সারেঙ

ডাল্টন সৌভাত হীরা
অলঙ্করণ কাব্য কারিম

অলঙ্করণ কাব্য কারিম

  • Font increase
  • Font Decrease

তিয়াসের দলা, ভিজে যায় গলা, নদী তীর পাশে বসি,
আবার কখনো, আসব জানি না, দূর সমতটে মিশি।
আঁচলার জল, দুখি অঞ্চল, তারপাশে আন্ধার,
এত সে বছরে, কিছু অগোচরে, শ্যামা হয়ে গেছে পর।
যেমন ভ্রুকুটি, বিদ্যুৎ গতি, মিছে শিহরণ তোলে,
তারচেয়ে দ্রুত, বুনো শিষফড়ি, আমাকে-আমাকে ভোলে।

জমিনের বুকে, জেগে থাকা চরে, ফড়িঙের মতো মথ,
তার কালো ঠোঁট, এ বুকে প্রকট, রুপো শাদা জমা নথ।
আমাকে ভাবায়, আমাকে ভাসায়, পুঁথির ক্রান্তিকালে
সব কবি মরে, কালো কৈতরে, মারে তারে আবডালে।
এপাশে কয়েক, ব্যর্থ সারেং, পুঁথিয়াল সেজে মরে
তাদের ঘরেতে, মাঘের দরদে শ্যামা রঙ ভর করে।

তিয়াসের দলা, কত কথা বলা, চোখে চোখ গুঁজে পীড়া,
সারসের চোখে, কাঁহাতক ঢোকে বিষের বদন শিরা।
তোমাকেই করি, এই পাঠদান-অবসরে ভুলে যেও,
তোমার নাড়ীতে বাধা মধুমতী চুরি করে নেয় কেহ!
ভ্রান্তির মতো এমন মাটিতে চাষাবাদ হয় খুন,
আমাকেই ডেকো, আমাকেই পাবে, হে করভীর প্রসূন।

আমাকে করেছো দগ্ধ শীতল বিষণ্ণ ছায়াতল,
বিদ্যুৎ বেগে, দুই চোখ ঢেকে, জলদেহে চঞ্চল
গেঁথে দেব ফলা আমি নির্জলা চোক্ষের অবসরে
তোমার আকুতি, জমিনের মতো, কে তারে বধিতে পারে।
দূরের প্রদীপ, ঠিকরানো জ্যোতি, বহুপথে পাওয়া ভুল
এই শাহদান, প্রকাশ্য বেলা অধিক্লান্ত মৃদুল।

কোথাও এমন বিচ্ছেদ সহা শিকলীর বোনা দুল
বিহর গলায় আমারে শোনায় কীর্ত্তন নির্ভুল।
চুয়ে চুয়ে পড়ে আমাদের ব্যথা পাঁচন মদের মতো,
বিয়োগের ব্যথা দুই ফালি কথা, শ্যামার বুকেতে নত।
বুকের উপরে আমিও ঘুমাই পাংশু অংশুমালী
তামার পাঁজরে লিখে গেছে কেউ, শ্যামা-বাক বনমালী।

আতরের মতো খুশবু এমন আরকে সইতে পারে,
মুগ্ধ তিলেতে নির্ণীত হও সম্ভার একতারে।
মহানিম গাছ, একসুরে কেঁদে দিচ্ছে বিসর্জন,
তোমাকে আমাকে দশমীর জল ধুয়েছিল কিছু’খন।
এখন আমরা দুজনার পথে দূর উত্তরে যাই
নিরুত্তর সে হরিণীর ক্ষুরে একসাথে কুঁকড়াই।

কুঁকড়ে যাচ্ছি, কুঁকড়িয়ে যাই রোশনীর বাজুকরে,
আবার কখনো, পশু হয়ে যাব, নীল দলা জাদুঘরে!
পাশবিক এই অস্ফুট ফুল কবরের পাশে ফোটে
নিষেধের মতো এপিটাফ হয়ে নদীর কোঙরে লোটে।
তোমাকে তো শ্যামা নদীই ভেবেছি স্রোতের উজানে চলা।
থাক থাক থাক, এটুকুই থাক, শেষ হোক কথা বলা।

আপনার মতামত লিখুন :