পরিপত্র বহাল হলেও রাজপথ ছাড়বে না শিক্ষার্থীরা



ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

২০১৮ সালের পরিপত্র বহাল চেয়ে ২ শিক্ষার্থীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (১০ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ শুনানী করা হবে। তবে পরিপত্র বহাল হলেও শিক্ষার্থীরা রাজপথ ছাড়বে না বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

এদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়েছেন। এখান থেকে মিছিল নিয়ে প্রথমে শাহবাগ অবরোধ করবেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় আন্দোলনকারীরা এ তথ্য দেন।

আন্দোলনের অন্যতম সমম্বয়ক সারজিস আলম বলেন, আমাদের দাবি সরকারের কাছে। আদালতের কাছে নয়। আমরা সকল গ্রেডে কোটা যৌক্তিক পর্যায়ে সংস্কার চাই। আমরা মনে করি তা ৫ শতাংশ থাকতে পারে। সরকার সকল স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে একটি কমিশন গঠন করে কোটা সংস্কারের আশ্বাস দিলে আমরা রাজপথ ছাড়ব৷

আন্দোলনকারীরা জানান,সরকারি সকল গ্রেডের চাকরিতে কোটা প্রথাকে যৌক্তিক পর্যায়ে সংস্কারের দাবিতে আজ সকাল-সন্ধ্যা বাংলা ব্লকেড কর্মসূচি পালন করবেন শিক্ষার্থীরা।

তারা আরো জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শাহবাগ মোড়, ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট মোড়, মৎস্য ভবন৷ চানখারপুল অবরোধ করবেন। ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা সাইন্সল্যাব মোড়ে অবস্থান নেবেন৷ এছাড়া তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা মহাখালী, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ আশপাশের প্রতিষ্ঠান আগারগাঁও মোড় অবরোধ করবেন।

অন্যান্য শিক্ষার্থীরা গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট, পল্টন মোড়, রামপুরা ব্রিজ মোড় অবরোধ করবেন বলে জানান তিনি ।

মুখে কালো কাপড় বেঁধে বাকৃবি শিক্ষকদের প্রতিবাদ



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ময়মনসিংহ
ছবি: মুখে কালো কাপড় বেঁধে বাকৃবি শিক্ষকদের প্রতিবাদ/বার্তা২৪.কম

ছবি: মুখে কালো কাপড় বেঁধে বাকৃবি শিক্ষকদের প্রতিবাদ/বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ছাত্র-ছাত্রী নির্যাতন এবং হত্যার প্রতিবাদে নিজেদের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) বিবেকবান সাধারণ শিক্ষক উল্লেখ করে মুখে কালো কাপড় বেঁধে মৌন মিছিল করেন। বিজয় একাত্তর ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন কিছু শিক্ষক। বিভিন্ন বিভাগের সাধারণ শিক্ষকগণ ওই মিছিলে অংশগ্রহণ করেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে কৃষি অনুষদের করিডোর থেকে মৌন মিছিল শুরু হয়ে বিজয় একাত্তর ভাস্কর্যের চত্তরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অবস্থান করে নিহত শিক্ষার্থীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা দোআ করা হয়।

এসময় শিক্ষকরা বলেন ছাত্ররা আমাদের আন্দোলনে সহযোগিতা করছিলো কিন্তু আমরা তাদেরকে সহযোগিতা করতে পারিনি। এজন্য আমরা দুঃখিত। আমরা সাধারণ শিক্ষকরা ক্লাস শুরু হওয়ার পরে যাতে আবার শিরদাঁড়া শক্ত করে দাঁড়াতে পারি তার জন্য আজকে আমরা এই রোদের মধ্যে এসে দাঁড়িয়েছি।সবাই শিরদাঁড়া সোজা করেন বুলেট চলবেই তার মধ্যে লড়াই থাকবেই। মনে রাখবেন ৩০ লক্ষ শহীদের বিনিময়ে আমরা আজ বেঁচে আছি।

;

ববিতে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে ক্যাম্পাস ছাড়লো পুলিশ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বরিশাল
ছবি: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

ছবি: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

  • Font increase
  • Font Decrease

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে গেছে পুলিশ। এর আগে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে তাদের তোপের মুখে পড়েন তারা। স্থানীয় জনতাদের নিয়ে শিক্ষার্থীরা চারদিক থেকে ঘিরে ধরলে টিয়ার শেল, রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পুলিশ। এ ঘটনায় ৮ শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হন।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা 'কমপ্লিটি শাটডউট' কর্মসূচি নিয়ে ঢাকা-পটুয়াখালী মহাসড়কে অবস্থান করে। এ সময় পুলিশ অ্যাকশনে গেলে, শিক্ষার্থীরা তাদের বিরুদ্ধে চড়াও হয়।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষ

শিক্ষার্থীদের ছোড়া ইট পাটকেলের ফলে আশেপাশের দোকানপাটে অবস্থান নেন পুলিশ সদস্যরা। পরে ক্যাম্পাস বেরিয়ে মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে পুলিশকে ঘিরে ধরে শিক্ষার্থীরা। পরে কোণঠাসা হয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যান পুলিশ সদস্যরা। এ সময় তাদের নিরাপত্তা দিয়ে শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত সেতু পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে আসেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

এর আগে সকালে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি অবস্থানে ছিল র‍্যাব, পুলিশ, এপিবিএন ও বিজিবির সদস্যরা। শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালনে বাধা দেন তারা। পরে ১২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত আল্টিমেটাম দেয় শিক্ষার্থীরা। সে সময় পার হলেই সংঘর্ষ শুরু হয়।

;

হল ছাড়ছেন বাকৃবি শিক্ষার্থীরা



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ময়মনসিংহ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

কোটা সংস্কার আন্দোলনের ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) সব শিক্ষা কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধের সিদ্ধান্তে হল ছাড়ছেন শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দুপুর ১২টার মধ্যে হল ত্যাগ করতে বলা হয়েছে।

সেই ঘোষণা অনুযায়ী সকল থেকে শিক্ষার্থীদের হল ছেড়ে চলে যেতে দেখা যায়। দলে দলে বিভিন্ন হল থেকে শিক্ষার্থীরা ময়মনসিংহ শহরে যাওয়ার জন্য আবদুল জব্বার মোড়ে এসে জড়ো হতে দেখা যায়। অনেক মধ্যে রাতেই চলে গেছেন বলে জানা যায়।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, সবাইকে বাধ্যতামূলক হল ত্যাগ করতে হবে। আমরা সবাইকে অনুরোধ করবো হল ছেড়ে দেওয়ার জন্য। আপাতত এ পরিস্থিতিতে আমরা কাউকে হলে থাকার অনুমতি দেব না সবাইকে হলে ত্যাগ করতে হবে। পরে আমরা বিবেচনা করবো। দ্রুত সময়েের মধ্যে ছাত্রদের সুবিধার্থে বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে না পারলে ও হল খুলে দেব আমরা।

কিন্তু এখন একটু ছাত্রছাত্রীদের ক্যাম্পাস ছেড়ে যেতে হবে। কারণ পরিস্থিতি যে কোন সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো.অলিউল্লাহ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে হল বন্ধে তথ্য জানানো হয়।

;

জাবিতে বিদ্যুৎ-পানি-ইন্টারনেট বন্ধ, হল ছেড়েছে শিক্ষার্থীরা



জাবি করেসপন্ডেট, বার্তা ২৪.কম, ঢাকা
জাবিতে বিদ্যুৎ-পানি-ইন্টারনেট বন্ধ, হল ছেড়েছে শিক্ষার্থীরা

জাবিতে বিদ্যুৎ-পানি-ইন্টারনেট বন্ধ, হল ছেড়েছে শিক্ষার্থীরা

  • Font increase
  • Font Decrease

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাসে বিদ্যুৎ, পানি ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অধিকাংশ আবাসিক হল ছেড়ে চলে গেছেন শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১৭ জুলাই) রাত ১০টার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এমন পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) ক্যাম্পাসের ভেতরে প্রধান ফটক সংলগ্ন এলাকায় পুলিশের সাঁজোয়া যান ও ক্যাম্পাসের বাইরে বিজিবি মোতায়েন আছে বলে জানা গেছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

শিক্ষার্থীরা জানান, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাসে বিদ্যুৎ চলে যায়। পরে অনেক শিক্ষার্থী হল ছেড়ে চলে যান।

এর আগে, গতকাল বুধবার (১৭ জুলাই) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরুরি সিন্ডিকেট সভা শেষে বিকেল ৪টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সেটি প্রত্যাখ্যান করেন এবং প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল আলমসহ অন্যান্য সিন্ডিকেট সদস্যরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

পরে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পুলিশ আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ও ছররা গুলি নিক্ষেপ করে। এতে আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্নস্থানে ছড়িয়ে পড়েন। কিছুক্ষণ পর শিক্ষার্থীরা বের হয়ে দফায় দফায় পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। এতে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে পুরো ক্যাম্পাসে। পুলিশ, সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীসহ শতাধিক আহত হয়েছেন।

এদিকে, গতকাল বুধবার (১৭ জুলাই) সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনে পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব, সোয়াটের ন্যাক্কারজনক হামলা ও সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিতের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সারাদেশে কমপ্লিট শাটডাউন (সবকিছু বন্ধ) কর্মসূচি পালন করবে তারা।

বুধবার রাত সাড়ে ৭টায় এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে ওপর পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব, সোয়াটের ন্যাক্কারজনক হামলা, খুনের প্রতিবাদ, খুনিদের বিচার, সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত ও এক দফা দাবিতে বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সারাদেশে কমপ্লিট শাটডাউন ঘোষণা করছি।

তিনি আরও বলেন, এসময় শুধুমাত্র হাসপাতাল ও জরুরি সেবা ব্যতীত কোন প্রতিষ্ঠানের দরজা খুলবে না, অ্যাম্বুলেন্স ব্যতীত সড়কে কোনো গাড়ি চলবে না। সারাদেশের প্রতিটি স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, মাদরাসা শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানাচ্ছি আগামীকালকের কর্মসূচি সফল করুন।

অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমরা আপনাদেরই সন্তান। আমাদের পাশে দাঁড়ান, রক্ষা করুন। এই লড়াইটা শুধু ছাত্রদের না, দলমত নির্বিশেষে এদেশের আপামর জনসাধারণের।

;