একটা মারুতি সুজুকি গাড়ি

কাজল শাহনেওয়াজ
অলঙ্করণ কাব্য কারিম

অলঙ্করণ কাব্য কারিম

  • Font increase
  • Font Decrease

আমার একটা মারুতি সুজুকি গাড়ি আছে
ছোট, গাড়ির সমাজে নিতান্ত সে সাধারণ
ইন্ডিয়া মেড, নামটা জাপানি

আমারে নিয়া ঘুরত হাইওয়ে বা লোওয়েতে ঝোপঝাড়ে
হাওর জংগল মইষের বাচ্চা সিং
জোনাকি ধরতে বা হঠাৎ মুততে নামতে পারি

সকাল বা রাত্রির
ঝিঁঝি ডাকা গ্যাস স্টেশনের পাশে লাফিং পরোটার খোঁজে
লোকাল বাসের পাশে
গ্রামের পথে গ্যাস নিস্বঃ হয়ে গেলে
মালটানা ভটভটির পিছনে নিজেকে বেঁধে
চলতে পছন্দ করতো শে
আর বড় বড় চাকার স্বপ্ন দেখত!

জেন মডেলের গাড়িতে চড়ে মনে হতো
দশ বছর ধরে জেন জীবন যাপন করছি

টঙ্গির দীর্ঘ ওভারপাসে কিছুতেই উঠতে ইচ্ছা করত না তার
কেননা সেখানে সব অটো গিয়ারে আজ
থেমে আছে শতশত মানুষের গলা
টগরেরা ইতিহাস থেকে পড়ে গেছে

মারুতি জাপানি সন্ত
জেনের নামে গাড়িতে বসে কতগুলি
স্থির মাছি দেখিয়াছি, পাখা থাকা সত্ত্বেও তারা ওড়ে না
চোখ বন্ধ করে চোখ টিপানি দিলেও
সেই সব নীল মাছি
লালমাটিতে বসে থাকে
আমি ভাবি নামটা ফরাসি হলে কেমন হতো
জঁ জেঁনে দাগি চোর জেলখানায় বসি
চোরের জার্নাল লেখে
সাধু বেশে

বাঘ-জংগলে
গাছ-গাছড়ার পাতার ভিতরে
বাস করে বিষলখ্যা বড়ি

‘বিষলখ্যা’ শব্দটা সার্চ দিলে গুগলে
আজে বাজে উদ্দেশ্যবিহীন
কতগুলি লিংক আসে, আমার এইসব বমি’র প্রয়োজন নাই

ম্যানুয়াল গিয়ারে চলে
তাই ড্রাইভারের অনেক কষ্ট হয়
গাড়ি চালাতে। অনেকবার বলেছে একথা:
স্যার গাড়িটা বেইচা দেন।
নতুন গাড়ি কেনেন—হাইব্রিড। অল অটো।
চালাইতে যে কি আরাম!

আমি তাকে বুঝাই
জেনেরা আরাম করে না। আরাম করার মধ্যে পাপ থাকে
গুনাহ হয়। হাশরের মাঠে তোমারে বেশি কথা জিগাইবে
এই কারণে।

আমাদের শিশুকালে আমরা খুব চুমু খেতে চাইতাম
কিন্তু তখন চুমু এত সুলভ ছিল না এই বঙ্গীয় মুসলিম সমাজে
এই জন্য আমাদের মানসিক গঠন খুব প্রতিহিংসা পরায়ণ।
আমাদের মনগুলি অবরুদ্ধ জানালাবিহীন
আর আমাদের খুব বিতৃষ্ণা। তাইতো আমাদের ঘনঘন
ডায়াবেটিস হইতে দেখা যায়।

এই গাড়িতে ঘনঘন গ্যাস নিতে হয়।
গ্যাসের দাম অত্যধিক। একদা দেশ যখন গ্যাসের উপর ভাসত
তখন প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ৬.৫০ টাকা
মন চাইত সারাদিন চাকার উপর থাকি।
ইদানীং অনেক দাম, ৪৩/- বা তারও বেশি।
রাজনৈতিক কারণে দেশ মাটিতে নাইমা আসছে।

মহুয়ার হাতে বিষলক্ষা ছুরি দিয়ে বলে
‘যাও নদের চাঁদকে মেরে ফেলো’
বিষলক্ষা মানে হয়তো বিষাক্ত!
কিন্তু জেনের প্রভুরা
গুগলে তা সান্ধাইতে ভুলে গেছে।
তাই তার অর্থ পাই না।

খুব ভালো লাগছে নদের চাঁদ
তোমার সামনে নিজের বুকে ছুরি বসাইতে
মহুয়া তার আপন বক্ষ বিদীর্ণ করে
আর ঢলে পড়ে মাটিতে।
প্রণয়মুমূর্ষু নদের চাঁদ মহুয়ার এই আত্মত্যাগ না পেরে সহ্য করতে
সেই বিষলক্ষা ছুরি দিয়েই আত্মাহুতী দিল।
চিরন্তণ আত্মত্যাগ জানালায় প্রতিমাসে চাঁদ হয়ে ওঠে

আসলে মহাবিশ্বের সঙ্গে একাত্মবোধই জেন-এর লক্ষ্য।
আমি বা আমার ড্রাইভার বুঝি না
গাড়িটা বেচে দিতে চাই

গাড়ির নাম জাপানি হলেও, মেড ইন্ডিয়া
ইন্ডিয়া আমাদের প্রতিবেশি দেশ
আমাদের দেশের মানুষের সাথে তাদের মানুষেরা
সাধারণত পানি আর সীমান্ত সমস্যা নিয়া কথা কাটাকাটি করে
কিন্তু দুটি দেশই আমরা এক দেশ ছিলাম

ইন্ডিয়া আমাদের শত্রু আবার ঘনিষ্ঠ মিত্র
ভালোবাসা, রাগ ও ঘৃণায়
আমরা প্রায়শঃই
অন্যান্য প্রকৃত বিদেশ যথা
জাপান, চীন, ব্রিটেন বা আমেরিকার
সুতা ধরে টানি

যদিও জানি এরপর আর কোনো গাড়ি কেনা আমার হবে না
তবে নিশ্চিৎ, এটা বিক্রি হলে ওই ব্যাটার চাকুরিও থাকবে না!
আমাদের শান্তিভঙ্গ হবে। ড্রাইভারকে গ্রামে ফিরে গিয়ে নারকেল গাছে উঠে
জোসনা রাতে ডাব চুরি করতে হবে।

আর আমি ডাব গাছের নিচে
দাঁড়িয়ে থাকব একাত্ববোধের দায় নিয়ে

আপনার মতামত লিখুন :