যৌথ গবেষণা ও প্রকল্পে খুবির সাথে আইডব্লিউএম’র সমঝোতা স্বাক্ষর



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, খুলনা
ছবি: বার্তা ২৪.কম

ছবি: বার্তা ২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

যৌথভাবে বন, পরিবেশ, পানিসম্পদ, উপকূলীয় প্রতিবেশ, সুনীল অর্থনীতি, জলবায়ুগত পরির্তন ও নদীর গঠনসংস্থানসহ বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও খ্যাতনামা সংস্থা ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম) এক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।

বুধবার (০৮ ডিসেম্বর) সন্ধ‌্যায় খু‌বি উপাচার্যের কার্যালয়ে এ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে এমওইউতে স্বাক্ষর করেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন ও আইডব্লিউএম এর পক্ষে স্বাক্ষর করেন নির্বাহী পরিচালক আবু সালেহ খান। পরে স্বাক্ষরিত এই এমওইউ উভয়পক্ষের মধ্যে বিনিময় করা হয়।

এমওইউ স্বাক্ষরের প্রাক্কালে উপাচার্য আইডব্লিউএম এর নির্বাহী পরিচালকসহ সংস্থার প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাদানের সাথে সাথে গবেষণা, যৌথ প্রকল্প গ্রহণ, কারিগরি অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত তথ্য বিনিময়ের মতো বিষয়ে অধিকতর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কারণ, এখন টিচিং এন্ড লার্নিং ক্ষেত্রে কেবল সীমাবদ্ধ হলেই চলবে না, প্রাকটিক্যাল ফিল্ডের অভিজ্ঞতা, বৈশ্বিক পরিবর্তনের সাথে পাঠ্যসূচিতে সঙ্গতি সাধন, জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশগত প্রভাবসহ বিভিন্ন ইস্যুতে গবেষণা জোরদার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। সেক্ষেত্রে যৌথ কার্যক্রম সবিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে।

এই এমওইউ স্বাক্ষরের ফলে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম) যৌথভাবে উন্নয়ন গবেষণা প্রকল্প গ্রহণ, সায়েন্টিফিক রিসার্চ এবং প্রজেক্ট বেইজড স্টাডিজ পরিচালন করবে।

এছাড়া উভয় প্রতিষ্ঠান একসাথে বন ব্যবস্থাপনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, সংরক্ষিত বনে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা, কমিউনিটি ফরেস্ট্রির উন্নয়ন ও উন্নতি সাধন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব, জলবায়ু পরিবর্তন এবং জীববৈচিত্র্য, প্রতিবেশগত প্রভাব যাচাইয়ের মতো ক্ষেত্রে এক সাথে কাজ করা যাবে।

তাছাড়া পানিসম্পদ এবং বন ব্যবস্থাপনা, বনের উপর উপকূলীয় নদী এবং সামুদ্রিক লবণাক্ততার প্রভাব, মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনা, উপকূলীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনা, নদীর গঠনসংস্থান, সুনীল অর্থনীতি, পরিবেশ দূষণ, প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা, দুর্যোগের ঝুঁকি নিরূপণ এবং ব্যবস্থাপনা, পরিবেশের প্রভাব নিরূপণে গবেষণার সুযোগ পাবে।

একই সাথে আধুনিক বন ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি, ডিজিটাল বন ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির উন্নয়ন, বন ব্যবস্থাপনা এবং ডিজিটাল ডাটাবেজ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিংয়ে ইন্টার্নশিপের উদ্যোগ, যৌথ গবেষণা ও পরামর্শ প্রকল্পে কাজ করা, যৌথভাবে আন্তর্জাতিক সেমিনার, ওয়ার্কশপ ও কনফারেন্সের আয়োজন করা, তথ্য-উপাত্ত বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর খান গোলাম কুদ্দুস, ফরেস্ট্রি এন্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিন প্রধান প্রফেসর ড. মো. ইফতেখার শামস্, প্রফেসর ড. মো. নাজমুস সাদাত, জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) এস এম আতিয়ার রহমান এবং আইডব্লিউএম’র ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর এস এম মাহবুবুর রহমান। এই এমওইউতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ফোকালপার্সন হিসেবে রয়েছেন ফরেস্ট্রি এন্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মো. নাজমুস সাদাত এবং আইডব্লিউএম’র পক্ষে আইসিটি-জিআইএস ডিভিশনের পরিচালক ড. মোল্লা মো. আওলাদ হোসেন।

‘তালেবানি কালচার কায়েম করেন শাবি ভিসি’



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সিলেট
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা

  • Font increase
  • Font Decrease

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ভিসি ফরিদ উদ্দিন গত চার বছরে ক্যাম্পাসে তালেবানি কালচার কায়েম করেন বলে অভিযোগ করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) রাত ৯টায় শিক্ষার্থীরা প্রেস ব্রিফিং করে সাংবাদিকদের একথা জানান।

শিক্ষার্থীরা জানন, উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আসার পর থেকে ক্যাম্পাসে সব ধরনের আলপনা, রোড পেন্টিং বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অথচ যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে সারাদেশে যখন ঝড় উঠেছিল তখন শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে এক কিলোমিটারজুড়ে আলপনা এঁকেছিল যা সর্ব মহলে সুনাম
অর্জন করে।

তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি জায়গায় তিনি নারী-পুরুষের মাঝে বৈষম্য সৃষ্টি করেন। যেখানে ছাত্র-ছাত্রীদের অবাধে চলাচলের কথা সেখানে তিনি হলের ছাত্রীদের রাত ৭টার মধ্যে হলে ফেরার শর্ত জুড়ে দেন। এছাড়া মুক্ত চলাচলের ক্ষেত্রে নানা বৈষম্যমূলক নির্দেশনা জারি করেন।

প্রেস ব্রিফিংকালে শিক্ষার্থীরা বলেন, এই ভিসি দ্বায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিভিন্ন কালচারাল সংগঠন বন্ধ করার পায়তারা শুরু করেন। কালচারাল প্রোগ্রামে বিধিনিষেধ আরোপ করার পাশাপাশি মুক্ত সাংস্কৃতিক চর্চার জায়গা সংকোচ করার চেষ্টা করে আসছেন।

তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। অথচ এখানেও শিক্ষক-শিক্ষার্থী বৈষম্য তৈরি করেছেন ভিসি। পর্যাপ্ত পরিবহন না থাকায় শিক্ষার্থীরা বাসে গাদাগাদি করে ক্যাম্পাসে আসে। অথচ শিক্ষকদের পর্যাপ্ত পরিবহন থাকার পরও তাদেরকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গাড়ি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনায় দীর্ঘদিন ধরে গড়ে তোলা বিভিন্ন টং দোকান ছোট ছোট খাবার দোকানগুলো ভিসি বিনা নোটিশে উচ্ছেদ করে দিয়েছেন। অথচ এই দোকানগুলোই ছিলো শিক্ষার্থীদের মুক্ত আলোচনা এবং আড্ডার একটি বড় প্লাটফর্ম।

এছাড়া উপাচার্য এক শিক্ষার্থীকে ডিজিটাল মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন বলেও অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।

এর আগে, বিকেল পৌনে ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর এলাকায় সাংবাদিকদের শিক্ষার্থীরা জানান, উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ না করা পর্যন্ত চলমান আন্দোলন থামবে না। পরে তারা দু'হাত তুলে একসাথে শপথ পাঠ করেন।

শিক্ষার্থীরা সে সময় জানিয়েছিলেন অনশনরত সহপাঠীদের জীবন বাচাঁতে তাদের সাথে কথা বলে অনশন ভাঙতে অনুরোধ করবেন। তবে রাত ৯টায় অনশনকারীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছে তারা ভিসি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত অনশন ভাঙবে না। জীবন দিয়ে হলেও দবি আদায়ে আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টায় এ প্রতিবেদন লিখা পর্যন্ত স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় ২০ জন অনশনকারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি ৮ জন ক্যাম্পাসে অনশন করছে। তবে হাসপাতালে চিকিৎসা নিলেও তারা অনশন ভাঙেনি বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ জানুয়ারি রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের। অভিযোগ তুলে তাঁর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন হলের কয়েক শ ছাত্রী। শনিবার সন্ধ্যার দিকে হলের ছাত্রীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ। রোববার ছাত্রীরা উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ লাঠিচার্জ ও রাবার বুলেট ছুঁড়ে ভিসিকে মুক্ত করে। এতে অর্ধশত শিক্ষার্থী আহত হন। এরপর থেকে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি উঠে।

;

আন্দোলনে টাকা দেওয়ায় শাবির সাবেক ৫ শিক্ষার্থী গ্রেফতার



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য বিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ‘টাকা দেওয়ায়’ বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক পাঁচ শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার নিশারুল আরিফ জানান, পাঁচ শিক্ষার্থীকে সিলেটের জালালাবাদ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান স্বপন এবং স্থাপত্য বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী রেজা নূর মুঈন দীপ ও নাজমুস সাকিব দ্বীপ এবং এ কে এম মারুফ হোসেন ও ফয়সাল আহমেদ।

কমিশনার নিশারুল আরিফ বলেন, এদেরকে শাবিপ্রবি উপাচার্য বিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের অর্থ যোগান দিয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এসব অর্থ যোগান তারা কিসের ভিত্তিতে দিয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এর আগে, আটকের বিষয়ে রেজা নূর মুঈনের স্ত্রী জাকোয়ান সালওয়া তাকরিম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, রেজা সন্ধ্যায় উত্তরা অ্যাগোরার কাছে কেনাকাটার জন্য গিয়েছিলেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তাকে সিআইডির সাইবার ক্রাইম ইউনিট তুলে নেয়। পরে তারা রেজার গাড়ি ফেরত দিতে বাসায় আসে এবং জানায় যে রেজাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিআইডি সদর দফতরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। যারা বাসায় এসেছিল তাদের গাড়িতে সিআইডির স্টিকার লাগানো ছিল বলে জানান রেজার স্ত্রী। তিনি নিজেও শাবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থী।

তিনি বলেন, এই আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়িয়েছি এবং কিছু অর্থ সহযোগিতা করেছি।

তবে, এবিষয়ে সিআইডির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, কাউকে গ্রেফতার কিংবা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসার বিষয়ে তথ্য তাদের জানা নেই।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ জানুয়ারি রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের। অভিযোগ তুলে তাঁর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন হলের কয়েক শ ছাত্রী। শনিবার সন্ধ্যার দিকে হলের ছাত্রীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ। রোববার ছাত্রীরা উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ লাঠিচার্জ ও রাবার বুলেট ছুঁড়ে ভিসিকে মুক্ত করে। এতে অর্ধশত শিক্ষার্থী আহত হন। এরপর থেকে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি উঠে।

;

ভিসির বাস ভবনে শিক্ষক সমিতির প্রবেশের চেষ্টা, শিক্ষার্থীদের বাধা



শাবিপ্রবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ভিসির বাস ভবনে শিক্ষক সমিতির প্রবেশের চেষ্টা, শিক্ষার্থীদের বাধা

ভিসির বাস ভবনে শিক্ষক সমিতির প্রবেশের চেষ্টা, শিক্ষার্থীদের বাধা

  • Font increase
  • Font Decrease

ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। রোববার থেকে পুলিশ ও সাংবাদিক বাদে অন্যদের ভিসি ভবনে প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। ফলে অবরুদ্ধ ভিসির সাথে অনেক চেষ্টা করেও দেখা করতে পারে নি কেউ।

শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. তুলসি কুমার দাশ ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মুহিবুল আলমের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল মঙ্গলবার দুপুর ১টায় ভিসির বাস ভবনের প্রধান ফটকে আসেন এবং ভেতরে যাওয়ার চেষ্টা করেন কিন্তু শিক্ষার্থীরা তাতে বাধা প্রদান করে। শিক্ষকরা আলোচনার মাধ্যমে উদ্ভূত সমস্যা সমাধানের জন্য আহবান জানান কিন্তু শিক্ষার্থীরা পদত্যাগের দাবিতে অনড় থাকায় শিক্ষকরা ফিরে যান।

এ সময় শিক্ষকরা কিছু খাবার নিয়ে আসলে শিক্ষার্থীরা বলেন, খাবার বা অন্যান্য জিনিসপত্র নিরাপত্তা বাহিনীর মাধ্যমে দেওয়া যাবে কিন্তু শিক্ষক কেউ যেতে পারেন না। পরবর্তীতে খাবারের প্যাকেট যাচাই করে নিরাপত্তা বাহিনীর মাধ্যমে ভেতরে পাঠানো হয়। 

এদিকে মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় সিলেট-২ আসনের সাংসদ ও গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোকাব্বির খান, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী সুরাইয়া বেগমসহ কয়েকজন নেতাকর্মী অনশনরত শিক্ষার্থীদের দেখতে আসেন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানান। তিনি বলেন, একজন সংসদ সদস্য হিসেবে আমি শিক্ষার্থীদের দেখতে এসেছি। তাদের দুরাবস্থা ও দাবিগুলো আমি সংসদে তুলে ধরবো। সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেনের পক্ষ থেকে আমি এখানে এসেছি। শিক্ষার্থীদেরকে ড. কামাল হোসেনের সাথে মোবাইলে কথা বলার জন্য বলেন কিন্তু শিক্ষার্থীরা তার সাথে কথা বলতে রাজি হয়নি। পরবর্তীতে কামাল হোসেন  গণমাধ্যমে মোবাইলে কথা বলেন।

এদিকে গত বুধবার থেকে শুরু হওয়া আমরণ অনশনের আজকে মঙ্গলবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত ১৪৪ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও কোনো সমাধান না আসায় অনশনরত শিক্ষার্থীদের নিয়ে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮ জন অনশনরতদের মধ্যে ১৯ জনের স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে এবং ৯ জন ক্যাম্পাসে অনশন করছে।

;

শাবিপ্রবি অনশনরতদের মেডিকেল সাপোর্ট বন্ধের অভিযোগ



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সিলেট
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) অনশনরত শিক্ষার্থীদের মেডিকেল সাপোর্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) ভোররাত আড়াইটার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে এ সব তথ্য জানানো হয়।

আন্দোলনকারীদের এক মুখপাত্র চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে বলেন, অনশনরত শিক্ষার্থীদের সবার অবস্থার অবনতি হচ্ছে এবং তারা ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন। তারা সবাই খিঁচুনি, ব্লাডে অক্সিজেন ও সুগার লেভেল কমে যাওয়া, ব্লাড প্রেশারসহ নানা শারীরিক জটিলতায় পড়ছেন। তারা অর্গান ড্যামেজের ঝুঁকিতে আছেন।

তিনি আরও বলেন, অনশনকারীদের মেডিকেল রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে সিনিয়র চিকিৎসকরা আরও জানিয়েছেন, অনশন দীর্ঘায়িত হলে যেকোনো মুহূর্তে হার্ট ফেইলিওরসহ কোমায় চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এরআগে, সোমবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করে বলেন, তাদের আর্থিক সহায়তা আসা ৬টি একাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যলয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা ব্যাংক একাউন্ট, বিকাশ, নগদ ও রকেটের মোট ৬টি একাউন্টের মাধ্যমে সহায়তার অর্থ পাঠান। এসব অর্থ দিয়ে প্রায় ৩ হাজার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীর খাবার ও আনুসাঙ্গিক খরচ চলে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দু'জন শিক্ষার্থী জানান, প্রতিদিন একাউন্টগুলোতে লাখ দুয়েক টাকার মতো আসতো। তবে আজ থেকে এ একাউন্টগুলোতে আমরা কোনো লেনদেন করতে পারছি না। ব্যাংক একাউন্টসহ সবগুলো একাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একাউন্ট বন্ধ করার ব্যাপারে আমাদের কিছু জানানো হয়নি। আমার স্থানীয়ভাবে বিকাশ অফিসে যোগাযোগ করেও কোনো সদুত্তর পাইনি।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবিতে গত বুধবার দুপুর আড়াইটা থেকে আমরণ অনশনে বসেন শাবিপ্রবির ২৪ জন শিক্ষার্থী। এরমধ্যে একজনের বাবা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় তিনি অনশন শুরুর পরের দিনই বাড়ি চলে যান। শনিবার রাতে গণঅনশনের অংশ হিসেবে নতুন করে যোগ দেন আরও ৪ জন। সবমিলে এখন অনশনে আছেন ২৮ জন।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ জানুয়ারি রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের। অভিযোগ তুলে তাঁর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন হলের কয়েক শ ছাত্রী। শনিবার সন্ধ্যার দিকে হলের ছাত্রীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ। রোববার ছাত্রীরা উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ লাঠিচার্জ ও রাবার বুলেট ছুঁড়ে ভিসিকে মুক্ত করে। এতে অর্ধশত শিক্ষার্থী আহত হন। এরপর থেকে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি উঠে।

;