সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন

রাজশাহীতে দ্বিতীয় দিনেও সড়ক অবরোধ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজশাহী
ছবি: বার্তা২৪, রাজশাহীতে দ্বিতীয় দিনের মতো ব্লকেড কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা

ছবি: বার্তা২৪, রাজশাহীতে দ্বিতীয় দিনের মতো ব্লকেড কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজশাহীতে দ্বিতীয় দিনের মতো সরকারি চাকরির নিয়োগে কোটাপদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে সড়ক অবরোধ (ব্লকেড) কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১০ জুলাই) দুপুরে দিকে রাজশাহী কলেজের প্রধান ফটকের সামনে তারা ব্লকেড কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানজট দেখা দেয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।

অবরোধের ফলে সৃষ্ট যানজট নিয়ে পথচারীরা অভিযোগ করেন, এই ধরনের অবরোধ আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যাপক সমস্যার সৃষ্টি করছে। আমরা আশা করি, প্রশাসন দ্রুত বিষয়টি সমাধান করবে।

তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে, শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। এ অবস্থায় নগরীর সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে এবং শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।

শিক্ষার্থীরা দাবি করছেন, বর্তমান কোটা ব্যবস্থা তাদের জন্য বৈষম্যমূলক এবং এটি পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে। বিভিন্ন ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে তারা স্লোগান দিচ্ছেন এবং প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছেন।

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, কোটা ব্যবস্থা তাদের মেধা ও পরিশ্রমকে অবমূল্যায়ন করে। তারা চান ন্যায্য প্রতিযোগিতা, যেখানে যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে চাকরি পাওয়া যাবে।

বর্তমান কোটা ব্যবস্থা তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে এবং যোগ্য প্রার্থীরা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি পাচ্ছেন না। কোটার কারণে মেধাবী শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ছেন এবং ন্যায্য প্রতিযোগিতার সুযোগ পাচ্ছেন না। কোটার কারণে সমাজে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। এটি দূর করতে হলে অবশ্যই কোটা ব্যবস্থা বাতিল করতে হবে এবং সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু করতে হবে।

এদিকে, বুধবার মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ে স্থিতাবস্থা জারি করেছেন আপিল বিভাগ।

স্থিতিবস্থা জারিতে রাজশাহী কলেজ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন স্থগিত

হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের ওপর সম্মান জানিয়ে আগামী চার সপ্তাহের জন্য সব ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচি স্থগিত করেছেন রাজশাহী কলেজ শিক্ষার্থীরা। তবে আপিল বিভাগের চূড়ান্ত শুনানিতে শিক্ষার্থীদের পক্ষে রায় না আসলে বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

আন্দোলন অব্যাহত রাবি ও রুয়েট শিক্ষার্থীদের
রাজশাহী কলেজ শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত করলেও টানা আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ও রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষার্থীরা।

তারা জানিয়েছেন, কেবল প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতেই নয় বরং সরকারি চাকরিতে সব ধরনের কোটা সংস্কারের দাবিতে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন তারা। তারা বলছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত না তাদের দাবি আদায় হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।

সরেজমিন
সরেজমিন দেখা যায়, বুধবার সকাল ১১টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ও ছাত্রাবাস থেকে জাতীয় পতাকা, কোটাবিরোধী বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে জড়ো হন শিক্ষার্থীরা। জড়ো হওয়ার পর বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনের মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা।

সেখানে ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে মিছিলসহ যোগ দেন রুয়েটের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী। এরপর সাড়ে ১২টায় প্রধান ফটক থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে চৌদ্দপাই এলাকার বিহাস বাইপাস মোড়ের দিকে রওয়ানা হন তারা। প্রায় ১৫ মিনিট পর বিহাস মোড়ে পৌঁছানোর পর সেখানে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা।

বাইপাস মোড়ে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘সারাবাংলায় খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে’, ‘দেশটা নয় পাকিস্তান, কোটার হোক অবসান’, ‘কোটা বৈষম্য নিপাত যাক, মেধাবীরা মুক্তি পাক’, ‘আপোষ না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’, ’১৮-এর হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আবার’, ‘জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্রসমাজ জেগেছে’, ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে’, ‘অ্যাকশন অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’সহ কোটাবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

জানতে চাইলে রাবির কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আমানুল্লাহ খান বলেন, শিক্ষার্থী সমাজের সব ধরনের চাকরিতে কোটা সংস্কারের যৌক্তিক দাবি নির্বাহী বিভাগের কাছে। নির্বাহী বিভাগকে দায়িত্ব নিয়ে নতুন পরিপত্র জারির মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের পথ দেখাতে হবে, যাতে করে আবারও আইনি জটিলতা তৈরি না হয় এবং শিক্ষার্থীরাও ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সারাদেশের সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাবো।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে বুলিংয়ের প্রতিবাদে মানববন্ধন



কুবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বুলিংয়ের প্রতিবাদে মানববন্ধন

ছবি: বুলিংয়ের প্রতিবাদে মানববন্ধন

  • Font increase
  • Font Decrease

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) নৃবিজ্ঞান বিভাগের নারী শিক্ষার্থী ফাতেমাতুজ জহুরা মিম কোটা সংস্কার আন্দোলনে যোগ দেয়ায় ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখি করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি আমিনুর বিশ্বাস তাকে উদ্দেশ্যে করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় আক্রমণ করার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

শনিবার (১৩ জুলাই) বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির পাদদেশে ১২টার দিকে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা আমিনুর বিশ্বাসের বিচার দাবি করেন। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দ্রুত বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান।

বুলিংয়ের শিকার ফাতেমাতুজ জহুরা মিমের সহপাঠী আসাদ আরাফাত বলেন, 'আমিনুর বিশ্বাস আমার সহপাঠীকে সাইবার বুলিং করেন। তার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি। মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের মত একটা সংগঠনের সভাপতি হয়ে তিনি এধরনের কাজ করেছেন। যা সত্যিই নিন্দনীয়। তার মতো একজন ঘৃণ্য ব্যক্তি ছাত্রলীগের নেতা হন কী করে? প্রশাসনের কাছে আমার দাবি থাকবে তাকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হোক।'

গণযোগাযোগ সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ফরহাদ কাওছার বলেন, 'সভ্যতা গড়ে উঠতে নারী পুরুষের সমান অবদান আছে। ১১ জুলাই পুলিশি হামলার প্রতিবাদে মিম আপুর সাহসী নেতৃত্বে কুবি শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবস্থান নেয়। আমিনুর বিশ্বাসক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দিতে আমাদের লজ্জা করে।'

নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সোনিয়া আক্তার বলেন, 'আমিনুর বিশ্বাসের এই ধরনের কর্মকাণ্ড এই প্রথম নয়। আমি সহ আমার মেয়ে সহপাঠীদেরকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ কথা বলতেন। আমরা চাই প্রশাসন যাতে তাকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে। আর যাতে কোনো মেয়ে শিক্ষার্থী তার হেনস্তার শিকার না হয়।'

ঘটনার সূত্রপাত, গত ১১ জুলাই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশি হামলার পর শিক্ষার্থীরা দল দলে আন্দোলনকারীদের সাথে যোগ দিতে থাকে। সেসময় ফাতেমাতুজ-জহুরা মিমও আন্দোলনে যোগ দেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের সাহসিকতার খবর ছড়িয়ে পড়লে আমিনুর বিশ্বাস মেয়েদেরকে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। পরে ফাতেমাতুজ জহুরা মিমকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেন। এরই প্রতিবাদে নৃবিজ্ঞানসহ অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরাও মানববন্ধন করেন।

;

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সব কমিটি বিলুপ্ত



রাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রলীগের সব হল, অনুষদ ও বিভাগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুলাই) রাত ১১টার দিকে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

এতে বলা হয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ জরুরি সিদ্ধান্ত মোতাবেক জানানো যাচ্ছে যে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত সব হল, অনুষদ ও বিভাগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ-হিল-গালিব বলেন, আমি ও আমার সভাপতি দায়িত্বে আসার আগে থেকেই হল কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্দেশনা ছাড়া আমরা কিছু করতে পারি না। ১৭টি আবাসিক হলের অধিকাংশ নেতার পড়াশোনা শেষ হয়ে যাওয়ায় ক্যাম্পাস ত্যাগ করেছেন।

হল শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মাঝে উৎফুল্ল পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সঙ্গে কথা বলে খুব অল্প সময়ে হল সম্মেলনের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি।

;

ওপরমহলে বিশ্বাসঘাতকতা করলে আন্দোলন ছেড়ে না যাওয়ার হুঁশিয়ারি



ইবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা ২৪

ছবি: বার্তা ২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

সর্বজনীন পেনশন স্কিম ‘প্রত্যয়’ বাতিল করে সুপার গ্রেডে অন্তর্ভূক্তির দাবিতে, ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে তিন দফা দাবিতে আজও কর্মবিরতি পালন করছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষকরা। এসময় সরকারের সাথে বৈঠকে উপরমহলের কেউ বিশ্বাসঘাতকতা করলে আন্দোলন ছেড়ে না যাওয়ার হুশিয়ারি দেন তারা।

শনিবার (১৩ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ ভবনের নিচ তলায় দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির কর্মবিরতি পালনকালে এমন মন্তব্য করেন শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ।

এসময় বক্তারা বলেন, আমরা আন্দোলন করছি তিনটি দাবি নিয়ে। প্রত্যয় স্কিম বাতিল, প্রতিশ্রুত সুপার গ্রেড এবং স্বতন্ত্র বেতন স্কেল নিয়ে। এখানে এই বিষয় নিয়ে ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হচ্ছে। তারা শুধু প্রত্যয় স্কিমের কথা বলছেন। সংগ্রামে জয়ী হওয়ার জন্য আমাদের মানসিকতা দরকার। কিন্তু আমরা নেতৃবৃন্দের মধ্যে এই মানসিকতার ত্রুটি দেখছি। এভাবে সংগ্রামে বিজয়ী হওয়া যায় না। আন্দোলনে সফল হতে হলে আমাদের নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব মিটিয়ে একসাথে আগাতে হবে।

তারা আরও বলেন, আমরা আমাদের দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলনে এসেছি। এখান থেকে দাবি না আদায় হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি থেকে পিছিয়ে যাব না। যদি সরকারের সাথে বৈঠক চলাকালে কেউ এই দাবি নিয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করে আমরা আমাদের দাবি থেকে পিছিয়ে যাব না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন ছেড়ে যাচ্ছি না আমরা। এসময় সকল শিক্ষক নেতাদের নিরাশ না হওয়ার আহ্বান জানান তারা।

;

পরীক্ষায় ছাত্রলীগ নেতার প্রক্সি দিতে এসে আটক 'প্রক্সি ব্যবসায়ী'



ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
আটক অভিযুক্ত কাউছার/ছবি: বার্তা২৪.কম

আটক অভিযুক্ত কাউছার/ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

জয়পুরহাট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক রেজার জন্য ম্যানেজমেন্ট বিষয়ের ‘প্রক্সি’ পরীক্ষার্থী খুঁজে দেওয়ার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) এসে শিক্ষার্থীদের হাতে ধরা পড়েন কাউছার আলী নামের এক 'প্রক্সি' ব্যবসায়ী। এ ঘটনায় তাকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১২ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কাউছার আলীকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিতে নিয়ে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে রাত ৩টার দিকে তাকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়।

ঢাবি সাংবাদিক সমিতিতে কাউছার আলী জানিয়েছেন, বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রক্সি দেওয়ার কথা। প্রায় ১০ বছর ধরে সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার একটি ‘প্রক্সি’ চক্রের সাথে তিনি জড়িত। এ ব্যাপারে বিভিন্ন ধরনের তথ্যপ্রমাণ তার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট থেকে পাওয়া গেছে। 

বিভিন্ন গ্রেডের সরকারি চাকরির পরীক্ষায় প্রার্থীদের হয়ে ‘প্রক্সি’ দেন কাউছার আলী। কোনো চাকরির পরীক্ষার জন্য প্রক্সি হিসেবে বিশেষ কোনো বিষয়ে দক্ষ কাউকে প্রয়োজন হলে তাদের খুঁজে দিতেও সহায়তা করেন। শিক্ষক নিবন্ধনের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ছাড়াও রেলওয়ের বিভিন্ন পদ, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক ও পল্লি বিদ্যুৎ সমিতিসহ বিভিন্ন সরকারি ও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার নিয়োগ পরীক্ষায় তিনি ও তার সহযোগীরা ‘প্রক্সি’ পরীক্ষার্থী সরবরাহ করেন।

কাউছার জানান, নিজে অন্তত তিনটি পরীক্ষায় ‘প্রক্সি’ পরীক্ষার্থী হয়েছেন। ‘প্রক্সি’ পরীক্ষার্থী খুঁজে দিতে সহায়তা করেছেন আরও ১৪-১৫টি পরীক্ষায়।

এবার জয়পুরহাট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজার হয়ে যে প্রক্সি পরীক্ষার্থী খুঁজতে এসেছিলেন বলে দাবি করেছেন। সে দাবির সপক্ষে রেজার সঙ্গে এ বিষয়ে হোয়াটসঅ্যাপে আলাপচারিতার প্রমাণও দেখিয়েছেন কাউছার।

কাউছার তার প্রক্সি ব্যবসার ব্যাপারে জানান, মূলত পরীক্ষায় বসার জন্যই তিনি ২০ হাজার টাকা করে নেন। নিজে পরীক্ষা না দিতে পারলে ‘প্রক্সি’ পরীক্ষার্থী জোগাড় করে দেন। আর পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পর পাস করলে চাকরিভেদে এক থেকে দেড় লাখ টাকা নিয়ে থাকেন। সে ক্ষেত্রে ‘প্রক্সি’ পরীক্ষার্থী জোগাড় করে দিলে তার সঙ্গেও এই টাকা ভাগাভাগি হয়।

ঢাবিতে ‘প্রক্সি’ পরীক্ষার্থী পেলে পরীক্ষায় বসার জন্য ২০ হাজার টাকা এবং পাস করলে এক-দেড় লাখ টাকার ‘চুক্তি’ আবু বকর সিদ্দিক রেজার সঙ্গেও হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তিনি।

জানা যায়, পরীক্ষায় প্রক্সি প্রার্থীর খোঁজে ‘রবিন’ নামের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে দেখা করতে শুক্রবার (১২ জুলাই) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসেন কাউছার আলী। ঢাবির এক শিক্ষার্থী ছদ্মনাম ‘রবিন’ নামটি ব্যবহার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন কাউছার আলীকে। পরে তিনি ক্যাম্পাসে এলে তাকে ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিতে নিয়ে যান।

কাউছার আলী জানান, শনিবার (১৩ জুলাই) অনুষ্ঠেয় শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে পরীক্ষায় প্রক্সি যোগাড় করতে এসে ‘রবিন’ ছদ্মনামে পরিচয় দিয়ে জয়পুরহাট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক রেজার সঙ্গে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ‘প্রক্সি’ প্রার্থী ঠিক করে দেওয়ার বিষয়ে চুক্তি হয় তার। এ তথ্যের প্রমাণ হিসেবে তিনি আবু বকর সিদ্দিক রেজার সঙ্গে তার হোয়াটসঅ্যাপ কথপোকথন দেখান। সেখানে কাউছার আলীকে প্রবেশপত্রসহ বিভিন্ন ধরনের তথ্য আবু বকর সিদ্দিক রেজা দিয়েছেন বলে দেখা যায়।

কাউছার আলী আরও জানান, শনিবার অনুষ্ঠেয় এনটিআরটিসির লিখিত পরীক্ষায় ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে দক্ষ, এমন প্রার্থীর খোঁজে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন তিনি। প্রার্থী পেলে রাজশাহী লোকনাথ হাই স্কুলে রাতের মধ্যে পাঠিয়ে সকালে পরীক্ষায় বসতে সহায়তা করার কথা ছিল তার।

কাউছার আলী চক্রের সাথে জড়িত আরও বেশ কয়েকজনের নাম জানিয়েছেন, যারা এই প্রক্সি চক্রের সদস্য হিসেবে তাকে সহায়তা করেন। এর মধ্যে বগুড়া আজিজুল হক কলেজের বাংলা বিভাগের আজিজুল, ইসলামের ইতিহাস বিভাগের রায়হান, ভুগোল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী শিমুল, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের আবু জর গিফারির নাম উঠে এসেছে। এ ছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের রাকিব হাসান নামের একজনের কথাও জানিয়েছেন তিনি।

এই চক্রের অংশ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষার্থীর নাম জানিয়েছেন কাউছার আলী। এদের মধ্যে বিজয় একাত্তর হলের ইকবাল হোসেন, মুহসীন হলের ইফরাত ও আব্বাসের নাম বলেছেন তিনি। তবে তাদের ব্যাপারে সুস্পষ্ট তথ্য নেই তার কাছে।

তিনি জানান, রেলওয়ের পয়েন্টসম্যান, খালাসি ও ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ২-এর মিটার রিডার কাম মেসেঞ্জার পদে ভিন্ন তিনজনের পরীক্ষায় ‘প্রক্সি’ প্রার্থী হিসেবে নিজেই অংশ নিয়েছেন তিনি। গত ২৮ জুন রেলওয়ের পয়েন্টসম্যান পদের পরীক্ষা ছিল। ওই পরীক্ষায় সাগর কুমার দেবনাথ নামের একজন প্রার্থীর হয়ে পরীক্ষা দিয়েছিলাম।’ ১৭০২৬২৭১ রোল নম্বরধারী ওই প্রার্থীর পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল ঢাকার তেজগাঁও আদর্শ কলেজ। পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য সাগরের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়েছিলেন তিনি। গত নভেম্বরে রেলওয়ের খালাসি পদে পরীক্ষা একজন প্রার্থীর হয়ে পরীক্ষায় বসার কথাও জানান কাউছার।

এ ছাড়াও বগুড়া আজিজুল হক কলেজের বাংলা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী আমিনুলের মাধ্যমে মুহাম্মদ বুলবুল ইসলাম নামের একজন প্রার্থীর পরীক্ষায় বসেছিলেন কাউছার আলী। গত ৪ মে অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-২-এর মিটার রিডার কাম মেসেঞ্জার পদের নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি। সে পরীক্ষায় প্রিলিতে পাসও করেন বলে জানান কাউছার আলী।

এ ব্যাপারে জয়পুরহাট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক রেজার মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। 

প্রসঙ্গত, কাউছার আলীর বাড়ি জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবির কুয়াতপুরে। তিনি কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৮-০৯ সেশনে ফলিত পুষ্টি ও খাদ্যপ্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন বলে পরিচয় দেন। ২০১৪ সালে তিনি পড়াশোনা শেষ করেন।

;