জবিতে ১৭ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক ৬৯৫ জন



সাগর হোসেন, জবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ১৭ হাজার ৩৮ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ৬৯৫ জন। অর্থাৎ ২৫ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন শিক্ষক। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সর্বশেষ প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। অথচ বিশ্বব্যাপী উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর গড় অনুপাতের নূন্যতম মানদণ্ড ধরা হয় ১:২০। অর্থাৎ প্রতি ২০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন করে শিক্ষক থাকতে হবে। আবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকদের মধ্যে একটা অংশ থাকেন দীর্ঘসময় ধরে শিক্ষা ছুটিতে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত ঠিকমতো না থাকার ফলে সেশনজট, নিয়মিত ক্লাস না হওয়াসহ বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হয়। যা শিক্ষার্থীদের শিখনে এবং ভবিষ্যৎ জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

প্রতিষ্ঠানটির ৪৭তম প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বমোট ৩৬টি বিভাগ এবং ২টি ইনিস্টিটিউটে শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ। এর পরের অবস্থানে রয়েছে একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস। শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতে পিছিয়ে থাকার দিক থেকে তৃতীয় অবস্থানে যৌথভাবে রয়েছে আইন ও ফিন্যান্স বিভাগ। সবমিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২টি বিভাগ ও একটি ইন্সটিটিউট এই মানদণ্ড বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগে সর্বমোট শিক্ষার্থী রয়েছে ১ হাজার ৬৭ জন। এর বিপরীতে পাঠদানে নিয়োজিত রয়েছেন মাত্র ২৪ জন শিক্ষক। সে হিসেবে এই বিভাগে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর গড় অনুপাত ১:৪৪। যা বিশ্বব্যাপী প্রচলিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মানদণ্ডের ধারে কাছেও নেই। ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরের অবস্থানে রয়েছে একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগ। এই বিভাগে ১ হাজার ১০৭ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ২৭ জন। এই বিভাগে ৪১ জন শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছেন একজন শিক্ষক। এছাড়া শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতে পিছিয়ে থাকার দিক থেকে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে আইন ও ফিন্যান্স বিভাগ। প্রতি ৩৯ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে এই দুই বিভাগে শিক্ষক রয়েছেন একজন।

এছাড়া অন্য যেসব বিভাগে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতে আন্তর্জাতিক মান নেই সেগুলো হলো- বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, ইসলামিক স্টাডিজ, দর্শন, মার্কেটিং, পরিসংখ্যান, অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমাজকর্ম, সমাজবিজ্ঞান, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, লোকপ্রশাসন, ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন, ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইন, ভুগোল ও পরিবেশ এবং মনোবিজ্ঞান বিভাগ। এছাড়া শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটেও শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতে আন্তর্জাতিক মান নেই। শিক্ষক- শিক্ষার্থী অনুপাতে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগ। এই বিভাগে ২১১ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে রয়েছেন ২০ জন শিক্ষক অর্থাৎ প্রতি ১১ জন শিক্ষার্থীর জন্য এই বিভাগে একজন করে শিক্ষক রয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতকরণে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আবুল হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে অবশ্যই আমাদের শিক্ষার আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত কমানোর কোন বিকল্প নাই। আমরা ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সাথে কথা বলেছি। আমাদের আবাসনগত অনেক সংকীর্ণতা আছে, এমতাবস্থায় আমি শিক্ষক বাড়ানোর পরিবর্তে শিক্ষার্থী কমানোর দিকে মতামত ব্যক্ত করেছি। তবে এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া, খুব দ্রুত এর সমাধান করা সম্ভবপর হবে না।

এব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক বলেন, ইউজিসিতে আমাদের অনেক শিক্ষকের নিয়োগ আটকে আছে। আমরা ইউজিসির সঙ্গে কথা বলে আপাতত এসব নিয়োগ ছাড় দিতে বলছি। তাহলেও অনেকটা অনুপাত কমবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাতে আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিতকরণে শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা কমানো হবে নাকি শিক্ষক নিয়োগ বাড়ানো হবে? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, জগন্নাথ তার নির্দিষ্ট আঙ্গিকে চলবে। আমাদের সিন্ডিকেট আছে, একাডেমিক কাউন্সিল আছে, এ বিষয়ে আমার একার তো সিদ্ধান্ত দেওয়ার কিছু নেই। আমরা সবাই মিটিং করেই সিদ্ধান্ত নিবো যাতে আমাদের শিক্ষার আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত হয়।

এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সচিব ফেরদৌস জামান বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অবকাঠামো ছাড়াই অনেক ডিপার্টমেন্ট খোলা হয়েছে। কিছু ডিপার্টমেন্টের পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ নেই। আমরা তাদের কোনো শিক্ষক নিয়োগ আটকে রাখিনি। আমরা শিক্ষক ছাড় দেওয়ার জন্য যেমন অবকাঠামো এবং মানদণ্ড অনুসরণ করি সেটা না থাকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে শিক্ষক ছাড় দেওয়া যাচ্ছে না। কিছুদিনের মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভবনের কাজ সমাপ্ত হবে, তখন অনেক স্পেস বাড়বে। নতুন ক্যাম্পাসে গেলে এই শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতের বৈষম্যটি থাকবে না। আপাতত পুরাতন অবকাঠামোগুলো সংস্কার করে স্পেস বৃদ্ধি করলে অনেকাংশে সমস্যাটা কাটিয়ে উঠা সম্ভব হবে।

উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষা স্থগিত



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষা স্থগিত

উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষা স্থগিত

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) পরিচালিত সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। স্থগিত এসব পরীক্ষার সময়সূচি পরবর্তীতে জানানো হবে।

পরীক্ষাগুলো হলো- সিএসই, এইচএসসি (নিশ-২), এমবিএ এবং আগামী ২৮ ও ২৯ জানুয়ারি ২০২২ অনুষ্ঠিতব্য এসএসসি (নিশ-১), এইচএসসি (নিশ-১), বিএ, বিএসএস এবং ল (অনার্স), বিবিএ, এমএ অ্যান্ড এমএসএস (প্রিলিমিনারি অ্যান্ড ফাইনাল) পরীক্ষাসহ চলমান সব পরীক্ষা।

সোমবার বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য ও গণসংযোগ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ড. আ ফ ম মেজবাহ উদ্দিন এ তথ্য জানিয়েছেন।

;

শাবিপ্রবি ভিসির পদত্যাগের দাবিতে মশাল মিছিল



শাবিপ্রবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
শাবিপ্রবি ভিসির পদত্যাগের দাবিতে মশাল মিছিল

শাবিপ্রবি ভিসির পদত্যাগের দাবিতে মশাল মিছিল

  • Font increase
  • Font Decrease

ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।

সোমবার রাত ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে এক ঘণ্টা মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে মশাল মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মুক্তমঞ্চে গিয়ে শেষ।

এতে শিক্ষার্থীরা বলেন, এই মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থীদের সিলেট আসার আহবান মিছিল। এ সময় শিক্ষার্থীরা- 'সব সাস্টিয়ান সিলেট আয়, বোমা ফরিদ ভয় পায়', 'এক দুই তিন চার, ভিসির ঘর অন্ধকার', 'এক দুই তিন চার, এই মুহূর্তে গদি ছাড়' ইত্যাদি নতুন স্লোগান দিতে থাকে।

এদিকে সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টায় প্রক্টর ড. আলমগীর কবিরসহ প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ভিসির বাস ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করেন কিন্তু শিক্ষার্থীরা তাদের প্রবেশ করতে দেয়নি। এ সময় প্রক্টর বলেন, ভিসি স্যার হার্টের রোগী। উনার জন্য আমরা কিছু ঔষধ নিয়ে আসছিলাম। এছাড়া শিক্ষকদের ডর্মে একজন অসুস্থ শিক্ষককে দেখতে চাচ্ছিলাম। আমরা অনশনরত শিক্ষার্থীদের জন্যও খাবার নিয়ে আসছিলাম কিন্তু ভেতরে যেতে পারিনি।

এদিকে অনশনরত ২৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে অসুস্থ ১৭ জনকে হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে ও ১১ জন ক্যাম্পাসে রয়েছে এবং তারা সবাই এখনো অনশন করছে।

উল্লেখ্য, রোববার সন্ধ্যায় ভিসির বাস ভবনের বিদ্যুৎ ও গ্যাস লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেয় শিক্ষার্থীরা।

;

শাবিপ্রবি আন্দোলনকারীদের অর্থ সংগ্রহের ৬ অ্যাকাউন্ট বন্ধ



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সিলেট
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) আন্দোলনকারীদের আর্থিক সহায়তা আসা ৬টি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৪ জানুয়ারি) থেকে সবগুলো অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যলয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা ব্যাংক, বিকাশ, নগদ ও রকেটের মোট ৬টি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সহায়তার অর্থ পাঠান। এসব অর্থ দিয়ে প্রায় ৩ হাজার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীর খাবার ও আনুসাঙ্গিক খরচ চলে।

আন্দোলনকারীদের ফেসবুক পেজ থেকেও এমন তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়- সকলের অবগতির জন্য জানাচ্ছি, আন্দোলনকারীদের খাবার ও চিকিৎসার জন্য যেসব ভাই-আপুরা অর্থ সহায়তা পাঠাচ্ছিলেন সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে এসব অ্যাকাউন্টে কেউ টাকা পাঠাবেন না।

আন্দোলনকারীরা জানান, তাদের খাবার-দাবারসহ কিছু আনুসাঙ্গিক খরচের জন্য শাবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থীরা আর্থিক সহযোগিতা করেন। ইস্টার্ন ব্যাংকের একটি অ্যাকাউন্ট, তিনটি বিকাশ অ্যাকাউন্ট, একটি রকেট ও একটি নগদ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এ অর্থ সহায়তা আসতো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দু'জন শিক্ষার্থী জানান, প্রতিদিন অ্যাকাউন্টগুলোতে লাখ দুয়েক টাকার মতো আসতো। তবে আজ থেকে এ অ্যাকাউন্টগুলোতে আমরা কোনো লেনদেন করতে পারছি না। ব্যাংক অ্যাকাউন্টসহ সবগুলো অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার ব্যাপারে আমাদের কিছু জানানো হয়নি। আমার স্থানীয়ভাবে বিকাশ অফিসে যোগাযোগ করেও কোনো সদুত্তর পাইনি।

এ ব্যাপারে বিকাশের সিলেটের ডিস্ট্রিবিউটর নাসিম হোসাইন বলেন, অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তবে বিকাশে লেনদেনের কিছু নিয়ম আছে। ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা ও ব্যাবসয়িক অ্যাকাউন্ট থেকে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন করা যায়। এর বেশি হলে অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ জানুয়ারি রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের। অভিযোগ তুলে তাঁর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন হলের কয়েক শ ছাত্রী। শনিবার সন্ধ্যার দিকে হলের ছাত্রীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ। রোববার ছাত্রীরা উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ লাঠিচার্জ ও রাবার বুলেট ছুঁড়ে ভিসিকে মুক্ত করে। এতে অর্ধশত শিক্ষার্থী আহত হন। এরপর থেকে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা।

;

শাবিপ্রবির আন্দোলন সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপান্তরের চেষ্টা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে পরিণত করার অপচেষ্টা চলছে বলে দাবি করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শিক্ষক সমিতি।

সোমবার (২৪ জানুয়ারি) শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. রহমত উল্লাহ এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. নিজামুল হক ভূইয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়।

এতে বলা হয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ঢাবি শিক্ষক সমিতি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে আন্দোলনের গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে যে ধরনের তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপিত হয়েছে তা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর বাইরে তৃতীয় একটি পক্ষ এই আন্দোলনে ফায়দা হাসিল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত আছে। একটি বিশেষ মহল এই আন্দোলনকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপান্তরের অপচেষ্টা করছে বলে প্রতীয়মান হয়।

আরও বলা হয়, গত ১৩ জানুয়ারি উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের বিভিন্ন ইস্যুতে প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে ছাত্রীরা আন্দোলন শুরু করে। আন্দোলন চলাকালে পুলিশের বলপ্রয়োগের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে উক্ত হলের প্রভোস্ট পদত্যাগ করেন। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের মূল দাবি পূরণ হওয়া সত্ত্বেও উপাচার্যের পদত্যাগের আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলনের এই রূপান্তরের বিষয়টি অত্যন্ত অনভিপ্রেত এবং উদ্বেগের। যা খতিয়ে দেখার দাবি রাখে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলমান পরিস্থিতিতে গতকাল আন্দোলনকারীরা হঠাৎ করেই উপাচার্যের বাসার পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে, যা অমানবিক এবং শিক্ষাঙ্গনের আন্দোলনে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত মাত্রা যুক্ত করেছে। শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে কোনো সমস্যা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করাই বাঞ্ছনীয়।

শিক্ষক সমিতি শাবিপ্রবিতে সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় এবং পুলিশি হামলায় কারো উস্কানি আছে কি না তা তদন্তের দাবি জানায়।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ জানুয়ারি রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের। অভিযোগ তুলে তাঁর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন হলের কয়েক শ ছাত্রী। শনিবার সন্ধ্যার দিকে হলের ছাত্রীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ। রোববার ছাত্রীরা উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ লাঠিচার্জ ও রাবার বুলেট ছুঁড়ে ভিসিকে মুক্ত করে। এতে অর্ধশত শিক্ষার্থী আহত হন। এরপর থেকে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি উঠে।

;