'ইতোমধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি আদায়ের জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে জাতিসংঘ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।'

জাতীয় সংসদের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম জাতিসংঘ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র