লিলিথ

তামিম ইয়ামীন
অলঙ্করণ কাব্য কারিম

অলঙ্করণ কাব্য কারিম

  • Font increase
  • Font Decrease

বালি দিয়ে গড়া লাল মূর্তির পাশে
দূর মরুভূতে মরিচীকা জ্বলে খুব
মুহূর্ত মাঝে বালি ধসে পড়ে, তার
সাথে কান্নার মতো লিলিথের রূপ।

প্রথম মানবী কোন দূর সেমেটিক
পুরাণের মৃত পুস্তক হতে খসে
স্বীয় সম্মান রক্ষায়, ঈশ্বরে
প্রত্যাখ্যানের প্রথম নজির সে।

একই মৃত্তিকা ভেঙে আমাদের প্রভু
গড়েছেন নিজ সুরতের ছাঁচে ঢেলে
কোন নির্দেশে সেজদা আমাকে দেবে
কী বা দরকার? যদি ভালোবাসা মেলে?

“এ কী অনাচার! ঐশী আদেশ ভুলে
দুর্মুখা ওরে করেছিস আদিপাপ
দূর হ স্বর্গ থেকে ডাকিনীর রূপে
তুই”—বলে খোদা তারে দিলে অভিশাপ।

অভিশাপ, নাকি মুক্তি মিলল, বলো
স্বর্গের শ্লেষ গায়ে মেখে শেষ বার
শূন্যে মিলাল শূন্যের রূপ ধরে
আমি বয়ে চলি দুর্বহ স্মৃতিভার।

উড়ে চলে গেল, আয়ুর অংশ ছিঁড়ে
করতল হতে মুছে শোক-স্মৃতি-প্রেম
তবু সে বিরহ বাজে মহাকাল জুড়ে
“মনে রেখো একদিন আমিও ছিলেম।”

**
অথচ এমন না যে হাওয়া ঊনতর
আমার পাঁজড় ভেঙে গড়েছেন যারে
রূপে ও রমণে উর্বসী ঋতুকালে
লক্ষ্মী প্রতিমা হয়ে আছে সংসারে।

পালের দুম্বাগুলো দেখেশুনে রাখে
কর্ষণে ভূমি জল ঢালে উদগমে
শিল্পীত মন জানি আছে তার দেহে,
আগুনকে ফুল সেও ভেবেছিল ভ্রমে।

হারানো কেনানে আমরা বেঁধেছি ঘর
প্রস্তরীভূত খেজুর পাতার বনে
শস্য ও পশু পালনের রীতি শিখে
মত্ত রয়েছি হাওয়ার আকর্ষণে।

ভালোবাসে ধীর নদীটির মতো খুব
মত্ত হাওয়ায় ঘূর্ণি তোলে না স্রোতে
—তবু হয়রান লিলিথের সন্ধানে
মন পড়ে থাকে সেই পুরাতন ক্ষতে?

প্রথম প্রেমের মতো সে দুর্বিনীতা
হৃদয় জুড়ায় গভীর মনস্তাপে
মর্ত্যে যদিও স্বৈরিনি রূপে খ্যাতা
রক্তচক্ষু ভুল কোন অভিশাপে।

আজ এইখানে বিরহ বর্ষ দূরে
তার সৌরভ উন্মুল আসে ভেসে
লিলিথের স্মৃতি জ্বলা ধু ধু দ্বিপ্রহরে
বালির মূর্তি গড়ি তারে ভালোবেসে।

লোহিত সাগর থেকে ওঠা লু-বাতাসে
মরুঝড় ছোটে পশ্চিম থেকে পুব
বালির মূর্তি গড়ি বালি ধসে পড়ে
সাথে কান্নার মতো লিলিথের রূপ।

আপনার মতামত লিখুন :