শিক্ষক ফারহানার স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে আবারও অনশনে শিক্ষার্থীরা



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সিরাজগঞ্জ
শিক্ষক ফারহানার স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে আবারও অনশনে শিক্ষার্থীরা

শিক্ষক ফারহানার স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে আবারও অনশনে শিক্ষার্থীরা

  • Font increase
  • Font Decrease

কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ ছাত্রের চুল কাটার ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ায় আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।

শুক্রবার (২২ অক্টোবর) রাত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের সামনে অভিযুক্ত শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনকে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে আবারও অনশনে বসেছে শিক্ষার্থীরা।

শনিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র নাজমুল হাসান পাপন বলেন, শুক্রবার বিকেলে সিন্ডিকেট সভা শুরু হয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শেষ হয়। সভার বিষয়ে আমরা ট্রেজারার (ভারপ্রাপ্ত ভিসি) স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে কবে নাগাদ সিন্ডিকেট সভা হবে সেটা নির্দিষ্ট করে জানাননি তিনি। বাধ্য হয়ে আমরা শিক্ষার্থীরা শুক্রবার রাতেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সামনে আমরণ অনশনে বসেছি। শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনকে স্থায়ী বহিষ্কার না করা পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো।

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার (ভারপ্রাপ্ত ভিসি) আব্দুল লতিফ জানান, সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্ত মূলতবি করা হয়েছে। কিছু তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ বাকি রয়েছে। খুব শিগগিরই ফের সিন্ডিকেট সভা বসবে এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সোহরাব আলীর কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি। শুক্রবার (২২ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে সিন্ডিকেট সভায় তদন্ত প্রতিবেদন খোলা হয়। জানা যায়, ২৬ সেপ্টেম্বর রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যায়ন বিভাগের ১৪ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দেন বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী প্রক্টর ফারহানা ইয়াসমিন। অপমান সহ্য করতে না পেরে সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে নাজমুল হাসান তুহিন নামে এক ছাত্র অতিমাত্রায় ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বর্জন করে একাডেমিক এবং প্রশাসনিক ভবনে তাল ঝুলিয়ে দিয়ে বিক্ষোভ করেন। ওইদিন রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান, সহকারী প্রক্টর ও সিন্ডিকেট সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন। ঘটনার তদন্তে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়।

এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে সিন্ডিকেট সভা শেষে শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনকে সাময়িক বরখাস্ত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলতেই থাকে। একপর্যায়ে শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসে আন্দোলন থেকে সরে আসেন শিক্ষার্থীরা।