ঢাবির হলে ক্যান্টিনের খাবারে মিলল তেলাপোকা



ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ঢাবির হলে ক্যান্টিনের খাবারে মিলল তেলাপোকা

ঢাবির হলে ক্যান্টিনের খাবারে মিলল তেলাপোকা

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের এক্সটেনশন বিল্ডিং সংলগ্ন ক্যান্টিনের খাবারে মিলেছে তেলাপোকা। ক্যান্টিন মালিককে জরিমানা করেন হল প্রভোস্ট।

বুধবার (১০ জুলাই) রাতের খাবার খেতে গিয়ে তার জন্য পরিবেশিত খাবারে তেলাপোকা পায়। বিষয়টি নিয়ে হলের সায়েদ মাহমুদ নামের এক শিক্ষার্থী ছবিসহ ফেসবুকে পোস্ট করলে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে। খবর জানতে পেরে তৎক্ষণাৎ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আব্দুর রহিম ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং ক্যান্টিন মালিক হাবিবকে জরিমানা করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, হল প্রভোস্টের সাথে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যান্টিনে উপস্থিত হয়ে ক্যান্টিন মালিককে জেরা করছেন। এসময় শিক্ষার্থীরা প্রভোস্টের কাছে নিজেদের অভিযোগগুলো তুলে ধরেন। এরপর হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো.আব্দুর রহিম ক্যান্টিম মালিককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

অভিযোগকারী সায়েদ মাহমুদ নামের ঐ শিক্ষার্থী বলেন, আমি এর আগেও খাবারে ফড়িং পেয়েছিলাম। এই ক্যান্টিনের খাবারের মান অত্যন্ত বাজে।

অন্যান্য শিক্ষার্থীরা জানান, হাবিবের ক্যান্টিনে বিভিন্ন সময় এক খাবারের পরিবর্তে আরেক খাবার দিয়ে দেয়। ঠিকমতো পরিষ্কারও করে না। সে বেশিরভাগ সময় ক্যান্টিনেও থাকে না। তার ক্যান্টিনের খাবার খেয়ে আমরা অসুস্থ হয়ে পড়েছি অনেকেই।

ক্যান্টিনের মালিক হাবিব বলেন, মানুষের মাঝে মধ্যে ভুল হয়ে যায়। আমি আসলে খেয়াল করিনি তবে ভবিষ্যতে যেন এমনটা না হয় সেদিকে আমি খেয়াল রাখবো। আমি আশ্বস্ত করছি এমন ভুল ভবিষ্যতে আর হবে না।

অধ্যাপক আব্দুর রহিম বলেন, আমি অভিযোগ সম্পর্কে শুনে তৎক্ষণাৎ ছুটে এসে ক্যান্টিন মালিক ও সকল স্টাফদের জড়ো করি আমার সাথে অভিযোগকারী শিক্ষার্থীরাও ছিল। আমি সব শুনে ক্যান্টিন মালিক হাবিবকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করি। এই অর্থ এবং হলের ফান্ড থেকে টাকা দিয়ে ক্যান্টিনের জন্য নতুন ক্রোকারিজ ও টেবিল ম্যাট এবং আনুষঙ্গিক খরচ করা হবে। এছাড়াও ক্যান্টিন মালিককে হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যেন ভবিষ্যতে সে মানসম্মত খাবার পরিবেশন করে এবং আচরণ ঠিক রাখে। শিক্ষার্থীদের জন্য আমাদের মেইন ক্যান্টিনের ভালো পরিবেশ নিশ্চিত করতেও আমি কাজ করছি। আগামী দুইদিনের মধ্যেই সেটার কাজ শেষ হবে। হাবিবের ক্যান্টিনে যদি আমরা আবার কোনো অসঙ্গতি লক্ষ্য করি তাহলে তাকে পরিবর্তন করা হবে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে বুলিংয়ের প্রতিবাদে মানববন্ধন



কুবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বুলিংয়ের প্রতিবাদে মানববন্ধন

ছবি: বুলিংয়ের প্রতিবাদে মানববন্ধন

  • Font increase
  • Font Decrease

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) নৃবিজ্ঞান বিভাগের নারী শিক্ষার্থী ফাতেমাতুজ জহুরা মিম কোটা সংস্কার আন্দোলনে যোগ দেয়ায় ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখি করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি আমিনুর বিশ্বাস তাকে উদ্দেশ্যে করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় আক্রমণ করার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

শনিবার (১৩ জুলাই) বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির পাদদেশে ১২টার দিকে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা আমিনুর বিশ্বাসের বিচার দাবি করেন। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দ্রুত বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান।

বুলিংয়ের শিকার ফাতেমাতুজ জহুরা মিমের সহপাঠী আসাদ আরাফাত বলেন, 'আমিনুর বিশ্বাস আমার সহপাঠীকে সাইবার বুলিং করেন। তার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি। মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের মত একটা সংগঠনের সভাপতি হয়ে তিনি এধরনের কাজ করেছেন। যা সত্যিই নিন্দনীয়। তার মতো একজন ঘৃণ্য ব্যক্তি ছাত্রলীগের নেতা হন কী করে? প্রশাসনের কাছে আমার দাবি থাকবে তাকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হোক।'

গণযোগাযোগ সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ফরহাদ কাওছার বলেন, 'সভ্যতা গড়ে উঠতে নারী পুরুষের সমান অবদান আছে। ১১ জুলাই পুলিশি হামলার প্রতিবাদে মিম আপুর সাহসী নেতৃত্বে কুবি শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবস্থান নেয়। আমিনুর বিশ্বাসক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দিতে আমাদের লজ্জা করে।'

নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সোনিয়া আক্তার বলেন, 'আমিনুর বিশ্বাসের এই ধরনের কর্মকাণ্ড এই প্রথম নয়। আমি সহ আমার মেয়ে সহপাঠীদেরকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ কথা বলতেন। আমরা চাই প্রশাসন যাতে তাকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে। আর যাতে কোনো মেয়ে শিক্ষার্থী তার হেনস্তার শিকার না হয়।'

ঘটনার সূত্রপাত, গত ১১ জুলাই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশি হামলার পর শিক্ষার্থীরা দল দলে আন্দোলনকারীদের সাথে যোগ দিতে থাকে। সেসময় ফাতেমাতুজ-জহুরা মিমও আন্দোলনে যোগ দেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের সাহসিকতার খবর ছড়িয়ে পড়লে আমিনুর বিশ্বাস মেয়েদেরকে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। পরে ফাতেমাতুজ জহুরা মিমকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেন। এরই প্রতিবাদে নৃবিজ্ঞানসহ অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরাও মানববন্ধন করেন।

;

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সব কমিটি বিলুপ্ত



রাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রলীগের সব হল, অনুষদ ও বিভাগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুলাই) রাত ১১টার দিকে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

এতে বলা হয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ জরুরি সিদ্ধান্ত মোতাবেক জানানো যাচ্ছে যে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত সব হল, অনুষদ ও বিভাগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ-হিল-গালিব বলেন, আমি ও আমার সভাপতি দায়িত্বে আসার আগে থেকেই হল কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্দেশনা ছাড়া আমরা কিছু করতে পারি না। ১৭টি আবাসিক হলের অধিকাংশ নেতার পড়াশোনা শেষ হয়ে যাওয়ায় ক্যাম্পাস ত্যাগ করেছেন।

হল শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মাঝে উৎফুল্ল পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সঙ্গে কথা বলে খুব অল্প সময়ে হল সম্মেলনের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি।

;

ওপরমহলে বিশ্বাসঘাতকতা করলে আন্দোলন ছেড়ে না যাওয়ার হুঁশিয়ারি



ইবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা ২৪

ছবি: বার্তা ২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

সর্বজনীন পেনশন স্কিম ‘প্রত্যয়’ বাতিল করে সুপার গ্রেডে অন্তর্ভূক্তির দাবিতে, ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে তিন দফা দাবিতে আজও কর্মবিরতি পালন করছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষকরা। এসময় সরকারের সাথে বৈঠকে উপরমহলের কেউ বিশ্বাসঘাতকতা করলে আন্দোলন ছেড়ে না যাওয়ার হুশিয়ারি দেন তারা।

শনিবার (১৩ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ ভবনের নিচ তলায় দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির কর্মবিরতি পালনকালে এমন মন্তব্য করেন শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ।

এসময় বক্তারা বলেন, আমরা আন্দোলন করছি তিনটি দাবি নিয়ে। প্রত্যয় স্কিম বাতিল, প্রতিশ্রুত সুপার গ্রেড এবং স্বতন্ত্র বেতন স্কেল নিয়ে। এখানে এই বিষয় নিয়ে ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হচ্ছে। তারা শুধু প্রত্যয় স্কিমের কথা বলছেন। সংগ্রামে জয়ী হওয়ার জন্য আমাদের মানসিকতা দরকার। কিন্তু আমরা নেতৃবৃন্দের মধ্যে এই মানসিকতার ত্রুটি দেখছি। এভাবে সংগ্রামে বিজয়ী হওয়া যায় না। আন্দোলনে সফল হতে হলে আমাদের নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব মিটিয়ে একসাথে আগাতে হবে।

তারা আরও বলেন, আমরা আমাদের দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলনে এসেছি। এখান থেকে দাবি না আদায় হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি থেকে পিছিয়ে যাব না। যদি সরকারের সাথে বৈঠক চলাকালে কেউ এই দাবি নিয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করে আমরা আমাদের দাবি থেকে পিছিয়ে যাব না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন ছেড়ে যাচ্ছি না আমরা। এসময় সকল শিক্ষক নেতাদের নিরাশ না হওয়ার আহ্বান জানান তারা।

;

পরীক্ষায় ছাত্রলীগ নেতার প্রক্সি দিতে এসে আটক 'প্রক্সি ব্যবসায়ী'



ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
আটক অভিযুক্ত কাউছার/ছবি: বার্তা২৪.কম

আটক অভিযুক্ত কাউছার/ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

জয়পুরহাট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক রেজার জন্য ম্যানেজমেন্ট বিষয়ের ‘প্রক্সি’ পরীক্ষার্থী খুঁজে দেওয়ার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) এসে শিক্ষার্থীদের হাতে ধরা পড়েন কাউছার আলী নামের এক 'প্রক্সি' ব্যবসায়ী। এ ঘটনায় তাকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১২ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কাউছার আলীকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিতে নিয়ে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে রাত ৩টার দিকে তাকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়।

ঢাবি সাংবাদিক সমিতিতে কাউছার আলী জানিয়েছেন, বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রক্সি দেওয়ার কথা। প্রায় ১০ বছর ধরে সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার একটি ‘প্রক্সি’ চক্রের সাথে তিনি জড়িত। এ ব্যাপারে বিভিন্ন ধরনের তথ্যপ্রমাণ তার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট থেকে পাওয়া গেছে। 

বিভিন্ন গ্রেডের সরকারি চাকরির পরীক্ষায় প্রার্থীদের হয়ে ‘প্রক্সি’ দেন কাউছার আলী। কোনো চাকরির পরীক্ষার জন্য প্রক্সি হিসেবে বিশেষ কোনো বিষয়ে দক্ষ কাউকে প্রয়োজন হলে তাদের খুঁজে দিতেও সহায়তা করেন। শিক্ষক নিবন্ধনের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ছাড়াও রেলওয়ের বিভিন্ন পদ, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক ও পল্লি বিদ্যুৎ সমিতিসহ বিভিন্ন সরকারি ও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার নিয়োগ পরীক্ষায় তিনি ও তার সহযোগীরা ‘প্রক্সি’ পরীক্ষার্থী সরবরাহ করেন।

কাউছার জানান, নিজে অন্তত তিনটি পরীক্ষায় ‘প্রক্সি’ পরীক্ষার্থী হয়েছেন। ‘প্রক্সি’ পরীক্ষার্থী খুঁজে দিতে সহায়তা করেছেন আরও ১৪-১৫টি পরীক্ষায়।

এবার জয়পুরহাট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজার হয়ে যে প্রক্সি পরীক্ষার্থী খুঁজতে এসেছিলেন বলে দাবি করেছেন। সে দাবির সপক্ষে রেজার সঙ্গে এ বিষয়ে হোয়াটসঅ্যাপে আলাপচারিতার প্রমাণও দেখিয়েছেন কাউছার।

কাউছার তার প্রক্সি ব্যবসার ব্যাপারে জানান, মূলত পরীক্ষায় বসার জন্যই তিনি ২০ হাজার টাকা করে নেন। নিজে পরীক্ষা না দিতে পারলে ‘প্রক্সি’ পরীক্ষার্থী জোগাড় করে দেন। আর পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পর পাস করলে চাকরিভেদে এক থেকে দেড় লাখ টাকা নিয়ে থাকেন। সে ক্ষেত্রে ‘প্রক্সি’ পরীক্ষার্থী জোগাড় করে দিলে তার সঙ্গেও এই টাকা ভাগাভাগি হয়।

ঢাবিতে ‘প্রক্সি’ পরীক্ষার্থী পেলে পরীক্ষায় বসার জন্য ২০ হাজার টাকা এবং পাস করলে এক-দেড় লাখ টাকার ‘চুক্তি’ আবু বকর সিদ্দিক রেজার সঙ্গেও হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তিনি।

জানা যায়, পরীক্ষায় প্রক্সি প্রার্থীর খোঁজে ‘রবিন’ নামের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে দেখা করতে শুক্রবার (১২ জুলাই) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসেন কাউছার আলী। ঢাবির এক শিক্ষার্থী ছদ্মনাম ‘রবিন’ নামটি ব্যবহার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন কাউছার আলীকে। পরে তিনি ক্যাম্পাসে এলে তাকে ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিতে নিয়ে যান।

কাউছার আলী জানান, শনিবার (১৩ জুলাই) অনুষ্ঠেয় শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে পরীক্ষায় প্রক্সি যোগাড় করতে এসে ‘রবিন’ ছদ্মনামে পরিচয় দিয়ে জয়পুরহাট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক রেজার সঙ্গে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ‘প্রক্সি’ প্রার্থী ঠিক করে দেওয়ার বিষয়ে চুক্তি হয় তার। এ তথ্যের প্রমাণ হিসেবে তিনি আবু বকর সিদ্দিক রেজার সঙ্গে তার হোয়াটসঅ্যাপ কথপোকথন দেখান। সেখানে কাউছার আলীকে প্রবেশপত্রসহ বিভিন্ন ধরনের তথ্য আবু বকর সিদ্দিক রেজা দিয়েছেন বলে দেখা যায়।

কাউছার আলী আরও জানান, শনিবার অনুষ্ঠেয় এনটিআরটিসির লিখিত পরীক্ষায় ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে দক্ষ, এমন প্রার্থীর খোঁজে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন তিনি। প্রার্থী পেলে রাজশাহী লোকনাথ হাই স্কুলে রাতের মধ্যে পাঠিয়ে সকালে পরীক্ষায় বসতে সহায়তা করার কথা ছিল তার।

কাউছার আলী চক্রের সাথে জড়িত আরও বেশ কয়েকজনের নাম জানিয়েছেন, যারা এই প্রক্সি চক্রের সদস্য হিসেবে তাকে সহায়তা করেন। এর মধ্যে বগুড়া আজিজুল হক কলেজের বাংলা বিভাগের আজিজুল, ইসলামের ইতিহাস বিভাগের রায়হান, ভুগোল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী শিমুল, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের আবু জর গিফারির নাম উঠে এসেছে। এ ছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের রাকিব হাসান নামের একজনের কথাও জানিয়েছেন তিনি।

এই চক্রের অংশ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষার্থীর নাম জানিয়েছেন কাউছার আলী। এদের মধ্যে বিজয় একাত্তর হলের ইকবাল হোসেন, মুহসীন হলের ইফরাত ও আব্বাসের নাম বলেছেন তিনি। তবে তাদের ব্যাপারে সুস্পষ্ট তথ্য নেই তার কাছে।

তিনি জানান, রেলওয়ের পয়েন্টসম্যান, খালাসি ও ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ২-এর মিটার রিডার কাম মেসেঞ্জার পদে ভিন্ন তিনজনের পরীক্ষায় ‘প্রক্সি’ প্রার্থী হিসেবে নিজেই অংশ নিয়েছেন তিনি। গত ২৮ জুন রেলওয়ের পয়েন্টসম্যান পদের পরীক্ষা ছিল। ওই পরীক্ষায় সাগর কুমার দেবনাথ নামের একজন প্রার্থীর হয়ে পরীক্ষা দিয়েছিলাম।’ ১৭০২৬২৭১ রোল নম্বরধারী ওই প্রার্থীর পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল ঢাকার তেজগাঁও আদর্শ কলেজ। পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য সাগরের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়েছিলেন তিনি। গত নভেম্বরে রেলওয়ের খালাসি পদে পরীক্ষা একজন প্রার্থীর হয়ে পরীক্ষায় বসার কথাও জানান কাউছার।

এ ছাড়াও বগুড়া আজিজুল হক কলেজের বাংলা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী আমিনুলের মাধ্যমে মুহাম্মদ বুলবুল ইসলাম নামের একজন প্রার্থীর পরীক্ষায় বসেছিলেন কাউছার আলী। গত ৪ মে অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-২-এর মিটার রিডার কাম মেসেঞ্জার পদের নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি। সে পরীক্ষায় প্রিলিতে পাসও করেন বলে জানান কাউছার আলী।

এ ব্যাপারে জয়পুরহাট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক রেজার মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। 

প্রসঙ্গত, কাউছার আলীর বাড়ি জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবির কুয়াতপুরে। তিনি কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৮-০৯ সেশনে ফলিত পুষ্টি ও খাদ্যপ্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন বলে পরিচয় দেন। ২০১৪ সালে তিনি পড়াশোনা শেষ করেন।

;