ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আহত শাবিপ্রবি শিক্ষার্থী



শাবিপ্রবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সিলেট নগরীর তপোবন-আখালিয়া আবাসিক এলাকাস্থ ফাঁকা রাস্তায় ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। আহত শিক্ষার্থীর নাম সায়মা আলম। তিনি শাবির সিভিল এন্ড এনভাইরনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী। বর্তমানে ওই শিক্ষার্থী সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রোববার (২১ নভেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন শাবির প্রক্টর ড. মো. আলমগীর কবীর।

প্রক্টর বলেন, রোববার সকাল সাড়ে ৫টায় ঢাকা থেকে ট্রেনে করে সিলেট আসেন সায়মা আলম। সে সিলেট রেলস্টেশনে নামার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে সিএনজি নিয়ে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে সিলেটের তপোবন-আখালিয়া আবাসিক এলাকাস্থ ফাঁকা রাস্তায় এলে মোটরসাইকেল আরোহী তার পথ আটকিয়ে দেয়। পরে ছুরি বের করে তার কাছে যা কিছু আছে তা দিয়ে দিতে বলে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী তাদেরকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তার বাম পায়ে ছুরিকাঘাত করে ব্যাগ, ল্যাপটপ, মোবাইল, নগদ অর্থ ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়।

তিনি বলেন, বিষয়টি জানার সাথে সাথে আমরা সেখানে উপস্থিত হই। বর্তমানে সে এমএজি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।তার পায়ে ছোট একটি অপারেশন চলছে, তবে বিপদমুক্ত রয়েছে। ঘটনার বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তারা যথাযথ ব্যবস্থা নিবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে সিলেট নগরীতে ২০১৮ সালে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারান শাবির অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মাহিদ আল সালাম। নগরীর বিভিন্ন জায়গায় প্রতিনিয়ত ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত কোন স্থায়ী সমাধানের দেখা মেলেনি।

ঢাবিতে শিক্ষার্থীকে গেস্টরুমে ডেকে নির্যাতনের অভিযোগ



ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিজয় একাত্তর হলে আখতার হোসেন (১৯) নামের এক শিক্ষার্থীকে গেস্টরুমে ঢেকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের ৬ কর্মীর বিরুদ্ধে। নির্যাতিত শিক্ষার্থী গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২০-২১ বর্ষের শিক্ষার্থী।

বুধবার (২৬ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে নির্যাতনের এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আখতার আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে হল প্রশাসন বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।

জানা যায়, গত বুধবার রাতে আকতার গেস্টরুমে গেলে সে অসুস্থতার কথা বললে ১ ঘণ্টা তাঁকে বৈদ্যুতিক বাল্বের দিকে তাকিয়ে থাকতে বলা হলে, ১০ মিনিট তাকিয়ে থাকার পর তিনি অজ্ঞান হয়ে যান।

ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন- ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী হৃদয় আহমেদ কাজল, সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়ামিন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী কামরুজ্জামান রাজু, মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শুভ, লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম রোহান। এরা প্রত্যেকে ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী এবং হল শাখা ছাত্রলীগে পদপ্রত্যাশী আবু ইউনুস ও রবিউল ইসলাম রানার অনুসারী।

অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁদের কাউকেই পাওয়া সম্ভব হয়নি।

এবিষয়ে হল ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী আবু ইউনুস বলেন, তারা যে গেস্টরুম নিচ্ছে সে বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। হল প্রশাসনের প্রতি উদাত্ত আহ্বান থাকবে যে দোষীদের যেন সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হয়।

এ ব্যাপারে বিজয় একাত্তর হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবদুল বাছির বলেন, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। ইতিমধ্যে আমরা তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা সাপেক্ষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হবে।

;

প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই ঢাবি টিএসসিতে হবে হল সম্মেলন



ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই ঢাবি টিএসসিতে হবে হল সম্মেলন

প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই ঢাবি টিএসসিতে হবে হল সম্মেলন

  • Font increase
  • Font Decrease

দীর্ঘ ৫ বছর পর আগামী ৩০ জানুয়ারিতে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের সংক্রমণ বেড়ে চলায় গত ২১ জানুয়ারি থেকে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে।

এর আগে ২১ জানুয়ারিতে ক্যাম্পাসে সভা, সমাবেশ ও জনসমাগম না করার জন্য ঢাবির জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক মাহমুদ আলমের সই করা এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অনুরোধ জানায়। এখন পর্যন্ত অনুমতি না নিলেও শীঘ্রই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেবেন বলে জানান, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন। সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য বিধি মেনে প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই পদপ্রত্যাশী নেতৃবৃন্দ সহ সর্বোচ্চ ৫০০ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হবে সম্মেলনটি, বলে জানান তিনি।

ওই দিন সকাল ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়টির ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে ঢাবির ১৮ টি হলের হল সম্মেলন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল শাখা সভাপতি বরিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন  সড়ক, পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ও  আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাংসদ ওবায়দুল কাদের।

এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন- আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, ছাত্রলীগের সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য্য।

হল সম্মেলনটি উদ্বোধন করবেন ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও প্রধান বক্তা হিসেবে থাকবেন বিশ্ববিদ্যালয়টি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন।

শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মেনে বহুল প্রত্যাশিত হল সম্মেলন উপহার দিতে পারবেন বলে মনে করেন হল সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ছাত্রলীগের সভাপতি বরিকুল ইসলাম বাঁধন।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক একেএম গোলাম রব্বানী বলেন, করোনাকালীন নিষেধাজ্ঞার মাঝে আমরা যেকোনো সভা-সমাবেশ উৎসাহিত করছি না। আপাতত না করতে পরামর্শ দিচ্ছি এবং সহযোগিতা কামনা করছি।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ জানুয়ারি রাতে ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য হল সম্মেলনের তারিখ জানানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির ১৮টি হলের ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হতে আগ্রহী ৩৩০ জন। প্রতি পদের বিপরীতে প্রত্যাশী প্রায় ১০ জন করে। সংগঠনটির কর্মীরা বলছেন, নিয়মিত সম্মেলন না হাওয়ায় কারণে এবার পদ প্রত্যাশীর সংখ্যা বেশি।

২০১৬ সালের ১৩ ডিসেম্বরে হলগুলোতে ছাত্রলীগের সবশেষ কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়। সে হিসেবে ওই কমিটির মেয়াদ ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা থাকলে, নতুন কমিটির মুখ দেখিনি হলগুলো।

;

শাবি ক্যাম্পাসে অবরোধ প্রত্যাহার, আন্দোলন অব্যাহত থাকবে



শাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
শাবি ক্যাম্পাসে অবরোধ প্রত্যাহার, আন্দোলন অব্যাহত থাকবে

শাবি ক্যাম্পাসে অবরোধ প্রত্যাহার, আন্দোলন অব্যাহত থাকবে

  • Font increase
  • Font Decrease

ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলন অব্যাহত থাকবে এবং প্রধান ফটক, ভিসির বাস ভবনের ফটকসহ অন্যান্য ফটকের অবরোধ তুলে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

বুধবার রাত পৌনে ১১টায় প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন রোমিও নিকোলাস রোজারিও।

এসময় তিনি বলেন, ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের অংশ হিসেবে ২৫ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী টানা ১৬৩ ঘণ্টা ১৭ মিনিট অনশনরত থাকার পর অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যার এবং ড. ইয়াসমিন হক ম্যামের অনুরোধে অনশন থেকে সরে আসেন। আমরণ অনশন কর্মসূচি থেকে সরে আসার মূল কারণ ছিল আমাদের এক দফা দাবি মেনে নেয়া হবে এ আশ্বাস। তবে সাথে সাথে আন্দোলনকারীরা এও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিচ্ছি যে আপাতত অনশন থেকে সরে আসা হলেও ভিসির পদত্যাগের আগ পর্যন্ত চলমান আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

এদিকে বুধবার সকালবেলা শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দেয়া অধ্যাপক জাফর ইকবালকে মাধ্যম উল্লেখ করে ৫ টি দাবি করে শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অর্থদানের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত ৫ জন সাবেক শাবি শিক্ষার্থীর জামিন মঞ্জুর হয়েছে, অজ্ঞাতনামা শিক্ষার্থীদের নামে করা মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়েছে, অনশনকারী শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা খরচ মিটিয়ে দেয়া হয়েছে এবং ১৬ জানুয়ারি ভিসির মদদে সংঘটিত নারকীয় পুলিশী হামলায় গুরুতর আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়া হবে বলে আশ্বাস দেয়া হয়েছে।

রোমিও নিকোলাস রোজারিও আরও বলেন, আমাদের মূল দাবি ভিসি প্রত্যাহার এবং এরই সাথে ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক এবং প্রক্টরিয়াল বডির অপসারণের দায়িত্ব শ্রদ্ধেয় জাফর স্যার এবং ইয়াসমিন ম্যাম শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে নিয়েছেন। একই সাথে ক্যাম্পাসের সমস্ত আবাসিক হল যা বর্তমানে শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্যোগে সচল রেখেছে সেগুলোও পুরোদমে চালু হবে। জাফর স্যার এবং ইয়াসমিন ম্যামের অনুরোধে শীঘ্রই শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক এবং ভিসির বাসভবনের সামনে থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে বরাবরের মত ক্যাম্পাস শিক্ষার্থীদের দখলে থাকবে এবং ভিসির পদত্যাগের আগ পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলে জানায় সে।

এদিকে গত মঙ্গলবার বিকেলে প্রেস ব্রিফিংয়ে শব্দ চয়ন সংক্রান্ত যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে তা সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত এবং অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করেন এবং ভিসির দায়িত্বপালনকালে শিক্ষার্থীদের যে অসন্তোষ তা প্রকাশকালে তাদের মুখ থেকে উচ্চারিত কোন কথা কাউকে আঘাত দিয়ে থাকলে তারা দুঃখ প্রকাশ করেন৷ এই আন্দোলন কেবল এবং কেবলমাত্র ভিসির পদত্যাগের বলে সে উল্লেখ করেন।

এছাড়া ভিসির পদত্যাগের আগ পর্যন্ত বিক্ষোভ, অবস্থান কর্মসূচির পাশাপাশি প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকবে বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

;

রাজশাহী নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজশাহী
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

সেশনজট কমানোর উদ্যোগ নিতে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন রাজশাহী নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীরা। রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য (ভিসি) ডা. এ জেড এম মোস্তাক হোসেনকে তাঁরা এই আল্টিমেটাম দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে উদ্যোগ না নিলে কঠোর আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন রামেবির অধিভুক্ত এই নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীরা।

সেশনজট কমানোর দাবিতে বুধবার (২৬ জানুয়ারি) রাজশাহী নার্সিং কলেজের ২০১৭-২০১৮, ২০১৮-২০১৯, ২০১৯-২০২০ এবং ২০২০-২০২১ সেশনের চার বছর মেয়াদি বিএসসি ইন নার্সিং কোর্সের শিক্ষার্থীরা কলেজ ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেন। বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলে।

সমাবেশে বক্তব্য দেন- তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান, জয়নাল আবেদীন জয়, পারভেজ মোশাররফ, নাজমুল হোদা, আসিফ কামাল, মাসুম রেজা, সাখাওয়াত হোসেন, মেহেদী হাসান সম্রাট প্রমুখ। পরে তাঁরা কলেজ অধ্যক্ষ ড. ফয়েজুর রহমানের মাধ্যমে রামেবি ভিসিকে একটি লিখিত আবেদনপত্র দেন। সেখানেই ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা লেখেন, তারা বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের নার্সিং ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে উত্তীর্ণ হয়ে রাজশাহী নার্সিং কলেজে ভর্তি হন। একই ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন সেশনের শিক্ষার্থীরা যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত, তারা শিক্ষাকার্যক্রমে প্রায় দেড় বছর এগিয়ে গেছে।

অন্যদিকে রামেবি অন্তর্ভুক্ত সরকারি, বেসরকারি নার্সিং কলেজগুলোর শিক্ষার্থীরা সেশনজটে পড়েছে। সেশনজট নিরসনে কলেজ প্রশাসন এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাথে এক বছরে কয়েকদফা শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি দল আনুষ্ঠানিকভাবে সাক্ষাৎ করেন এবং যুগোপযোগী ও শিক্ষার্থীবান্ধর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লিখিতভাবে আবেদন জানান। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখন অবধি এই সেশনজট নিরসনে কোনো উল্লেখযোগ্য এবং কার্যকরী সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন কোনোটাই করতে সক্ষম হয়নি।

শিক্ষার্থীরা আরও লেখেন, পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে যে এখন সেশনজটের ক্ষতির হাত থেকে নিস্তার পাওয়া সম্ভব নয়। করোনার কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবান্ধর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যথাসম্ভব দ্রুত থেকে দ্রুত কোর্সের কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে শিক্ষার্থীদের সেশনজট নিরসনে কার্যকরী ভূমিকা পালন করেছে। অথচ রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নার্সিং অনুষদ কোনো প্রকার কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করেনি। এ কারণে শিক্ষার্থীরা হতাশাগ্রস্ত। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে।

শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান জানান, আগামী তিন দিন তাঁরা বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। এই সময়ের মধ্যে সেশনজট নিরসনে কোন উদ্যোগ নেওয়া না হলে তারা কঠোর আন্দোলনে যাবেন। এছাড়া এখন আর তাদের উপায় নেই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রামেবি ভিসি ডা. এ জেড এম মোস্তাক হোসেন বলেন, করোনার কারণে সেশনজট দেখা দিয়েছে। আগের ভিসি অসুস্থ থাকার কারণে উদ্যোগ নিতে পারেননি। এখন সমাধান তো এক মুহূর্তেই হবে না। ক্রমান্বয়ে কাভার করার চেষ্টায় আছি।

;