কুবিতে অনলাইনে চলবে ক্লাস, খোলা থাকবে হল



কুবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুমিল্লা
ছবি: বার্তা ২৪.কম

ছবি: বার্তা ২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) প্রশাসন।

শুক্রবার (২১ জানুয়ারি) রাত ৯ টায় ৬৯ তম জরুরি একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সূত্রানুসারে, ২১ জানুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ক্লাস কার্যক্রমগুলো অনলাইনে হবে। আর পরীক্ষার বিষয়ে পরিস্থিতি বিবেচনা করে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারির পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এছাড়া অফিস কার্যক্রম চলবে সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত। এক্ষেত্রে যাদের অফিস কার্যক্রম চালানো প্রয়োজন শুধু তারাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে অফিসে আসবেন। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবে। একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোও খোলা থাকবে।

দেশের মানুষ ভাল আছে, তাই বিএনপির মন খারাপ



আরিফ জাওয়াদ, ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

  • Font increase
  • Font Decrease

“দেশের মানুষ ভাল আছে, তাই বিএনপির মন খারাপ। বিএনপি প্রতিনিয়তই ষড়যন্ত্র করতে তৎপর, যাঁরা কিনা সন্ত্রাস হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। শেখ হাসিনার লক্ষ্য পরবর্তী নির্বাচন না, পরবর্তী জেনারেশন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা বিজয়ে পৌঁছাব ইনশাআল্লাহ।”

শনিবার (২১ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ মন্তব্য করেন।

তিনি আরো বলেন, দেশে উন্নতি দেখার জন্য পদ্মা সেতু, টানেল, আন্ডারপাস, দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক গুলো বিএনপি’কে ঘুরে ঘুরে দেখার আহ্বান করেন মন্ত্রী। তিনি মনে করেন, সামনের নির্বাচনে জয়লাভ করতে এগুলোই যথেষ্ট।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয়ের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের সঞ্চলনায় উক্ত আলোচনায় আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বি.এম মোজাম্মেল, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ সহ আরো অনেকে।

;

আইএসডির শিক্ষার্থীদের সাঁতারের পারদর্শিতা প্রদর্শন



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
আইএসডির শিক্ষার্থীদের সাঁতারের পারদর্শিতা প্রদর্শন

আইএসডির শিক্ষার্থীদের সাঁতারের পারদর্শিতা প্রদর্শন

  • Font increase
  • Font Decrease

ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকা (আইএসডি) এর বার্ষিক সুইমিং গালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মাঝে সাঁতারের আনন্দ ছড়িয়ে দিতে করোনা মহামারি প্রাদুর্ভাবের পর এবারই প্রথম সুইমিং গালা আয়োজন করলো প্রতিষ্ঠানটি।

দুটি বিভাগে এ প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়। দুই গ্রুপে প্রায় ১২০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। রিলে, ব্যাকস্ট্রোক, ব্রেস্টস্ট্রোক এবং আইএম ক্যাটাগরিতে ২৫ মিটার সাঁতারের এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

আইএসডি’র সুইমিং কোচ মারিয়ানা ইগনাট বলেন, আইএসডি সবসময় সাঁতারকে প্রাধান্য দেয় এবং নিশ্চিত করে যেন শিক্ষার্থীরা এ ধরনের কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিষয়টি উপভোগ করে। এই আদর্শ ধারণ করে, আমরা পাঁচ বছর যাবত সুইমিং গালা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছি।

এই সুইমিং গালা শিক্ষার্থীদের সাঁতারে দক্ষ করে তোলার পাশাপাশি সাঁতারের সুস্থ ও আনন্দদায়ক পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে তাদেরকে অন্যদের সাথে যোগাযোগের ও সামাজিকীকরণের সুযোগ করে দিয়েছে। সহনশীলতা, শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক ফিটনেসে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার মাধ্যমে আয়োজনটি শিক্ষার্থীদের মাঝে আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে সাঁতারের সুস্থ পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা করে আইএসডি, যা সবাইকে বন্ধুত্ব স্থাপন, ক্রীড়া এবং টেকসই জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করবে।

;

গেস্টরুমে শিক্ষার্থী নির্যাতন বিরোধী আইন প্রণয়নের দাবি



ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
গেস্টরুমে শিক্ষার্থী নির্যাতন বিরোধী আইন প্রণয়নের দাবি

গেস্টরুমে শিক্ষার্থী নির্যাতন বিরোধী আইন প্রণয়নের দাবি

  • Font increase
  • Font Decrease

গেস্টরুমে শিক্ষার্থী বন্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত আইন প্রণয়ন করা। আইন তৈরি করা হলে শিক্ষার্থী নির্যাতনে কেউ আর তেমন সাহস দেখাবে বলে মনে করেন ছাত্র অধিকার পরিষদ।

শুক্রবার (২০ মে) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্যাতন বন্ধ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়টির সন্ত্রাস রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ছাত্র অধিকার পরিষদ সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লার সভাপতিত্বে ও ঢাবি শাখার সহ-সভাপতি আসিফ মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হওয়া এক সমাবেশে এমনটা দাবি জানায় বক্তারা।

সমাবেশে বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, দেশ স্বাধীন করেছিল এই ছাত্ররা। আজ তাদেরই স্বাধীন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পরাধীন অবস্থায় বসবাস করতে হয়। এই ক্ষমতালোভী দখলদাররাই ছাত্রদের পরাধীন করে রেখেছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও কার্যত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর হলে ছাত্ররা স্বাধীন নয়। তাদের দোষ তারা ছাত্রলীগের কথা শুনে না, তাদের প্রোগ্রামে যায় না, তারা মিছিলে ডাকলে মিছিলে যায় না। না গেলে তাদের টর্চারসেলে নিয়ে টর্চার করা হয়। গণরুমে নিয়ে তাদের নির্যাতন করা হয়।

ঢাবি ছাত্র অধিকার পরিষদের সহ সভপাতি আসিফ মাহমুদ বলেন, ২০১৮ এর পরবর্তীতে হলগুলোতে যতবার নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ততবারই আমরা আজকের এ জায়গাতে দাঁড়িয়েছে। খুব কম সংখ্যকই নির্যাতনে অভিযুক্তরা শাস্তি পেয়েছেন। নির্যাতনের ঘটনায় নির্যাতিতরা তাঁদের নিজের পক্ষে কথা বলে না। শাস্তির দাবি জানাতে গিয়ে পরবর্তী আমাদেরকেই বিপত্তিতে পড়তে হয়। এমন নির্যাতনের ঘটনায় আর কাউকে যেন না পড়তে সেজন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। এছাড়া ডাকসু নির্বাচনের পাশাপাশি শীগ্রই গেস্টরুম নির্যাতন বিরোধী আইনের দাবি জানান তিনি।

ডাকসুর সাবেক সমাজ সেবা সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি আখতার হোসেন বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেকটি হলে কোথায় কখন, কিভাবে কোন শিক্ষার্থীর উপর যাঁরা নির্যাতন চালিয়েছেন তাঁদের নাম লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে। আজ হোক আর হোক কিংবা ১০০ বছর পর হলেও তাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করাব আমরা।

তিনি আরো বলেন, ডাকসু নির্বাচনে শিক্ষার্থীরা কিছু কথা বলার অধিকারটুকু পেয়েছিল। কিন্ত প্রশাসনের সদিচ্ছার অভাবে সেই ডাকসু নির্বাচন হচ্ছে না। অচিরেই ডাকসু নির্বাচনের পাশাপাশি গেস্টরুমে নির্যাতন বিরোধী আইন প্রণয়নের জন্য প্রশাসনকে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান এ ছাত্রনেতা।

এ সময় ছাত্র অধিকার পরিষদের আসাদ বিন রনি, আবির ইসলাম সবুজ, অর্ণব হোসাইন, নেওয়াজ খান বাপ্পি, সাকিব চৌধুরী, মো. ফরহাদ, তুহিন, ইসমাইল সম্রাট, আনাফ সাইদ খান, সোহেল মৃধা সহ আরো অনেকে বক্তব্য রাখেন।

;

ঢাবিতে পড়ার স্বপ্ন পূরণে ভর্তি পরীক্ষায় বসবেন ৫৫ বছরের বেলায়েত



আরিফ জাওয়াদ, ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ঢাবিতে পড়ার স্বপ্ন পূরণে ভর্তি পরীক্ষায় বসবেন ৫৫ বছর বয়সী বেলায়েত

ঢাবিতে পড়ার স্বপ্ন পূরণে ভর্তি পরীক্ষায় বসবেন ৫৫ বছর বয়সী বেলায়েত

  • Font increase
  • Font Decrease

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস, সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র দিয়ে দোয়া চেয়েছেন ৫৫ বছর বয়সী একজন। মুহূর্তের মধ্যে প্রবেশপত্রসহ নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায় সেটি। চলতে থাকে নানা গাল-গল্প।

বলছিলাম গাজীপুর জেলার শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পশ্চিমখণ্ড এলাকার মৃত হাসেন আলী শেখ ও জয়গন বিবির চার সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয় সন্তান বেলায়েত শেখের কথা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভূক্ত ‘ঘ’ ইউনিটে ভর্তির জন্য আবেদন করেছেন তিনি।

১৯৬৮ সালে জন্ম নেয়া বেলায়েত, ছোট থেকেই পড়াশোনার প্রতি ছিল আগ্রহ। প্রবল আগ্রহ থাকলেও দারিদ্র্যের কারণে কূল পেয়ে উঠেননি তিনি। এত বিপত্তির মাঝে ১৯৮৩ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষা (এসএসসি) যে না মাত্র বসতে যাবে তখনই অসুস্থ হয়ে পড়েন তাঁর বাবা হাসেন আলী। পরীক্ষার জন্য ফর্ম ফিল আপের পুরো টাকা ব্যয় হয় বাবার চিকিৎসার পেছনে। পরবর্তীতে যে-না পরীক্ষায় বসতে যাবেন আবারও বিধি-বাম, ১৯৮৫ সালে বন্যা এসে আবার তা ভণ্ডুল হয়ে যায়। এদিকে ১৯৯১-৯২ তে গিয়ে মা অসুস্থ হয়ে পড়লে আবারও বাঁধ সাধে। মা ভক্ত বেলায়েত মনে করেন, “দুনিয়াতে মা বেঁচে না থাকলে এই লেখাপড়া দিয়ে কি হবে।” লেগে পড়েন মাতৃসেবায়। কাঁধে নেন পুরো সংসারের দায়িত্ব।

এসএসসি দিতে না পারায় মেকানিক্যাল কোর্স করে মোটর গাড়ির ওয়ার্কশপ কাজ শুরু করেন; তা দিয়েই চলে সংসার। সঙ্গে ভাই-বোনদের পড়াশোনার দায়িত্ব পড়ে তাঁর কাঁধে। অভাবের মাঝে ভাই-বোনদের উচ্চ শিক্ষা দিতে না পেরে সন্তানদের নিয়ে স্বপ্ন বুনেন, দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) উচ্চ শিক্ষা নিয়ে। তিন সন্তানের জনক বেলায়েত শেখ।

বড় ছেলে গাজীপুরের একটি কলেজ থেকে স্নাতকে পড়ছেন, সেই সঙ্গে মাওনা চৌরাস্তায় তাঁকে স্যানেটারির দোকান করে দিয়েছেন বেলায়েত শেখ। সম্প্রতি তাকে বিয়েও করিয়েছেন। একমাত্র মেয়েকে ঘিরে বেলায়েত শেখের ছিল সকল স্বপ্ন। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, “আমার মায়ের পরে আমি আমার মেয়েকে অনেক ভালবাসতাম। স্বপ্ন ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে হয় তো মেয়েটি আমার মুখ উজ্জ্বল করবে। হবে বিসিএস ক্যাডার।” সেজন্য রাজধানীর নামকরা কলেজে ভর্তিও করিয়েছেন কিন্তু মেয়ে সেখানে পড়াশোনা না করেই গ্রামে চলে আসে। সেখানে এইচএসসি শেষে একটি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ভর্তি হয়।

মায়ের সঙ্গে বেলায়েত শেখ

সকল স্বপ্ন যেন তখনই শেষ হয়ে যায়, বেলায়েত শেখ বার্তা২৪.কম’কে বলেন। ওই কলেজে স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষ পর্যন্ত পড়েছে তার মেয়ে। এরপর তাকেও বিয়ে দিয়ে দেন। এদিকে বেলায়েত শেখের সবচেয়ে ছোট ছেলে এ বছর মাধ্যমিক পাস করেছেন, তিনিও পড়ছেন একটি ইঞ্জিনিয়ারিংএ কলেজে।

তিন সন্তানই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) না পড়ার যন্ত্রণা জেঁকে বসে বেলায়েতের। সকল অপ্রাপ্তি অপূর্ণতা সন্তান, ভাই-বোনের কাঁধ থেকে নামিয়ে নিজের কাঁধেই তুলে দেন বেলায়েত। শুরু করেন পড়াশোনা। চলতি বছরে ঢাকা মহানগর কারিগরি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি-ভোকেশনাল) জিপিএ ৪.৪৩ নিয়ে পাস করেন। এর আগে ২০১৯ সালে বাসাবোর দারুল ইসলাম আলিম মাদ্রাসা থেকে জিপিএ ৪.৫৮ পেয়ে মাধ্যমিক সমমান দাখিল (ভোকেশনাল) পাস করেন।

এ বয়সে সংসার সামলে পড়াশোনার অনুপ্রেরণা কার কাছ থেকে পান জানতে চাইলে বেলায়েত শেখ বলেন, “আমার মা, আমার সকল অনুপ্রেরণার উৎস।” এছাড়া শ্রীপুর কারিগরী কলেজের বন্ধু প্রভাষক মো. সিদ্দিক ও উনার স্ত্রী মারুফা ও অধ্যক্ষ সেলিমের কারণে এতদূর আসতে পেরেছেন বলে জানান তিনি। এত কিছুর মাঝে জীবন যুদ্ধে জয়ী হতে চাওয়া ও স্বপ্নের পানে ছুটে চলা বেলায়েত একটি জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন টিভিতে সাংবাদিকতাও করেন।

বেলায়েত শেখ আগামী মাসে অংশ নিতে যাচ্ছেন দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভর্তি যুদ্ধে। নিজের অপূর্ণ স্বপ্নগুলো পূরণে দিন-রাত পরিশ্রম করে চলছেন স্বপ্নের পানে ছোটা এ যোদ্ধা। বেলায়েত বলেন, “সন্তানরা আপনার স্বপ্নগুলো গুঁড়ে-বালি করে দিয়েছে। তাই নিজের স্বপ্ন নিজেই পূরণ করার যুদ্ধে নেমেছি।” ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির প্রস্তুতি ঝালিয়ে নিতে ভর্তি হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং এ। ঢাবিতে বয়স নিয়ে কোন জটিলতা থাকলে তিনি আদালতে রীট করতেন বলে জানান। তিনি বলেন “আমি যদি এসএসসি, এইচএসসি পাশ করি চেষ্টা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত অসুবিধা কই? বাকিটা আল্লাহর ভরসা।”

এ প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের উদ্দেশ্যে বেলায়েত শেখ বলেন, “আজকের ছেলে মেয়েরা অনলাইনে যে সময় ব্যয় করে, তাঁরা যদি লেখাপড়ার পেছনে এ সময় দেয়। বাবা-মার সেবা যত্ন করে, তাঁরা অনেক সফল হবেন। বাবাকে একটু মাকে একটু খুশি করি, কেন যেন সন্তানরা বোঝে না”, বলে হতাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

পরিবারের লোকজন ও সন্তানরা পড়াশোনা করার বিষয়টি কীভাবে দেখেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এক সময় তাঁরা ভালভাবে নিত না তবে এখন তাঁরা ভাল ভাবে নেয়। তাছাড়া কোচিং যখন তিনি ভর্তি হতে যান তখন অভিভাবকের স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। বাবা বেঁচে নেই, মা অসুস্থ। তাই তাঁর বড় ছেলেই অভিভাবক হিসেবে স্বাক্ষর করেন।

এ বয়সে পড়াশোনা মুখস্থ হয় না বলে জানান, বেলায়েত। মুখস্থ না হওয়ায়, পড়ার পাশাপাশি তিনি প্রচুর লিখেন। বেলায়েত শেখ জানান, এমনও হয়েছে যে কোন লিখা ১০০ বারও লিখেছি। মায়ের দোয়াতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাবেন বলে আশাবাদী তিনি। ইচ্ছে থাকলে উপায়, চেষ্টা, পরিশ্রম করলে এর ফসল ভাল হবে, বলে তিনি মনে করেন। কথার শেষ পর্যায়ে বেলায়েত বলেন, “শিক্ষা-দীক্ষার শিক্ষা চাই। শিক্ষার কোন বয়স নাই।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স না পেলে পড়াশোনা ছেড়ে দিবেন কি’না জানতে চাইলে বার্তা২৪.কম’কে বলেন, “কখনোই না! ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) আমার স্বপ্ন বটে, তবে পড়াশোনা নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই।” জীবদ্দশায় যতদূর পারা যায় তদ্দূর পর্যন্তই পড়বেন বলে জানান, জীবন যুদ্ধে জয়ী হতে চাওয়া ও স্বপ্নের পানে ছুটে চলা বেলায়েত শেখ।

;