উপাচার্য-শিক্ষকদের দ্বন্দ্বে অর্ধমাস অচল কুবি, শঙ্কিত শিক্ষার্থীরা



অনন মজুমদার, কুবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
উপাচার্য-শিক্ষক সমিতি দ্বন্দ্বে অর্ধমাস অচল কুবি

উপাচার্য-শিক্ষক সমিতি দ্বন্দ্বে অর্ধমাস অচল কুবি

  • Font increase
  • Font Decrease

উপাচার্য ও শিক্ষক সমিতির মধ্যকার দ্বন্দ্বে ১৫ দিনের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সকল অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। গত ২৯ এপ্রিলে শিক্ষক সমিতির অনির্দিষ্টকালের জন্য সকল ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন এবং ৩০ এপ্রিল সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণার পর এখন পর্যন্ত স্থগিত হয়েছে সাতটি বিভাগের চূড়ান্ত পরীক্ষার প্রস্তাবিত রুটিন প্রকাশ এবং পাঁচটি বিভাগের চূড়ান্ত পরীক্ষা।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ এপ্রিল থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ হওয়ার পর থেকে অর্থনীতি বিভাগ, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন বিভাগ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ এবং মার্কেটিং বিভাগের আটটি পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে। যে সাতটি বিভাগের চূড়ান্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত করার লক্ষে রুটিন হাতে এসেছিল, সেগুলোও ইতোমধ্যেই শুরু হওয়ার কথা ছিল।

এদিকে অনির্দিষ্টকালের ক্লাস-পরীক্ষা ও হল বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে অনেক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের হলেই থেকে যায়। কেউ কেউ আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া বাসে করে ফিরে যান বাড়ি। দফায় দফায় সাধারণ শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রলীগের মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা জানান, উপাচার্য - শিক্ষকদের দ্বন্দ্বে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে না। তারা চান, দ্রুত সময়ের মধ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরে আসুক।

বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী তাওহীদ হোসেন সানি বলেন, ‘করোনা মহামারির কারণে আমাদের শিক্ষা জীবন অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার উপর শিক্ষকদের ক্লাস পরীক্ষা বয়কটের সিদ্ধান্ত আর এরপর প্রশাসনের অনির্দিষ্টকালের বন্ধ যেন ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’। ঈদের পর আমাদের স্নাতকোত্তর ১ম সেমিস্টার পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা, কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে আমাদের ইনকোর্সই শেষ হয়নি। কবে নাগাদ সবকিছু স্বাভাবিক হবে, এসবের কিছুই জানি না। আমরা খুবই হতাশ। শিক্ষকদের এই দ্বন্দ্বে আমরা সাত হাজার শিক্ষার্থী কেন ভুক্তভোগী হবো?'

বিশ্ববিদ্যালয়টিতে এমন ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ১৯ ফেব্রুয়ারি কুবি শিক্ষক সমিতির নির্বাচনের দিনই। ঐদিন বিকালে উপাচার্যকে ঘেরাও করে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন তারা। এছাড়া উপাচার্যকে ‘নব্য আলী জিন্নাহ’ বলেন সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান৷ ৬ মার্চ উপাচার্যকে সবার সামনে পদত্যাগ করতে বলেন ও ‘ডাস্টবিন’ বলেও সম্বোধন করেন।

গত ১৩ মার্চ শিক্ষক সমিতি সাত দফা দাবি জানিয়ে কর্মসূচি শুরু করে। এরপর ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়ার পর ২৫ এপ্রিল উপাচার্য, ট্রেজারার ও প্রক্টরকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে তাদের কার্যালয়ে তালা দেওয়া হয়। ২৮ এপ্রিল দুপুরে উপাচার্য প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশের সময় উপাচার্য, শিক্ষক সমিতি ও শাখা ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীদের মধ্যে ত্রিমুখী ধাক্কাধাক্কির পর শিক্ষক সমিতি তাদের সাত দফা দাবি থেকে সরে এসে উপাচার্য ও ট্রেজারারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে আন্দোলন কর্মসূচি শুরু করেন। এরপর ২৯ এপ্রিল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করার সিদ্ধান্ত নেয়। পরেরদিনই সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও হলসমূহ বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

২৮ এপ্রিলের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা করেছে কুবি শিক্ষক সমিতি ও প্রশাসন৷ শিক্ষক সমিতি উপাচার্য, ট্রেজারারসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে এবং প্রশাসন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ শিক্ষক সমিতির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় অভিযোগ জানায়।

এদিকে কুবি শিক্ষক সমিতির সাত দফা দাবির পক্ষে সমর্থন জানিয়ে বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন ১৯ জন শিক্ষক। তবে বর্তমান এই অচলাবস্থা নিরসনে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি উপাচার্য কিংবা শিক্ষক সমিতিকে। বরং সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অমান্য করেছে কুবি শিক্ষক সমিতি। ২৪ এপ্রিল ৯২তম জরুরি সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষক সমিতির দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এবং সিন্ডিকেট থেকে চারটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সিদ্ধান্ত চারটি হলো- বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য এবং কোষাধ্যক্ষ শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি অবিহিত করে দিক নির্দেশনা চাইবে। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি উপাচার্য দফতরে হওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত তদন্তের জন্য চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়, আগামী ১৬ মে অধ্যাপক গ্রেড-১ ও অধ্যাপক গ্রেড-২ পর্যায়ে উন্নীতকরণের জন্য সভা আহ্বান করা হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য প্রফেসর ড. সাদেকা হালিমকে শিক্ষক সমিতির দাবিগুলো নিয়ে শিক্ষক সমিতির সাথে আলোচনা করে দাবিসমূহ নিষ্পত্তির জন্য দায়িত্ব প্রদান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে সিন্ডিকেটের চার সিদ্ধান্তকে উপাচার্যের 'সমস্যা সমাধানের দৃশ্যমান উদ্যোগ নয়' দাবি করে শিক্ষক সমিতির সভাপতি এবং তারা তাদের কর্মসূচি চলমান থাকবে বলে জানায়।

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষক সমিতি সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, ‘আমরা শিক্ষকদের উপর যে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছিলো তার প্রতিবাদে আমরা ক্লাস পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিলাম। কিন্তু উপাচার্য সে সমস্যার সমাধান না করে যে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন আমরা শিক্ষক সমিতি সেটার সাথে একমত নই। আমরা চাই দ্রুত ভিসির অপসারণ হোক এবং এই সমস্যার সমাধান হোক। আমরা শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হোক চাই না। পাশাপাশি, আমরা চাই শিক্ষার্থীরা যথাসময়ে ক্লাস পরীক্ষা দিতে পারুক।’

সার্বিক বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন বলেন, ‘সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে বিশ্ববিদ্যালয় ও হল বন্ধ করার আগেই ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে আসছিল শিক্ষক সমিতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি বিবেচনায় সিন্ডিকেটের সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়- ক্যাম্পাস ও হল বন্ধের। আশা করছি খুব দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে।’

   

জানালার গ্রিল নিয়ে পালাতে গিয়ে আটক চবি ছাত্রলীগ নেতা



চবি করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) পুরাতন শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের জানালার দুটি গ্রিল নিয়ে পালাতে গিয়ে মূল ফটকে আটক হন মোহাম্মদ জুয়েল নামের এক ছাত্রলীগ নেতা। তিনি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সম্পাদক ও সিক্সটি নাইন পক্ষের অনুসারী।

বৃহস্পতিবার (২০ জুন) বিকাল ৫ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটোকে দায়িত্বরত গার্ড তাকে আটক করেন। এ সময় তাকে একটি রিক্সাযোগে জানালার দুইটি গ্রিল সহ আটক করা হয়।

আটককৃত শিক্ষার্থী ব্যাংকিং ও বিমা বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী। পরবর্তীতে তার কাছে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

তিনি প্রশাসনের কাছে অঙ্গীকারনামায় বলেন, আমি এই মর্মে অঙ্গীকার করিতেছি যে, আমি মোহাম্মদ জুয়েল, সেশন ১৭-১৮, ডিপার্টমেন্ট ব্যাংকিং ও বিমা, শাহজালাল হল, রুম নং ৩৩৬ এ থাকি। ভুলবশত কারণে পরিত্যক্ত জানালার দুটি গ্রিল অটোরিকশা যোগে বিক্রয় করার উদ্দেশ্যে শাহজালাল হল হইতে বাইরে নেওয়ার পথে জিরোপয়েন্ট গেটে আটক করে এবং প্রক্টর মহোদয় উপস্থিত হইলে ভবিষ্যতে এই ধরনের কাজ করিব না মর্মে অঙ্গীকার করলাম। যদি ভবিষ্যতে করি পুলিশ প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যে ব্যবস্থা নেবে তা আমি স্বাচ্ছন্দ্যে মানিয়া নিব।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোহাম্মদ অহিদুল আলম বলেন, বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিকিউরিটি গার্ড আমাদের কে ব্যাপারটি জানায়। পরে ওই শিক্ষার্থীকে আটক করে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। ওই শিক্ষার্থী দাবি করেছে রডগুলো নষ্ট হয়ে পড়ে আছে ভেবে সে বিক্রি করতে চেয়েছে। কিন্তু এভাবে চাইলেই তো কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তির যা ইচ্ছা তা করতে পারে না। আসলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম বোধ থাকা উচিত কি করা যাবে আর যাবে না।

মোহাম্মদ জুয়েলের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান, গ্রিল দুটো অনেক পুরনো, এগুলো কোন কাজে আসবেনা ভেবে না বুঝেই নিয়ে যাচ্ছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে বিষয়টি অনেক বড় হয়ে যায়।

;

ইবির শারীরিক শিক্ষার পরীক্ষা মঙ্গলবার, আসনপ্রতি লড়বে ২৩



ইবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

গুচ্ছভুক্ত ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের ব্যবহারিক পরীক্ষা আগামী ২৫ ও ২৬ জুন অনুষ্ঠিত হবে। এতে ৩০টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেছে ৬৮৫ জন ভর্তিচ্ছু, ফলে আসনপ্রতি লড়াই করবেন ২৩ জন শিক্ষার্থী। বিভাগটির সভাপতি অধ্যাপক ড. দেবাশীষ শর্মা এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ড. দেবাশীষ শর্মা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ২৫ জুন এবং ২৬ জুন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভূক্ত এই বিভাগটির পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। উভয় দিনই সকাল ৯টা থেকে পরীক্ষা শুরু হবে। এই পরীক্ষায় তিনটি ইভেন্ট থাকবে। সেগুলো হলো- ৬০ মিটার স্প্রিন্ট, ২০০ মিটার স্প্রিন্ট এবং ফ্লেক্সিবিলিটি টেস্ট।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ব্যবহারিক পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের স্পোর্টস ড্রেস পরিধান করে অংশগ্রহণ করতে হবে। সকল পরীক্ষার্থীকে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র সঙ্গে আনতে হবে। সকল পরীক্ষার্থীকে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার মার্কশীটের সত্যায়িত অনুলিপি সঙ্গে আনতে হবে।

এবিষয়ে রেজিস্ট্রার দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা গেছে, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগে ব্যবহারিকে অংশ নিতে উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমান পরীক্ষায় ইংরেজি বিষয়ে ন্যূনতম গ্রেডপয়েন্ট ৩.০০ পেতে হবে।

এছাড়াও বিকেএসপি শিক্ষার্থী তথা খেলোয়াড়দের জন্য বিভাগের আসন সংখ্যা ২০% অতিরিক্ত হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে। এই বিভাগে মোট ৩০টি আসনের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের ‘এ’ ইউনিটের জন্য ৯টি, মানবিকের ‘বি’ ইউনিটের জন্য ১৫টি এবং বাণিজ্য বিভাগ ‘সি’ ইউনিটের জন্য ৬টি আসন বরাদ্দ রয়েছে বলে জানা যায়।

;

লাঞ্চের দাওয়াত দিয়ে আয়োজন করেনি জবি প্রশাসন



জবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) অধ্যয়নরত যে সকল শিক্ষার্থী ঈদে ঢাকায় অবস্থান করবে, তাদেরকে পাঁচটি খাসি দিয়ে পোলাও, কোর্মার আপ্যায়ন করার ঘোষণা দিয়েও কোনো আয়োজন করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এমনকি প্রশাসন যে আপ্যায়নের আয়োজন করছেন না সেটাও জানানো হয়নি। যার কারণে ঈদের দিন অনেক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেও আপ্যায়ন না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। পরে প্রশাসনের দাওয়াতে আশা অধিকাংশ শিক্ষার্থীই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ আয়োজিত আপ্যায়নে অংশ নেন।

শিক্ষার্থীরা বলেছেন, প্রশাসনের দাওয়াতে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসেছি। তারা আমাদের জন্য ৫টি খাসি কুরবানি দিয়ে আপ্যায়ন করবে বলে ডেকে এনে কিছুই আয়োজন করেনি। এখন প্রশাসনের দাওয়াতে আমরা যারা এসেছি তাদের অধিকাংশ ই এখানে কিছু না পেয়ে ছাত্রলীগের আয়োজনে গিয়েছি। দুই দাওয়াতের মানুষ একই জায়গায় তাদের উপরেও চাপ পড়েছে।

তবে ঈদের দিন প্রশাসন আপ্যায়নের আয়োজন না করলেও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ছয়টি খাসি কুরবানি দেন। এ উপলক্ষে বিগত তিনদিন তারা সকল প্রকার কেনাকাটা সম্পন্ন করেন। খাসির পাশাপাশি ডিম, পোলাও, কোর্মাসহ কোমল পানীয় পরিবেশন করেন তারা। এ সময় শিক্ষার্থীরা ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান করা সকলকেই ছাত্রলীগের আয়োজনে যোগ দিতে দেখা গিয়েছে।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গত বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) জানিয়েছেন, সব মিলিয়ে ঈদের দিন দুপুরে ৩০০-৩৫০ জনের জন্য খাবারের আয়োজন করবেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আলাদা আপ্যায়নের আয়োজন না করায় এসব শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগের আপ্যায়নে যোগ দেন। তাদের এত শিক্ষার্থীদের মাঝে খাবার বণ্টন করতে হিমশিম খেতে হয়েছে বলে জানা গেছে।

নারিন্দার মেসে অবস্থান করা ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী সামিউল ইসলাম বলেন, ঈদের পর পরীক্ষা থাকার কারণে এবার বাড়ি যাইনি। ঈদের দিন রান্না করাও কষ্টদায়ক। শুনলাম প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য খাবারের আয়োজন করা হয়েছে। সেজন্য ক্যাম্পাসে আসা। ক্যাম্পাসে আসার পর দেখি প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আয়োজন নেই। পরে কলা ভবনের দিকে গিয়ে দেখি ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। সেখানে যাওয়ার পর সভাপতি আমাকে আপ্যায়ন করালো। তাদের আয়োজন ভালো লেগেছে। ছাত্রলীগের এমন উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের জন্য সত্যি প্রশংসনীয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রাকিব মোল্লা বলেন, বিশেষ কারণে এবার ঢাকায় ঈদ করা হচ্ছিল। ঈদে মেসের খালা বাসায় চলে গিয়েছে। রান্না করারও কেউ নেই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ঘোষণা শুনে খাসি খেতে এসে দেখি খাসি তো দূরের কথা সাদা-ভাতেরও আয়োজন করা হয়নি। ঈদের দিন তাই আশেপাশে দোকানও খোলা নেই যে কিছু খাবো। দাওয়াত খেতে এসে আমার জীবনেও এইভাবে অপমানিত হইনি।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি ইব্রাহিম ফরাজি বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ৬টি খাসি দিয়ে আপ্যায়নের আয়োজন করি। যারাই এসেছে আমরা সবাইকে আপ্যায়ন করিয়েছি। কে কোন দাওয়াতে এসেছে এটা মূখ্য বিষয় না। যেই এসেছে আমরা আমাদের পক্ষে সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে আপ্যায়ন করেছি।

সাধারণ সম্পাদক এস এম আকতার হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীরা যারাই আমাদের আয়োজনে এসেছে সবাই অনেক খুশি হয়েছে। অনেকেরই বাসায় রান্না করার কেউ নেই। সেই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করতে পেরে আমরাও খুশি। আগামীতেও এইরকম আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে আশা করি।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে জানতে চাইলে তিনি ছাত্রলীগের ব্যানারে আয়োজিত আপ্যায়ন কর্মসূচিকে নিজেদের বলে দাবি করেন।

;

রিকুইজিশনের নিয়ম মেনেই শিক্ষার্থীদের গাড়ি দেওয়া হয়েছে: বশেফমুবিপ্রবি প্রশাসন



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম, জামালপুর
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

জামালপুরে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেফমুবিপ্রবি) মাইক্রোবাস নিয়ে ছাত্রলীগের নেতারা ঢাকায় ঘুরতে যাওয়ার ছবি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) সমালোচনার ঝড় বইছে। তবে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কামরুল আলম খান বার্তা২৪.কম-কে বলেছেন, গাড়িটি যথাযথ নিয়ম মেনেই শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয়েছিলো।

জানা গেছে, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেফমুবিপ্রবি) কয়েকজন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের মাইক্রোবাসটি (ঢাকা মেট্রো চ- ৫৬-৩৮৭৩) রিকুইজিশনে নিয়ে গত কয়েকদিন আগে ঢাকায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের একটা প্রোগ্রামে যান।

কিন্তু গত বুধবার ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি নিয়ে ঢাকায় ৬ ছাত্রলীগ নেতা’ শিরোনামে একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়। এতে বলা হয়, কর্মচারীদের জন্য ব্যবহৃত মাইক্রোবাস নিয়ে ঢাকায় কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে গেলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ছয় নেতা। তারা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক কাউসার আহাম্মেদ স্বাধীন, যুগ্ম আহ্বায়ক তাইফুল ইসলাম পলাশ, মোকাররম হোসাইন, নাজমুল ইসলাম, এন সাকলাইন ও সদস্য ইখতিয়ার উদ্দিন ইমন।

তবে বিষয়ে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কামরুল আলম খান শুক্রবার (১৪ জুন) বিকালে বার্তা২৪.কম-কে বলেন, গত বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে রিকুইজিশনের শর্তমতে গাড়িটি তাদের দেওয়া হয়। শর্তানুযায়ী তারা গাড়ির যাবতীয় খরচ পরিশোধ করেছেন। বিষয়টা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন নীতিমালায় উল্লেখ করা আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোনো শিক্ষার্থী চাইলে জরুরি প্রয়োজনে গাড়ি নিতে পারবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কাউসার আহাম্মেদ স্বাধীন বার্তা২৪.কম-কে বলেন, আমাদের একটা প্রোগ্রাম ছিলো। ঈদের এই সময়ে ঢাকা গিয়ে ফিরে আসতে গাড়ি পাওয়া যায় না, অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়। তাই আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবার রিকুইজিশনে গাড়ি চেয়ে আবেদর করেছিলাম। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অনুমতি দেয়। সাধারণ শিক্ষার্থী ‍হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কেউ এ আবেদন করতে পারে। অথচ বিষয়টিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক তাইফুল ইসলাম পলাশ বলেন, উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আমাদের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। যে সাংবাদিকরা নিউজ করেছেন তারা কেউই আমাদের কোনো বক্তব্যই নেয় নাই। যা হয়েছে নিয়ম মেনেই হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহন নীতিমালার কোনো ব্যত্যয় আমরা ঘটাইনি। সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে যে কেউ চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি স্বাপেক্ষে এ সুবিধা নিতে পারবে। এতে ভাড়াসহ যাবতীয় খরচ শিক্ষার্থীকে বহন করতে হয়।

;